সরিৎ মজুমদার

কাজের চাপের জন্য উচ্চ রক্তচাপ, ব্লাড সুগার, ওবেসিটি ইত্যাদি এতদিন আমরা জানতাম তথাকথিত, আমরাতো-শ্রমিক-নই, হোয়াইট-কলার চাকরিজীবিদের স্বাভাবিক Life style diseases, গোদা বাংলায় জীবনধারণ জনিত রোগ।
কিন্তু এই অর্থ বর্ষের মাঝামাঝি থেকে আমেরিকা, ইউরোপ সহ আমাদের দেশেও এই তথাকথিত বেশী মাইনের, ইএমআই নির্ভর জনগোষ্ঠীর থরহরি কম্প অবস্থা। না, কোভিড বা নতুন কোন মহামারীতে এরাই আক্রান্ত হচ্ছেন সেইরকম কিছু না। এই ব্যাধী পুঁজিবাদের আদি ও অকৃত্রিম ব্যাধী – গণ হারে কর্মী ছাঁটাই।
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে, বিশ্বের বড় বড় তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলি হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে। এটি অনুমান করা হচ্ছে যে শুধুমাত্র ২০২২ সালে ইতিমধ্যেই ১,২০,০০০ জনেরও বেশি লোককে তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সংস্থাগুলো যেমন – Meta(মার্ক জুকেরবার্গ ২০২২ সালের গোড়ায় ফেসবুকের মূল সংস্থার নাম পালটে এই নাম রাখেন), Amazon, Netflix, এবং শীঘ্রই Google(যাদের মূল সংস্থার নাম Alphabet) – এবং ছোট সংস্থাগুলি এবং স্টার্ট আপগুলির পক্ষ থেকেও ছাঁটাইয়ের ঘোষণা আসতে শুরু করেছে।
Meta,Metamates,Me – শ্লোগান দিয়ে Metaverse নামক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখানো মার্ক জুকেরবার্গের সংস্থা ৯ নভেম্বর বুধবার ঘোষণা যে এটি তার ১৩% কর্মীদের বাদ দিচ্ছে,সংখ্যায় যার পরিমাণ ১১,০০০ এরও বেশি কর্মচারী । স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ বিজনেসের অধ্যাপক জেফরি ফেফার চিন্তিত৷ তাঁকে প্রশ্ন করা হয় – কেন এত প্রযুক্তি কোম্পানি এখনই এত বিপুল লোকেদের ছাঁটাই করছে? তিনি উত্তরে বলেন – “প্রযুক্তি শিল্পের ছাঁটাই মূলত সামাজিক সংক্রমনের একটি উদাহরণ, যেখানে কোম্পানিগুলি অন্যরা যা করছে তা অনুকরণ করে। আপনি যদি কোম্পানিগুলির ছাঁটাই করার কারণগুলি সন্ধান করেন তবে যে কারণটি পাবেন সেটি হল – অন্য সবাই এটি করছে। এই গণ-ছাঁটাই একটা অনুকরণমূলক আচরণের ফলাফল এবং এর বাইরে ছাঁটাইয়ের বিশেষ প্রমাণ-ভিত্তিক কোন কারণ পাবেন না।
আমি লোকেকে, আমায় বলতে শুনেছি যে তারা জানে যে ছাঁটাই করা কোম্পানির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, কর্মীদের মঙ্গলের কথা ছেড়েই দিন, সংস্থাগুলিও এইসব করে কোন কিছু অর্জন করে না। কিন্তু সবাই ছাঁটাই করছে এবং তাদের বোর্ড জিজ্ঞাসা করছে কেন তারা’ ছাঁটাই করছেন না ! এমন একটা সামাজিক সংক্রমণ কোম্পানিগুলির বোর্ডে ছড়িয়ে পরে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, এটি এমন একটি আচরণ যা মানুষকে হত্যা করে: উদাহরণস্বরূপ, গবেষণায় দেখা গেছে যে ছাঁটাই আত্মহত্যার সম্ভাবনা দুই গুণ বা তার বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।”
