Environment 2024 (1)

Nature and the Discontents: A Note (Part I)

প্রাককথন

পরিবেশ কি? মানবিক অস্তিত্বের পরিসর পেরিয়েও মহাজাগতিক বস্তুগত সত্যের একটি সাধারণ রূপ হিসাবে যদি কোনওকিছুকে বিবেচনা করতে হয় তবে প্রকৃতিই সম্ভবত একমাত্র। সেই প্রকৃতি আমাদের সামনে যে চেহারায় হাজির হয় তাকেই সহজ অর্থে আমরা পরিবেশ বলতে অভ্যস্ত। এহেন পরিবেশের সংকট যে শেষ অবধি পৃথিবীর বুকে মানুষের বেঁচে থাকার যাবতীয় শর্তকেই বিপদগ্রস্থ করে তোলে সেকথা আজকের দুনিয়ায় আর অজানা নয়। সেই সংকটকে পুঁজিবাদ একভাবে বা বলা ভালো একচোখে বিচার-বিশ্লেষণ করে, সংকট হতে মুক্তির প্রসঙ্গে কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণাও করে। কিন্তু আজ অবধি সেই সমস্ত পদক্ষেপের একটিতেও আগুয়ান সংকট ঘুচে যাওয়া তো দূর-অস্ত, বিপদের মাত্রাটুকুও কমেনি। কারণ পুঁজিবাদ নিজেই এ সংকটের অন্যতম কারণ। এখানেই কমিউনিস্টদের ভূমিকা বারে বারে প্রাসঙ্গিক। পরিবেশ ও তার সংকটের প্রসঙ্গে রাজ্য ওয়েবডেস্কের প্রাথমিক ভাবনায় ছিল শুধু সংকটের বিবরণ না, কিছুটা এমন পর্যালোচনা যাতে পাঠকদের জন্য মুক্তির দিশা সম্পর্কে কিছুটা হলেও বিজ্ঞানসম্মত সম্ভাবনার ধারণাগুলি স্পষ্ট হয়। তিন পর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য হিসাবে লেখক শ্যামাশিষ ঘোষ সেই বিজ্ঞানসম্মত সম্ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গীর ভাবনাকেই তুলে ধরেছেন। বিজ্ঞান এবং আরও বিশেষ করে বলতে হলে প্রযুক্তিবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসাবে তার লেখার প্রধান প্রবনতা এই নয় যে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছি, বরং এই যে আজকের অবস্থায় দাঁড়িয়েও বুনিয়াদি কিছু বিকল্প অবস্থানের জোরে আমরা কোথায় পৌঁছাতে পারি। তাই পরিবেশ ও তার সংকট প্রসঙ্গে রাজনীতির কথা এসেছে। একে বাদ দিয়ে আলোচনা করলেই কার্যত আসল সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়া হতো, যেমনটা সাধারণভাবে হয়। প্রতিবেদনের বাংলা শিরোনামে সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন রয়েছে।

আজ প্রথম পর্ব।

পর্ব ১

চলে গেল আরও একটি বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ নিয়ে কিছু বলতে গেলেই অঙ্গাঙ্গীভাবে এসে পড়ে ‘উন্নয়ন’-এর ধারণার প্রসঙ্গ– বিশেষত শিল্প বিপ্লব পরবর্তী সময়কালের ‘উন্নয়ন’-এর ধারণা। ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের ‘বানর থেকে মানুষের বিবর্তনে শ্রমের ভূমিকা’ প্রবন্ধে বানর থেকে মানুষের বিবর্তনে শ্রমের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার সাথে সাথেই এঙ্গেলস আলোচনা করেছিলেন মানুষের শ্রম কীভাবে প্রকৃতির উপর ক্রিয়া করেছে, তাকে নিজেদের সুবিধার জন্য পাল্টে নিয়েছে এবং এর অনিবার্য পরিণতি হিসাবে নিজেকেও পরিবর্তিত করেছে, ‘শ্রমই সকল সম্পদের উৎস এবং প্রকৃতির পাশাপাশি, প্রকৃতি যে উপাদান সরবরাহ করে তাকে সম্পদে রূপান্তরিত করার জন্য, একটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সমগ্র মানব অস্তিত্বের জন্য এটিই প্রধান মৌলিক শর্ত, এবং এক অর্থে আমাদের বলতেই হবে যে শ্রমই মানুষকে সৃষ্টি করেছে’।

