Site icon CPI(M)

Stalin: A Leninist

লেনিনবাদের প্রবক্তা কমরেড স্তালিন

প্রমোদ দাশগুপ্ত

মূল প্রবন্ধটি ১৯৭৯ সালে স্তালিন জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গনশক্তির বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত

কমরেড স্তালিন লেনিনবাদের প্রবক্তা। কমরেড লেনিন কার্ল মার্ক্সের রচনা এবং শিক্ষাগুলির বিকাশ ঘটিয়ে কার্ল মার্ক্সের বৈপ্লবিক চিন্তাধারাকে মার্ক্সবাদ রুপে প্রতিষ্ঠিত করে। তিনি মার্ক্সবাদের মূল সূত্রগুলিকে আরো সমৃদ্ধ করেন। ঠিক তেমনি কমরেড জে ভি স্তালিন লেনিনের রচনা ও শিক্ষাগুলির বিকাশ ঘটান, লেনিনের শিক্ষাগুলিকে লেনিনবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। আজ স্তালিন বিরোধীরা কমরেড স্তালিনের নাম মুছে ফেলার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করছেন। কিন্তু কমরেড স্তালিন বেঁচে রয়েছেন তাঁর মার্ক্সবাদ লেনিনবাদের সৃষ্টিশীল রচনার মধ্যে। বেঁচে রয়েছেন লেনিনবাদের প্রবক্তা হিসাবে।

কমরেড লেনিনের মৃত্যুদিন পর্যন্ত তাঁর জীবনের সঙ্গে কমরেড স্তালিনের জীবন ছিল অবিচ্ছেদ্য রূপে জড়িত। তাঁরা একত্রে গরে তুলেছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণীর আদর্শ পার্টি – বলশেভিক পার্টি। তাঁরা একত্রে পত্তন করেছিলেন সোভিয়েত রাষ্ট্রের, যে রাষ্ট্র সর্বদাই বিশ্ববিপ্লবের দুর্গ হিসেবে কাজ করেছে। লেনিনের সাথে একত্রে কমরেড স্তালিন তৃতীয় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের প্রতিষ্ঠা করেন এবং লেনিনের সাথে থেকে তিনি মার্ক্সবাদ লেনিনবাদের তত্ত্বে ও কর্মে এবং শ্রমিকশ্রেণীর আন্তর্জাতিকতায় এই প্রতিষ্ঠানকে দীক্ষিত করে তোলেন।

এই সবকিছুতেই কমরেড স্তালিন লেনিনের কাজকে অব্যাহত রেখেছেন, এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এই সব কিছুতেই তিনি লেনিন যা শিখিয়েছেন, শুধু যে তা প্রয়োগ করেছেন তা নয় – তিনি মার্ক্সবাদ লেনিনবাদের বিকাশ সাধন করেছেন, তাকে নতুন নতুন স্তরে উন্নীত করেছেন।

যেমন কর্মকাণ্ডে তেমনি মার্ক্সবাদে তত্ত্বে স্তালিনের এত অবদান রয়েছে যে, তাঁর যেকোনো একটির জন্যই তিনি মার্ক্সবাদের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নিতে পারেন।