জেফরি বলেন যে ছাঁটাই আক্ষরিক অর্থেই মানুষ খুন করে। নানাভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়। ছাঁটাই আত্মহত্যার সম্ভাবনা আড়াই গুণ বাড়িয়ে দেয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও সত্য, এমনকি নিউজিল্যান্ডের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভাল সামাজিক নিরাপত্তা সম্পন্ন দেশগুলিতেও এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। ছাঁটাই পরবর্তী ২০ বছরে মৃত্যুহার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করে।
ম্যানেজার পর্যায়ের কর্মীরা যারা মূলত এই ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন আশ্চর্যের বিষয় নয়, ছাঁটাই তাদেরও মানসিক চাপ বাড়ায়। মানসিক চাপ, অনেক মনোভাব এবং আবেগের মতোই, সংক্রামক। বিষণ্নতা ,অবসাদ উচ্চস্তরের আধিকারিকদের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে।
অস্বাস্থ্যকর মানসিক চাপ বিভিন্ন ধরনের আচরণের দিকে পরিচালিত করে যেমন ধূমপান এবং বেশি মদ্যপান, মাদক গ্রহণ এবং অতিরিক্ত খাওয়া। স্ট্রেস আসক্তির সাথেও সম্পর্কিত, এবং ছাঁটাই অবশ্যই চাপ বাড়ায়।এমনকি কোম্পানীতে টিঁকে যাওয়া কর্মচারীরাও সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন । এরপরে হয়ত তার পালা ! বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে এই সামগ্রিক প্রক্রিয়া আদতে কর্মীদের কর্মক্ষমতা হ্রাস করে যা আদতে কোম্পানীরই ক্ষতি করে।
Meta প্রসঙ্গেই উনি বলেন – মেটার প্রচুর টাকা আছে। এই সব কোম্পানি অর্থ উপার্জন করছে, মুনাফা করছে তাও এরা ছাঁটাই করছে কারণ অন্যান্য কোম্পানি এটা করছে।
কার্ল মার্কস তার তিন খণ্ডের মহাকাব্যিক রচনা “ক্যাপিটাল”-এ অর্থনীতিবিদ টি.জে. ডনিং কে উদ্ধৃত করে বলেছিলেন : “যথেষ্ট মুনাফার ক্ষেত্রে পুঁজি সাহসী হয়। সুনিশ্চিত দশ শতাংশ মুনাফায় পুঁজি যে কোনো জায়গায় পুঁজির নিয়োগ সম্ভব করবে; সুনিশ্চিত কুড়ি শতাংশ মুনাফায় সৃষ্টি হবে আগ্রহ; সুনিশ্চিত শতকরা পঞ্চাশ ভাগে তার ঔদ্বত্ত্য সীমা ছাড়াবে, শতকরা একশোয় তা সমস্ত মানবিক নিয়ম পদদলিত করতে প্রস্তুত থাকবে; শতকরা ৩০০ ভাগ মুনাফা নিশ্চিত হলে এমন অপরাধ নেই যাতে সে কুণ্ঠিত, এমন ঝুঁকি নেই যা সে নেবে না, এমনকি পুঁজির মালিকের ফাঁসি হতে পারে জেনেও ছুটবে লাভের অদম্য লালসায়। যদি হাঙ্গামা ও সংঘর্ষে মুনাফা আসে, তবে অবাধে দুয়েরই উসকানি দেবে সে।”
হাল আমলের DHFL দূর্নীতি, বা এর আগের Satyam Computer দূর্নীতিতেও আমরা দেখেছি পুঁজির মুনাফা কামানোর এই অদম্য লালসা।
মার্কিন সিইওরা আগামী মাসগুলো সম্পর্কে কী বলছেন?