আজকের পরিবেশ সমস্যার প্রেক্ষিত বুঝতে হলে অবশ্য শুধু এই শ্রমের ভূমিকায় থেমে থাকা যায় না। মানুষের বিবর্তনে, সমাজের বিবর্তনে বিভিন্ন সময়ে এই শ্রমশক্তি কীভাবে কাজ করেছে, এগুলি প্রাথমিক আলোচনার বিষয় অবশ্যই। তার সাথে যেটা বোঝা দরকার সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে, তার থেকে উদ্ভূত শ্রেণি বিভাজনের সাথে সাথে কীভাবে এই শ্রমশক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়েছে মুষ্ঠিমেয় ক্ষমতাশীলদের হাতে, কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশ ধীরে ধীরে পুঁজির মালিক এবং তাদের স্বার্থরক্ষাকারী সরকারি ব্যবস্থার দ্বারা কুক্ষিগত হয়েছে সেটাও বোঝা প্রয়োজন। এর সাথেই অনিবার্যভাবে যে বিষয়টি সামনে আসে বিজ্ঞান ও পরিবেশ আন্দোলনের, সেই রাজনীতির প্রভাব বোঝা এবং আন্দোলনের অভিমুখ ঠিক করা। এই বিষয়গুলি নিয়েই সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রয়াস এই লেখাতে। এখানে যে নতুন কিছু বলা হচ্ছে, তা নয়। তবে এটা আবার এবং বারবার বলা দরকার, সুসঙ্গতভাবে, সহজভাবে, যাতে সাধারণ মানুষের বোধগম্য হয়।   

বানর থেকে মানুষের বিবর্তনে শ্রমের ভূমিকা

এঙ্গেলসের লেখাটির প্রাথমিক অংশে আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের পূর্বপুরুষ মানবসদৃশ বানর ধীরে ধীরে জীবনযাত্রার কারণে হাঁটার জন্য হাতের ব্যবহার ছাড়তে শুরু করে এবং আরও বেশি খাড়া চলনভঙ্গি গ্রহণ করে, যদিও সেই চলনভঙ্গী অবশ্যই স্থায়ী প্রকৃতির ছিল না। বানর থেকে মানুষে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি সম্ভবত প্রথম নির্ণায়ক পদক্ষেপ। প্রথম যে কাজগুলির জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা কয়েক হাজার বছরের রূপান্তরের সময় ধীরে ধীরে তাদের হাতকে খাপ খাইয়ে নিতে শিখেছিলেন তা ছিল আজকের নিরিখে সম্ভবত নিতান্তই সহজ কাজ। দ্বিতীয় নির্ণায়ক উত্তরণ ঘটেছিল যখন মানুষের হাত মুক্ত হয়েছিল কাজের জন্য এবং সেখান থেকে আরও অধিকতর নৈপুণ্য লাভ করেছিল। এইভাবে অর্জিত অধিকতর নমনীয়তা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এইভাবে দেখলে বলা যায় হাত শুধু শ্রমের অঙ্গ নয়, শ্রমের মাধ্যমেই সৃষ্ট। কেবলমাত্র শ্রমের দ্বারাই, নিত্য নতুন কাজকর্মের সাথে খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে, নতুন এবং আরও জটিল ক্রিয়াকলাপে এই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সূক্ষ্মতার বিকাশ মানুষের হাতকে উচ্চতর উৎকর্ষতা দিয়েছে। আর সাথেসাথেই তা সমস্ত দেহেরও উৎকর্ষসাধন করেছিল।

প্রকৃতির উপর প্রভুত্ব শুরু হয় হাতের বিকাশের মাধ্যমে, শ্রমের সাথে এবং প্রতিটি নতুন অগ্রগতি মানুষের দিগন্তকে প্রসারিত করেছিল। তারা তখন ক্রমাগত প্রাকৃতিক বস্তুর মধ্যে নতুন, তখনও পর্যন্ত অজানা বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করছিল। অন্যদিকে, শ্রমের বিকাশ পারস্পরিক সহযোগিতা এবং যৌথ কার্যকলাপের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করে এবং প্রতিটি ব্যক্তির কাছে এই যৌথ ক্রিয়াকলাপের সুবিধাটি স্পষ্ট হয়ে সমাজের সদস্যদের আরও কাছাকাছি আসতে সহায়তা করেছিল। পরবর্তী নির্ণায়ক বিকাশ ছিল সমাজ গড়ে ওঠা, এবং তার সঙ্গেই একে অপরের সাথে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা থেকেই মানুষের প্রয়াস ভাষার জন্ম দিয়েছিল।

