cpi(m) state committee

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সভা: প্রেস বিবৃতি

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ২৭সেপ্টেম্বর ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ওইদিন সর্বাত্মক সাধারণ ধর্মঘট হবে। জনগণের সমস্ত অংশকে এই ধর্মঘটে শামিল করতে এখনই প্রচার তুঙ্গে তুলতে হবে। কোনো বাধা এলে তার মোকাবিলা করেই এই ধর্মঘট হবে।

1september2021 (1)

১লা সেপ্টেম্বর ২০২১ - কলকাতায় পালিত হল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দিবস

প্রতি বছর ১লা সেপ্টেম্বর সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দিবস হিসাবে পালিত হয়। এবছর কলকাতায় আমেরিকান সেন্টারের বিপরীতে রাস্তার উপরে রাজ্য বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী দিবস হিসাবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালিত হল। কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই কর্মসূচি পালিত হয়। বামফ্রন্টের অন্তর্গত বামদলগুলির সাথে এই কর্মসূচিতে এসইউসিআই(কমিউনিস্ট) দলও যুক্ত হন। বামফ্রন্টের পক্ষে কর্মসূচির উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান কমরেড বিমান বসু। তিনি আজকের পৃথিবীতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের রণকৌশল সম্পর্কে বলেছেন। বামদলগুলির পক্ষ থেকে একাধিক বক্তা নিজেদের কথায় ব্যাখ্যা করেন আজকের পরিস্থিতি ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের ঐতিহ্য, বক্তাদের কথায় উঠে আসে চিলি, স্পেন, ইতালি এবং জার্মানির ফ্যাসিবাদ থেকে শুরু করে আজকের দিনে একমেরুকৃত বিশ্বের অবস্থা। সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বিশেষভাবে উল্লেখ করেন বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে এবং রাজ্যে কমিউনিস্ট পার্টি এবং সামগ্রিক ভাবে বামদলগুলির সমবেত লড়াই আন্দোলনের অভিমুখ এবং তার গুরুত্ব সম্পর্কে। দুপুর দুটো থেকে বেলা তিনটে অবধি এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

Biman Bose on Food Movement

খাদ্য আন্দোলনের অভিজ্ঞতা

খাদ্য আন্দোলন আমাদের রাজ্যে এবং দেশে মানুষের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য নজীর। নিজেদের অধিকারের ন্যায্য দাবীসহ শাসকের সামনাসামনি হলে খেটেখাওয়া-মেহনতি মানুষের বিরুদ্ধে শাসকের আসল চেহারাটা বেরিয়ে আসে – তখন সেই লড়াই দাবী মেটানোর স্তর অতিক্রম করে সংগ্রামী মানুষের চেতনাকে এক নতুন স্তরে পৌঁছে দেয়। ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলনকে এই আলোকেই দেখতে হবে, বিচার করতে হবে।

মিশনারি থেকে রেভলিউশনারি হয়ে ওঠার চর্চা করতে হবেঃ কাকাবাবুর জন্মদিবসে বার্তা

সাধ্যমতো সমাজে এভাবেই ইতিবাচক হস্তক্ষেপ করতে হয়। কিন্তু শুধু সেবামূলক কাজেই আটকে থাকা উদ্দেশ্য নয়, বৈপ্লবিক পরিবর্তনই হল লক্ষ্য। মিশনারি থেকে রেভলিউশনারি হয়ে ওঠাই তরুণ কমরেডদের চর্চা করতে হবে। কাকাবাবুর স্মরণে সেটাই হবে প্রকৃত উত্তরাধিকার বহন।

মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংকল্প গ্রহণ করতে হবে

কমরেড মুজফফর আহমদের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে একজন আদর্শ কমিউনিস্ট নেতার বহুবিধ গুণাবলিকে অনুসরণ করে আমাদের পার্টিকে প্রকৃত বিপ্লবী পার্টি হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় জীবনের বিভিন্ন দিকের ক্রমবর্ধমান সংকটের মোকাবিলা করে – শ্রমিক, কৃষক ও শোষিত নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।

Kakababu and NBA

যে আদর্শবোধ এবং নিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই

দোকানের নাম দেওয়া হলো ন্যাশনাল বুক এজেন্সি। সারা ভারতের মার্কসীয় ও প্রগতির সাহিত্যের পরিবেশক হওয়ার স্বপ্ন সেদিন আমরা দেখেছিলেম। ওই অর্থেই আমাদের নামের গোড়ায় ন্যাশনাল কথাটা বসেছিল। কেউ কেউ ভুল ধারণা করেন অন্তত অতীতে করেছেন যে আমরা ন্যাশনালিস্ট সাহিত্যের প্রকাশক ও পরিবেশক। ন্যাশনালিস্ট সাহিত্য আমাদের নিকটে পরিত্যাজ্য নয় ,কিন্তু তার জন্য অনেক দোকান আছে। তাই আমাদের ভবিষ্যতে যাতে কোনো বিচ্যুতি ঘটতে না পারে সে কথা মনে রেখে ১৯৪৩ সালে ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে রেজিস্ট্রি করার সময় আমরা তার মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন এর নির্ধারণ করে দিয়েছি যে আমাদের কোম্পানি শুধু মার্কসীয় ও প্রগতি সাহিত্যের প্রকাশক ও পরিবেশক । মেমোরেন্ডাম এর কোনো পরিবর্তন হয় না।

