Site icon CPI(M)

Lenin’s Revolutionary Theory of organization – Prakash Karat





মার্কসবাদী ধারণা এবং অনুশীলন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে লেনিনের অন্যতম অবদান বৈপ্লবিক পার্টির ধারণা গড়ে তোলা। রাশিয়ার বিপ্লবে তাঁর সেই ধারণাই প্রয়োগ করার চেষ্টা চালিয়েছেন লেনিন। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ভিত্তিতে কমিউনিস্ট পার্টি পড়ে তোলা লেনিনের অনন্য অবদান।
লেনিনের ধারণায়, সংগঠন অঙ্গাঙ্গীভাবে বৈপ্লবিক তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত। ‘কী করিতে হইবে’ পুস্তিকায় লেনিন লিখেছিলেন, ‘‘বৈপ্লবিক তত্ত্ব ছাড়া কোনও বৈপ্লবিক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে না।’’ ১৯০২ সালে এই পুস্তিকা প্রকাশিত হয়েছিল। বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল কিভাবে প্রকৃত সংগঠনই বৈপ্লবিক তত্ত্বকে বৈপ্লবিক সংগ্রামের রূপ দিতে পারে। লেনিন বলেছিলেন, ‘‘ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সর্বহারার কাছে সংগঠনই একমাত্র হাতিয়ার।’’


১৯০০ থেকে ১৯০৬ পর্যন্ত রাশিয়ান সোশাল ডেমোক্র্যাটিক লেবার পার্টি (আরএসডিএলপি)’র অভ্যন্তরে সংগ্রাম চালিয়েছিলেন লেনিন। লক্ষ্য ছিল বৈপ্লবিক পার্টি গড়ে তোলার উপযুক্ত সাংগঠনিক কাঠমো তৈরি এবং তা চালু করা। সেই সময়ে সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ছিল শ্রমিক শ্রেণির পার্টি। এই পার্টি প্রথম গঠিত হয় জার্মানিতে। তারপর ইউরোপে অন্যান্য দেশেও এই মডেল চালু হয়। আরএসডিএলপি পরে বলশেভিক এবং মেনশেভিক, এই দু’ভাগে ভেঙে যায়। এই বিভাজনের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল পার্টির চরিত্র এবং সদস্যদের ধরন নিয়ে বিতর্ক।


শ্রেণি সচেতনতা
সংগঠনের লেনিনীয় ধারণা প্রযুক্ত হয়েছিল বলশেভিক পার্টির কাঠামোয়। লেনিনকে প্রথমে লড়াই চালাতে হয়েছিল সেই অর্থনীতিবিদদের বিপক্ষে যাঁরা মনে করতেন কেবল অর্থনৈতিক এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংগ্রামই পার্টি গড়ে তোলার পক্ষে যথেষ্ট। লেনিনকে অর্থনীতিবাদের বিপক্ষে লড়তে হয়েছিল, যে মতবাদটি কেবল শ্রমিক শ্রেণির স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামের ওপর আস্থাশীল ছিল। অর্থনৈতিক সংগ্রাম (ট্রেড ইউনিয়ন যে সংগ্রাম পরিচালিত করে), তার উৎপত্তি হয় শোষণ এবং কাজের শর্তজনিত ক্ষোভ থেকে। এই স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রাম কেবল ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের উপযুক্ত চেতনা তৈরি করতে পারে। লেনিন লিখেছিলেন, ‘‘সব দেশের ইতিহাস দেখায় যে শ্রমিক শ্রেণি নিজের সক্রিয়তায় কেবল ট্রেড ইউনিয়ন চেতনায় উন্নীত হতে পারে।’’ এই চেতনা বৈপ্লবিক চেতনার ‘ভ্রূণ রূপ’। সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘সর্বহারার স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রাম তার প্রকৃত ‘শ্রেণি সংগ্রাম’ হয়ে উঠতে পারে না যতক্ষণ পর্যন্ত না সেই সংগ্রাম বিপ্লবীদের শক্তিশালী সংগঠনের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।’’
চেতনার প্রশ্নে লেনিন আরেও এগিয়ে বললেন যে সমাজতান্ত্রিক চেতনা বা শ্রেণি চেতনা গড়ে ওঠে ‘বাইরের থেকে’। কমিউনিস্ট ইশ্তেহারের সেই বক্তব্যকে লেনিন মনে করালেন: ‘‘প্রতিটি শ্রেণি সংগ্রামই রাজনৈতিক সংগ্রাম।’’ মার্কসবাদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পার্টি ‘বাইরে থেকে’ শ্রমিকদের মধ্যে এই চেতনা গড়ে তোলার কাজ করবে।


