Indian Freedom Struggle And RSS – A Retrospective (Part-5)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পঞ্চম পর্ব)

ধারাবাহিক রচনায়ঃ গৌতম রায়

উনিশ শতকের ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় বর্ণভিত্তিক পরিকাঠামোর যে পরিব্যক্তি ছিল, সেখানে অষ্টাদশ শতাব্দী রেশ বাহী  ব্রাহ্মণ্যতন্ত্রের একটি ঘোরতর প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। সেই প্রভাব-প্রতিপত্তি টিকে হেডগেওয়ারের  জীবনচর্চার একটি প্রধান উপকরণ হিসেবে আরএসএস সবসময় প্রতিভাত করে থাকে ।ব্রাহ্মণ্যবাদী ,বর্ণভিত্তিক সামাজিক ব্যবস্থা যেহেতু হেডগেওয়ারের  জীবনকে পরিস্ফুট করতে বিশেষ রকমের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল– এই তাত্ত্বিক উপস্থাপনার ভেতর দিয়ে আরএসএস চিরকাল এটাই দেখাতে চাই যে ,তাদের প্রতিষ্ঠাতার জীবনের তাত্ত্বিক ভিত্তি ,দর্শনগত উপস্থাপনা- কতখানি প্রাচীন ভারতীয় বর্ণ ব্যবস্থার সঙ্গে একাত্ম।

আর সেই একাত্মতার দৌলতেই বর্ণ ব্যবস্থা আর প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যকে একাত্ম করে দেখাই আরএসএসের তথাকথিত ভাবাদর্শের প্রথম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে। জন্ম লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত আরএসএসের   তাত্ত্বিক অবস্থানে যে বৌদ্ধিক চিন্তাধারার ওপর সবথেকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়, সেই বৌদ্ধিক ভাবনার মূল উপাদান হিসেবে বর্ণবাদী চিন্তা ধারা তথা ব্রাহ্মণ্যবাদী চিন্তাধারাকে প্রধান স্তম্ভ হিসেবে তারা উপস্থাপিত করে থাকে।               

বৌদ্ধিক চিন্তায় এই বর্ণবাদী উপাদানকে ,ব্রাহ্মণ্যবাদী উপাদানকে প্রধান স্তম্ভ হিসেবে রেখে শাস্ত্রির উপাদান হিসেবে তারা দেখে শারীরিক কসরত, দক্ষতার বিষয়টিকে ।ব্রাহ্মণ্যবাদী চিন্তা ধারায় কিন্তু ক্ষত্রিয় ধর্মের প্রধান উপজীব্য বিষয়; শরীরচর্চা ,অস্ত্র চর্চার -কোনো স্থান প্রাচীন ভারতে ছিল না ।আরএসএস  নিজেদের মতো করে প্রাচীন ভারতীয় ধ্যান-ধারণাকে একটি রাজনৈতিক উপাদানে প্রতিষ্ঠিত করবার লক্ষ্যে, তাদের শাস্ত্রীয়  উপাদানে ব্রাহ্মণ্যবাদী চিন্তা-চেতনার সঙ্গে ,শারীরিক কসরত- অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষা কে সংযুক্ত করেছে।                 

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের সঠিক ধারণা থেকে সরে এসে, মুসলিম বিদ্বেষের রাজনৈতিক তত্ত্ব কে মাথায় রেখেই, বৌদ্ধিক চিন্তাধারা তে ব্রাহ্মণ্যবাদী চেতনার সঙ্গে শাস্ত্রীক  চিন্তাধারার শারিরীক কৌশল ,অস্ত্রবিদ্যা শিক্ষার বিষয়টিকে আরএসএস প্রথম থেকে সংযুক্ত করেছে ।আরএসএস তাদের চিন্তা-চেতনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি, এই বৌদ্ধিক ও শাস্ত্রীক  উপাদান নির্মাণের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের  প্রথম জীবনের নানা কর্মকাণ্ড কে সবথেকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে।              

