Secularism: The Indian Story

আব্বাসকে সাম্প্রদায়িক বলা বিজেমূলকে সাহায্য করতেই

Gautam-Roy

গৌতম রায়

আই এস এফ – ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে ।রায়পুর (তপশিলি উপজাতিদের জন্যে সংরক্ষিত), চন্দ্রকোণা (তপশিলি জাতি) এবং মহিষাদল (সাধারণ) – এই তিনটি আসনে তাঁরা প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তপশিলি জাতিদের জন্যে সংরক্ষিত চন্দ্রকোণা আসনে ওঁরা প্রার্থী করেছেন গৌরাঙ্গ দাস, তপশিলি উপজাতিদের জন্যে সংরক্ষিত আসন রায়পুরে প্রার্থী করেছেন মিলন মান্ডিকে , আর সাধারণ আসনে প্রার্থী করেছেন মহিষাদলে বিক্রম চ্যাটার্জীকে।যাঁরা আসলে এতোক্ষণ বুঝতে পারছিলেন না আই এস এফ মানে কি, প্রথমে তারা বলছিলেন, আই এস এফ মানে মুসলমান , আর মুসলমান মানেই মৌলবাদী , তাঁদের কাছে এখন আশাকরি বিষয়টি পরিস্কার হবে যে আই এস এফ কি।

                       আসলে যাঁরা বড় বড় শহরে বসে কবি অমিয় চক্রবর্তীর ভাষা ধার করে বলতে হয়, কৌতুকে – করুণায় বাংলাকে দেখতে চান, গ্রামবাংলার আদৌ কোনো খবর রাখেন না তাঁরাই আই এস এফ কে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক তকমা দিয়ে দিতে বেশি সচেষ্ট। প্রবাহমান বাংলার যে মিশ্র সংস্কৃতি, বহুত্ববাদী ভারতচেতনাকে বাংলা তার ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক চেতনার দ্বারা যুগ যুগ ধরে সঞ্জীবিত করে এসেছে, এসবের সুলুক সন্ধান যাঁরা জানেন না বা জেনেও না জানার ভান করে থাকেন, তারাই চিরন্তন ভারত, পরম্পরাগত বাংলার এই মিশ্র সমন্বয়ী চেতনার ধারাবাহিকতা বহনকারী আই এস এফের গায়ে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী তকমা এঁটে দিতে সব থেকে বেশি সচেষ্ট।

                     মুসলমান মানে মৌলবাদী – আর এস এস আর তার রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি মিলে এতোদিন যা শেখাচ্ছিল, একটা বড় অংশের লোক , নিজেদের প্রগতিশীল হিশেবে তুলে ধরে সেটাকেই উগরে যাচ্ছিলেন। বাংলা তথা বাঙালির সংস্কৃতি চর্চার মূলে যে মধ্যকালীন ভারতের মরমীয়া সাধনার ধারা রয়েছে , সেই ধারা সম্পর্কে যারা আদৌ কিছুই জানেন না, তারাই আই এস এফ মানে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদীদের একটি সংগঠন – এই অসত্য প্রচার করে চলছিল।আউল, বাউল, সহজিয়া, মরমীয়া আধনার সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের লোকায়ত ধারার সংমিশ্রণে সমৃদ্ধ বাংলা তথা বাঙালির সংস্কৃতির ধারা-উপধারা ।পবিত্র ইসলামের বিস্তারের ক্ষেত্রে সূফী দরবেশদের অবদান বাংলার প্রেক্ষিতে সবথেকে বেশি। 

