'করোনা' সংক্রমণ মহামারী প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বাহিত সর্বদল বৈঠকে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)র পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রদত্ত চিঠি

COMMUNIST PARTY OF INDIA (MARXIST)
WEST BENGAL STATE COMMITTEE
MUZAFFAR AHMED BHAVAN
31, ALIMUDDIN STREET, KOLKATA 700016
23 MARCH, 2020


মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী,
পশ্চিমবঙ্গ সরকার
নবান্ন, হাওড়া

মহোদয়া,
করোনা ভাইরাস সংক্রমনের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার আহুত সর্বদলীয় সভায় আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হল।
আশা করি, যথাযথ বিবেচনা করবেন।
ধন্যবাদ সহ,
সূর্য্যকান্ত মিশ্র

১. বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ICMR এর নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর এবং রাজ্যসরকার যে সার্বিক নির্দেশিকা জারি করবে, তা সকলকেই মেনে চলতে হবে।
২. প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সাবসেন্টারগুকিতে ডাক্তার এবং সহায়ক কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এগুলিকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ‘ফিভার ক্লিনিক’ হিসাবে কাজে লাগাতে হবে। সাথে সাথে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই কেন্দ্রগুলিকে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
৩. সরকারী ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, রাজ্য, জেলা, মহকুমা এবং ইএসআই সহ অন্যান্য হাসপাতালগুলিতে এই সংক্রমণ পরীক্ষার সুযোগ এবং চিকিৎসার জন্য ‘Isolation বেড’ চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখা দরকার।
৪. আশা, ICDS সহ নির্দিষ্ট পরিষেবার সাথে যুক্ত চিকিৎসক ও প্রতিটি কর্মীর জন্য মাস্ক এবং অন্যান্য প্রতিষেধ মূলক ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা দরকার।কর্মক্ষেত্রে এদের পৌছনোর যথোপযুক্ত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
৫. মাস্ক, হ্যান্ড-স্যানিটাইজার সহ কিছু কিছু জিনিসের জোগান কম। ফলে কালোবাজারিও হচ্ছে। হ্যান্ড-স্যানিটাইজার বানানোর জন্য আইসপ্রোপাইল অ্যালকোহল যাতে সহজলভ্য করা যায় তার ব্যবস্থা করা দরকার। কেন্দ্রীয় সরকারকে যথেষ্ট পরিমানে এনআইভি অনুমোদিত ‘কিট’ সরবরাহ করতে হবে।
৬. রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকায় ২৭শে মার্চ পর্যন্ত লকডাউন করা হয়েছে। এই সময়সীমা আপাতত ৩১শে মার্চ পর্যন্ত করা দরকার। পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তীকালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও লকডাউনের ব্যবস্থা নিতে হতে পারে ।
৭. গুজব, অপবিজ্ঞান ও ক্ষতিকারক কুসংস্কারের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিজ্ঞান নির্ভর সচেতন প্রয়াসের সাথে সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণ বাঞ্ছনীয়।

৮. খাদ্য,পরিষেবা,রুটি-রুজি,জীবন-জীবিকার প্রশ্নে
ক) করোনা সংক্রমণের বিপদ ঠেকিয়ে কাউকে যাতে খিদের জ্বালায় বিপদে পড়তে না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিকভাবে একমাসের রেশন সহ খাদ্য প্যাকেট পৌঁছে দিতে হবে।
খ) গরীব প্রান্তিক মানুষদের বিনামূল্য খাদ্য ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে ।
গ) অসংগঠিত শ্রমিক,ক্ষেতমজুর, চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী, দৈনিক মজুরিতে যারা কাজ করেন এবং সহায় সম্বলহীন মানুষদের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক প্যাকেজ অনুদান হিসাবে দিতে হবে।
ঘ) সামজিক সুরক্ষা সহ অন্যান্য ভাতা যারা পান তাদের এককালীন তিনমাসের ভাতা বাড়তি হিসাবে অনুদান দিতে হবে।
ঙ) ছোট, মাঝারি, যেসব শিল্পগুলি বন্ধ থাকছে তাদের কোথাও কর্মচ্যুত করা যাবে না, এই সময়টা সবেতন ছুটি হিসাবে গণ্য করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
চ) খাদ্যদ্রব্য সহ জরুরি পণ্য সরবরাহের যে ঘোষণা রাজ্য সরকার করেছে তা শুধু পাইকারি বাজার নয়, যাতে স্থানীয় বাজারে উপভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
ছ) প্রতিটি জনধন অ্যাকাউন্টে কেন্দ্রীয় সরকার যাতে ৫০০০ টাকা করে জমা দেয় তার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা করে জমা দিতে হবে।
জ) বাইরের রাজ্য থেকে যারা ফিরছেন, পরিযায়ী শ্রমিক সহ অন্যরা, স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং প্রশাসনের মারফৎ সহমর্মিতার সাথে তাদের স্ক্রিনিং ও প্রয়োজনয়ী চিকিৎসা ও প্রতিষেধ মূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট হেল্প লাইন চালু করতে হবে।
ঝ) জরুরী পরিষেবার মধ্যে IT Sector ছাড় রাখা হয়েছে। সাধারণভাবে এখানে Work From Home করার সুযোগ বেশি। এটা ছাড় রাখা ঠিক হবে না ।
৯. অত্যাবশ্যকীয় দপ্তরের কর্মীদের জন্য সরকারী পরিবহনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা সহ জরুরী কাজে যাতায়াতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার দায়িত্ব রাজ্য সরকারকে গ্রহণ করতে হবে।
১০. পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে ভারতীয় রেলের সাথে রাজ্য সরকারের সমন্বয় রক্ষা করা প্রয়োজন। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ভিন্ন ভিন্ন রাজ্য থেকে পরিবহন করার ক্ষেত্রে পথে যাতে আটকে না যায় সে বিষয়ে নজরদারি রাখতে হবে।
১১. অবিলম্বে ব্লক- পৌরসভা স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাহায্যকারী সংস্থাকে যুক্ত করে সভা ও সার্বিক উদ্যোগ নিতে হবে।
১২. জনগণনার কাজ স্থগিত রাখতে হবে । এনপিআর বাতিল করতে হবে।
১৩. ১০২ নম্বরে ডায়াল করলে জরুরী প্রয়োজনে যাতে এ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় তার জন্য নির্দিষ্ট ও বিশেষ ব্যবস্থা করা দরকার।
১৪. বাইরের রাজ্যে চিকিৎসা অথবা অন্য কাজে গেছেন এবং আটকে আছেন এমন বহু মানুষ রয়েছেন, এদের সহায়তার জন্য বিশেষ নজর এবং আলাদা একটি হেল্প লাইন চালু করা দরকার।
১৫. ব্যাঙ্ক, সরকারী অথবা সমবায় ভিত্তিক বহু কাজের জন্য হিসাববর্ষ শেষ হবে ৩১শে মার্চ। এবছরের জন্য বর্ধিত সময়সীমা ঘোষণা না করলে অসুবিধা হতে পারে । বিদ্যুৎ বিল , মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্স, বিভিন্ন বিষয়ের EMI প্রভৃতির জন্য বর্ধিত সময়সীমা ঘোষণা প্রয়োজন।


শেয়ার করুন

উত্তর দিন