Site icon CPI(M)

P.B. Communique

PB Statement

৩ জুলাই,২০২১ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি(মার্কসবাদী) র পলিট ব্যুরো বৈঠক হয়েছে এবং নিম্নলিখিত বিবৃতি জারি করা হয়েছে:

কোভিড টিকা

কোভিড অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউ, মহামারী বিশেষজ্ঞদের মতে একটা স্থিতাবস্থায় এসেছে তবে সংক্রমণের সংখ্যায় কোনও উল্লেখযোগ্য হ্রাস হয়নি।এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং সঙ্কটের।

আমাদের মানুষের জীবন রক্ষার ও মহামারী নিয়ন্ত্রণ করার একমাত্র উপায় হল ব্যাপক,বিনামূল্যে,সার্বজনীন,টিকাকরণ কর্মসূচি।বছরের শেষের মধ্যে সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ১৯০ কোটি টিকা ডোজ প্রয়োজন।মোদি সরকার ১৩ই মে দাবি করেছিল যে ২০২১ সালের আগস্ট-ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে ২১৬ কোটি টিকা ডোজ পাওয়া যাবে এরপরে ২৬ জুন তারাই সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটা হলফনামায় জানায় যে এই সংখ্যা ১৩৫ কোটি,অর্থাৎ ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা যথেষ্ট পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।বছর শেষের মধ্যে লক্ষ্য পূরণের জন্য এটি উদ্বেগজনক ঘাটতি।

মোদি সরকারকে অবিলম্বে বিশ্বব্যাপী উপলব্ধ সমস্ত উৎস থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হবে এবং টীকাকরণ প্রকল্পকে আরও তীব্র করতে হবে।ভারত এবং আমাদের জনগণ তৃতীয় ঢেউকে মোকাবিলা করতে পারার অবস্থায় নেই এবং গণ টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা জরুরি।

ভয়াবহ দ্রব্যমূল্য বৃ্দ্ধি

পেট্রোপণ্যের প্রায় প্রতিদিনই মূল্যবৃদ্ধি জনসাধারণের জীবনধারণকে পঙ্গু করে দিচ্ছে,এছাড়াও এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে সমস্ত ক্ষেত্রেরই মুদ্রাস্ফীতি ঘটছে ব্যাপক হারে। সমস্ত ধরণের খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে ব্যাপক হারে, ভোজ্যতেলের দাম আকাশছোঁয়া। বিগত ৭ মাসে ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫০টাকা।

মোদি সরকার এরই ফাঁকে পেট্রোলে ২৫৮ শতাংশ এবং ডিজেলে ৮২০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার রাজস্ব বাড়াতে গিয়ে মানুষের জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এমনিতেই মহামারী মোকাবিলায় বাড়তি খরচের বোঝায় মানুষ কাহিল।

পলিটব্যুরো পেট্রোপণ্যের অন্তঃশুল্ক ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।

মোদি সরকারকে অবিলম্বে আয়করের আওতাভুক্ত নয় এমন পরিবারকে প্রতিমাসে ৭৫০০ টাকা করে নগদ হস্তান্তর এবং নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বিনামূল্যে বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

রাফাল চুক্তি

ফরাসি পাবলিক প্রসিকিউশন সার্ভিসেস (পিএনএফ) মোদি সরকারের করা রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য ২০১৬ সালের বহু বিলিয়ন ডলার চুক্তির বিষয়ে ফরাসি বিচারকের তত্ত্বাবধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।আন্তঃসরকারী চুক্তির বিষয়ে পিএনএফের আর্থিক শাখার সিদ্ধান্তের পরে ১৪ ই জুন বিচারবিভাগীয় তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। একটি ফরাসী তদন্তকারী ওয়েবসাইট কর্তৃক এই চুক্তির বিষয়ে সরকারি কাগজপত্রের প্রকাশ্যে উন্মোচন থেকে বোঝা যায় যে রাফাল নির্মাতা ড্যাসল্ট এভিয়েশন এবং অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের মধ্যে ২৬ শে মার্চ, ২০১৫ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী মোদির নতুন চুক্তি ঘোষণা এবং হ্যাল কে বাদ দেওয়ার ১৫ দিন পূর্বে একটি চুক্তি হয়েছিল।

এটি সিপিআই (এম) কর্তৃক উত্থাপিত আশঙ্কাকেই জোরালো করেছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদির আগের রাফাল চুক্তি থেকে সরে আসার পেছনে গভীর দুর্নীতি ও অর্থ পাচার জড়িত।

পলিট ব্যুরো এই পুরো পর্বে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের ভূমিকা তদন্ত করতে এবং এই চুক্তির প্রকৃত সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি গঠনের জন্য সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে উত্থাপিত তার দাবি পুনর্বার ঘোষণা করেছে।

দানবীয় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা পরিষেবা অধ্যাদেশ, ২০২১ প্রত্যাহার করতে হবে

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ধর্মঘটের দমনে আনা দানবীয় অর্ডিন্যান্সের তীব্র বিরোধিতা করছে সিপিআইএম পলিটব্যুরো। পুঁজিপতিদের মুনাফা লাভের অংক আরো বাড়ানোর জন্য জলের দরে দেশের সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ চলছে। এর বিরুদ্ধে দেশের শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিবাদকে প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণের ৪১টি কারখানাকে মাত্র সাতটি কর্পোরেট পরিণত করা হচ্ছে। মাত্র চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা থাকবে স্ট্রাটেজিক ক্ষেত্র বলে, ঘোষণা করেছেন মোদি সরকার। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দেশের সম্পদ নগ্নভাবে লুটের বিরুদ্ধে লড়াই আন্দোলন আরো বৃদ্ধি পাবে।

এই অর্ডিন্যান্স অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে পলিটব্যুরো।

শেয়ার করুন