স্তালিন ছিলেন লেনিনের পরম অনুগত শিষ্য ও সহযোদ্ধা এবং লেনিনের শিক্ষার যোগ্য উত্তরাধিকারী। কমরেড কার্ল মার্ক্সের সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর অকৃত্রিম সহযোদ্ধা এবং বন্ধু ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস বলেছিলেন : “ ডারউইন জৈব-প্রকৃতির বিকাশের নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন, মার্ক্সও তেমনি মানব-ইতিহাসের ক্রমবিকাশের নিয়ম উন্মচন করেন। রাজনীতি, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, ধর্ম ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা করার আগে অর্থাৎ সব কিছুর আগে মানুষকে খাদ্য, পানীয়, পরিধেয় ও বাসস্থান পেতে হবে। এই সহজ সরল সত্যটি এতকাল অসংখ্য মতবাদের আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছিল। সুতরাং বেঁচে থাকার জন্যও আশু প্রয়োজনীয় বস্তুগত উপকরণগুলি উৎপাদন ও তার ফলে কোনও এক নির্দিষ্ট যুগে, কোনও জাতি অর্থনৈতিক বিকাশের যে নির্দিষ্ট মাত্রা অর্জন করতে সমর্থ হয়, তারই উপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট জাতির সর্বপ্রকার রাষ্ট্রীয় সংগঠন, আইন, শিল্পকলা, এমনকি ধর্ম সম্পর্কিত ধারণাগুলিও গড়ে ওঠে। অথচ এখনও উল্টোদিক থেকেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা হত। সুতরাং (মার্ক্সের আবিষ্কৃত) ওই নিয়মের আলোকেই বিষয়গুলি সম্পর্কে এখন ব্যাখ্যা করতে হবে, উল্টোদিক থেকে নয়।” ঠিক তেমনি কমরেড লেনিনের মৃত্যুর পর সোভিয়েত সমূহের দ্বিতীয় সারা ইউনিয়ন কংগ্রেসে ভাষণ দিতে গিয়ে কমরেড স্তালিন বলেন : “ গুরুভার ও অসহনীয় ভাগ্যই এতকাল শ্রমিকশ্রেনীর জুটে এসেছে। বেদনা ও দুঃখদায়ক জন্ত্রনা সয়ে এসেছেন মেহনতি জনগন। ক্রীতদাস ও ক্রীতদাস ব্যাবসায়ী, ভূমিদাস ও ভূমিদাস মালিক, কৃষক ও জমিদার, শ্রমিক ও পুঁজিপতি, অত্যাচারী ও অত্যাচারিত – স্মরণাতীত কাল থেকে জগৎ সংসার এই ভাবেই গড়ে উঠেছে এবং আজকের দিনেও বিপুল সংখ্যক দেশে এই অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। শতকে শতকে বহুবার এবং বাস্তবিক পক্ষে শত শতবার মেহনতি জনগণ তাঁদের পিঠের উপর থেকে অত্যাচারীদের ছুঁড়ে ফেলতে ও নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্তা হবার জন্যও বহু চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রতিবার পরাজিত ও অপমানিত হয়ে তাঁরা পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছেন। বুকের মধ্যে পুষে রেখেছেন ক্ষোভ ও অপমানের জ্বালা, ক্রোধ ও হতাশা আর চোখ তুলে তাকিয়েছেন দুর্জ্ঞেয় আকাশের পানে এই আশায় যে, স্বর্গ থেকে নেমে আসবে তাঁদের মুক্তি। দাসত্বের শৃঙ্খল তেমনি অটুট রয়েছে বা বড়জোর পুরনো শৃঙ্খলের জায়গায় চেপেছে নতুন শৃঙ্খল, যা সমানই গুরুভার ও অপমানজনক। একমাত্র আমাদের দেশেই অত্যাচারিত ও পদদলিত মেহনতি জনগণ জমিদার ও পুঁজিপতি ধনিকদের শাসন ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তার জায়গায় শ্রমিক-কৃষকদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছেন। আপনারা জানেন এবং সমগ্র বিশ্বও এখন স্বীকার করে যে, এই বিরাট সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন কমরেড লেনিন ও তাঁর পার্টি। লেনিনের মহত্ব রয়েছে সর্বোপরি এখানেই যে, সোভিয়েত সাধারণতন্ত্র সৃষ্টি করে তিনি সমগ্র বিশ্বের অত্যাচারিত জনগনের সামনে কার্যক্ষেত্রে প্রমাণ করেছেন যে, মুক্তির আশা, আকাঙ্খা ব্যর্থ হয় নি, জমিদার ও পুঁজিপতিদের শাসন স্বল্পস্থায়ী, মেহনতি জনগণ নিজেদের চেষ্টায় শ্রমজীবী মানুষের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেন এবং শ্রমিক রাজত্ব স্বর্গে নয়, প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এই মাটির পৃথিবীর বুকেই। এভাবেই তিনি সমগ্র বিশ্বের শ্রমিক-কৃষকের অন্তরকে মুক্তির আশায় উদ্দীপিত করে তোলেন। মেহনতি ও শোষিত জনগনের কাছে লেনিনের নাম টি যে কেন এও বেশী প্রিয় তা এ থেকেই বোঝা যায়।” এঙ্গেলস যখন মার্কসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন মার্কসের এর আদর্শের প্রতি, শ্রদ্ধা জানিয়ে ছিলেন সমাজ পরিবর্তনে মার্কসের দর্শনের প্রতি, ঠিক তেমনি স্তালিন লেনিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তুলে ধরেছিলেন তাঁর মহান আদর্শ, তাঁর সৃষ্টি এবং মহান কর্মকাণ্ডগুলি। আর লেনিনের এই আদর্শ কি স্তালিন প্রতিষ্ঠা করেন লেনিনবাদ হিসেবে, বিশ্বের কোটি কোটি নিপীড়িত জনগণের মুক্তির নিশান হিসেবে।

লিঙ্গের বিপ্লবী প্রতিভা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্তালিন বলেছিলেন : ” লেনিনের জন্মই হয়েছিল বিপ্লবের জন্য। সত্যই তিনি ছিলেন বৈপ্লবিক সংগঠনের প্রতিভা এবং বিপ্লব নেতৃত্বের দক্ষতায় সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। বিপ্লব অভ্যুত্থানের সময় তিনি যেমন মুক্ত স্বাধীন ও সুখী বোধ করতেন, অন্য কোনসময় ই তেমন করতেন না। এই কথা বলে আমি এটা বোঝাতে চাইনি যে, লেনিন সব বিপ্লবী অভ্যুত্থানকে সমানভাবে সমর্থন করতেন অথবা সব সময়ে ও সকল অবস্থায় বিপ্লব সংঘঠনের পক্ষপাতী ছিলেন। আদৌ তা নয়। আমি যা বলতে চাইছি তা এই যে, বিপ্লব সংঘঠনকালে লেনিনের প্রতিভার অন্তর্দৃষ্টি যত পরিপূর্ণ ও সুস্পষ্টরূপে প্রকাশ পেত, অন্য কোনো সময়ে তা হতো না। বিপ্লবের সময় তিনি যেন পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়ে উঠতেন, হতেন ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা, আগেই দেখতে পেতেন শ্রেণি গুলির গতিবিধি এবং বিপ্লবের সম্ভাব্য আঁকাবাঁকা পথের রেখা-এ সবই যেন তার হাতের তালুতে আঁকা রয়েছে।”

যথার্থই লেনিনের জন্ম হয়েছিল বিপ্লবের জন্য। আর স্তালিনের জন্ম হয়েছিল সেই বিপ্লবের বিজয় কে রক্ষা করার জন্য, জন্ম হয়েছিল সেই বিপ্লবী আদর্শের শিখা দেশে দেশে ছড়িয়ে দেবার জন্য। এখন প্রশ্ন হলো, লেনিনের এই বিপ্লবী প্রতিভার ভিত্তি কি?

