নৈরাজ্যের পিচ ঢালা রাস্তায় লড়াইয়ের ফুল ফুটবেই - কলতান দাশগুপ্ত

"আমরা, ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে গড়ে তুলতে এবং তার সকল নাগরিকই যাতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং তাদের সকলের মধ্যে ব্যক্তির মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুনিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যাতে ভ্রাতৃত্বের ভাব গড়ে ওঠে, তার জন্য সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথ গ্রহণ করে, আমাদের গণপরিষদে আজ, ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর, এত দ্বারা এই সংবিধান গ্রহণ, বিধিবদ্ধ এবং নিজেদের অর্পণ করছি।"

এই সংবিধান কার্যকর হয়েছিল ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি। আজ এতো বছর পর আমরা যখন সাধারণতন্ত্র দিবস পালন করছি, তখন সাংবিধানিক নীতিগুলি চরম আক্রমণের মুখে পড়ছে, যে সব নীতির ভিত্তিতে আমাদের এই সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে ছুটি আগেও ছিল, কিন্তু ধর্মস্থান প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় সরকারি ছুটির রেওয়াজ কোনও ধর্মনিরপেক্ষ দেশে হওয়া উচিত নয়।

২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নানাভাবে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক কাঠামো কে আঘাত করার চেষ্টা করে চলেছেন। কাশ্মীরে হঠাৎ সংবিধান প্রদত্ত অধিকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেওয়া হল। মানুষকে এটা সম্পূর্ণভাবে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলো যে স্বাধীনতার সময় কাশ্মীর ভারতের অংশ ছিল না। কাশ্মীরের ভারত ভুক্তি হওয়ার শর্ত ছিল এই সংবিধান প্রদত্ত অধিকার। কাশ্মীরের জমি নাকি গোটা দেশের মানুষ কিনবেন, কাশ্মীরের মানুষের সাথে গোটা দেশের যেকোন অংশের মানুষের বিয়ে হবে… এই ধরনের মিথ্যা প্রচারের মায়াজাল তৈরি করা হলো। বাস্তবে কাশ্মীরের মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতায় ব্যাপক হস্তক্ষেপ করা হলো। যোগাযোগের সমস্ত উপায় বন্ধ, কোনও আইনি অভিযোগ ছাড়াই হাজার হাজার মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, সংবাদপত্র বন্ধ ছিল। পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে জম্মু- কাশ্মীরকে দু'টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। মানুষের রায়ে নির্বাচিত বিধায়কের সাথে দেখা করার জন্যও বারংবার কোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছে। কাশ্মীরে পেলেট-বিদ্ধ মুখের ছবি ভীষণ অস্বস্তি জাগিয়েছিল।

হঠাৎ জানা গেলো দেশের নাকি নাম বদলে যাবে! ইন্ডিয়া থেকে বদলে নাকি ভারত হবে! আচ্ছা, ওই ইন্ডিয়া বা ভারতের মধ্যে মনিপুর থাকবে? হরিয়ানা থাকবে? ধর্মের নামে, পোশাকের নামে, খাবারের নামে মানুষ ভাগ করার নোংরা রাজনীতি থাকবে? দেশের নাম বদলে দিলে কি বেকারের হাতে কাজ থাকবে? নতুন নতুন কারখানা থাকবে? নারীদের সম্মান থাকবে? চাল, ডাল, তেল, পেট্রোল, ডিজেল রান্নার গ্যাসের বাড়তি দাম থাকবে? এই সব প্রশ্নের উত্তর আমরা জানি। আমরা এটাও জানি যে আরো অনেক জরুরী প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আটকাতে রাষ্ট্র আসলে এইসব ছক তৈরি করছে। আজকের রাতে আমার দেশের আনুমানিক ৩০ কোটি মানুষ না খেয়ে ঘুমোতে যাবেন। আজ সন্ধ্যায় যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা ১০৬২ তম দিনে ব্যানার গুটিয়ে অবস্থান মঞ্চ থেকে বাড়ি ফিরবেন। আজও দুপুর বেলা মিড ডে মিলে ছোট ছোট বাচ্চারা একটা ডিম পর্যন্ত পাবে না। আজ বিকেলেও কোথাও উঁচু জাত নিচু জাতের নামে মানুষ খুনের রাজনীতি হবে। কোথাও বা কুটির শিল্পের মত বোমা বাঁধতে গিয়ে গোটা পরিবার নিকেশ হয়ে যাবে একসাথে। রাষ্ট্র জানে এইসব সমস্যা মাথা চাড়া দিচ্ছে। রাষ্ট্র চায় নির্মমভাবেই এইসব সমস্যা দমন করতে। পড়াশোনার পরিসরকে ছোট করে আনতে চায়। ভুলিয়ে দিতে চায় আমাদের ইতিহাস, ভূগোল, সভ্যতা, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ। আমার সংবিধানে বলা আছে ইন্ডিয়া দ্যাট ইজ ভারত। যে সংবিধান বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের কথা বলে। যে সংবিধান জাত ধর্ম নির্বিশেষে মানুষের অধিকারের কথা বলে। যে সংবিধান সমাজতান্ত্রিক ভাবনায় দেশকে গড়ে তোলার কথা বলে। সেই দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই দেশকে বাঁচানোর কাজ এখন আমাদের সামনে উপস্থিত।