                        নৃতাত্ত্বিক বিচারে বাংলার মানুষদের ভিতরে কিরাত জনগোষ্ঠীর একটি বিশেষ প্রভাব দেখা যায়।ভারতীয় সংস্কৃতির বিকাশে কিরাতদের অবদানের বিস্তারিত আলোচনা আছে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের ‘কিরাত-জন-কৃতি’ নামক দীর্ঘ ইংরেজি গ্রন্থে।বৌদ্ধতন্ত্র এবং সহজিয়া দর্শনে প্রথম পর্যায়ে এই কিরাতদের দর্শনের ব্যাপক সাদৃশ্য ছিল। অনেকপরে তন্ত্রে ব্রাহ্মণ্যবাদী চিন্তা ধরেছে। যে ব্রাহ্মণ্যসংস্কৃতির অভাব হেতু আদিবাসী কুর্মি সমাজ( বিহারে দলিত হিন্দি ভাষীদের ভিতরে এই কুর্মিদের যথেষ্ট প্রভাব আছে) , রাষ্ট্রীয় দলিত একতা মঞ্চ, অখিল ভারতীয় বিকাশ পরিষদ, পশ্চিমবঙ্গ বাউরি জাতি বিকাশ সঙ্ঘ, ,ভারত জাকাত মাঝি পরগণা মহল, জঙ্গলমহল মূল নিবাসী একতা মঞ্চ, ভারতীয় আদিবাসী ভূমিজ সমাজ, আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চ, এস সি, এস টি, ও বি সি অধিকার রক্ষা মঞ্চের সমন্বয়ে গঠিত আই এস এফের ভিতরে দেখে তথাকথিত নামসর্বস্ব প্রগতিশীলেরা শঙ্কিত , পাছে বর্ণহিন্দু , ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হাত থেকে ক্ষমতার রাশ চলে যায়, তারাই আজ ধর্মপ্রাণ মানুষকে ধর্মান্ধ হিশেবে তুলে ধরে, কেবলমাত্র মুসলমান সমাজের একটি দুটি মানুষের নেতৃত্বের কারনে এই গেল গেল রব তুলেছেন।

                    বর্ণহিন্দুদের আধিপত্য , ব্রাহ্মণ্যবাদী, মনুবাদী সংস্কৃতির ধারক বাহক আরশেস এস, বিজেপি এবং তাদের আড়লে দোস্তি, বাইরে কুস্তি করা দোসর তৃণমূল কংগ্রেসের হাত শক্ত করতেই আই এস এফকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক সংগঠন আর বামপন্থীরা মৌলবাদীদের সঙ্গে, সাম্প্রদায়িকদের সঙ্গে আপোষ করছে বলে শীবারক তুলছে, তাদের উদ্দেশে মধ্যকালীন ভারতের ‘ ধর্ম পূজাবিধান ‘ গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করছি; ” মনেতে পাইয়া মর্ম /সভে বলে রাখ ধর্ম/ তোমা বিনে কে করে পরিত্রাণ/ এইরুপ দ্বিজগণ/করে সৃষ্টি সংহরণ/ এ বড় হইল অবিচার।” এই গ্রন্থেই লেখা হচ্ছে;” বৈকুন্ঠে থাকিয়া ধর্ম/ মনেতে পাইয়া মর্ম/ মায়ারূপে হইল খনকার।/ ধর্ম হইলা যবনরূপী /শিরে পরে কাল টুপি/হাতে ধরে ত্রিকচ কামান ।/ চাপিয়া উত্তম হয়/ দেবগণে লাগে ভয়/ খোদায় হইল এক নাম।/ ব্রহ্মাসহইল মোহাম্মদ / বিষ্ণু হইল পেগম্বর/ মহেশ হইল আদম।/ গণেশ হইল গাজি/ কার্তিক হইল কাজী/ ফকির হইল মুনিগণ।/ তেজিয়া আপন ভেক / নারদ হইল শেখ/ পুরন্দর ( ঋক বেদে আবার পুর ধর্বংসকারী হিশেবে এই পূরন্দর শব্দটির উল্লেখ আছে।অধ্যাপক এ এল ব্যাসামের অনুমান, আর্য দলপতি ইন্দ্র ‘ পুরন্দর ‘ হিশেবে হরপ্পা সভ্যতা ধর্বংস করেছিলেন[ The Wonder That Was India-Prof A L Basam]হইল মৌলানা।/ চন্দ্র সূর্য আদি যত/ পদাতিক হইয়া শত/ উচ্চস্বরে বাজায় বাজনা।”