কমরেড স্তালিন নির্দেশিকাগুলি ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠা করেন সেটাই হলো লেনিন প্রতিভার মূল ভিত্তি। কমরেড স্তালিন বলেছেন: ” লেনিন ছিলেন মার্কসবাদী, সুতরাং মার্কসবাদই ছিল তার বিশ্ব দর্শনের ভিত্তি। … লেনিন এর মতবাদ ব্যাখ্যা করার অর্থ এই যে, লেনিনের গ্রন্থাবলীতে যা কিছু নতুনত্ব আর বৈশিষ্ট্য আছে মার্কসবাদের সাধারণ কোষাগারে যা দান করেছেন, যা স্বভাবত: শুধু তারই নামের সঙ্গে জড়িত – তারই ব্যাখ্যা করা। ” লেনিনবাদ এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে স্তালিন লেনিন প্রতিবার যে বিষয়গুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তা হল:

” কেউ কেউ বলেন, লেনিনবাদ হচ্ছে রুশদেশের বিশেষ অবস্থায় মার্কসবাদের প্রয়োগ। এই সংখ্যার মধ্যে কিছুটা সত্য আছে বটে, কিন্তু সত্যের সবটুকু আছে এ কথা কিছুতেই বলা চলে না। লেনিন অবশ্য রুশদেশের বিশেষ অবস্থায় যথেষ্ট নৈপুণ্যের সঙ্গেই মার্কসবাদকে প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু লেনিনবাদ বলতে যদি কেবল রুশদেশের বিশেষ অবস্থায় মার্কসবাদ প্রয়োগ করাই বোঝাত, তবে এটা নিছক জাতীয় ব্যাপার হতো – শুধুমাত্র রুশদেশের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু আমরা জানি লেনিনবাদ শুধু রুশদেশের ঘরোয়া ব্যাপার নয়, এ হলো আন্তর্জাতিক ব্যাপার, এর মূল নিহিত রয়েছে সমগ্র আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে।

আর একদল বলেন, উনবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ দশকে মার্কসবাদের যে বৈপ্লবিক ভাবধারা ছিল তার পুনরুজ্জীবন হলো লেনিনবাদ। পরবর্তী আমলে এই মার্কসবাদী নাকি নরমপন্থী বিপ্লব বিরোধী আকার ধারণ করেছিল। মার্কসের শিক্ষা কে নরমপন্থী আর বিপ্লবী এই দু’ভাগে ভাগ করার এই স্থূল, নির্বোধ চেষ্টার কথা আমরা যদি ছেড়ে দিই – তবে এই অসম্পূর্ণ, অসন্তোষজনক সংজ্ঞার মধ্যেও কিছু সত্য আছে বলে আমাদের স্বীকার করতে হয়। সত্যটা হলো এই যে, দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের সুবিধাবাদীরা মার্কসবাদের যে বিপ্লবী ভাবধারাকে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল, লেনিন সত্যই তাকে আবার পুনরুজ্জ্বীবিত করেছেন। তবু এটা সত্যের একটা সামান্য অংশ মাত্র। লেনিনবাদ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সত্যটুকু হলো এই যে, লেনিনবাদ শুধু মার্কসবাদ কে পুনরুজ্জীবিত করেছে তা নয়, আরও অগ্রসর হয়ে গেছে – পুঁজিবাদ এবং শ্রমিকদের শ্রেণীসংগ্রামের নতুন অবস্থায় মার্ক্সবাদকে আরো পরিবর্তিত করেছে।

লেনিনবাদ সম্পর্কে বিকৃত সংখ্যাগুলিকে কমরেড স্তালিন যে কেবল নস্যাৎ করলেন তাই নয়, তিনি লেনিনবাদের একটা যথার্থ সংজ্ঞা ও নিরূপণ করলেন:

” লেনিনবাদ হল সাম্রাজ্যবাদ এবং শ্রমিক বিপ্লবের যুগের মার্কসবাদ। আরো সঠিকভাবে বলতে গেলে বলতে হয়, লেনিনবাদ হলো সাধারণভাবে শ্রমিক বিপ্লবের মতবাদ ও রণকৌশল এবং বিশেষভাবে এ হলো শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্বের মতবাদ ও রণকৌশল।” বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যখন জন্ম হয়নি, সর্বহারা যখন বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, সৌমিক বিপ্লব যখন কার্যক্ষেত্রে আসুক এবং অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠেনি – সেই প্রাক বিপ্লব যুগে ( আমরা এখানে শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবের কথাই বলছি ) মাক্স এবং এঙ্গেলস তাদের কার্যকলাপ চালাতেন। আর মার্কস এবং এঙ্গেলসের শিক্ষক লেনিন তার কাজ চালিয়েছে বিকশিত সাম্রাজ্যবাদের যুগে, শ্রমিক বিপ্লবের বিকাশের যুগে – যখন শ্রমিক বিপ্লব একটি দেশে ইতিমধ্যেই জয়যুক্ত হয়েছে, বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে চূর্ণ করে, শ্রমিক শ্রেণীর গণতন্ত্রের, সোভিয়েত তন্ত্রের যুগের সূত্রপাত করেছে। এই কারণেই লেনিনবাদ হলো মার্কসবাদের আরো বিকশিত রূপ।

১৯২৭ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর প্রথম আমেরিকান শ্রমিক প্রতিনিধিদল কমরেড স্তালিনকে প্রশ্ন করেছিলেন: লেনিন ও কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগে কি কি নতুন নীতি যুক্ত করেছেন? এটা বলা কি সঠিক হবে যে, লেনিন সৃষ্টিধর্মী বিপ্লবের বিশ্বাস করতেন, আর সেখানে মাক্স ছিলেন অর্থনৈতিক শক্তি গুলির বিকাশ সঙ্গে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অধিকতর আগ্রহী ?