অগ্রণী বাহিনীর ভূমিকা

লেনিনের বলছেন, সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি শ্রমিকশ্রেণির পার্টি হিসেবে চেতনা এবং দায়বদ্ধতার স্তর বিবেচনা না করে কাউকে সদস্য করতে পারে না। তিনি ‘অগ্রণী বাহিনী’-র ধারণা হাজির করলেন। শ্রমিক শ্রেণির অগ্রণী চেতনায় সংহত বাহিনী, যা এগিয়ে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারে। তার অর্থ পার্টিতে সদস্য তারাই যাঁরা সবচেয়ে চেতনাসম্পন্ন, সবচেয়ে জঙ্গি। যারা শ্রমিকদের মধ্যে এবং জনতার মধ্যে থেকে কাজ করবেন বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে।
লেনিন পেশাদার বিপ্লবীদের সংগঠনের কথা বলেছিলেন। ‘‘বিপ্লবীদের সংগঠন হলো প্রথমত এবং প্রধানত তাদের সংগঠন যারা বিপ্লব সম্পন্ন করার দায়িত্বকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।’’
লেনিনকে পেশাদার বিপ্লবীদের নিয়ে অগ্রণী বাহিনী গড়ার ধারণা দিতে বাধ্য করেছিল সে সময়ের পরিস্থিতি। ১৯০৫’র বিপ্লবের সময় লেনিন দেখেছিলেন হাজার হাজার জঙ্গি এবং চেতনাসম্পন্ন কর্মী নিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দেখেন যে বৈপ্লবিক সংগ্রাম সোশাল ডেমোক্র্যাটিক চেতনাসম্পন্ন বহু শ্রমিক তৈরি করেছে। এর পর যখন বলশেভিক পার্টি গড়ে উঠল, তার বিভিন্ন স্তরে মূল দায়িত্ব দেওয়া হলো পেশাদার বিপ্লবীদের। সেই সঙ্গে সর্বহারা সদস্যদের সংখ্যাও বাড়তে থাকল যারা পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী নয়।
অগ্রণী বাহিনীর ধারণা হলো, শ্রমিকশ্রেণির এগিয়ে থাকা অংশ যারা পার্টি গড়ে তুলবে। কিন্তু লেনিন স্পষ্ট করলেন যে ‘‘অগ্রণী যোদ্ধার কাজ সম্পন্ন হতে পারে যদি পার্টি সবচেয়ে অগ্রণী তত্ত্বের দ্বারা তা পরিচালিত হয়।’’ (৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭০)
কমিউনিস্ট ইশ্তেহার কমিউনিস্টদের ভূমিকা নির্দিষ্ট করে বলেছিল, ‘‘প্রতিটি দেশের শ্রমিক শ্রেণির পার্টিগুলির সবচেয়ে এগিয়ে থাকা এবং সংকল্পবদ্ধ অংশ এবং তা তাত্ত্বিক দিক থেকেও, সর্বহারার বিপুল অংশের মধ্যে যারা স্পষ্টভাবে সংগ্রামের ধারা বুঝতে সক্ষম, যারা পরিস্থিতি এবং সর্বহারার সংগ্রামের ফলাফল বুঝতে পারে।’’
ঐতিহাসিক ইশতেহারে মার্কস এবং এঙ্গেলসের এই তাত্ত্বিক ধারণারই বাস্তব রূপ লেনিনের অগ্রণী বাহিনীর পার্টি। অগ্রণী বাহিনীর দ্বান্দ্বিক চরিত্র রয়েছে- শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক চেতনায় জারিত নির্দিষ্ট অংশকে নিয়ে এই সংগঠন। আবার এই অগ্রণী বাহিনী কেবল শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থকেই জয়ী করার জন্য লড়াই চালায় না, বরং শোষিত সব অংশের লড়াইকেও জয়ী করতে দায়বদ্ধ।
এই অগ্রণী বাহিনীই পারে নানা স্তরে থাকা শ্রমিক শ্রেণির বিভিন্ন অংশকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং শ্রমিক শ্রেণির চেতনায় সমৃদ্ধ করতে। কেবল তা-ই নয়, অগ্রণী বাহিনীর পার্টি প্রয়োজন সমর্থক অন্যান্য বিভিন্ন শ্রেণি ও অংশকে বৈপ্লবিক আন্দোলনে পাশে টানতে। তাদের এগিয়ে থাকা অংশকে সংগঠনে গ্রহণও করে নেয় এই পার্টি।


