Patnaik on engels

Engels on the Peasant War in Germany

পিজ্যান্ট ওয়্যার ইন জার্মানি প্রসঙ্গে এঙ্গেলস

মূল প্রবন্ধটি ইংরেজিতে Engels on the Peasant War in Germany শিরোনামে পিপলস ডেমোক্র্যাসি পত্রিকায় ১৫ই জানুয়ারি ২০২১ তারিখে প্রকাশিত হয়। সেই প্রবন্ধেরই বাংলা অনুবাদ রাজ্য ওয়েবডেস্কের পক্ষ থেকে আজ ২৮শে নভেম্বর ২০২১ ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের জন্মদিবস উপলক্ষে প্রকাশ করা হল।

PRABHATPATNAIK

প্রভাত পট্টনায়েক

১৫২৫ সালে জার্মানিতে কৃষকদের সংগ্রাম এক অভূতপূর্ব পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল, সেই আন্দোলনের অবিসংবাদী নেতা ছিলেন থমাস মুয়েঞ্জের। সেই আন্দোলনের প্রসঙ্গে ১৮৫০ সালে ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস পিজ্যান্ট ওয়্যার ইন জার্মানি বইটি লেখেন। আজকের ভারতে কৃষকদের আন্দোলন নতুন ইতিহাস রচনা করেছে – এবং সেই লড়াই এখনও চলছে (নয়া তিন কৃষিআইন প্রত্যাহারের ঘোষণা হলেও তারা জানিয়েছেন সংসদে আইন বাতিল না হওয়া অবধি তারা নিজেদের অবস্থান থেকে নড়বেন না) তখন এঙ্গেলসের সেই রচনাকে আরেকবার ঝালিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এই বইটির পুনঃপাঠ একটি বিশেষ রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ।

বিপ্লবী সর্বহারা শ্রেণীর সাথে একজোট হয়ে সমাজতন্ত্র নির্মাণের প্রসঙ্গে কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে লেনিনের থিসিস যাকে পরবর্তীকালে মাও সে তুং আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিতে কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের নানাবিধ প্রাসঙ্গিক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ থাকা সত্বেও সংশ্লিষ্ট সংগ্রামে কৃষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে মার্কস কিংবা এঙ্গেলস খুব বেশি কিছু বলে যান নি এরকম একটা ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে কার্ল মার্কসের কতিপয় মন্তব্যকে বাছাই করে অপ্রাসঙ্গিকভাবেই কৃষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে মার্কস – এঙ্গেলসের বক্তব্যের অনেকাংশেই ভুল ব্যাখ্যা করা হয়।

মিখাইল বাকুনিন
ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস

নৈরাজ্যবাদীরাই (অ্যানার্কিস্ট) সবেচেয়ে বেশি মার্কসবাদ সম্পর্কে এহেন অভিযোগ তোলেন। “জনগণের স্বতস্ফুর্ত আন্দোলনগুলি যতই রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধাচারন করুক না কেন, মার্কসবাদীরা কিছুতেই রাষ্ট্র সম্পর্কে নিজেদের মোহ ত্যাগ করে না, আরও বিশেষ করে বলা যায় কৃষকদের আন্দোলন যা মূলগতভাবেই রাষ্ট্রশক্তি বিলোপের লক্ষ্যে কাজ করছে তার প্রতি এরা অভিশাপের মানসিকতা পোষণ করেন” –কৃষকদের যাবতীয় আন্দোলনকেই প্রতিবিপ্লবী বলে দাগিয়ে দেন এই যুক্তিতে জার্মানির কমিউনিস্টদের প্রতি মিখাইল বাকুনিন এই মন্তব্য করেছিলেন।

কৃষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মার্কস–এঙ্গেলস সম্পর্কে এই যে ধারনা তা একেবারেই ভ্রান্ত। ষোড়শ শতাব্দীতে জার্মানির কৃষকদের অভূতপূর্ব সংগ্রামকে যিনি ‘মূলগতরূপে প্রতিবিপ্লবী’ এবং ‘বিপ্লবী মুখোশধারী’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন তার নাম ফার্দিনান্দ লাসাল্লে – তিনি ছিলেন জার্মানির শ্রমিক নেতা। এই প্রসঙ্গ ছাড়াও অন্যান্য বিবিধ ক্ষেত্রেও লাসাল্লের রাজনৈতিক অবস্থানে মার্কস – এঙ্গেলস ফাঁকি দেখতে পেয়েছিলেন, সেই ভ্রান্তিকে তারা চিহ্নিতও করেছিলেন। কৃষকদের প্রতিবিপ্লবী অংশ হিসাবে দাগিয়ে দিয়ে তাদের সাথে সর্বহারা শ্রমিকশ্রেণীর কোন জোট সম্ভব নয় বলে প্রচার করছিলেন কিছু জার্মান কমিউনিস্ট (যাদের মধ্যে ফার্দিনান্দ লাসাল্লে ছাড়াও কার্ল লিবনেখটের নামও উল্লেখযোগ্য) – এদের বিরুদ্ধেই এঙ্গেলসকে কলম ধরতে হয়েছিল, পিজ্যান্ট ওয়্যার ইন জার্মানি বইটি সেই কারনেই লেখা হয়।