                       রাজস্থানের পবিত্র আজমীর শরীফের পর হুগলীর পবিত্র ফুরফুরা শরীফ হল ভারতের দ্বিতীয় বহুল পরিচিত মাজার।১৩৭৫ সালে মুকশিদ খান ফুরফুরাতে প্রথম মসজিদ স্থাপন করেছিলেন।হজরত আবু বকর সিদ্দিক এই ফুরফুরা শরীফকে মানুষের মিলনক্ষেত্র হিশেবে যে পরিচালিত করেছিলেন, তার ধারাবাহিকতা কিন্তু তাঁর উত্তরসূরীরা আজ ও বহন করে চলেছেন।নরেন্দ্র মোদি থেকে মমতা ব্যানার্জী ‘ গুরু’র প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে, তাঁদের সাম্প্রদায়িক বলা হয় না, অথচ মুসলমানেরা ‘ পীরে’ র প্রতি ভক্তিশীল হলেই তাঁদের সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী বলে চিহ্নিত করতে হবে? সত্যপীর, মানিকপীর, ঘোড়াপীর, মাদারীপীর, কুমীরপীর– এই পাঁচ পীর কি কেবলমাত্র মুসলমান সমাজের কাছেই উপাস্য? আজ ও কি গ্রামের মানুষ জাতিধর্ম নির্বিশেষে এই পাঁচ পীরের নামে সিন্নি মানত করে না? জাতিধর্ম নির্বিশেষে গ্রামবাংলার মানুষ হিন্দুদের লৌকিকদেবী বনদুর্গা বা বনদেবী, ওলাইচন্ডীর সাথেই মুসলমানেদের লৌকিকদেবী বনবিবি , ওলাইবিবির উপাসনা করে না? যাঁদের আজ আব্বাস সিদ্দিকিকে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী বলে মনে হচ্ছে, আই এস এফের সঙ্গে বাম- কংগ্রেসের নির্বাচনী বোঝাপড়া ঘিরে বামপন্থীদের সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী বলে চিহ্নিত করছে, তাঁরা দক্ষিণবঙ্গের বনাঞ্চলে বড় খাঁ গাজী , যাঁকে জিন্দাপীর, গাজীসাহেব ও বলে, এঁদের হিন্দু মুসলমানের যৌথ উপাসনা , হাজোত পান এবং শেষে পুরোহিত আর ফকিরের এক সুরে বন্দনা,’ গাজি মিঞার হাজতে সিন্নি সম্পূর্ণ হলো, হিন্দুগণে বলো হরি, মোমিনে আল্লা বলো’ র প্রবাহমান, সমন্বয়ী বাংলাকে এতোটুকু চেনেন?

           যে সমন্বয়ী চেতনার উপর ভিত্তি করে বাংলার সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে, পরিপূর্ণতা দিয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতি, মূল্যবোধকে, সেই সংস্কৃতি হল হিন্দু- মুসলমান সহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সন্মিলিত ধারা প্রবাহ।সেই ধারাটিকে রুদ্ধ করাই হল রাজনৈতিক হিন্দুদের উদ্দেশ্য।নাগপুরের রেশমবাগের ‘ কেশব ভবন’ আর কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রীটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি যাঁদের কে ‘ হিন্দু’ বলে দেগে দিচ্ছেন, সেই রাজনৈতিক হিন্দুদের ঘুরিয়ে নাক দেখানোর মতো করে সন্তুষ্ট করতেই ,’ বহুভাষা বহুমত বহু পরিধান/ বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান’ – কবির এই আপ্তবাক্যকে মিথ্যে প্রমাণিত করতেই ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণকে গুরুত্ব না দিয়ে রুটিরুজি, কর্মসংস্থানের হক চাওয়া আই এস এফের গায়ে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী লেবাস সেঁটে দিয়ে আসলে কাদের সুবিধা করে দিতে চাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাদের গভীর চিন্তাভাবনা দরকার।

                   ধর্মপ্রাণ আব্বাস সিদ্দিকে ধর্মান্ধ বলে যাঁরা দেগে দিচ্ছেন, যাঁরা নেট দুনিয়া খুঁজে বসিরহাটে মমতার শাসনকালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়ের একটি ভিডিও খুঁজে পেতে সংগ্রহ করে আব্বাসকে নারী বিদ্বেষী , সাম্প্রদায়িক হিশেবে দেখাতে চাইছেন, তাঁরা কিন্তু একটিবারের জন্যেও বলছেন না, পবিত্র ফুরফুরা শরিফে আবু বকর সিদ্দিকের অনুগামীদের দ্বারা দীর্ঘকাল ধরে পরিচালিত মেয়েদের ইস্কুল সিদ্দিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা। হাজি মহম্মদ মহসীন, রামমোহন রায়ের হুগলী জেলাতে নারী শিক্ষার প্রসারে ফরফুরা শরীফের অনুগামীদের ঐতিহাসিক অবদানের কথা কিন্তু প্রগতিশীলদের কলমে কখনোই উঠে আসে না। একটি ঘটনার স্থান, কাল , পাত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনা না করে যখন কোনো রাজনৈতিক দলের সর্বভারতীয় কর্তা আব্বাস সিদ্দিকিকে নারী বিদ্বেষী বলে লিঙ্গ বৈষম্যকে উসকে দেন, এইরকম লোকেরা যে পুরুষতন্ত্রের ধারকবাহক বিজেপি আর তার দোসর ,তাৎক্ষনিক তিন তালাকের সমর্থক ইন্দ্রিশ আলির দল তৃণমূল কংগ্রেসকেই শক্তি জোগাতে চান, তা আর বলবার অপেক্ষা রাখে না।