আরএসএস তাদের কর্মী সমর্থকদের ভেতরে এটাই প্রচার করে যে, নিষ্ঠাবান চিৎপাবন ব্রাহ্মণ হেডগেওয়ারের পরিবারের পূর্বপুরুষ মুসলমান শাসকদের শাসনাধীন জায়গা ছেড়ে ,হিন্দু সাম্রাজ্য ভোঁসলের অন্তর্গত নাগপুরে বসবাস করেছিল করতে শুরু করেছিল, মূলত বৈদিক ভাবধারার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ।অর্থাৎ; নিজাম শাসিত- মুঘল শাসিত তেলেঙ্গানা অঞ্চলে ,আরএসএস যে ধরনের বৈদিক সংস্কৃতি তে বিশ্বাস করে, যে বৈদিক সংস্কৃতির সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস নির্ভর বৈদিক সংস্কৃতির আদৌ কোনো সাদৃশ্য নেই, সেই সঙ্ঘ কর্তৃক বিকৃত চেতনাসম্পন্ন বৈদিক সংস্কৃতির অভাব হে তুই হেডগেওয়ারের   পরিবার, তাদের পিতৃপুরুষের বাস তেলেঙ্গানা অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম পরিত্যাগ করে, বৈদিক সংস্কৃতির অন্যতম পীঠস্থান, হিন্দু রাজ্যের অন্তর্গত নাগপুরে স্থানান্তরিত হয়।
               

এই স্থানান্তরের ভেতর দিয়ে সঙ্ঘ নির্দেশিত  বৈদিক সংস্কৃতি কে নিজেদের জীবন যাপনের একটি অত্যন্ত আবশ্যকীয় অঙ্গ হিসেবে উপস্থাপিত করে হেডগেওয়ারের পরিবার নিজেদের যাপন চিত্র কে পরিচালনা করে এবং সেই পরিচালনার ভিত্তিতেই পরবর্তীকালে হেডগেওয়ার আরএসএসের  আদর্শগত ভিত্তি নির্মাণ করেন। আর সেই আদর্শগত ভিত্তি ধারাবাহিকভাবে আরএসএস অনুধাবন করে আসছে , তাদের সমস্ত ধরনের শাখা সংগঠন ,যেগুলিকে এককথায় আমরা সংঘ পরিবার বলি, এবং তাদের পূর্বতন রাজনৈতিক সংগঠন; হিন্দু মহাসভা ,ভারতীয় জনসংঘ ,বর্তমান রাজনৈতিক সংগঠন ভারতীয় জনতা পার্টির ভেতরে ,সেই ধারা প্রবাহিত প্রবাহিত করছে ।                  

এই চিন্তা ভাবনা, এই দৃষ্টিভঙ্গি  ই কিন্তু জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত আরএসএস তাদের কর্মী সমর্থক প্রচারক স্বয়ংসেবক প্রত্যেকের ভেতরে সংক্রমিত করে আসছে।              

আরএসএসের  আদর্শগত চিন্তাধারার উপস্থাপনায় প্রাচীন ভারতের বর্ণভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্ঘ কর্তৃক  নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী ,ব্রাহ্মণ্যবাদী চেতনায় গোটা বিষয়টি কে দেখাবার উদ্দেশ্যে সংঘের পক্ষ থেকে এটা বলা হয় যে; কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের   পিতা তার প্রথম পুত্র মহাদেব হেডগেওয়ারের   শৈশব-কৈশোরের জীবনে বৈদিক সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণের পাশাপাশি, শরীর চর্চার বিষয়টি দেখে বিশেষ রকম উৎসাহিত হয়েছিলেন।                     

জ্যেষ্ঠ পুত্র কে তিনি সঠিকভাবে জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে এই শরীর চর্চার বিষয়টিকে বিশেষ রকমের গুরুত্ব দিয়ে দেখবার কথা বলেছিলেন। কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের জ্যেষ্ঠাগ্রজ   মাধব বলিরাম হেডগেওয়ার জিমনাস্টিক ও শরীরচর্চার ভেতর দিয়ে নিজের বৌদ্ধিক বিকাশ কে আরো বিকশিত করবার লক্ষ্যে ব্রতী হয়েছিলেন। সেই বিষয়টি একদিকে তার পিতাকে যেমন আকৃষ্ট করেছিল, তেমনি তার সহোদরকে কেশব কেও  বিশেষ রকমভাবে আকৃষ্ট করেছিল ।
                    