peasant-war-in-germany_by-frederick-engels_FC_300x

জার্মানিতে সর্বহারা বিপ্লবের নিশ্চয়তা প্রসঙ্গে এঙ্গেলস যে শুধু শ্রমিক – কৃষক জোটের পক্ষেই মত দিয়েছিলেন তাই নয় তিনি ১৫২৫-এর সংগ্রামের ব্যার্থতার কারন দেখাতে গিয়ে বলেন প্রথমত এই সংগ্রামে সারা দেশে কেন্দ্রীভূত নেতৃত্বের অভাব ছিল,  লড়াই হয়েছিল বিভিন্ন প্রদেশে বিচ্ছিন্নভাবে (তৎকালীন জার্মানি তখনও অবধি একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী জাতিরাষ্ট্র ছিল না) এবং কৃষকরা স্থানীয়স্তরেও শহরে বসবাসকারী প্লেবিয়ানদের (এঙ্গেলস এদের প্রাক–সর্বহারা বলে উল্লেখ করেন) সাথে কোনোরকম জোট গড়ে তুলতে পারে নি। থুরিঞ্জিয়া জাতিয় কয়েকটি প্রদেশে যেখানে থমাস মুয়েঞ্জের সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন (এই কয়েকটি এলাকায় প্লেবিয়ানরা কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন) সেইসব অঞ্চলগুলি ব্যাতিরেকে সারা দেশেই কৃষকদের লড়াই ব্যাপক প্রতিরোধ আক্রমনের সম্মুখীন হয়েছিল।

১৮৪৮ সালে গোটা ইউরোপেই সর্বহারা বিপ্লব প্রতিরুদ্ধ হয়, সেই আলোকেই ১৮৫০ সাল নাগাদ ফ্রেডেরিখ এঙ্গেলস পিজ্যান্ট ওয়্যার ইন জার্মানি বইটি লিখেছিলেন। ১৮৭০ সালে নতুন করে এই বইটির ভূমিকা লিখতে গিয়ে তিনি আরেকবার ১৫২৫ এবং ১৮৪৮ সালের তুলনামূলক পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় শ্রমিক-কৃষক জোটের গুরুত্বকে আরও জোরালো ভাবে তুলে ধরেন।

১৮৭০ সালের ভুমিকায় এঙ্গেলস উল্লেখ করেন জার্মানিতে বুর্জোয়াশ্রেণীর উত্থানে কিছুটা দেরি হয়েছিল। ততদিনে ইউরোপের অন্যান্য দেশে বুর্জোয়ারা নিজেদের সাথে সাথেই সর্বহারা মজদুর শ্রেণীকেও অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে গেছিল। ইউরোপের অন্যান্য দেশে বুর্জোয়ারা তখন জনগনের অন্যান্য প্রতিবিপ্লবী অংশ যেমন রক্ষণশীলদের নিজেদের দলে টানতে ব্যাস্ত ছিল – কারন ততদিনে বুর্জোয়ারা শ্রেণী হিসাবে আর বিপ্লবী নয় বরং শোষকের স্তরে পৌঁছে গেছে। এই অবস্থার উদাহরণ হিসাবে ফ্রান্সের কথা মনে করতে হয় যেখানে তারা নেপোলিয়ন বোনাপার্টের শাসন অবধি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। জার্মানিতে বুর্জোয়াদের শ্রেণী হিসাবে উত্থান তখনও এই পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে নি, তাই ব্যাক্তিগত সম্পত্তি (সামন্ত এবং বুর্জোয়া উভয় কায়দাতেই যে সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে) রক্ষার পবিত্র কর্তব্যের স্লোগান তুলে তারা জোট বেঁধেছিল জমিদারদের সাথে, সামন্ত প্রভুদের সাথে।

জমিদার-সামন্তদের সাথে জোটবদ্ধ হওয়ার এই প্রক্রিয়াতেই বুর্জোয়ারা কৃষকদের প্রতারিত করেছিল। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষিত হবার একমাত্র সম্ভাবনা ছিল শ্রমিক-কৃষক জোটের দ্বারা সর্বহারার রাষ্ট্রদখল হলে তবেই। এহেন জোটের সংখ্যাধিক্যই হল তাদের লড়াইতে জেতার অন্যতম পূর্বশর্ত। বুর্জোয়া–জমিদার জোটের শাসনের অবসানে তাই ঐতিহাসিকভাবেই একমাত্র পথ ছিল শ্রমিক–কৃষকদের জোট বাঁধা।

