শ্রুতিনাথ প্রহরাজ
এসএসসি মামলা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায় এখন সর্বত্র আলোচনার বিষয়। বিপর্যস্ত শুধু চাকরি চলে যাওয়া ওই ২৫৭৫২ জন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নন, বিপর্যস্ত গোটা সমাজ সহ সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিটি বাড়িতে যে শিক্ষার্থীরা এখন তাদের নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন গড়তে নিজেদের তৈরি করছে, আশঙ্কার ঘন কালো মেঘ গ্রাস করেছে তাদের মন কেও। এই ঘুণ ধরা পচে যাওয়া ব্যবস্থায় বাঁচবে কি করে ওরা এই দুশ্চিন্তায় বিপর্যস্ত অভিভাবক সমাজ। এই একটা রায়ে কত পরিবার যে দিশেহারা হল, তার হিসেব নেই। শুধু চোখের জল আর বুকফাটা আর্তনাদের সাক্ষী হয়ে দুঃসহ এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি আমরা সবাই যারা হয়তো বা প্রত্যক্ষভাবে ভুক্তভোগী নই। স্বাধীনতা উত্তর কালে এই বাংলা এহেন বিপর্যয়ের মুখে অতীতে কখনো পড়েনি। স্বভাবতই আশঙ্কা বাড়ছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায় বস্তুত যা হবার ছিল তাই হয়েছে। অনেক আগে কলকাতা হাইকোর্টেই মাননীয় বিচারপতিগণ এই রায় শুনিয়েছিলেন। সর্বোচ্চ আদালত সেই রায়ের বৈধতা দিয়েছে মাত্র। মাঝে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়ায় রাজ্য সরকার অপরাধের প্রমাণ লোপ করার আরো কিছুটা সময় পেয়েছে এই যা। তৃণমূল কংগ্রেসের এই সরকার তার নেত্রী সহ গোটা মন্ত্রিসভা এমনকি নিচের স্তরে হঠাৎ ফুলে ফেঁপে ওঠা বিস্তর কর্মী-বাহিনী এটাই করে এসেছে বরাবর। এর ফল বা দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের, যাদের একাংশ শিক্ষক শিক্ষাকর্মী হিসেবে গত পাঁচ-ছয় বছর মর্যাদার সঙ্গে কাজ করবার পরেও চাকরি হারালেন। আর একটা বড় অংশ যারা যোগ্য হয়েও অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হয়ে দিনের পর দিন ন্যায় বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনে শামিল। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার অযোগ্য অপরাধীদের বাঁচাতে যোগ্য মেধাবী শিক্ষক শিক্ষাকর্মী ও বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের হাড়িকাঠে বলির বন্দোবস্ত করলো। এই ক্ষমাহীন অপরাধের দায় সরকারের নেত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। অথচ সেই চেষ্টাই তিনি আগাগোড়া করে যাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে সর্ব অর্থে এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। এর থেকে একথা পরিষ্কার, প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থাৎ স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর অগোচরে এই পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি বা অপরাধ সংগঠিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে রাজ্যের বর্তমান এক ব্যক্তির একদলীয় শাসনব্যবস্থায় কোনমতেই তা সম্ভব নয়। তাই এটা স্পষ্ট যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীই এই দুর্নীতিরাজের প্রধান কারিগর, যতই তিনি বিপাকে পড়ে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন। মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যগণ এমনকি পঞ্চায়েত পৌরসভার কর্তাব্যক্তিরাও 'সাপোর্ট সার্ভিস' দিয়ে এই সুযোগে করে-কম্মে খাওয়ার ব্যবস্থা বানিয়ে নিয়ে সুবিধামতো নিজেদের সম্পত্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে নিয়েছেন।
বস্তুত তৃণমূল কংগ্রেসের এই সরকারের আমলে গোটা সিস্টেমটাকেই সাজানো হয়েছে সংগঠিত অপরাধ করা ও তার প্রমাণ লোপাট করার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। তাই, শিক্ষা ব্যবস্থায় এই দুর্নীতি বর্তমান সরকারের আমলে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। পঞ্চায়েত পৌরসভায় ১০০ দিনের কাজের টাকা চুরি করা, আবাসন প্রকল্পের টাকা লোপাট করা থেকে শুরু করে হাল আমলে প্রকাশিত সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি-- এর সবটাই সংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ যার প্রধান কারিগর পরিবারের কর্ত্রী স্বয়ং। কয়েক মাস আগে এই দুর্নীতি জনসমক্ষে প্রকাশ করবার স্পর্ধা দেখিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার হয়েছে অভয়া, যার ন্যায় বিচার এখনো জোটেনি। সংগঠিত অপরাধ ও তার প্রমাণ লোপাটের এই ব্যবস্থায় অকালে হারিয়ে গেছে মেধাবী ও সম্ভাবনাময় ওই ডাক্তারি পড়ুয়া সহ আরো কত প্রাণ। অনাগত ভবিষ্যৎ আরো ভয়ংকর হতে পারে, যদি এই প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধমূলক ব্যবস্থাকে সমূলে উৎপাটন করা না যায়। কারণ এইসব অপরাধীরা নিজেদের অনাচার ঢাকতে কেবল মুখোশের আড়াল নেয় তাই নয়, একই সাথে আরো বড় কোন অপরাধ সংগঠিত করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। এখনই সতর্ক হওয়া জরুরী।