এই প্রশ্নের জবাবে কমরেড স্তালিন বলেছিলেন: ” আমি মনে করি, লেনিন মার্কসবাদী কোন নতুন নীতি সংযোজনা করেননি, বর্জনও করেননি মার্কসবাদের কোন পুরানো নীতিকে। লেনিন ছিলেন এবং এখনো রয়েছেন মার্কস ও এঙ্গেলসের বিশ্বস্ততম ও একনিষ্ঠ ছাত্র এবং তিনি সমগ্রভাবে ও পরিপূর্ণভাবে মার্কসবাদের নীতির উপরে নিজেকে ভিত্তি করেছিলেন। কিন্তু লেনিন নিছক মার্কস ও এঙ্গেলসের শিক্ষাকে সম্পাদন করেন নি। তিনি ছিলেন একই সাথে সেই শিক্ষার ধারক, বাহক এবং পরিবর্ধক। তার অর্থ কি ? তার অর্থ হলো, তিনি মার্কস-এঙ্গেলসের শিক্ষাকে আরো বিকশিত করে তোলে নতুন পরিবর্তিত উন্নত অবস্থা, পুঁজিবাদের নব পর্ব ও সাম্রাজ্যবাদের যুগে সঙ্গতি রেখে উপযোগী করে। তার অর্থ হলো, পুঁজিবাদের প্রাক সাম্রাজ্যবাদী যুগে মার্কস ও এঙ্গেলসের শিক্ষাকে আরও বিকশিত, পরিবর্তিত করে তুলতে গিয়ে লেনিন সেই তুলনায় মার্কসবাদের সাধারণ সম্পদ ভান্ডারে নতুন নতুন কিছু অবদান; তা সত্ত্বেও, মার্কসবাদের ভান্ডারী লেনিনের নতুন অবদান সমগ্র সম্পূর্ণভাবে মার্কস-এঙ্গেলস রচিত নীতির উপরে ভিত্তি করেই উপস্থাপিত। এই অর্থে আমরা লেনিনবাদ কে বলি, কি হলো সাম্রাজ্যবাদ ও প্রলেতারিয়েত বিপ্লবের যুগের মার্কসবাদ। ”

কমরেড স্তালিন আরো বলেছেন: দুই ধরনের মার্কসবাদী রয়েছেন। উভয়ই কাজ করেন মার্কসবাদের পতাকাতলে এবং মনে করেন নিজেদের খাঁটি মার্কসবাদী বলে। তৎসত্ত্বেও তারা কোনো ক্রমেই এক রূপ নয়।

” প্রথম গ্রুপটি সাধারণত : মার্কসবাদের বাহ্যিক সমর্থন ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখে। মার্কসবাদের মূল সত্তাকে উপলব্ধি করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হয়ে তাকে কাজে পরিণত করতে অসমর্থ হওয়া বা অনিচ্ছা থাকার দরুন এরা মার্কসবাদের প্রাণবন্ত বৈপ্লবিক নীতি গুলিকে প্রাণহীন অর্থহীন কতকগুলি সূত্রে পরিণত করে।”

” পক্ষান্তরে, দ্বিতীয় গ্রুপটি সমস্যাকে বুঝে মার্কসবাদের ভিত্তিতে তার সমাধানের চেষ্টা করে, মার্কসবাদ কে কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করে। এরা যাতে মূলত: মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে, তাহলো পরিস্থিতির পক্ষে সবচেয়ে উপযোগী মার্কসবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে উপায়-উপকরণ নির্ধারণের উপর এবং পরিস্থিতি বদলে সঙ্গে সঙ্গে এই উপায়-উপকরণ গুলিও বদলানোর উপর। এরা ইতিহাসের সদৃশ্য উদাহরণ থেকে পথের নিশানা ও নির্দেশ পান না, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ করে পথ চলার পাথেয় আহরণ করে। উদ্ধৃতি ও প্রবচন নয়, এদের কাজকর্মের ভিত্তি হলো ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, প্রতিটি পদক্ষেপ অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচাই, ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে অপরকে শেখানো – কি করে একটি নতুন জীবন গড়ে তুলতে হয়। বস্তুত সেজন্যেই বুঝতে পারা যায় কেন এই গ্রুপের কাজ কর্মের মধ্যে কথা ও কাজে কোন গরমিল নেই। এদের হাতে মার্কসের বৈপ্লবিক শিক্ষা পূর্ণ জীবন্ত থাকে। এদের বেলায় মার্কসের সেই উক্তি পুরোপুরি ভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে যে, মার্কসবাদীরা বিশ্বের ব্যাখ্যা করি খুশি থাকবে না, তাদের আরো এগিয়ে যেতে এবং একে বদলাতে হবে। এই গ্রুপের নাম বলশেভিজম, কমিউনিজম, এই দলের সংগঠক ও নেতা হলেন ভি আই লেনিন। ”

লেনিনের শিক্ষা গুলিকে সূত্রবদ্ধ করে কমরেড স্তালিন ১৯২৪ যে রচনাগুলি লেখেন, তাই তার ঐতিহাসিক গ্রন্থ “লেনিনবাদের ভিত্তি “।