উনবিংশ শতাব্দির শেষভাগে জার্মানিতে জনগনের ঠিক কোন কোন অংশ সর্বহারা শ্রমিকদের সাথে লড়াইতে জোটবদ্ধ হতে পারে সেই নিয়ে এঙ্গেলস একটি রূপরেখা নির্মাণ করেন। তার বক্তব্য ছিল, পাতিবুর্জোয়ারা, শহুরে হতদরিদ্র মজদুর, ছোট চাষি এবং ক্ষেতমজুরদের একসাথে নিয়ে জোট গড়ে তোলা সম্ভব। কৃষক সমাজের বিভিন্ন অংশকে চিহ্নিত করতে গিয়ে এঙ্গেলস ছোট, মাঝারি এবং বড় চাষি বলে উল্লেখ করতেন – কখনো ধনী, মধ্যবিত্ত কিংবা গরীব কৃষক বলতেন না। আলাদা করে ক্ষেতমজুরদের কথা উল্লেখ করতেন (তার লেখায় ওয়েজ ওয়ার্কার্স অফ দ্য ল্যান্ড বলে উল্লেখ পাওয়া যায়)। এই জোটের পক্ষ এঙ্গেলসের যুক্তি ছিল এরকমঃ

“ছোট কৃষকরা (বড় কৃষকরা বুর্জোয়া শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত) কোন সমজাতীয় গোষ্ঠী নয়। তারা হয় জমিদার–সামন্ত প্রভুদের নিকটে ভূমিদাসত্বের বেড়িতে আবদ্ধ অথবা চুক্তিচাষের (অন্যের জমি নিয়ে চাষি হিসাবে কর্মরত – এঙ্গেলস আয়ারল্যান্ডে কৃষকদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন) দ্বারা নিপীড়িত। প্রত্যক্ষ জীবনযন্ত্রণার কারনেই তাদের উপলব্ধি করানো সহজ যে এই দমবন্ধকরা অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বে ক্ষমতার দখল নেওয়া। ফসল ভাল হলেও তার বেশিরভাগটাই চলে যায় ঋণ অথবা ভাড়া হিসাবে, আর ফসলের উৎপাদন যখন খারাপ তখন তারা কার্যত না খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হয়। ঋণ কিংবা চুক্তিমতো অর্থ ভাড়া হিসাবে চুকিয়ে দিতে ছোট চাষি যখন অপারগ সেই অবস্থায় তারা জমিদার – সামন্ত প্রভুদের দয়ায় বেঁচে থাকে। নিতান্ত বাধ্য না হলে বুর্জোয়াদের কাছে তাদের কাজের সংস্থান জোটে না। শ্রমিকদের সাথে জোট করা ছাড়া এইসব ছোট চাষিদের আর কি উপায় রয়েছে?

আরেকধরনের কৃষক রয়েছেন যারা ছোট জমির মালিক। বেশিরভাগ সময়েই তারা সেই জমি বন্ধক রাখতে বাধ্য হন, কার্যত নিজেদের জমি থেকেও তারা ছোট ভূমিহীন চাষিদের অবস্থায় পৌঁছান। তারা বলতে গেলে একরকম মজুরির জোরেই বেঁচে থাকেন কারন বিক্রির জন্য ভালো ফসল কিংবা দিনগুজরানে উপযুক্ত কাজে যুক্ত হবার সুযোগ, দুটোই অনিশ্চিত। বুর্জোয়াদের কাছে এদের কোন প্রত্যাশাই নেই, কারন তারাই এদের জমির বন্ধকী বাবদ রক্ত চুষে চলেছে। এইসব সুদখোর বুর্জোয়াদের কবলে পড়ে জমির মালিক হওয়া সত্বেও এরা জমি মালিকানার কোন সুবিধাই ভোগ করতে পারেন না। এদের কাছে সজা কথায় বুঝিয়ে দিতে হবে যদি জনগনের রাষ্ট্র যাবতীয় জমির বন্ধকী নিজের হাতে তুলে নেয় এবং কম সুদে তা ছাড়িয়ে নেবার বন্দোবস্ত করে তবেই তারা বাঁচবে। এহেন জনগনের রাষ্ট্র গড়তে পারবে একমাত্র শ্রমিকশ্রেণীই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত সোভিয়েত ইউনিয়নের পোস্টারঃ শ্রমিক-কৃষক জোট