সরকারি প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যাচার এখন সর্বজনবিদিত। হয়তো বা গোয়েবলসীয় কায়দায় বিষয়টাকে মানিয়ে নেওয়ার তাগিদে ধারাবাহিক এই মিথ্যার চাষ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশ্যে আসার পর তেমনই কিছু নমুনা আমরা নতুন করে পেলাম। যেমন, এর তিনি কিছুই জানেন না, সবটাই জানে স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে স্কুল সার্ভিস কমিশন, চাকুরীচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের পাশে তিনি অতীতেও ছিলেন আগামীদিনেও থাকবেন, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্যকে সব বলে রাখা হয়েছে-- আগামী তিন মাসের মধ্যেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে, আর সর্বোপরি এই বিপর্যয়ের জন্য তিনি বা তার সরকার দায়ী নয়-- দায়ী সিপিআইএম সহ অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সত্যিই কি তাই? সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা আছে, এই দুর্নীতির নিয়োগের জন্য ও এম আর শিট নষ্ট করা হয়েছে, ও এম আর শিটের কোন ফটোকপি বা স্ক্যান কপি রাখা হয়নি, ও এম আর শিট ফাঁকা রেখেও অনেকে চাকরি পেয়েছে, এমনকি এসএসসির তালিকায় নাম ছিল না এমন অনেককেও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এর সবটাই কেবলমাত্র এসএসসি জানত, মুখ্যমন্ত্রী এর কিছুই জানেন না-- এ কথা শুনলে এখন ঘোড়াতেও হাসবে।
বারংবার আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও যোগ্য এবং অযোগ্যদের তালিকা আলাদা করা হয়নি। এসএসসি আদালতে অযোগ্য প্রার্থীর যে সংখ্যা জমা দিয়েছে, সিবিআই-এর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তার মিল নেই। অর্থাৎ সমগ্র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি স্তরে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে, প্রতিটি স্তরে অপরাধ ঢাকবার জন্য আরো বড় অপরাধ এমনভাবে সংঘটিত হয়েছে যে কোন উপায়েই এই তালিকা থেকে কে অপরাধী আর কে নিরপরাধ তা বাছাই করা সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী এর সবটা জানতেন বলেই, এই ওএমআর শিট নষ্ট করার এবং পুড়িয়ে ফেলার জন্য প্রধান অভিযুক্ত নয়ডার নাইসা কমিউনিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড নামক সংস্থাটিকে সরকারের অন্যান্য দপ্তরের নিয়োগ ব্যবস্থায় নিযুক্ত করেন। এটাই সংঘটিত প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ যার দায় মুখ্যমন্ত্রী এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাঁর দাবি মত সিপিআইএম বা বামফ্রন্ট সরকারের আমলে যদি চিরকুটে চাকরি হয়ে থাকে, এতদিন তার তদন্ত হলো না কেন? কেউ তো বাধা দেয়নি তাঁকে। সারদা কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর শ্যামবাজারের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন বাম সরকারের কোন কোন মন্ত্রী এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত তা তিনি ফাঁস করে দেবেন। দশক পেরিয়ে গেলেও আজও সেই সুযোগ তাঁর হয়নি, কারণ পুরোটাই ছিল নিজেদের অপরাধ ঢাকতে প্রকাশ্যে মিথ্যাচার, ঠিক যেমনটা আবার করেছেন দুদিন আগে সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রকাশের পর সাংবাদিক সম্মেলনে। এই রায়ে কোথাও বলা নেই, তিন মাসের মধ্যে আবার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে যা তিনি দাবি করেছেন। বলা হয়েছে শূন্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে হবে। আরো বলা হয়েছে, যারা অপরাধমূলক কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে এই চাকরি পেয়েছেন তাদের ১২ শতাংশ সুদ সহ পুরো বেতন ফেরত দিতে হবে। জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং জেলাশাসকদের এই কাজে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সচেতনভাবেই এই পর্ব এড়িয়ে গেছেন কারণ তিনি জানেন এই অপরাধ বা দুর্নীতিমূলক নিয়োগের পেছনে আছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন। যার কিছু অংশ ইতিমধ্যেই সিবিআই, ইডি ও অন্যান্য তদন্তের মাধ্যমে আদালতে উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী এর সবটাই জানতেন বলেই বারংবার বলা সত্ত্বেও সরকারের তরফে আদালতে সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বা দেওয়া যে আদৌ সম্ভব নয় তাও বলা হয়নি। কারণ তা বললে ঝুলির থেকে বিড়াল বেরিয়ে যেত। উল্টে তিনি সাংবিধানিক নিয়মের তোয়াক্কা না করে অপরাধের মধ্যে দিয়ে নিযুক্ত প্রার্থীদের বাঁচাবার জন্য অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন যা আর একটা বড় অপরাধ। এই সব অপরাধ ঢাকতে তিনি সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিয়ে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নামিদামি উকিলশ নিয়োগ করেছেন। এই টাকা আমাদের ট্যাক্সের টাকা যা খরচ হতে পারতো সরকারের অন্য কোন গঠনমূলক উন্নয়ন খাতে। এইভাবে দিনের পর দিন আদালতে সময় নষ্ট করা হয়েছে যার প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী যোগ্য ও মেধাবী নিরপরাধ এইসব শিক্ষক শিক্ষা কর্মী ও অন্যায় ভাবে বঞ্চিত অসংখ্য যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এদের এই হেনস্থার দায় সম্পূর্ণভাবে রাজ্য প্রশাসনের। এই ক্ষমাহীন অপরাধের দায় প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে। সর্বোপরি এই সীমাহীন মিথ্যাচার প্রকাশ পায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে থেকেই। এর আগে তিনি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তিনি তৃণমূলে থাকাকালীন কি কি দুর্নীতি করেছেন তার সব রেকর্ড ফাঁস করে দেবেন। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে কথা প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতার নাম না করে আবারও তিনি বললেন, ২০১৬ সালে কারা কারা কিসের বিনিময়ে কিভাবে নিয়োগ করেছে তার সব রেকর্ড তাঁর কাছে আছে। ঠিক যেমনটা রাজীব ব্যানার্জি দল ছাড়ার পর বনদপ্তরের বেআইনি নিয়োগ নিয়ে তিনি বলেছিলেন। এর সবটাই যে তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারি প্রশাসনের দুর্নীতি এ কথা ভুলে যান কি করে? সবই যদি জানেন তাহলে প্রকাশ্যে মিথ্যাচার কেন? সবটাই তিনি যদি জানেন তাহলে আদালত জানতে চাইলে তা জানান না কেন? উল্টে পরিকল্পিতভাবে তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয় দিনের পর দিন। এইভাবে ঘুণ ধরে গেছে প্রশাসনের সর্বস্তরে যা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি সংগঠিত করার প্রধান ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে আসার পর এরাজ্যের সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় একের পর এক বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্র চরম নৈরাজ্য বিদ্যমান। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা তৈরি করে শিক্ষার সামগ্রিক বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের পথ প্রশস্থ করা হয়েছে। স্থায়ী পদে নিয়োগ নেই। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় চলছে অস্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ঘোষণার পর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিদ্যালয় কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। আমাদেরও আশঙ্কা এই অবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মূল্যায়ন সঠিকভাবে হবে কিনা। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকলে গরমের ছুটি বা অন্যান্য ছুটি বাড়িয়ে শিক্ষাদান ব্যবস্থায় উদ্ভূত সংকটের যে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় তা মুখ্যমন্ত্রীও জানেন। তবু শিক্ষা দপ্তর কে এড়িয়ে পর্ষদ বা সংসদকে অন্ধকারে রেখে তাকেই ছুটির কথা ঘোষণা করতে হয়। অথচ বিপাকে পড়লেই দাবি করেন তিনি কিছু জানেন না। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি বলেছেন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে তাই উত্তরপত্র মূল্যায়নের কোন সমস্যা হবে না। একবারও বললেন না মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রতিবছর কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে কেন? এইসব অসহায় ছাত্র-ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার কোন পরিকল্পনা সরকার বা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ বা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। বরং নানা অজুহাত দেখিয়ে এই ভয়ংকর বিপদকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এখনো প্রাথমিকের নিয়োগ মামলা আদালতের বিচারাধীন। সেখানে কি রায় হবে আমরা জানি না। শুধু এটুকু জানি এ রাজ্যে এখন প্রাথমিক স্তরের ছাত্র-ছাত্রীরাও সুরক্ষিত নয়। তাই সেখানেও ড্রপ আউট এর সংখ্যা বাড়ছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নৈরাজ্যের পরিস্থিতি আরো ব্যাপক যার বিস্তৃত আলোচনার পরিসর এখানে নেই। শুধু এটুকু বলা যায় শিক্ষা ব্যবস্থার এই সামগ্রিক বিপর্যয়ের শিকার সব মিলিয়ে এ রাজ্যের শিক্ষিত মেধা, যোগ্যতা সম্পন্ন এ রাজ্যের এই প্রজন্মের অসংখ্য সম্ভাবনাময় তরুণ তরুণী। এদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে এই দুর্নীতিরাজের অবসান যত দ্রুত সম্ভব সুনিশ্চিত করা জরুরি। এই অপরাধীদের কোন ক্ষমা নেই।