লেনিনবাদ রক্ষায়

কমরেড স্তালিন তার তাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডে কেবল যে লেনিনের শিক্ষা গুলিকে লেনিনবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন তাই নয়, তিনি বিভিন্ন ধরনের আক্রমণের হাত থেকে লেনিনবাদ কে রক্ষা করার জন্য দীর্ঘ এবং কঠিন কঠোর সংগ্রাম চালান। মার্কস এর মৃত্যুর পরে একসময় হিলকার ডিং, বার্নস্টাইন প্রমূখ দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক এর পণ্ডিতেরা মার্কসবাদের এক অ-বিপ্লবী ও সংস্কারপন্থী ব্যাখ্যা দিয়ে মার্ক্সবাদকে ভদ্র করে তুলেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে কাউটস্কি একই পথ গ্রহণ করেছিলেন। তখন কমরেড লেনিন সমালোচনার তীব্র কষাঘাতে তাদের মার্ক্সবাদকে ভদ্র করার হাত থেকে রক্ষা করে তার বিপ্লবী চরিত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। ঠিক তেমনি লেনিনের মৃত্যুর পরেও এক নতুন কায়দায় লেনিনবাদ কে বিকৃত করার চেষ্টা দেখা গেল। সে চেষ্টা হলো ট্রটস্কি বাদ। ট্রটস্কি বললেন, এক দেশে সমাজতন্ত্র গঠন করা অসম্ভব। বিপ্লবকে এই মুহূর্তে ছড়িয়ে দিতে হবে পশ্চিম ইউরোপে। পশ্চিম ইউরোপের শিক্ষিত ও সংস্কৃতিতে উন্নত শ্রমিকশ্রেণীর সহায়তা ব্যতীত বিপ্লব কে রক্ষা করা যাবে না। এই নতুন তত্ত্বের তিনি নাম দিলেন স্থায়ী বিপ্লব। ট্রটস্কি বললেন : জাতীয় পরিবেশ মধ্যে একটি সর্বহারার বিপ্লব শেষ জয়ে পরিণত হতে পারেনা বলে যে দৃঢ় প্রত্যয় টি শান্তির কর্মসূচিতে পুনঃ পুনঃ ব্যক্ত হয়েছে, তা আমাদের সোভিয়েত সাধারণতন্ত্র প্রায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা দ্বারা খন্ডিত হয়েছে বলে কোন কোন পাঠকের কাছে প্রতীয়মান হতে পারে। কিন্তু এইরূপ একটি সিদ্ধান্তের কোন ভিত্তি নেই। একটি দেশে এবং তাও একটি অনগ্রসর দেশে শ্রমিকশ্রেণীর রাষ্ট্র যে সমস্ত পৃথিবীর বিরুদ্ধে টিকে আছে, সেই ঘটনাটি কেবল সর্বহারাদের বিপুল শক্তিরই সাক্ষ্য দেয়। এই শক্তি অধিক তর অগ্রসর, অধিকতর অসভ্য দেশগুলিতে সত্যিই বিস্ময়কর ঘটনা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। কিন্তু আমরা রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকলেও আমরা সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠন করার মতো অবস্থায় পৌঁছাইনি, এমনকি পৌছাতেও আরম্ভও করি নি। একটি বিপ্লবী রাষ্ট্র হিসেবে বেঁচে থাকার সংগ্রাম এর পরিণামে এই যুগে আমাদের উৎপাদন শক্তিগুলির চরম অবনতি ঘটেছে। অথচ তাদের ( উৎপাদন শক্তিগুলির ) বৃদ্ধি ও বিকাশের ভিত্তিতেই মাত্র সমাজতন্ত্রের কথা ভাবা যায়। বুর্জোয়া দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনা, তাদের বিশেষ সুবিধা দান, জেনোয়া সম্মেলন এবং অনুরূপ ঘটনাবলী জাতীয় রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সমাজতান্ত্রিক নির্মাণকাজের ও সম্ভাব্যতার সুস্পষ্ট সাক্ষ্য দেয়। প্রধান প্রধান ইউরোপীয় দেশ গুলি সর্বহারাদের জয়ের পরেই মাত্র রাশিয়াতে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির সত্তিকারের অগ্রগতি সম্ভব পর হবে।” (ট্রটস্কি ভল্যুম ৩ – পৃষ্ঠা – ৯২-৯৩)

কমরেড স্তালিন ট্রটস্কির এই বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বলেন : ” জাতীয় রাষ্ট্র পরিধির মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সমাজতান্ত্রিক নির্মাণ কার্যের ও সম্ভাব্যতার কথা যখন ট্রটস্কি বলেন, তখন তিনি কার বিরোধিতা করেন? নিশ্চয় স্তালিন কিংবা বুখারিনের নয়। ট্রটস্কি এখানে কমরেড লেনিনেরই বিরোধিতা করছেন এবং তাও মৌলিক প্রশ্নে, অন্য কোনো প্রশ্নে নয় – জাতীয় রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে সমাজতান্ত্রিক নির্মাণ কার্যের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে।”

কমরেড স্তালিন লেনিনের উদ্বৃতি দিয়ে দেখালেন : ” বস্তুতঃ সমস্ত বৃহৎ উৎপাদনের উপায় গুলির উপর রাষ্ট্রের ক্ষমতা, সর্বহারাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, অসংখ্য দরিদ্র ও অতি দরিদ্র কৃষকদের সঙ্গে এই সকল সর্বহারাদের মৈত্রী, কৃষকদের উপর সর্বহারাদের সুনিশ্চিত নেতৃত্ব প্রভৃতি – সমবায় থেকে এবং একমাত্র সমবায় থেকে পূর্বে যাকে আমরা একটিমাত্র মিশ্র পদ্ধতি বলে গণ্য করতাম এবং এখনও নেপ এর অধীনে যাকে কোনো কোনো বিশেষ দিক হতে মিশ্র পদ্ধতি বলে গণ্য করবার অধিকার আমাদের আছে – পূর্ণ সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠন করার জন্য যা প্রয়োজন এগুলিই কি তার সব নয়? একটি পূর্ণ সমাজতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের জন্য যা প্রয়োজন এইগুলিই কি তার সব নয়? সমাজতান্ত্রিক সমাজ এখনও গঠিত হয়নি বটে, কিন্তু তা গঠন করার পক্ষে যা কিছু প্রয়োজন এবং যথেষ্ট – এইগুলিই তার সব।” (লেনিন রচনাবলী, ভল্যুম – ২৭)