                        ভারতে যুগ যুগ ধরে প্রবাহিত বহুত্ববাদী চেতনার নির্যাস হল আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ, সমন্বয়বাদী সংবিধান।এই সংবিধানকে তছনছ করতে চায় আর এস এস , বিজেপি।ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক চেতনায় একটা অংশের হিন্দুদের পরিচালিত করে , দেশকে হিন্দু রাষ্ট্র করতে চায়, আর এস এস , বিজেপি এবং তাদের দৃশ্যমান আর অদৃশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মতো বন্ধুরা। তাই দেশের বহুত্ববাদী ধারা র সংবিধানকে ধর্বংস করাই এদের লক্ষ্য।সেই বহুত্ববাদকে বুক দিয়ে আগলে রাখতেই জাতি,ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ নির্বিশেষে হকের লড়াই লড়তে নেমেছে আই এস এফ বাম , কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে।সেই বহুত্ববাদের সাধনাকে শেষ করে দিতেই তো আই এস এফ কে সাম্প্রদায়িক সংগঠন, মৌলবাদী চিন্তাধারার ধারকবাহক বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

              মধ্যকালীন ভারতে বাংলায় রচিত হয়েছিল ‘ বনবিবির জহুরনামা’ ।লেখক মুন্সী বয়নদ্দী।পন্ডিতদের অনুমান অষ্টাদশ শতকে রচিত এই গ্রন্থ।’ বনবিবির জহুরনামা’ তে দ্বাদশ শতক থেকে অষ্টাদশ শতক পর্যন্ত বাংলায় হিন্দু- মুসলমান স্বরূপের রূপক,যা কখনো ইস্কুল কলেজ পাঠ্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তুলে ধরা হয় নি । যেখানে কেবল গুরুত্ব পেয়েছিল মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কলমে মুসলমান শাসকদের অত্যাচারের আজগুবি কাহিনি, সেইসব প্রচারের ধারাবাহিকতা আজ ও যে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িকরা, প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকরা এবং প্রগতির ভেকধারী, ছদ্ম সাম্প্রদায়িকরা কি ভাবে করে চলেছেন, আব্বাস সিদ্দিকি এবং তাঁর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট, যার সভাপতি শিমুল সোরেন, যিনি জন্মসূত্রে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ, এঁদের কে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী বলবার ভিতর দিয়ে তা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। একদা এই মুকুন্দরামের দামিন্যা ত্যাগ ঘিরে রমেশচন্দ্র মজুমদার  অসত্য , অনৈতিহাসিক মুসলিম অত্যাচারের কথা লিখেছিলেন ( বাংলাদেশের ইতিহাস,দ্বিতীয় খন্ড,ডঃ মজুমদার সম্পাদিত)।সেই গ্রন্থেরই  ‘ বাংলা সাহিত্য ‘ শীর্ষক পরিচ্ছেদে সুখময় মুখোপাধ্যায় ডিহিদার মামুদের সামন্ততান্ত্রিক স্বার্থে ধনী প্রজাদের উপর অত্যাচারের কথা লেখেন।সেই অত্যাচারের কথাতে ধর্মীয় ক্ষেত্র বিচারের একটি ঘটনাও সুখময়বাবু লেখেন নি।আজ কিন্তু এইসব বিকৃত ইতিহাসকে প্রকৃত ইতিহাস হিশেবে তুলে ধরে ,হকের অধিকার চাইতে বামপন্থী দল এবং কংগ্রেসের সঙ্গে আই এস এফের যে নির্বাচনী ঐক্য তাকে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র চলছে। এভাবেই সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ কে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে কার্যত গোয়েবলসের মতো এই প্রচার চালিয়ে যে, যেহেতু ফুরফুরা শরিফের আবু বকর সিদ্দিকের সুযোগ্য বংশধর, আব্বাস বা নওশাদ আই এস এফে আছে তাই শিমূল সোরেন থেকে গৌরাঙ্গ দাস, মিলন মান্ডি বা বিপ্লব চ্যাটার্জী কেউ ই আলোচিত হতে পারেন না।ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকারী মোদি, অমিত শাহ, মমতা ঘিরে কোনো কথা না উঠলেও ব্যক্তিজীবনে ধর্মপ্রাণ হয়েও ,ব্রিগেডে ধর্মের কথা না বলে হকের দাবি জানানো আব্বাস সিদ্দিকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক বলাটা আসলে বিজেপি আর তৃণমূলকে সাহায্য করতেই।

Spread the word

Leave a Reply