এমনটাই আরএসএস তাদের সংগঠনের আদর্শগত ভিত্তি উপস্থাপনার ক্ষেত্রে খুব জোর দিয়ে বলে থাকে। কেশব  ছিলেন তাদের পরিবারের সবথেকে কনিষ্ঠ সন্তান ।প্রাচীন ভারতীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী অগ্রজদের জীবন চর্চা, জীবনশৈলী কে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে অনুসরণ করে চলতেন। এটার ভিতর দিয়েই  আরএসএস প্রথম থেকে দেখাতে চায় যে অগ্রজ মহাদেবের জীবনচর্চা, শরীরচর্চার যে দৈনন্দিনতা ,সেই বিষয়টিকে খুব শিশুকাল থেকেই কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার অনুসরণ করতে থাকেন । এইভাবেই  আরএসএস তাদের কর্মী সমর্থকদের ভেতর বৌদ্ধিক চেতনা সংক্রমিত করবার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে থাকে কেশবেথ এই জ্যেষ্ঠাগ্রজের শরীরচর্চার বিষয়টিকে।
                 

এই কারণে তারা সবথেকে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করে থাকে যে, যুক্তিবোধ- নীতিবোধ ব্যতিরেকে ,সংঘের নেতাদের নির্দেশ ,জীবনযাপনকে যাতে  সংঘের  কর্মীরা অন্ধভাবে অনুসরণ অনুকরণ করতে পারে ।
                

সেই লক্ষ্যে প্রাচীন ভারতীয় মূল্যবোধের নাম করে জ্যেষ্ঠাগ্রজের  জীবনচর্চার অন্ধ অনুকরণের  বিষয়টি কিভাবে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের ভেতর অনুরনিত হয়েছিল সেই বিষয়টি, তথাকথিত সামাজিক আদর্শবাদের আবরণে আবৃত করে ,সংঘের যে রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং লক্ষ্য ও আদর্শবাদ ‘সাম্প্রদায়িকতা’,  তাকে প্রতিষ্ঠিত করবার লক্ষ্যে ,আরএসএস ব্যবহার করে থাকে ।
             

প্রাচীন ভারতীয় মূল্যবোধের জ্যেষ্ঠাগ্রজ বা পরিবারের কর্তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিকে সংঘ নেতৃত্বের প্রতি সীমাহীন আনুগত্যের সমার্থক হিসেবে দেখিয়ে হেডগেওয়ারের  জীবনে তার বড় দাদা মহাদেব বলিরাম হেডগেওয়ারের  জিমন্যাস্টিক ও শরীরচর্চার বিষয়টি এবং সেটিকে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার কর্তৃক অন্ধভাবে অনুসরণ অনুকরণের বিষয়টিকে তারা প্রতিষ্ঠা করে।
                           

কঠিন কঠোর সংগ্রামী জীবন চর্চার ভেতর দিয়ে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার কিভাবে তার শৈশব-কৈশোরের দিনগুলো অতিবাহিত  করে ,যৌবনে পা রেখেছিলেন– এই কাহিনী আরএসএস তাদের আদর্শগত ভিত্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপনা করে থাকে। হেডগেওয়ারের   শৈশব-কৈশোরের দিনগুলি অত্যন্ত কঠিন অধ্যবসায়ের মধ্যে, দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে, মাইলের পর মাইল হেঁটে ,সাঁতার কেটে শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করা ,কঠোর পরিশ্রমের ভেতর দিয়ে পারিবারিক নানা দায়বদ্ধতাকে সামলিয়ে ,শিক্ষাজীবনকে বজায় রাখা ,বাড়ির কাজ সামলে, পড়াশুনা সামলে, কিভাবে তিনি কঠিন কঠোর অধ্যাবসায়ের ভেতর দিয়ে দাদা মহাদেব বলিরাম হেডগেওয়ারের   শরীরচর্চার বিষয়টির অনুসরণে নিজের শরীরটাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছেন –এইসব ঘটনাক্রম কে কেন্দ্র করে একটা কল্পিত, খানিকটা বীরত্বব্যঞ্জক ,আদর্শনিষ্ঠ ,নীতিপরায়ণ একজীবনযাপনের ছবির ভেতর দিয়ে সংঘ কর্মীদের জীবন যাপনের ধারা কিভাবে পরিচালিত হবে ,পরিশীলিত হবে, পরিব্যাপ্ত হবে– তার চিত্র সবসময় আরএসএসের পক্ষ থেকে অংকন করা হয় ।
               