নোট বাতিল থেকে শুরু করে মন্দির উদ্বোধন, এই সবই চলছে দেশপ্রমের নামে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষার অনিবার্য পদক্ষেপ নাকি এগুলো! রুটি, চাকরি ইত্যাদি প্রশ্ন তুললেই দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। শুধু দাগিয়ে দেওয়াই নয়, সবেতেই সরকার দেশদ্রোহের অভিযোগ দায়ের করছে। যেন মোদী ও শাহই দেশপ্রেমের একমাত্র মাপকাঠি।

স্বাধীনতার আগে আরএসএস'র দেশ প্রেম কি রকম ছিল? ১৯২৫ সালে নাগপুরে গঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। নামে স্বেচ্ছাসেবক হলেও ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কোনও সংগ্রামে ভূমিকা নেয়নি আরএসএস। তাদের ঘোষিত শত্রু ছিল মুসলিম, খ্রিস্টান ও কমিউনিস্টরা। আরএসএস-এর নেতা সাভারকার জেল বন্দি থাকাকালীন ৬ বার মুছলেকা লিখে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন এবং বাকি গোটা জীবন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে কাজ করে গেছেন। আর এস এসের দ্বিতীয় সঙ্ঘ-চালক গোলওয়ালকার তাঁর ‘বাঞ্চ অফ থটস’ বইয়ে ২৩৮ পৃষ্ঠায় গণপরিষদকে তুলোধোনা করে ভারতীয় সংবিধান সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে লিখেছিলেন জাতীয় লক্ষ্য, জীবন দর্শনের কোন পথনির্দেশই সংবিধানে নেই, কোন নিজস্বতাও নেই, কারণ গণ পরিষদের পণ্ডিতরা মনুস্মৃতির মত প্রাচীন ভারতের নৈতিক ও কার্যকরী আইন কে সংবিধানে জায়গা দেওয়ার প্রয়োজন বোধই করেননি। আম্বেদকর রচিত ভারতীয় সংবিধানের বদলে আর এস এস সেই মনুস্মৃতি কে ভারতের সংবিধান হিসেবে চেয়েছিলো যে মনুস্মৃতির প্রতিটি পদে পদে নারী জাতির প্রতি চূড়ান্ত অসম্মানের, নারী বিদ্বেষের ইতিহাস লেখা আছে। ১৯২৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর আম্বেদকরের নেতৃত্বে মনুস্মৃতি পুড়িয়ে দিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখানোর ঘটনা আরো বেশি বেশি করে প্রমান করে এই বইটির ছত্রে ছত্রে আছে শুধুই বিদ্বেষের সুর। মনুস্মৃতি তে মোট ২,৭০০ শ্লোক ও ১২ টি অধ্যায় আছে। এই মনুশাস্ত্রে কোথাও নারীকে শূদ্রের চেয়ে বেশি মর্যাদা দেয়া হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নারীকে স্বভাবজাত দাসী বানিয়েই রাখা হয়েছে। মনুশাস্ত্রে নারী হচ্ছে পুরুষের ইচ্ছাধীন এক যন্ত্র। এখানে নারী কেবলই এক পুরুষোপভোগ্য জৈবসত্তা। নারীর মনস্তত্ত্ব বা কোনরূপ মানসিক সত্তাকে মনুশাস্ত্রে স্বীকারই করা হয়নি। নারীর দেহসত্তাটিরই প্রাধান্য এখানে, যার মালিকানাও নারীর নিজের নয় অবশ্যই। এর মালিকানা শুধুই আধিপত্যকামী পুরুষ প্রভুর। পুরুষতন্ত্র তার ইচ্ছানুরূপ শারীরিক-মানসিক ভোগ-লিপ্সা চরিতার্থ করতে পারবে। মনুস্মৃতির ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে থাকা এই নারী বিদ্বেষের কারণেই সেদিন আর এস এস, আম্বেদকর রচিত ভারতীয় সংবিধানের বদলে এই মনুস্মৃতি কে ভারতের সংবিধান হিসেবে চেয়েছিলো।