লেনিনের এই উদ্ধৃতি দিয়ে কমরেড স্তালিন বললেন : ” আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে, কোনো-না-কোনো আকারে ট্রাক্স কি প্রচ্ছন্ন অথচ সুনির্দিষ্ট রূপে কমরেড লেনিন এর বিরোধিতা করে কয়েকবারই এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছিলেন এবং প্রত্যেকবারই ট্রটস্কি এই প্রশ্নটিকে লেনিন ও লেনিনবাদের মনোবৃত্তি নিয়ে আলোচনা করেননি, আলোচনা করেছেন লেনিন ও লেনিনবাদ বিরোধী মনোভাব নিয়ে।”

ট্রটস্কি যখন তার স্থায়ী বিপ্লবের তত্ত্ব দেন, তখন সেটা শুনতে খুবই ভালো লাগে। কিন্তু এর মধ্যেই রয়েছে নভেম্বর বিপ্লব বিজয়ী রুশ শ্রমিক শ্রেণীর উপর অনাস্থা এবং বিপ্লবের প্রাণশক্তির উপর অবিশ্বাস। আর ছিল রুশ কৃষকের ওপর চরম অবজ্ঞা। ট্রটস্কি র এই স্থায়ী বিপ্লবের নীতির সঙ্গে মার্কসবাদের অবশ্য কোনো সংশ্রব নেই। মার্কসবাদ কখনোই অবিচ্ছিন্ন অবিরল ধারায় বিশ্বাস করে না। মার্কসবাদের কাছে গতির ছন্দ হল, গতি ও বিরোধী এবং পুনরায় গতি ও পুনরায় বিরোধী। অগ্রগমন সরল রেখায় হয় না, হয় ক্রমবর্ধিত চক্রাকারে।

মার্কসবাদসম্মত সেই প্রগতির সূত্র ধরে কমরেড স্তালিন সেদিন বলেছিলেন : ” প্রথমে বিজয়ী বিপ্লবকে একদেশে সু-প্রতিষ্ঠিত ও দৃঢ় করতে হবে, সেখানে সমাজতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ করতে হবে এবং তা করা সম্ভব। বিপ্লবী শ্রমিকশ্রেণী একা নয়, সাহায্যকারী ও সমর্থক হিসেবে তার সঙ্গে আছে বিশাল কৃষক সম্প্রদায়। ”

ট্রটস্কি র দল চিৎকার করে উঠলেন : ” বিপ্লবের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হচ্ছে, জাতীয়তাবাদী বিচ্যুতি হচ্ছে।” তার উত্তরে সেদিন স্তালিন বলেছিলেন : ” একটি দেশে বুর্জোয়াদের উচ্ছেদ করে সর্বহারাদের শক্তি প্রতিষ্ঠা করা সমাজতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিজয়, একথা নিশ্চয় বলা যায় না। বিজয়ী সর্বহারা কে সর্ব প্রথমে তার নবার্জিত রাষ্ট্রশক্তিকে সুসংহত করতে হবে। কৃষক সমাজকে স্বপক্ষে এনে সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠনে মনোনিবেশ করতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, শুধুমাত্র একটি দেশের শক্তিতেই সমাজতন্ত্রের চূড়ান্ত জয় হবে, বাইরের পুঁজিবাদী বহিঃশত্রুর আক্রমণ এর বিরুদ্ধে তথা পুঁজিবাদ পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টার বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্র রক্ষা করা যাবে। সেজন্য আরও অন্তত কয়েকটি দেশে বিপ্লব হওয়া প্রয়োজন। অন্যান্য দেশের বিপ্লব সমর্থন করা বিজয়ী বিপ্লবের একটি অন্যতম প্রধান কর্তব্য। অতএব এটা বেশ বোঝা যাচ্ছে একটি বিজয় বিপ্লব একাই নিজেকে অসীম শক্তিশালী বলে মনে করতে পারে না। সেটা একটা শক্ত ঘাঁটি, শক্ত দুর্গ মাত্র – যার উপর ভিত্তি করে অন্যান্য দেশের শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লব ত্বরান্বিত হবে এবং সাহায্য পাবে।”

ট্রটস্কি বাদের প্রতিবিপ্লবী ভুলি যা কার্যত প্রতিবিপ্লবী সহায়তা করত, তার উত্তরে কমরেড স্তালিন এর বিশ্লেষণ যে কতদূর বাস্তব, বিজ্ঞানসম্মত ও নির্ভুল – তা আজ পোল্যান্ড থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ মুক্ত বিজয়ী বিপ্লবী দেশগুলি ই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্বে কমরেড স্তালিন এর সর্বশেষ দান তার সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতন্ত্রের অর্থনৈতিক সমস্যাবলী। মাক্স যেমন পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থার নিয়মাবলী ও পুঁজিবাদী সমাজের প্রগতির নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন, যেমন কমরেড লেনিন মার্কসের এই তত্ত্বকে সাম্রাজ্যবাদী যুগে আরও সম্প্রসারিত করে গিয়েছেন – সাম্রাজ্যবাদী যুগের বিশ্লেষণে, তেমনি কমরেড স্তালিন দিয়ে গিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক সমাজের উৎপাদনের নিয়মাবলী, সেই সঙ্গে সঙ্গে পুঁজিবাদী সমাজের নিয়মেও যে গুরুভার পরিবর্তন এসেছে, তাও তিনি তার নতুন পুস্তকে দেখিয়েছেন। তিনি লিখেছেন : আধুনিক পুঁজিবাদের মূল অর্থনৈতিক নিয়ম কে সংক্ষেপে বলা যায়, তার লক্ষ্য হলো উচ্চতম লাভ। এর ফলে যেকোনো দেশের জনগণের অধিকাংশ-ই শোষিত হয়ে দারিদ্র্যের নিম্নতম পর্যায়ে নেমে যায়। অন্যান্য দেশগুলি এবং বিশেষ পশ্চাৎপদ দেশগুলি দাসত্বের বাঁধনে আটকে পড়ে। শেষ পর্যন্ত এর ফলে যুদ্ধ বেধে যায় এবং জাতীয় অর্থনীতি এক সামরিক অর্থনীতিতে পরিণত হয় এবং তা উচ্চতম লাভ আদায়ের সুযোগ করে দেয়। এই সর্বনাশা উচ্চতম লাভের নেশায় আধুনিক পুঁজিবাদ উন্মত্তের মতো ছুটছে।