প্রথমে শ্রম, এবং তার সাথে কথা বলার ক্ষমতা– এই দুটি ছিল সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উদ্দীপনা যার প্রভাবে বানরের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে মানুষের মস্তিষ্কে পরিবর্তিত হয়েছিল – অনেক বড় এবং আরও নিখুঁত। মস্তিষ্কের বিকাশের সাথে হাত ধরাধরি করে এর সবচেয়ে অব্যবহিত সংবেদন ইন্দ্রিয়গুলির বিকাশ ঘটে। মস্তিষ্ক এবং তার আনুষঙ্গিক ইন্দ্রিয়গুলির বিকাশ, চেতনার ক্রমবর্ধমান স্বচ্ছতা, বিমূর্তকরণ এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের শক্তি, শ্রম এবং শব্দ উচ্চারণ আরও বিকাশের জন্য ধারাবাহিকভাবে নতুনতর প্রেরণা যুগিয়েছে। যখন মানুষ অবশেষে বানর থেকে পৃথক হয়ে উঠল তখনও এই বিকাশ তার পরিণতিতে পৌঁছায়নি, তবে সামগ্রিকভাবে আরও শক্তিশালী অগ্রগতি অর্জন করেছিল, যদিও এর মাত্রা বিভিন্ন জাতির মধ্যে এবং বিভিন্ন সময়ে আলাদা ছিল। পরিপূর্ণ মানুষের বিকাশ দৃঢ়ভাবে সামনের দিকে এবং সুনির্দিষ্টভাবে এগিয়েছিল।

শত সহস্র বৎসর নিঃসন্দেহে কেটে গেছে বৃক্ষে চড়া বানরের দল থেকে মানব সমাজের উত্থানের পূর্বে। তবু অবশেষে তা দেখা গেল। সমস্ত প্রাণীই প্রচুর পরিমাণে খাদ্য অপচয় করত এবং উপরন্তু, ভবিষ্যৎ ফসলকে বীজাবস্থাতেই ধ্বংস করত। গ্রিসের ছাগলরা কচি ঝোপঝাড় খেয়ে ফেলত সেগুলি বড় হওয়ার আগেই, এইভাবে দেশের সমস্ত পাহাড় নেড়া করে দিত। প্রাণীদের এই ‘লুঠেরা অর্থনীতি’ অবশ্য প্রজাতির রূপান্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাদের স্বাভাবিক খাদ্য ব্যতীত অন্য খাবারের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করে, যার ফলে তাদের রক্ত একটি ভিন্ন রাসায়নিক গঠন অর্জন করে এবং পুরো শারীরিক গঠন ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। সন্দেহ নেই যে এই ‘লুঠেরা অর্থনীতি’ আমাদের পূর্বপুরুষদের বানর থেকে মানুষে রূপান্তরে শক্তিশালী অবদান রেখেছিল। এর প্রভাবে খাদ্য আরও বেশি বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে, যেমন এর মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করা উপাদানগুলিও; তৈরি হয় বানর থেকে মানুষের রূপান্তরের উপযোগী রাসায়নিক অবস্থা।

কিন্তু সে সব তখনও সঠিক অর্থে শ্রম ছিলনা। শ্রম প্রকৃত অর্থে শুরু হয় হাতিয়ার তৈরির সাথে সাথে। মানুষের বিকাশ ত্বরান্বিত হতে শুরু করে। সবচেয়ে প্রাচীন হাতিয়ার যা আমরা খুঁজে পাই, সেগুলি হল শিকার এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম, প্রথমটি একই সাথে অস্ত্র হিসাবেও ব্যবহৃত হত। আবার শিকার এবং মাছ ধরা থেকে অনুমান করা যায় একতরফাভাবে উদ্ভিজ্জ খাদ্যের পাশাপাশি মাংসের ব্যবহার হত এবং এটি বানর থেকে মানুষে রূপান্তর প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একটি আমিষ খাদ্যে জীবের বিপাকপ্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি প্রায় তৈরি অবস্থাতেই থাকে। গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকা মানুষ এইভাবে যতই উদ্ভিজ্জ রাজ্য থেকে সরে যেতে লাগল ততই সে পশুজীবন থেকে উচ্চতর স্তরে উঠতে লাগল। আবার মাংসের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অভ্যস্ত করে, মানুষ নানা প্রাণীকে গৃহপালিত করতে সক্ষম হয়। আমিষ খাদ্য অবশ্যই মস্তিষ্কের উপর সর্বাধিক প্রভাব ফেলেছিল, যা তার পুষ্টি এবং বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলির আরও সমৃদ্ধ যোগান দিতে পারে এবং যার ফলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আরও দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে বিকাশ সম্ভব হয়। এঙ্গেলস বলেছেন, মাংসের আহার ছাড়া মানুষ অস্তিত্ব লাভ সম্ভব ছিল না।