যে গান্ধীকে খুন করেছে আর এস এস, হিন্দু-মুসলিম একতাকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম মূল স্তম্ভ মনে করতেন গান্ধীজী। তার 'প্রার্থনাসভা'য় বিভিন্ন ধর্মের (হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ) বাণী পাঠ হতো। ভারতীয় সংবিধানে ৫১-এ (এফ) অনুচ্ছেদ গ্রহণ করার পিছনে বিষয়টির প্রভাব ছিল। এই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রত্যেক ভারতীয়র দায়িত্ব 'আমাদের বৈচিত্রময় সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে সম্মান করা ও রক্ষা করা'। সাভারকরের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত 'হিন্দুত্ব'র গোটা মতাদর্শ আসলে 'বৈচিত্রময় সংস্কৃতি' রক্ষায় সংবিধানের বক্তব্যের ঠিক উলটো। 'বৈচিত্রময় সংস্কৃতি' বিকাশের নির্দেশ সংবিধান দেওয়া সত্ত্বেও সংস্কৃতি ও শিক্ষা সংক্রান্ত সব নির্দেশিকায় তা অদৃশ্য। ইতিহাসের ক্ষেত্রে এই দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ মুসলিম শাসকদের অধীন পর্বকে 'বিদেশি শাসন' বলে দেখানো। আকবর এবং টিপু সুলতানের মতো ব্যক্তিত্বদের সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিষ্ঠুর শাসক বলে দেখিয়ে বিকৃত করা হচ্ছে স্কুলপাঠ্য, যাঁরা জাতীয়তাবাদী ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে যথাক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র রক্ষায় এবং ব্রিটিশ আগ্রাসন প্রতিরোধী সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন।

নাগরিক অধিকার বিপন্ন হয়ে পড়েছে দেশে। এই বিষয়টিতে গান্ধীজী ছিলেন আপসহীন। তাঁর প্রথম সত্যাগ্রহ ছিল রাওলাট আইনের (১৯১৯) বিরুদ্ধে, যে আইন ভারতীয়দের বিচার এবং ন্যায়ের প্রাথমিক অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। আজ কাশ্মীরে রাওলাট আইনের থেকেও অধিক মাত্রায় বাকস্বাধীনতা এবং প্রতিবাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মুখে কালো কাপড় বেঁধে গুন্ডারা জে এন ইউ তে ঢুকে মারল ঐশীকে। জামিয়ায় ঢুকে পড়েছে অমিত শাহের পুলিশ। হায়দ্রাবাদে হত্যার প্ররোচনা দেওয়া হল রোহিত ভেমুলাকে। ১৪৬ জন সাংসদকে একদিনে লোকসভা থেকে বহিস্কার করা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় মদতে হামলা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদীদের ধরে ধরে জেলে পোরার ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, কেন সাংবিধানিক সুরক্ষাগুলি আর কার্যকর নেই।

নাগরিক আইনে যে ভয়ংকর বদল আনা হয়েছে তা আসলে সংবিধানের মূল কথাকেই আঘাত করছে। সি এ এ - এন আর সি আসলে এক বড় কর্মসূচির অংশ, যেটা আরএসএসএর চাহিদা দেশের মানুষকে আবার ভাগ করার জন্য। শরণার্থীদের সুরক্ষার নামে দেগে দেওয়া হচ্ছে ধর্মের ক্ষতচিহ্ন। প্রমাণ কর তুমি ধর্মীয় উৎপীড়নের শিকার, প্রমাণ কর তুমি অবৈধ ভাবে রয়েছ ভারতে, প্রমাণ কর তুমি মুসলিম নও, প্রমাণ কর তোমার নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদনের কারণ রয়েছে। অন্যথায় ফের গৃহহীন হও। এই কর্মসূচি চালু হওয়ার পর গড়ে ওঠার জনরোষের ফলে বিজেপি শাসিত আসামেও দীর্ঘদিন যেতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। এক কলমের খোঁচায় অনেক লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাওয়াই শুধু নয়, এই এনআরসির ফলে সংবিধান বর্ণিত মূল্যবোধ বাতিল করে দেশের মানুষের মধ্যেও কার্যত গ্রেডেশন প্রথা চালু করা হলো। ৯০ এর দশক থেকে নয়া উদারবাদি অর্থনৈতিক নীতি ব্যাপক অসাম্য তৈরি করেছিল দেশে। বর্তমানে দেশের মোট সম্পদের প্রায় ৩৩ শতাংশ দখলে রেখেছেন দেশের ১% ধনী মানুষ। উল্টোদিকে দেশের মোট সম্পদের ৬% অধিকার করে রয়েছে দেশের নিম্নবিত্ত ৫০% মানুষ। তাহলে সংবিধান বর্ণিত সকল নাগরিকের অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের কি হলো?

