আমফান ঝড়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের দাবিতে বিক্ষোভ হুগলী ও হাওড়া জেলা জুড়ে…

৯ জুলাই ২০২০
ওয়েবডেস্কের প্রতিবেদন:

লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে ব্লক দপ্তর, পঞ্চায়েতে আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষোভ প্রতিদিন আছড়ে পরছে। দুর্নীতিতে প্রতিযোগিতা করছে তৃণমূল ও বিজেপি সমান তালে। তার প্রতিবাদের ও ন্যায্য দাবিতে মানুষের ক্ষতিপূরণ চেয়ে বিক্ষোভ চলছে প্রশাসনের দপ্তর সহ বিভিন্ন স্থানে।

হুগলী জেলায়

●আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপক তালিকা প্রকাশ।

●ক্ষতিগ্রস্ত তিল ,বাদাম, চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া ।

●১০০ দিনের কাজ শুরু।

●বকেয়া মজুরি দেওয়া।

●মাস্টার রোল প্রকাশ্য স্থানে টাঙানো ,সহ ১৩ দফা দাবিতে


সিপিআই(এম) তারকেশ্বর ১ নম্বর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে সন্তোষপুর পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন ও বিক্ষোভ হয়।
আজ ভাস্তরা সহ ধনিয়াখালীতে ৬ টি প্রতিবাদ কর্মসূচি ও পুরশুরায় ২ঘন্টা ব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয় পরে পথ অবরোধ করা হয়।


গোঘাট ১নং এরিয়া কমিটির অন্তর্গত কামছে সাক্ষার্বউদ্যোগে সাংবাড়ি গ্রামে প্রায় ১০০বাড়িতে দাবি পত্র বিলি করে সিপিআই(এম) কর্মীরা, এছাড়াও খানাটি, বলি পাতুল সারা ,সওদা তেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

গোঘাট ২ নং এলাকায় বেঙ্গাই গ্রাম পঞ্চায়েতে ২০১১ সালের পরে এই প্রথম মানুষের দাবি নিয়ে ডেপুটেশন কর্ম সূচি পালিত হয়।



হুগলী এরিয়া কমিটির অন্তর্গত ত্রিকোণ পার্ক মোড়ে বামফ্রন্টের ডাকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

ত্রিবেনি মনসাতলা তে ও মগড়া ডিগসুই সপ্তগ্রামে বামফ্রন্টের ডাকে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়।


চন্দননগর বিদ্যালঙ্কার মোড়ে বামফ্রন্ট ও সহযোগদল ও কংগ্রেসের ডাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়।


আমফানে তৃণমূলের ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে জাঙ্গিপাড়ায় ব্লক বিক্ষোভে লাল ঝান্ডা নিয়ে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পরেন।


হাওড়া জেলা:

*আমফান ঝড়ে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত দের সাহায্য।

*আমফান ঝড়কে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা।

*ফসলের মোট উৎপাদন খরচের দেড় গুন দামে গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে সরকারি উদ্যোগে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনা।

*কৃষি ঋণ মুকুব, ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্যাকেজের ব্যবস্থা


সহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ হল


হাওড়া জেলার শ্যামপুরের বারগ্রাম পঞ্চায়েতে। বৃহস্পতিবার হাওড়া জেলা কৃষক সমিতি ও খেতমজুর ইউনিয়নের উদ্যোগে পঞ্চায়েতে দাবিগুলি উল্লেখ করে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।

মানুষের জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হলো উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লক প্রশাসন। প্রায় সাড়ে তিনঘন্টা ঘেরাও শেষে বেশীরভাগ দাবিই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে বিডিও।
সাধারণ মানুষকে সাথে করে সিপিআই(এম) ব্লক অফিস অভিযান করে। সিপিআই(এম)
উলুবেড়িয়া ১ নং এরিয়া কমিটি সহ, সারা ভারত কৃষক সভা, খেত মজুর ইউনিয়ন ও অগ্রগামী কৃষান সভা উলুবেড়িয়া ১নং ব্লক কমিটির পক্ষ থেকে বিডিও অফিস অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাছে মূল দাবি ছিল….


*আমফানের ক্ষতিপূরণের টাকা বড়লোকদের কাছ থেকে ফেরত নিতে হবে।


*আসল ক্ষতিগ্রস্থ গরীব মানুষকে তার প্রাপ্য ক্ষতিপূরনের টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে।