কেন্দ্রীকতা
ভ্যানগার্ড পার্টি বা শ্রমিক শ্রেণির অগ্রণী বাহিনীর কেন্দ্রীকতা থাকবে, যাতে ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত কোনও একটি লক্ষ্যে নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত করতে পারে। কেবল স্বৈরাচারী জারের শাসনে গোপন সংগঠন পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীকতার ধারণা লেনিন গ্রহণ করেছিলেন তা নয়। কেন্দ্র সম্পন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিচালনায় রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তিতে কাজের জন্য মুখ্যত এই ধারণা চালু করেছিলেন লেনিন। রাজনৈতিক-সাংগঠনিক কেন্দ্রীকতার জন্যই স্থানীয় প্রকাশনের পরিবর্তে রাশিয়াজুড়ে প্রকাশের পত্রিকা চালু করার ওপর জোর দিয়েছিলেন লেনিন। লেনিনের ব্যাখ্যা ছিল: ‘‘একটি পত্রিকা কেবল যৌথ প্রচারক এবং যৌথ অ্যাজিটেটরের ভূমিকা নেয় না, যৌথ সংগঠকের ভূমিকাও নেয়।’’
লেনিনের কাছে কেন্দ্রীকতা সম্পন্ন পার্টিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেন্দ্রীভূত শক্তিসম্পন্ন পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য।


আন্তপার্টি গণতন্ত্র
কেন্দ্রীকতার নীতিকে পার্টির সর্বস্তরে গণতন্ত্রের অনুশীলনের সঙ্গে সাজুয্য রেখে প্রয়োগ করতে হবে। তবে, লেনিন যে সময় ‘কী করিতে হইবে’ লিখছেন, সেই সময় রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন তুঙ্গে থাকায় আন্তঃপার্টি গণতন্ত্র অনুশীলনের সুযোগ ছিল না। পার্টি কমিটি গঠনের জন্য সব স্তরে নির্বাচন করারও উপায় ছিল না। যে কারণে কেন্দ্রীকতার নীতির আধিক্য ছিল।
কিন্তু ১৯০৫ সালের পর, যখন রাজনৈতিক স্বাধীনতার মাত্রা বেড়েছে, লেনিন পার্টির সব স্তরে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত কমিটি গড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নিচের স্তরের কমিটিগুলির স্বাধিকার বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৯০৬ সালে আরএসডিএলপি’র চতুর্থ সম্মেলনের সময় গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নীতি পুরোপুরি গ্রহণ করে পার্টির বিধিতে যুক্ত করা হয়।। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নীতিতে বলা হয় যে আলোচনার পরিধি ব্যাপকতম হবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রয়োগ করতে হবে।


গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা
সংগঠন সম্পর্কে লেনিনের ধারণার পরিশোধিত রূপ গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা। বিপ্লবী পার্টি যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরিচালিত হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে গণতন্ত্র এবং কেন্দ্রীকতার সংশ্লেষ ঘটানোর জন্য বিশেষ কাঠামো গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা।
গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার মূলে কেবল পার্টির সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে তা নয়, বরং মূল বিষয় হলো কমিউনিস্ট পার্টির মুখ্য ভূমিকা। সোশাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিগুলি পুঁজিবাদী কাঠামোর মধ্যেই কাজ সীমাবদ্ধ রাখতে চায়, তাদের জন্য বৈপ্লবিক সংগঠনের প্রশ্নটিই অপ্রয়োজনীয়। সে কারণে তারা গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ধারণাতেই অনীহা দেখিয়ে থাকে। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য হলো পুঁজিবাদ এবং শাসক শ্রেণিভিত্তিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা। তার পরিবর্তে সমাজতন্ত্র কায়েম করা। সেক্ষেত্রে পার্টি সংগঠন তেমনই হবে যা শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং ক্ষমতায় আসীন শ্রেণিগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, আদর্শগত এবং সাংগঠনিক সংগ্রাম চালাতে সক্ষম। এমন পার্টি কেবল সংসদীয় নির্বাচন লড়ার ওপরেই জোর দেয় না। কেবল বুর্জোয়া আধিপত্যে পরিচালিত রাষ্ট্র যে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের সুযোগ দেয় সেগুলিকেই ব্যবহার করে না। অর্থাৎ মূল বিষয় হলো পার্টি শ্রমিক শ্রেণিকে নেতৃত্ব দিতে এবং বৈপ্লবিক গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পারে কিনা।