সংঘ কর্মী তথা তাদের সামগ্রিক সংঘ পরিবার ও রাজনৈতিক সংগঠন গুলির নেতা-কর্মী-সমর্থকদের জীবন চর্চার ক্ষেত্রে যে একটি আদর্শবাদ ও কর্মপ্রণালী, যা অনেকটা গান্ধীবাদী কর্মীদের আদর্শবাদ- কর্মপ্রণালী সমতুল, তাকে উপস্থাপিত করবার ক্ষেত্রে, আরএসএসের  পক্ষ থেকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয় হেডগেওয়ারের  জীবনযাপনের উপরে।
               

তাই হেডগেওয়ার কিভাবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে, বৈদিক সংস্কৃতির প্রতি আস্থাবান থেকে, কঠোর পরিশ্রমের  ভেতর দিয়ে পারিবারিক নানা দায়বদ্ধতা পালন করেও, পায়ে হেঁটে- সাঁতার কেটে ,দূরে র স্কুলে গেছেন ,বাড়ি ফিরে এসে নানা ধরনের পারিবারিক দায়বদ্ধতা পালন করেছেন। বাড়ির কাজ কর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান  থেকেছেন। আবার পড়াশুনা করেছেন ।সেই সঙ্গে শরীর চর্চা করেছেন ।শরীরকে মজবুত করেছেন এবং শরীরকে মজবুত করবার প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বৈদিক সংস্কৃতির অনুসরণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে, প্রধানত সেই মজবুত ,শরীর মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গড়ে তুলেছেন– এই সমস্ত প্রেক্ষাপট ই আরএসএস তাদের আদর্শগত ভিত্তি নির্মাণের ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি গুরুত্ব সহকারে ,নানাধরনের কল্পকাহিনী ইত্যাদির ভেতর দিয়ে উপস্থাপিত করে থাকে ।
              

হেডগেওয়ার সমস্ত রকমের সামাজিক পারিবারিক দায়বদ্ধতা, পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে, কিভাবে পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্যপুস্তকের   বাইরে নানাধরনের বৈদিক সংস্কৃতি মূলক বইপত্র পড়া কে কেন্দ্র করে গর্বিত বোধ করতেন ,সেগুলির চর্চা করতেন এবং সমস্ত কাজকর্মের অবসানে গোটা রাত জেগে পড়াশোনা করতেন– এইসব কল্পকাহিনী গুলি সহকর্মীদের মধ্যে সংঘ ভাবধারায় তথাকথিত আদর্শকে চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের রূপকের ভেতর দিয়ে আরএসএস চিরদিন ব্যবহার করে এসেছে।
                    

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাড়িত  হয়ে ,যে আদর্শবোধ কে নিজেদের ভিত্তি হিসেবে আরএসএস জন্মলগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠা করে গেছে, সেই আদর্শবোধ কে সর্বজনীন করার ক্ষেত্রে, প্রাচীন ভারতের ইতিহাস কে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে উপস্থাপিত করে, একটি সামাজিক দ্যোতনা রচনা গত প্রায় ১০০ বছর ধরে এভাবেই ধীরে ধীরে রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক -মৌলবাদী শক্তি করে গেছে।
                    

এই কাজটি করবার ক্ষেত্রে হেডগেওয়ারের  জীবন চর্চা কে তারা যেভাবে ব্যবহার করেছে, সেই ধারাবাহিকতা থেকে তারা ভারতবর্ষ তথা আন্তর্জাতিক দুনিয়ার নানা রাজনৈতিক- সামাজিক -অর্থনৈতিক- সাংস্কৃতিক- ধর্মীয় পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই, ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার কে একটা উগ্রতার দিকে ঠেলে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যবহার করে এসেছে। এই ব্যবহারের ভেতর দিয়ে আমরা যেমন একদিকে গোয়েবলসের তত্ত্বের একটা প্রয়োগ জনিত ধরা দেখতে পাই। তেমনি ই দেখতে পাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উত্তর পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদের  পতনের পরেও কিভাবে ভারতবর্ষে রাজনৈতিক হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শক্তি তাদের ফ্যাসিবাদের নামান্তর তথাকথিত আদর্শবানকে ভারতবর্ষের বুকে ধীরে ধীরে একটা রাজনৈতিক দ্যোতনা হিসেবে উপস্থাপিত করে রাষ্ট্রশক্তি দখলের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

Spread the word

Leave a Reply