গড়পড়তা লাভ হয়েছিল কিছুকাল পূর্ব পর্যন্ত পুঁজিবাদের মূল নিয়ম। কিন্তু আজ আর তা নেই।

কমরেড স্তালিন এর এই নতুন আবিষ্কার আধুনিক পুঁজিবাদকে বোঝাতে অমূল্য সাহায্য করবে। তার এই নতুন অবদানের তুলনা হতে পারে একমাত্র লেনিনের সাম্রাজ্যবাদ অর্থনীতির বিশ্লেষণ এর সঙ্গে। লেনিন মার্ক্সবাদকে নতুন অবস্থার আলোকে ব্যাখ্যা করে আরও সমৃদ্ধ করে গিয়েছিলেন, স্তালিন ও সমাজতান্ত্রিক যুগে তার পরিবর্তনগুলি কে নতুন করে সূত্রাকার এ গ্রথিত করে গেলেন। তার এই অবদান মার্কসবাদের ইতিহাসে মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন এর সঙ্গে একইভাবে মর্যাদা পাবে। কমরেড স্তালিন লেনিনবাদ কেবল সুপ্রতিষ্ঠিত ই  করেন নি, লেনিনবাদ কে এক বিপ্লবী শক্তিতে পরিণত করেছেন।

অন্যদেশের বিপ্লবী সংগ্রামে স্তালিনের অবদান

কমরেড স্তালিন মার্কসবাদ-লেনিনবাদের কেবল যে বিকাশ ঘটান কেবল জেতা সোভিয়েত ইউনিয়নের বুকে বাস্তব প্রয়োগ ঘটান তাই নয়, দেশে দেশে বিশেষ করে ঔপনিবেশিক ও পরাধীন প্রাচ্য জগতের মুক্তিসংগ্রামে স্তালিনের অবদান অবিস্মরণীয়। বলা বাহুল্য, এই সমস্ত দেশের মুক্তি আন্দোলন কিভাবে পরিচালিত হবে, এই সমস্ত দেশে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের প্রয়োগ কিভাবে ঘটবে, তার সুস্পষ্ট রূপরেখা তারই হাতে তৈরি। ঔপনিবেশিক ও পরাধীন প্রাচ্য দেশগুলির মুক্তি আন্দোলনে কমরেড স্তালিন এর দান অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে। চীন বিপ্লবের উপর তিনি অসাধারণ গুরুত্ব দিতেন। তাই চীন বিপ্লবের প্রতিপদে তিনি পরামর্শ দিয়ে বিপ্লবকে সার্থকতার পথে পরিচালিত করেছেন। তিনি মনে করতেন প্রাচ্যের ঔপনিবেশিক জগতের বিপ্লবের গুরুত্ব অসাধারণ। কোন ঔপনিবেশিক দেশের বিপ্লবী চীনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে উপেক্ষা করতে পারে না।

সোভিয়েত ইউনিয়নের অবস্থান প্রাচ্য এবং প্রতীচ্য জগতের সীমানায় বলে কমরেড স্তালিন বলেছিলেন: রুশিয়ার বিপ্লব হবে প্রাচ্যের ঔপনিবেশিক বিপ্লব এবং প্রতি চির উন্নত পুঁজিবাদী দেশের শ্রমিক বিপ্লবের মধ্যে সেতুস্বরূপ।

প্রাচ্যের শ্রমজীবীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ১৯২৫ সালের ১৮ই মে কমরেড স্তালিন বলেছিলেন:

১) একটি বিজয়ী বিপ্লব ব্যতীত উপনিবেশ ও পরাধীন দেশগুলির সাম্রাজ্যবাদের কবল হতে মুক্তি লাভ করা অসম্ভব। স্বাধীনতা আপনাদের দানস্বরূপ পাবেন না।

২) যতদিন পর্যন্ত আপস পন্থী জাতীয় বুর্জোয়া শ্রেণি বিচ্ছিন্ন না হচ্ছে, বিপ্লবী ছোট বুর্জোয়ারা যতদিন না এই বুর্জোয়াদের প্রভাব হতে মুক্ত হচ্ছে, যতদিন না সর্বহারার নেতৃত্ব স্থাপিত হচ্ছে এবং শ্রমিক শ্রেণীর অগ্রণী অংশ যতদিন না একটি স্বতন্ত্র কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সংগঠিত হচ্ছে – ততদিন পর্যন্ত বিপ্লব কে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং গণতান্ত্রিকভাবে উন্নত উপনিবেশ ও পরাধীন দেশগুলির পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করতে পারা যাবে না।

৩) এই দেশগুলির মুক্তি সংগ্রামের সাথে পশ্চিমের উন্নত দেশগুলির সর্বহারা আন্দোলনের প্রকৃত বন্ধন সৃষ্টি না হলে ঔপনিবেশিক এবং পরাধীন দেশ গুলিতে স্থায়ী বিজয় লাভ করা সম্ভব হবে না। 

ঔপনিবেশিক এবং পরাধীন দেশের কমিউনিস্ট পার্টি গুলির মৌলিক কর্তব্য হবে এই সিদ্ধান্ত গুলিকেই তাদের বৈপ্লবিক কাজের ভিত্তি হিসাবে গণ্য করা।

এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ঔপনিবেশিক এবং পরাধীন দেশগুলির বৈপ্লবিক আন্দোলন এর আশু কর্তব্য কি ?

