PB Statement

Dec.1: Protest Attacks on Minorities

পয়লা ডিসেম্বর ডেশজূড়ে সংখ্যালঘুদের উপরে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ দিবস

তারিখঃ সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র পলিট ব্যুরো নিম্নলিখিত বিবৃতি জারী করেছেঃ

১লা ডিসেম্বরঃ সংখ্যালঘুদের উপরে হামলার বিরুদ্ধে দেশজোড়া প্রতিবাদ সিবস পালন করুন

সঙ্ঘ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলির দ্বারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় – খ্রিস্টান এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের ঘটনায় গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করছে পলিট ব্যুরো৷ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এর অভ্যন্তরীণ নথিসমূহ (যেমন ফেসবুক) থেকে স্পষ্ট হয়েছে কীভাবে বিজেপি নেতারা সোশ্যাল মিডিয়াতে সাম্প্রদায়িক প্রচার চালিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে হিংসায় উস্কানি অব্ধি দিয়েছে৷ এইসকল ঘটনায় সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রচার করার কাজে যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহন না করে, আক্রান্তদের রক্ষা করার পরিবর্তে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে প্রশাসন তাদেরই শাস্তি দেবার বন্দোবস্ত করেছে এমনকি তাদের উপরে মিথ্যা মামলা চাপিয়েছে এবং কঠোর আইনি ধারা প্রয়োগ করে ব্যাপক গ্রেপ্তারী চলেছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির দ্বারা প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ২০২১ সালের প্রথম নয় মাসের মধ্যে খ্রিস্টানদের উপরে এবং তাদের ধর্মীয় উপাসনালগুলিতে ৩০০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই আদিবাসী এবং দলিত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। ধর্মান্তরকরণ আটকানোর নামে নিয়মিত বিভিন্ন প্রার্থনাসভায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রার্থনাশিবিরে অংশগ্রহণকারীদের মারধর করা হচ্ছে।

হামলার লক্ষ্য হিসাবে সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের সদস্যদের টার্গেট করা হয়েছে। ‘গোরক্ষা’ এবং ‘লাভ জিহাদ’-এর নামে গণপিটুনি, পুলিশ হত্যা, মিথ্যা গ্রেপ্তারের ঘটনা একের পর এক হয়ে চলছে। উদাহরন হিসাবে বলা যায় সম্প্রতি এমন ঘটনা ত্রিপুরায় ঘটেছে, ভিএইচপি (বিশ্ব হিন্দু পরিষদ)-র গুণ্ডারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়েছে, কিছু মসজিদে ভাঙচুরও করা হয়েছে। সাংবাদিক, যারা এই হামলার রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন তাদেরই বিরুদ্ধে UAPA-ধারায় মামলা করা হয়েছে। আরেকটি ঘটনা রাজধানী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ গুরগাঁওয়ে ঘটেছে, সেখানে নমাজ পড়ার অধিকার রোধ করা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের কিছু এলাকায় মুসলমান হকারদের ব্যবসা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আসামে, কয়েক দশক ধরে বসবাসকারী দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলিকে নির্মমভাবে উচ্ছেদ করা হল কারণ তারা মুসলমান সংখ্যালঘু মানুষ। উত্তরপ্রদেশে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে এনএসএ’র অপব্যবহার কার্যত রোজকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সংখ্যালঘুদের উপর এইসব হামলার ঘটনা আসলে ভারতের সংবিধানের উপরেই আক্রমণ। দেশজূড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখার দাবিতে আগামী ১লা ডিসেম্বর  প্রতিবাদ দিবস হিসাবে পালন করার জন্য সিপিআই(এম) পার্টির সমস্ত ইউনিটকে আহ্বান জানাচ্ছে।

Spread the word

Leave a Reply