লেনিনের ধারণা ছিল এমন সংগঠন গড়ে তোলা যা এই বৈপ্লবিক গণসংগ্রাম গড়ে তুলতে সক্ষম। গণআন্দোলন এবং শ্রেণি সংগ্রামে ঋদ্ধ এই সংগঠন হবে ইস্পাতের মতো যা আইনি, বেআইনি বা আধা-আইনি পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম। শ্রেনি রাজনীতির প্রয়োজন অনুযায়ী এমন সংগঠন প্রয়োজন যা পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী আন্দোলনের ধরন বদলাতে পারে। তার জন্য দরকার কেন্দ্রীকতা সম্পন্ন পার্টি। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতাই মার্কসবাদ এবং শ্রেণি সংগ্রামে আস্থাশীল পার্টির পক্ষে সেরা সাংগঠনিক নীতি। শ্রেণি সংগ্রাম যৌথ ক্রিয়া। গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং যৌথ সক্রিয়তার ধারাকে বিকশিত করে। এই নীতিতেই চিন্তার স্বাধীনতা এবং ঐক্যবদ্ধ কাজের ধারা সম্ভব।

বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধে একাধিক কমিউনিস্ট পার্টিকে অবৈপ্লবিক পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। একুশ শতকের প্রথম দুই দশকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কিন্তু অনেকগুলি পার্টিই টিকে থাকতে পেরেছে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নীতি আঁকড়ে থাকার কারণে। আদর্শগত বা রাজনৈতিক ভুল থাকলেও এই নীতিই বিপ্লবী পার্টি হিসেবে এই পার্টিগুলিকে জীবিত রেখেছে। অন্যদিকে যে পার্টিগুলি গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নীতি বিসর্জন দিয়েছে সেগুলি হয় কমিউনিস্ট পার্টির চরিত্রই খুইয়ে ফেলেছে অথবা বহুধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ইতালির কমিউনিস্ট পার্টি এর ধ্রুপদি উদাহরণ। আশির দশক পর্যন্ত সমাজতান্ত্রিক দেশগুলির বাইরে সবচেয়ে বড় কমিউনিস্ট পার্টি ছিল ইতালিতে। কিন্তু সোভিয়েত ভেঙে পড়ার আগেই এই পার্টি দেউলিয়া হতে শুরু করে, প্রথমে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নীতি এবং শেষে মার্কসবাদকেই বিসর্জন দেয়।


বিংশ শতাব্দীতে বিপ্লবগুলির ধারণা লেনিনের সাংগঠনিক ধারণাকেই শক্তিশালী করেছে। বিপ্লবের জন্য গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ভিত্তিতে পরিচালিত সংগঠনের প্রয়োজনকেই প্রতিষ্ঠা করেছে।
১৯৬৪’তে সিপিআই(এম) গঠিত হওয়ার পর পার্টি কর্মসূচি গৃহীত হয়। সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ভিত্তিতে পার্টিকে পুনর্গঠিত করার দায়িত্বও নির্দিষ্ট করে। সংশোধনবাদের আক্রমণে অবিভক্ত পার্টিতে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার নীতির ক্ষয় করা হয়েছিল। এই দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। আজ ভারতের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পার্টি গড়ার অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে যে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতার ভিত্তিতে পার্টি গঠনের সংগ্রাম জারি রাখতে হবে।

শেয়ার করুন