হিন্দুত্ব রাষ্ট্রের পক্ষে এই আগ্রাসন কেবল সংখ্যালঘুদের স্বার্থই কেড়ে নিচ্ছে না, আসলে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ১৯৩০'র পর জার্মানিতে নাৎসি শাসনের সঙ্গে এর তুলনা আসতে বাধ্য। হিটলারের শাসনে ইহুদিদের নির্যাতনে সপ্রশংস ছিলেন আরএসএস প্রধান গোলওয়ালকর। বর্তমান সময়ে সংবাধমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের একাংশকে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে গোয়েবলসকে মনে করাতে বাধ্য।

মহম্মদ আখলাকের হত্যাকাণ্ড অনেকেরই মনে আছে।আখলাকের ঘরে মাংস ছিল কিনা রাষ্ট্র খোঁজ নিচ্ছিল, যে রাষ্ট্র কোনওদিন খোঁজ নেয়নি আখলাকের ঘরে ডাল,ভাত ছিল কিনা! গৌরী লঙ্কেশের মৃত্যু থেকে বিলকিস বানোর ঘটনার অপরাধীদের প্রকাশ্যে মালা পড়িয়ে সংবর্ধনা, চোখের সামনে দেশটা বদলে যাচ্ছে একটু একটু করে।

এখন সরাসরি আক্রান্ত সংবিধান। সাধারণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমতার অধিকার থেকে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। চোখের সামনে মার খাচ্ছে ইতিহাস। গান্ধী, নেতাজী, মাস্টারদা, ক্ষুদিরাম থেকে ভগৎ সিংয়ের লড়াইের ইতিহাস। কাকদ্বীপ থেকে তেলেঙ্গানা হয়ে সেলুলার জেল সেই লড়াইয়ের সাক্ষী। সেই লড়াইয়ের ব্যাটন এখন এই প্রজন্মের হাতে। নাগরিকত্ব সংশোধনের থেকে শুরু করে ৩টি কালা কৃষি আইনের বিরোধিতায় দেশের মানুষের তীব্র প্রতিবাদ রাষ্ট্রকে বারংবার বুঝিয়ে দিয়েছে যে ফাঁকা মাঠে গোল হবে না।

তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার মাদাথুকুলম তালুকের রাজাভুর গ্রামের উচ্চবর্ণের মহল্লার রাস্তা সংরক্ষিত ছিল শুধুমাত্র উচ্চবর্ণভুক্তদের জন্য। উচ্চবর্গের মাথারা জানিয়েছিলেন, ওই রাস্তা দিয়ে নীচু জাতির মানুষেরা জুতো পায়ে গেলে দেবতা অসন্তুষ্ট হবেন এবং যারা এই কাজ করবে তাদের মৃত্যু হবে। দীর্ঘ লড়াই শেষে বিগত ২৪ ডিসেম্বর ৩০০ মিটারের ওই রাস্তা জুতো পায়ে দিয়ে হেঁটেছেন গ্রামের প্রায় ৬০ জন তথাকথিত নিম্নবর্ণ-ভুক্ত মানুষ। মাত্র ৩০০ মিটার পথ জুতো পরে হাঁটার অধিকার আদায় করতে, সাহস জোগাড় করতে এত বছর লড়াই করতে হয়েছে। অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া গেছে। এই লড়াই আমাদের সাহস যোগায়। গোটা দেশজুড়ে নৈরাজ্যের পিচ ঢালা রাস্তায় লড়াইয়ের ফুল ফুটবেই।


শেয়ার করুন

উত্তর দিন