উদারীকরণ ও আজকের ভারত (২য় পর্ব)

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধঃস্তন সহযোগী হয়ে উঠতে বর্তমানে যে কায়দায় নয়া-উদারবাদী সংস্কার চলছে তার ভিত্তি লুকিয়ে রয়েছে কর্পোরেটদের সাথে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির আঁতাতের ভিতরে। সংবিধানের সংজ্ঞা অনুযায়ী এক ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র থেকে আরএসএস’র পরিকল্পনামতো ভারতকে এক অসহিষ্ণু, কর্তৃত্বকারী ফ্যাসিবাদী দেশে বদলে ফেলার পরিকল্পনাই হল ‘হিন্দুত্ব রাষ্ট্র’।

কোভিড মহামারী, মৃত্যুমিছিল এবং সম্পত্তিরক্ষার পবিত্র অধিকার প্রসঙ্গে

একথা সত্য, কোনও আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের আগে যে কোনও সরকারেই নিজের দেশের নাগরিকদের জীবনকে অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু উন্নত দেশগুলির সরকারগুলির সামনে নিজেদের নাগরিকের জীবন বনাম অন্য দেশের নাগরিকদের জীবন সংক্রান্ত তুলনার প্রশ্ন কার্যত অহেতুক; সামগ্রিকভাবে ভ্যাকসিনের ঘাটতির কারণে একদল মানুষের জীবনযাত্রার ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে যা আসলে ব্যক্তিগত সম্পত্তি-অধিকার রক্ষার প্রয়োজনে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম ঘাটতি। এহেন সুরক্ষার পরিকল্পনাই আসলে টিকার উৎপাদন বৃদ্ধি রুদ্ধ করে রেখেছে। সংক্ষেপে বললে এসব এক দেশের লোক বনাম আরেক দেশের লোকের প্রশ্নই নয়, এ হল লাভ বনাম মানুষের জীবনের মধ্যে যে কোন একটিকে বেছে নেবার প্রশ্ন।

PB Statement

পলিট ব্যুরোর বিবৃতি

পুঁজিপতিদের মুনাফা লাভের অংক আরো বাড়ানোর জন্য জলের দরে দেশের সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ চলছে। এর বিরুদ্ধে দেশের শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিবাদকে প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণের ৪১টি কারখানাকে মাত্র সাতটি কর্পোরেট পরিণত করা হচ্ছে। মাত্র চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা থাকবে স্ট্রাটেজিক ক্ষেত্র বলে, ঘোষণা করেছেন মোদি সরকার। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেশের সম্পদ নগ্নভাবে লুটের বিরুদ্ধে লড়াই আন্দোলন আরো বৃদ্ধি পাবে।

মানুষের জীবনের বিনিময়ে মুনাফার চক্রান্ত চলছে - এর জবাব চাই

মোদী সরকার এই হাহাকারের দায় কখনোই এড়িয়ে যেতে পারে না কারন যে “খোলাবাজারের” উদারবাদী নীতিতে আমাদের দেশে টিকার উৎপাদন সম্পাদিত হয়েছে তাতে এমনটাই ছিল অবশ্যম্ভাবী। জনগণের টাকায় টিকার গবেষণা চলেছে অথচ যখন প্রয়োজন এলো সেই গবেষণালব্ধ টিকা হয়ে গেল বেসরকারি মালিকানাধীন পণ্য! আর কে না জানে পণ্য উৎপাদন এবং তার মূল্য নির্ধারণের আগাগোড়া সবটাই অমানবিক!

