বেকারত্ব নিয়ে প্রভাত পট্টনায়েকের ভাষণে বিশ্বভারতী কতৃপক্ষের

18 February, 2020

এবার বেকারত্ব নিয়ে প্রভাত পট্টনায়েকের ভাষণেও না বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের! আগামী ১২ মার্চ বিশ্বভারতীতে ভাষণ দিতে আসার কথা ছিল জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রভাত পট্টনায়কের। তাঁর ভাষণের বিষয় ছিল দেশের বেকারত্ব। প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। এমন অবস্থায়, বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দেশ এসেছে আপাতত এই ভাষণের অনুষ্ঠান স্থগিত রাখার। জানিয়েছেন উদ্যোক্তাদের অন্যতম এক অধ্যাপকই। ওই অধ্যাপকের কথায়, ‘‘কোনো লিখিত নির্দেশ নয়। ফোন মারফত উপরতলা থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই পরিকল্পিত ভাবনা থেকেই এমনটা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।’’ ঘটনা ঘিরে অবশ্যই ছড়িয়েছে ক্ষোভ। গত বছর থেকে বিশ্বভারতীর অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে শুরু হয়েছে অশোক রুদ্র মেমোরিয়াল বক্তৃতা। ইউজিসি-র অর্থানুকূল্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মূল্যবান বক্তব্য প্রদানের এই অনুষ্ঠানের এবার দ্বিতীয় বর্ষে পা দেওয়ার কথা। অর্থনীতি বিভাগের বোর্ড অব স্টাডিজ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আগামী ১২ মার্চ হবে দ্বিতীয় অশোক রুদ্র মেমোরিয়াল বক্তৃতা। বক্তা হিসাবে ঠিক হয়েছিল প্রভাত পট্টনায়েকের নাম। সোমবার ছিল বোর্ড অব স্টাডিজের সভা। সূত্র মারফত জানা গেছে, সেই সভার কার্যবিবরণীতে এদিন লিপিবদ্ধ হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থগিত রাখতে হচ্ছে এই ভাষণ। তবে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে পরবর্তী দিন স্থির করার আবেদন জানানো হবে কর্তৃপক্ষের কাছে। যাতে শীঘ্রই কোনো একটা দিনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়। কারণ ইউজিসি থেকে পাওয়া আর্থিক সাহায্যে সেমিনার করার শেষদিন ৩১ মার্চ। তারমধ্যে না করতে পারলে ফেরত যাবে টাকা। শুধু টাকা ফেরত নয়, দেশের জ্বলন্ত সমস্যা বেকারত্ব নিয়ে প্রথিতযশা অধ্যাপক প্রভাত পট্টনায়কের মূল্যবান ভাষণ থেকেও বঞ্চিত হবেন সকলে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন এমন কৌশল করে ভাষণ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিশ্বভারতীর তরফে? কোনো উত্তর মেলেনি কর্তৃপক্ষের তরফে। তবে উদ্যোক্তাদের অন্যতম এক অধ্যাপক জানিয়েছেন, ‘‘প্রভাত পট্টনায়েকের ভাষণে কেন বাধা এখন কি আর কাউকে খোলসা করে বলতে হবে? প্রতিবাদী মুখ অধ্যাপক পট্টনায়েক। কেন্দ্রীয় সরকারী ভ্রান্ত অর্থনীতি, শিক্ষনীতির বিরুদ্ধে সরব তিনি। তাই তো কর্তৃপক্ষ সিএএ’র সপক্ষে বিজেপি সাংসদের ভাষণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মরিয়া হয়, আর দেশের বেকারত্বের সমস্যা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিলে বাধা দেওয়া হয়।’’

তবে সূত্র মারফত জানা গেছে, অর্থনীতি বিভাগের বোর্ড অব স্টাডিজের এদিনের সভা থেকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বিশ্বভারতীর উপাচার্যের কাছে ভাষণের পরবর্তী দিন ঠিক করে দেওয়ার আবেদন জানানো হবে।
শেয়ার করুন

উত্তর দিন