স্বাধীনতার লড়াই - প্রকৃত উত্তরাধিকার পুনঃস্মরণ

আমি চাইবো আমাদের ইতিহাসের শিক্ষা এই প্রত্যয়েই স্থিত হোক, আমরা ধর্মনিরপেক্ষ, সাধারণতন্ত্র বিশিষ্ট গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং অতীতের ভুলকেই পুনরাবৃত্ত করে ভারতকে একটি ‘হিন্দু পাকিস্তান’-এ পরিণত হতে না দেবার শপথ গ্রহণ করব।

ভারতের প্রাণশক্তি কাদের হাতে ?

ভারতের নবীন শিক্ষিত সম্প্রদায়কে এ-ক্ষেত্রে সমবেত হতে হবে। চাষী আর মজরদের মধ্যে জীবনের বাণী প্রচার করা আর তাদের সত্যকারের জীবনের সন্ধান দেওয়াই নবীন শিক্ষিত সমাজের একমাত্র কাজ। চাষী আর মজুরদের বলতে হবে, তোমরা অজানা ভবিষ্যতের লাভের আশায়, বর্তমানের শ্রমলব্ধ ধন পরের পায়ে বিলিয়ে দিয়ে বসে আছ, কিন্তু জানো না তোমরা, বিয়োগের ভিতর দিয়ে লাভ কখনো হতে পারে না। লাভের জন্য যে যোগ চাই-ই চাই। তাদের বোঝাতে হবে, তাদের শ্রমের ধনে তাদের ভোগের অধিকার ষোল আনা রয়েছে, সে -অধিকার ত্যাগ করে তারা পৌরুষের পরিচয় না দিয়ে কাপুরুষতার পরিচয়ই দিচ্ছে, মনুষ্যত্ব হতে তারা বহু দূরে সরে পড়েছে। এককথায়, জীবনে খাওয়া-পরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যতদিন না আমাদের দেশের কৃষক ও শ্রমিকগণের প্রাণে জাগবে ততদিন আমাদের অবস্থার পরিবর্তন কিছুতেই হবে না। পরিবর্তনের প্রয়োজনের সৃষ্টি না হলে পরিবর্তন কেনই বা হবে?