Pramode Dasgupta

কমিউনিস্টদের যা শিখতেই হয়

ছাত্রদের মধ্যে একটা প্রবনতা আছে – অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট। অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট আন্দোলনে ঝুঁকে পড়া। এবং এ ব্যাপারে খুব সহজেই লোককে উত্তেজিত করা যায়। ছেলেবেলা থেকেই আমরা অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট এবং সেভাবেই লোককে আমরা শিখিয়ে এসেছি। আমাদের শিক্ষা দীক্ষা – চালচলন – বক্তৃতা সব তাই। কিন্তু আমরা কতটা লোককে শেখাতে পেরেছি – যে establishment created by us অর্থাৎ আমরা তৈরি করলাম – আমার আন্দোলন কি তার বিরুদ্ধে যেতে পারে? আর সেই এস্টাবলিশমেন্ট কে মূল যে এস্টাবলিশমেন্ট অর্থাৎ সমাজের যে রাষ্ট্রকাঠামো, তা পরিবর্তনের জন্য কিভাবে ব্যবহার করতে পারব? এই শিক্ষা আমরা কি ছাত্র সমাজের মধ্যে দিতে পেরেছি? কারণ আপনি শুধু যদি বলেন যে বামফ্রন্ট সরকার আমাদের সরকার এবং এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা যাবে না – এইটুকু বললে বোধহয় ছাত্ররা খুশি হতে পারে না।

jyoti basu

আমাদের যতদূর মনে রাখতেই হবে - একটি স্মৃতিচারণা

তার জীবনীগ্রন্থের সেই সব অংশকে বেচে নেওয়া হয়েছে যা আমাদের সাধারণ আলোচনার মধ্যে বড় বেশি একটা আসে না, কিন্তু আসা উচিত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে জ্যোতি বসুর স্মরণ যত বেশি হয়, কিভাবে লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে পাশ করে ফিরে এসে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে আগামী জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত তিনি নিজের ইচ্ছাতেই গ্রহণ করেছিলেন সেই আলোচনাও একই অনুপাতে হওয়া দরকার, আজকের দিনে সেই প্রয়োজন আরও বেশি। সেই দিন থেকে শুরু করে ১৯৭৭ সালের ২১ জুন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করা অবধি তার জীবন এক কথায় শিক্ষণীয়, পার্টির তরুন প্রজন্মের জন্য সেদিনের জ্যোতি বসু’র কাজ একটি পাঠ্যক্রম বলা চলে।

Biman Basu On LF Govt

পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

রাজ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, শান্তিপ্রতিষ্ঠা এবং একইসাথে বিরোধী দলের কর্মীদের প্রতি কোনোরকম হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিরোধে স্পষ্ট অবস্থান নেয় বামফ্রন্ট সরকার এবং বামপন্থী দলসমুহ। গরীব কৃষকসহ ক্ষেতমজুরেরা যখন তখন জমি থেকে উচ্ছেদের বিপদ সম্পর্কে ভয়মুক্ত হন – তাদের অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়। কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক পুনর্বিন্যাস, দেশের ফেডারাল কাঠামোকে যথাযথ আকার দিতে বামফ্রন্ট সরকার এবং তার মুখ হিসাবে জ্যোতি বসুর কৃতিত্ব কিছুতেই ভোলা যাবে না। বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠার পরেই আমাদের রাজ্য খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে। কৃষি উৎপাদনের সেই শক্ত ভিতের উপরে দাঁড়িয়েই শিল্পস্থাপনের দিকে এগোনোর সিদ্ধান্ত হয়। রাজ্যের মানুষকে সাথে নিয়ে এক ধারাবাহিক উন্নতির ইতিহাসই হল বামফ্রন্ট সরকার। এই সরকারের কাজ আজকের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক শিক্ষণীয় বিষয়।

Che Guevara Cover

তোমার গুলিতে মরবে শুধু শরীরটা, আদর্শটা নয় - এক স্বপ্নের নাম চে গ্যেভারা

আজকের পৃথিবীতে সমাজতান্ত্রিক শিবির নেই, কিন্তু ফাঁদে পড়া পুঁজিবাদ যতদিন মানুষের উপরে শোষণের চাকা ঘোরানো জারী রাখবে ততদিনই মানুষের বুকে স্বাধীনতা, মুক্তি এবং বিপ্লবের অন্যতম প্রেরণা হিসাবে চে গ্যেভারার নাম রয়ে যাবে।