কনফারেন্স বোর্ডের সিইওদের আস্থার পরিমাপ দেখায় যে ২০০৭-২০০৯ এর মন্দার পর থেকে পশ্চিমের শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিরা এতটা খারাপ পরস্থিতির আশঙ্কা করেননি। সমীক্ষায় ১৩৬ জন সিইওকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তারা পরবর্তী ১২ থেকে ১৮ মাসে কী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। একটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ – ৯৮% – বলেছেন যে তারা মার্কিন মন্দার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন; যখন ৯৯% বলেছেন যে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে মন্দার আশঙ্কায় চিন্তিত।
বিভিন্ন বড় সংস্থাগুলোর ছাঁটাইয়ের চিত্র
মেটার কথা আমরা ইতিমধ্যেই আলোচনা করেছি। এবারে অন্য কিছু দৈত্যাকার প্রযুক্তি সংস্থার বিশ্বব্যাপী চিত্রটা লক্ষ্য করা যাক –
টুইটার: প্রায় ৩,৭০০ চাকরি ছাঁটাই। সিএনবিসি দ্বারা প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুসারে, গত মাসের শেষের দিকে ৪৪ বিলিয়ন ডলার দিয়ে টুইটার কেনার পরেই মার্কিন ধনকুবের এলন, মাস্ক প্রায় ৩,৭০০ টুইটার কর্মচারীকে ছেঁটে ফেলেন। এটি সংস্থার প্রায় অর্ধেক কর্মীর সমান সংখ্যা।
৪ নভেম্বর একটি পোস্টে, মাস্ক বলেছিলেন যে কর্মীদের ছাঁটাই করা ছাড়া “কোন বিকল্প নেই” এবং যোগ করে যে তাদের তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে কাজ ছাড়ার জন্য।
মাস্ক বলেন, টুইটার প্রতিদিন ৪ মিলিয়ন ডলারের বেশি লোকসানের কারণে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে, শেষবার টুইটার আয়ের রিপোর্ট করেছিল,তাদের রাজস্ব এক বছরের আগের তুলনায় ১% কমেছে। অথচ Investopedia এর ডিসেম্বর ২০২২ এর হিসাব দেখাচ্ছে এলন মাস্ক বিশ্বের দ্বিতীয় ধনীতম মানুষ (ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ : ১৬৮.৫ বিলিয়ন ডলার)
Lyft: গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছে যে তারা মোট কর্মীদের ১৩%, বা প্রায় ৭০০ চাকরি ছাঁটাই করতে ‘বাধ্য হচ্ছে’। কর্মচারীদের একটি চিঠিতে, সিইও লোগান গ্রিন এবং প্রেসিডেন্ট জন জিমার এই কথা জানিয়ে দেন।
অনলাইন লেনদেনের বড় সংস্থা স্ট্রাইপ তার প্রায় ১৪% কর্মী ছাঁটাই করেছে,সংখ্যায় যার পরিমাণ গত মাসের হিসেবে প্রায় ১,১০০ কর্মী।
সিইও প্যাট্রিক কলিসন কর্মীদের কাছে একটি মেমোতে লিখেছেন যে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিবেশে এই ছাঁটাই প্রয়োজনীয় ছিল।
জুন মাসে, Coinbase ঘোষণা করেছে যে এটি ১৮% পূর্ণ-সময়ের পদের বিলোপ করেছে,সংখ্যায় যা প্রায় ১,১০০ জনের সমান।
জুলাই মাসে, Shopify ঘোষণা করেছে যে এটি ১,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা তাদের বিশ্বব্যাপী ১০% কর্মীদের সমান।
কর্মীদের কাছে একটি মেমোতে, সিইও টোবি লুটকে স্বীকার করেছেন যে মহামারী-চালিত ই-কমার্স ব্যবসা বৃদ্ধি কতক্ষণ স্থায়ী হবে তা তিনি ভুল ধারণা করেছিলেন। এবং বলেছিলেন যে ২০২২ সালে কোম্পানির স্টক মূল্য ৭৮ শতাংশ কমেছে।
গত মে ও জুন মাস মিলিয়ে নেটফ্লিক্স প্রায় ৪৫০ কর্মী ছাঁটাই করেছে রোজগার কমার অজুহাতে।
অক্টোবরে, মাইক্রোসফ্ট জানায় যে তারা মোট কর্মীর ১ শতাংশ কর্মচারীদের ছেড়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির উদ্ধৃতি দেওয়া অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাঁটাইয়ে সরাসরি ১,০০০ জনেরও কাছাকাছি মানুষকে প্রভাবিত করেছে।
আগস্টের শেষের দিকে, স্ন্যাপ (Snapchat এর মূল সংস্থা) ঘোষণা করেছে যে এটি তার কর্মীদের ২০% ছাঁটাই করেছে, যার পরিমাণ ১,০০০ এরও বেশি কর্মচারীর সমান।স্ন্যাপ সিইও ইভান স্পাইজেল একটি মেমোতে কর্মীদের বলেছেন যে কোম্পানির আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য তার ব্যবসার পুনর্গঠন করা দরকার।