মাঝারি এবং বড় আকারের জমি রয়েছে এমন কৃষকদের কাছে গেলেই ক্ষেতমজুরদের সন্ধান পাওয়া যায়। জার্মানির গোটা উত্তর এবং পুর্বভাগজূড়ে এমন অবস্থা দেখতে পাওয়া যাবে। এইসব এলাকা থেকেই শিল্পমালিকেরা নিজেদের কারাখানার মজদুরদের সংগ্রহ করে আনে। শিল্পকারখানায় মালিকদের সাথে শ্রমিকদের যেরকম বৈরিতা সেই একই সম্পর্ক বড় জমির মালিকদের সাথে চুক্তিচাষি কিংবা ক্ষেতমজুরদের। একজনের জন্য মুক্তির পথ সেই কারনেই অন্যকেও বেঁচে থাকার আলো দেখায়।

শিল্পকারখানা সমুহে নিপীড়িত শ্রমিকের মুক্তি ঘটবে সেদিন যখন তারা পন্য উৎপাদনের যাবতীয় সরঞ্জাম (কাঁচামাল, মেশিনারি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী)কে মালিকশ্রেনীর কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে যৌথ সম্পত্তিতে পরিনত করবে। একইকায়দায় ক্ষেতমজুরেরা মুক্তি পাবে তখনই যদি বড় বড় জমিদার – সামন্তপ্রভুদের ব্যাক্তিমালিকানার কবল থেকে চাষের জমিকে মুক্ত করা যায় এবং তাকে সমাজের সম্পত্তি (কৃষকদের যৌথ মালিকানার ভিত্তিতে) হিসাবে গন্য করা হয়”।

সর্বহারা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কাজকে দুই ধাপে না ভেঙ্গে ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস তাকে একধাপে সমাধার কথা ভেবেছিলেন। তার চিন্তাভাবনা সমাজবদলের পথে রুপান্তরের কাজ ধনতন্ত্রের পথে প্রথমে সাময়িক বিরতি নেবে এবং পরের ধাপে সমাজতন্ত্রের দিকে এগোবে তেমনটা না, বরং সমাজবদলের প্রথম থেকেই বিপ্লবী শক্তিসমুহ সমাজতন্ত্র নির্মাণে ব্রতী হবে। এই কারনেই তার লেখায় তিনি বড় চাষি তো বটেই এমনকি মাঝারি কৃষকদেরও বিপ্লবী সর্বহারার সাথে জোটের বাইরে রেখেছিলেন। সামন্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা উচ্ছেদের পরে বুর্জোয়ারা যেভাবে কৃষকদের মধ্যে জমি বিলি করে তাকে নাকচ করে তিনি জমির উপরে রাষ্ট্রীয় মালিকানার (জমির জাতীয়করণ) প্রস্তাব করেন। 

রাইনিশে জাইতুং পত্রিকা প্রকাশের সময় মার্কস – এঙ্গেলস (হাতে আঁকা ছবি)

একেক দেশের বাস্তব পরিস্থিতির উপরেই সেই দেশে সর্বহারা শ্রমিক–কৃষকদের জোটের চেহারাটা কেমন হবে তা নির্ভর করে একথা সর্বদাই সত্য। আমাদের দেশের পরিস্থিতিতে এহেন জোট আজকের দিনে কি চেহারা নেবে সেই সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ভারতের কৃষকদের লড়াইতে আরেকটি বড় প্রসঙ্গও যুক্ত হয়েছে – এই লড়াই আর শুধুমাত্র বড় জমিদার – সামন্তপ্রভুদের বিরুদ্ধে লড়াইতেই সীমাবদ্ধ নেই, বড় পুঁজি এবং দেশি–বিদেশী কর্পোরেট পূঁজির (কৃষিবাণিজ্যে যে পুঁজি সক্রিয়) বিরুদ্ধেও কৃষকরা লড়ছেন। ফ্রেডেরিখ এঙ্গেলসের ‘পিজ্যান্ট ওয়্যার ইন জার্মানি’ বইটি প্রথমে রাইনিশে জাইতুং পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রবন্ধ হিসাবে প্রকাশিত হয়, কার্ল মার্কস তখন সেই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং নিশ্চিতভাবেই এঙ্গেলসের সাথে সহমত পোষণ করতেন। আজকের দিনে আমাদের সংগ্রামী প্রত্যয় আরও জোর পায় যখন আমরা উপলব্ধি করি সমাজতন্ত্র নির্মাণের পথে কার্যকরী পূর্বশর্ত হিসাবে মার্কস-এঙ্গেলস দুজনেই শ্রমিক-কৃষক জোটের পক্ষেই ছিলেন।

ওয়েবডেস্কের পক্ষে অনুবাদঃ সৌভিক ঘোষ

Spread the word

Leave a Reply