PB Statement

মহামারীর প্রকোপে মৃতদের পরিবারগুলিকে দুর্যোগ মোকাবিলা আইন অনুযায়ীই আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে - পলিট ব্যুরোর দাবী

কোটি মানুষ গত এক বছরে তাদের জীবিকা হারিয়েছেন এবং বেঁচে থাকতে কঠিন লড়াই করছেন। এরই
মাঝে কোভিড সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জীবনদায়ী যন্ত্রপাতির
গুরুতর অভাবে তাদের ভয়ংকর দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষের রুটিরুজি
চলে যে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করে সেই ক্ষেত্রই আজ ধ্বংস হতে বসেছে। নোট বাতিল এবং জিএসটি
লাগু হবার পর থেকে যে ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কোভিড মহামারী সেই ধ্বংসই ত্বরান্বিত
করছে।

PB Statement

বিনামূল্যে সর্বজনীন গণটিকাকরন নীতি গ্রহণ করতে হবেঃ পলিট ব্যুরোর বিবৃতি

সিপিআই(এম) দাবী জানাচ্ছে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার বেসরকারি ক্ষেত্রের জন্য ২৫ শতাংশ ভ্যাকসিনের সংরক্ষন নীতি বর্জন করুক। দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা সমস্ত প্রতিষেধক কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রনে নিক এবং রাজ্যগুলির সাথে যথাযথ আলোচনা পূর্বক তাদের মধ্যে সেই ভ্যাকসিনের বণ্টন করা হোক।

Red Volunteer

"মানুষের দুঃখ মানুষের নাগাল চায় যে। তার সময় অল্প"- এবং কমিউনিটি ক্যান্টিন

এ কাজ কি এনজিও-দের মতো? মিশনের মতো? সংস্কারবাদে বেপথু? হাত গুটিয়ে বসে থাকাই শ্রেয়তর ছিল তাহলে? রাষ্ট্রকে দায়িত্ব পালনের দাবি জানানো এবং চে-বর্ণিত ‘ভুল’ না করা একসঙ্গেই চলার কথা নয় কি? অসহায়, দিকভ্রান্ত মানুষের পাশে যে দাঁড়াচ্ছে তার হৃদয়ের উত্তাপ কি ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েনি সমাজে, নাড়িয়ে দেয়নি এক পক্ষাঘাতকে? স্বতঃস্ফূর্ততার উপাদানেই ক্রমশ মিশবে পরিকল্পনা। আমূল সামাজিক রূপান্তরের স্বপ্ন দেখি বলে এখন দিবাস্বপ্ন দেখব, এ কোনও কাজের কথা নয়। ওই ‘রেড’ মাথায় নিয়ে অনেককে সঙ্গী করে চলাই এদিনের কাজ।

Sitaram Yechury on Modi

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলে সাধারণতন্ত্র এবং ভারতের মানুষকে রক্ষা করতে হবে

বিগত দু’ বছর ধরে এ দেশের মানুষ এবং আমাদের সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র এক ভয়াবহ সময় অতিবাহিত করছে। আজ সময় আগত যে সকল মানুষ ভারতের সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র, তার মানুষের জীবন, জীবিকা, জীবনযাত্রার মান রক্ষা করতে ইচ্ছুক, মানুষের অলঙ্ঘনীয় সাংবিধানিক সমানাধিকার এবং অন্যান্য অধিকারসমূহকে, ব্যাক্তিস্বাধীনতা কে রক্ষা করতে ইচ্ছুক, যারা সাংবিধানিক সকল মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গ’ড়ে তুলে ভারতের সাধারণতন্ত্র এবং ভারতীয় মানুষের উপর এই আক্রমণ কে প্রতিহত করতে হবে।

The Lockdown: Pattnayek

লকডাউনঃ অর্থনীতির এক বিপজ্জনক পরিণতি

কিন্তু মোদি সরকার যেমন ভীতু তেমনি অপদার্থ। এই চূড়ান্ত অর্থনৈতিক সঙ্কটকালেও সরকার ব্যয়সঙ্কোচনের নীতি আঁকড়ে চলতে চায় বলেই তার মত, এই নীতি দেশকে এক বিপজ্জনক পরিণতির দিকে নিয়ে যাবে।