আমফানে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয় উলুবেড়িয়া ১নং ব্লক এলাকা জুড়ে। ২২৫০জন ক্ষতিপূরন প্রাপকের বেশীরভাগই ভূয়ো উপভোক্তা। ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিটিতেই দুর্ণীতির অভিযোগ ওঠে। শুধুমাত্র আমফানের ক্ষতিপূরন নয়, পান বোরজের টাকা, পরিযায়ী শ্রমিকদের রেশন বিলি সবেতেই বেনিয়ম লক্ষ্য করা যায়। এই দুর্নীতিতে নাম জড়ায় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ও নেতাদের। তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য, নেতা ও বহু পাকা বাড়ির মালিক আমফানের ক্ষতিপূরন পায়। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রামে গ্রামে ব্যাপক বিক্ষোভ হতে থাকে। তৃণমূল নেতা, পঞ্চায়েতের সদস্য ও পঞ্চায়েতের প্রধানের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ জানায় সাধারণ মানুষ। দুর্নীতির প্রতিবাদে পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে গণডেপুটেশনে অংশগ্রহন করে শয়ে শয়ে মানুষ। এদিন সেই বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে ব্লক অফিসে।


এদিন উলুবেড়িয়া গোরুহাটা মোড়ে জড়ো হয় হাজারে হাজরে মানুষ। কৃষক সংগঠনগুলির নেতা ও কর্মীদের আন্দাজ ছাপিয়েই এদিন জড়ো হয় মানুষ। সাড়ে তিনটে নাগাদ গোরুহাটা মোড় থেকে মিছিল শুরু হয় ব্লক অফিস লক্ষ্য করে। ফ্ল্যাগ ও ফেস্টুনে সুসজ্জিত মিছিলের মেজাজই ছিল আলাদা। যে মেজাজ গত কয়েকবছর দেখেনি উলুবেড়িয়াবাসী। মিছিল প্রথমেই ব্লক অফিসের গেটে আসে। সেখানে আগে থেকেই উলুবেড়িয়ার আই সি কৌশিক কুন্ডুর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ ও র্যােফ বাহিনী উপস্থিত ছিল। তারা মিছিলকে আটকায় ও ব্লক অফিসে ঢুকতে বাধা দেয়। দীর্ঘক্ষন পুলিশ ও জনতার লড়াই শেষে হার মানতে বাধ্য হয় পুলিশ। প্রবল জনস্রোতে খুলে যায় ব্লক অফিসের গেট। অবরুদ্ধ হয়ে যায় গোটা ব্লক অফিস। শুরু হয় বিক্ষোভসভা। বিক্ষোভসভা চলাকালীনই কৃষক সংগঠনগুলির এক প্রতিনিধিদল বিডিও-র কাছে ডেপুটেশন দিতে যায়। দীর্ঘক্ষন ধরে চলে তাদের আলোচনা। প্রথমে বিডিও দাবি মানতে অস্বীকার করে। দীর্ঘক্ষন ধরেই আলোচনার টেবিলে চলে দড়ি টানাটানি। অন্যদিকে গোটা বিডিও অফিস ঘিরে রাখে বিক্ষুদ্ধ সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ একে একে প্রায় সবকটাই দাবি মেনে নেয় উলুবেড়িয়া ১নং বিডিও কার্তিক রায়। প্রতিনিধিদলের দাবি মেনে তিনি বলেন, আমফানের ক্ষতিপূরন পাওয়া পুরানো তালিকার সমস্ত ছাদ আঁটা পাকা বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হবে। নতুন করে প্রায় ১০০০০ দরখাস্ত তদন্ত করে প্রায় ২০০০জনের নতুন তালিকা তৈরী হয়েছে। এতেও যদি অভিযোগ থাকে তার তদন্ত করা হবে। কেউ বাদ গিয়ে থাকলে তারও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। জবকার্ড, জবকার্ডে কাজ ও জবকার্ডের আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার না দিলে অভিযোগ পাওয়ার পর দু্‌’দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতে আমি নিজে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে তার ব্যবস্থা করবো। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাকি ২৫০০জনের বাড়ির কাজ অতিসত্ত্বর শুরু হবে। তালিকা থেকে বাদ যাওয়া ৬০০০জনের কাজ এখন না করতে পারলেও নতুন একটি প্রকল্প আসার কথা আছে, সেই তালিকায় এগুলি ঢুকিয়ে দেবো। পরিযায়ী শ্রমিকরা যারা খাদ্যের কুপন পায়নি, তারা ব্লক খাদ্য দপ্তরে এসে যোগাযোগ করুক। আমি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছি। চাষীদের কাজ অতিসত্বর ধান মান্ডি থেকে কেনা হবে।
এবিষয়ে হাওড়া জেলা কৃষক সমিতির নেতা গৌতম পুরকাইত বলেন, না আঁচালে বিশ্বাস নেই। আমরা আগামী কয়েকদিন দেখবো। যদিনা বিডিও সাহেব তার প্রতিশ্রুতি রাখেন, তাহলে ফের আন্দোলন হবে। সারারাত ধরে ব্লক প্রশাসনকে ঘেরাও করে রেখে দেবো।
এদিন ব্লক অফিস অভিযানে উপস্থিত ছিলেন গৌতম পুরকাইত, মীনা ঘোষ মুখার্জী, নিমাই সর্দার, সাবিরউদ্দিন মোল্লা, জামিউস সরিয়ত মল্লিক প্রমুখরা।

Spread the word

Leave a Reply