আমিষ আহার দুটি নতুন অগ্রগতির দিকে পরিচালিত করেছিল যা নির্ণায়ক গুরুত্বের– আগুনের ব্যবহার এবং প্রাণীদের গৃহপালন। প্রথমটি হজম প্রক্রিয়াটিকে আরও সংক্ষিপ্ত করেছিল; দ্বিতীয়টি শিকারের পাশাপাশি মাংস সরবরাহের সহজলভ্য একটি নতুন, আরও নিয়মিত উৎস তৈরি করেছিল– পশুপালন। দুধ এবং এর পণ্যগুলি আবার মূল্যবান খাবারের একটি নতুন যোগান সম্ভব করেছিল।

মানব সমাজের বিবর্তন

মানুষ যেমন ভোজ্য সবকিছু খেতে শিখেছে, তেমনি যে কোনো জলবায়ুতে বাঁচতেও শিখেছে। পশুচারণ ও শিকারের উপর নির্ভরশীল মানুষকে এক স্থান থেকে স্থানান্তরে যেতে হত পশুচারনের জন্য তৃণভূমি এবং শিকারের জন্য পশু দুর্লভ হয়ে ওঠার কারণে। তারা সমগ্র বাসযোগ্য জগতে ছড়িয়ে পড়েছিল। একমাত্র মানুষই নিজের ইচ্ছায় এটি করতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম ছিল। গৃহপালিত প্রাণী এবং কীটপতঙ্গের মত অন্যান্য প্রাণী যারা সমস্ত জলবায়ুতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে, তারা কেবল মানুষের পিছু পিছুই এটি করেছিল। মানুষের আদি বাসস্থানের অভিন্ন উষ্ণ জলবায়ু থেকে শীতল অঞ্চলে স্থানান্তর, নতুন প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছিল– ঠান্ডা এবং স্যাঁতসেঁতেভাব থেকে সুরক্ষা হিসাবে আশ্রয় এবং পোশাক, এবং তাই শ্রমের নতুন ক্ষেত্র, কাজকর্মের নতুন রূপ, যা মানুষকে পশু থেকে আরও পৃথক করেছিল।

হাত, বাক-অঙ্গ এবং মস্তিষ্কের সম্মিলিত কার্যকারিতার দ্বারা, কেবল প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যেই নয়, সমাজেও, মানুষ আরও বেশি জটিল কাজকর্ম চালাতে সক্ষম হয়ে ওঠে এবং নিজেকে আরও উচ্চতর লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা অর্জন করতে সক্ষম করে তোলে। প্রতিটি প্রজন্মের কাজই আরও আলাদা, আরও নিখুঁত এবং আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে। ক্রমাগত শিকারের কারণে তাদের শিকারস্থল থেকে শিকারযোগ্য প্রাণীরা ক্রমাগত দুষ্প্রাপ্য হতে থাকে। শিকারের অপ্রতুলতা, জলবায়ুর পরিবর্তন, ইত্যাদি কারণে এই প্যালিওলিথিক সমাজ অবশেষে ভেঙে পড়ে। কৃষিভিত্তিক সমাজের সূচনা হয়।

কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থায়ী বসবাসের সূচনা সম্ভব হয়েছিল কৃষিকাজের উদ্ভাবনের সঙ্গে – শিকার, পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কৃষিকাজ। শ্রমের প্রাথমিক বিভাজন ঘটছিল, কারিগরেরা জমি থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছিলেন। কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনে সমাজে শ্রমবিভাগের সূচনাও হয়েছিল – কেউ করত কৃষিকাজ, কেউ শিকার, কেউবা নানা হাতিয়ার ও অন্যান্য হস্তজাত পণ্যের উৎপাদন। একে অন্যের সাথে প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের প্রাথমিক বিনিময়ের শুরু হয়। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে পুরোনো বণ্টনব্যবস্থা ক্রমশ অপর্যাপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথাগত বিনিময়ের জায়গায় এসেছিল বিনিময়-বাণিজ্য। কৃষির উদ্বৃত্ত উৎপাদন সম্ভব করেছিল অ-কৃষিজীবী মানুষদের জন্য খাদ্যের যোগান। এরই কোনো এক পর্যায়ে অনেকগুলি গ্রাম মিলে নগরের উদ্ভব হয়। নগরের উদ্ভব ছিল সভ্যতার ফল।

ওয়েবডেস্কের পক্ষে প্রাককথন- সৌভিক ঘোষ

Spread the word

Leave a Reply