খুচরা ব্রোকারেজ সংস্থা রবিনহুড আগস্টে তার কর্মীদের ২৩% কমিয়েছে, এর আগে এপ্রিলে তারা ৯% কর্মী সংখ্যা কমিয়েছিল ।
নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে, ফিনটেক(অর্থনৈতিক-প্রযুক্তি সংস্থা) কোম্পানি Chime তার কর্মশক্তির ১২% বা প্রায় ১৬০ জন কর্মী ছাঁটাই করেছে।
জুন মাসে, টেসলা সিইও ইলন মাস্ক সমস্ত কর্মীদের একটি ইমেলে লিখেছেন যে সংস্থাটি বেতনভোগী কর্মীদের ১০% ছাঁটাই করবে কারণ সংস্থায় নাকি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়ে গেছে।
এটা গেল গোটা বিশ্বের চিত্র। ভারতের অবস্থা কেমন ? বিশ্বায়িত লগ্নীপুঁজির বাজারে কোন দেশই এর প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। বিশেষ করে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে যেখানে ন্যূনতম সামাজিক সুরক্ষাবলয় আছে সেখানে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের কিছু সময়ের জন্য হলেও আর্থিক সুরক্ষা, মেডিক্লেম এইসবরের সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে। আমাদের দেশে তো মোদি জমানায় শ্রম আইনের আদ্যশ্রাদ্ধ করে ৪টে শ্রম কোড করেছে যেখানে আসলে সব কোডই মালিকপক্ষের সুবিধা করার অস্ত্র হয়ে উঠেছে। সে আপনি এসি অফিসে বসে হোয়াইট কলার জব ই করুন বা কোন কারখানায় ফার্নেসের সামনে কয়েক হাজার ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ ই করুন। আসলে আপনারা দুজনেই একরকম শোষণের শিকার।
লেখাটা যেহেতু তথাকথিত সাদা কলার শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ তখন এদেশের তথাকথিত মোদি-সরকার-প্রশংসিত স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলোর হাল হকিকত আলোচনা করেই এই লেখা শেষ করা হবে।
The Hindu পত্রিকার একাধিক প্রতিবেদন অনুসারে ভারতীয় স্টার্ট-আপ ক্ষেত্রে ছাঁটাইয়ের খবর প্রধানত EDtech, বা শিক্ষাগত প্রযুক্তিপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোতেই দেখা যাচ্ছে । কোভিড মহামারী হ্রাসের পর থেকে শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটগুলিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণ হ্রাস পাওয়াকে এর একটি কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
Inc42-এর একটি ভারতীয় স্টার্ট-আপগুলোতে কর্মসংস্থান ও ছাঁটাইয়ের হিসাব রাখে। তারা দেখিয়েছে যে ভারতে ১৫,৭০০ এরও বেশি কর্মচারীকে ২০২২ সালে বিভিন্ন স্টার্ট-আপের মূলধণের সঙ্কোচনের কারণে ছাঁটাই করা হয়েছে। Inc42-এর মতে, Byju’s, Chargebee, Cars24, Ola, Innovaccer, Udaan, Unacademy এবং Vedantu এই সংস্থাগুলোতেই সর্বাধিক ছাঁটাই হয়েছে।
নভেম্বরের গোড়াতেই Byju’s আগামী ছয় মাসে ২,৫০০ কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সিইও বাইজু রবীন্দ্রান বলেছেন যে সামগ্রিক প্রতিকূল অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে কোম্পানি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় এই একই সময়ে জুন ২০২২ নাগাদ Byju’s BCCI এর সাথে ৫৫ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ১৮ মাসের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য স্পনসরশীপ পূর্ননবীকরণ করেছে। ICCএর সাথেও এরা চুক্তিবদ্ধ। এখন চলতে থাকা কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলেও অন্যতম স্পনসর এরা- এইসব ক্ষেত্রে এদের কোন আর্থিক সঙ্কট হয়, অর্থের যোগানেও অভাব হয়না।
আসল বিষয় হল – ঐ প্রথম দিকেই যেটা বলা হয়েছে – জামার কলার সাদা, নীল,কালো যাই হোক আমার আপনার রক্তের বিনিময়েই পুঁজি তার মুনাফার পরিমাণ বাড়িয়ে চলে তাই প্রতিটি শ্রমজীবি মানুষের লড়াই একটাই- পুঁজির শোষণ থেকে ঐক্যবদ্ধ মুক্তির লড়াই ।