বর্তমানকালে ঔপনিবেশিক এবং পরাধীন দেশগুলির বৈশিষ্ট্য এই যে, এখন আর একটি মাত্র সর্বব্যাপী ঔপনিবেশিক প্রাচ্যের অস্তিত্ব নেই। পূর্বে ঔপনিবেশিক প্রাচ্যকে একটি একক এবং সমপ্রকৃতিসম্পন্ন দেশ বলে ধরা হতো। এই ধারনা এখন আর সত্যের স্বার্থে মিল খায় না।

কমরেড স্তালিন ঔপনিবেশিক এবং পরাধীন দেশ গুলিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিলেন। কিন্তু এই সমস্ত রণকৌশল যে একমাত্র কমিউনিস্ট পার্টি ই সার্থকভাবে বাস্তবায়িত করতে পারে, সে বিষয়ে কমরেড স্তালিন এর কোনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিলনা। তিনি বললেন: ” এই সকল দেশের অগ্রণী কমিউনিস্টের মূল স্লোগান হবে কমিউনিস্ট পার্টি গুলির স্বাতন্ত্র। কারণ একমাত্র কমিউনিস্ট পার্টির দ্বারাই সর্বহারার নেতৃত্বে পথ প্রস্তুত করা এবং সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু আপস পন্থী বুর্জোয়া শ্রেণি কে বিচ্ছিন্ন করে দেবার পর শহর এবং গ্রামের ছোট বুর্জোয়াদের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য কমিউনিস্ট পার্টি বুর্জোয়া শ্রেণীর বিপ্লবী অংশের সাথে একটি প্রকাশ্য ব্লক সৃষ্টি করতে পারে এবং তা করতে হবে।

ধণতান্ত্রিকভাবে উন্নত উপনিবেশ এবং পরাধীন দেশ গুলিতে বিপ্লবী আন্দোলনের আশু কর্তব্য সম্পর্কে কমরেড স্তালিন এর বক্তব্য হলো :

১) শ্রমিক শ্রেণীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের কমিউনিজমের পক্ষে আনা এবং স্বতন্ত্র কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করা।

২) আপোষ পন্থী জাতীয় বুর্জোয়া শ্রেণি এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক, কৃষক ও বিপ্লবী বুদ্ধিজীবীদের একটি জাতীয় বিপ্লবী ব্লক গঠন করা।

৩) এই ব্লকে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।

৪) মুক্তি আন্দোলন এবং উন্নত দেশগুলির সর্বহারা আন্দোলনের মধ্যে বন্ধন স্থাপন করা।

কমরেড স্তালিন এই সমস্ত দেশের কেবল বৈপ্লবিক আন্দোলনের কর্তব্যই নিরূপণ করেন না, এই আন্দোলন পরিচালনাকালে যে সমস্ত বিচ্যুতির আশঙ্কা রয়েছে, সেই সম্পর্কেও তিনি সতর্ক করে দেন। তিনি বললেন, প্রথম বিচ্যুতি হল : এই দেশগুলির বিকাশের স্তর ও অবস্থার যথার্থ বিবেচনা না করেই উপনিবেশ এবং পরাধীন দেশ গুলিতে মুক্তি আন্দোলনের সম্ভাবনাকে কম করে দেখা এবং একটি সম্মিলিত সর্বব্যাপী জাতীয় ফ্রন্টের ধারণাকে বড় করে দেখা। এটা দক্ষিণপন্থী বিচ্যুতি। দ্বিতীয় বিচ্যুতি হল : মুক্তি আন্দোলনের বৈপ্লবিক সম্ভাবনাকে বড় করে দেখা এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে শ্রমিক শ্রেণী এবং বিপ্লবী বুর্জোয়াদের মিত্রতার গুরুত্ব ছোট করে দেখা। এটা বামপন্থী বিচ্যুতি।

কমরেড স্তালিন এই উভয় বিচ্যুতি পরিহার করতে পরামর্শ দিলেন। কমরেড স্তালিন এর এই শিক্ষা ও উপনিবেশিক এবং পরাধীন দেশগুলির কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টি গুলিকে তত্ত্বগতভাবে এবং রণকৌশলের দিক থেকে সমৃদ্ধ করে তুলল। তার এই শিক্ষাগুলি স্বাধীনতা সংগ্রামে শ্রমিকশ্রেণীর হাতিয়ারে পরিণত হল। আর কমরেড স্তালিন এর এই শিক্ষা ছিল লেনিনবাদী নীতির ভিত্তির উপর সুপ্রতিষ্ঠিত।

স্তালিন বিরোধিতার অর্থ লেনিনবাদ কেই নস্যাৎ করা

কমরেড স্তালিন তত্ত্বগত দিক থেকে লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠা করেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের বুকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি লেনিনবাদের বিকাশ ঘটানো এবং দেশে দেশে কিভাবে লেনিনবাদের প্রয়োগ ঘটবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেন। এইরূপ একজন মহান লেনিনবাদী নেতাকে যারা নস্যাৎ করার চেষ্টা করছেন বা এখনো চেষ্টা করছেন, তারা প্রকৃতপক্ষে লেনিনের নাম করে লেনিনবাদ কেই নস্যাৎ করার চেষ্টা করছেন। তারা স্তালিনের অবদানগুলি খাটো করে দেখাতে গিয়ে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কেই খাটো করছেন। একটি দুটি উদাহরণ দিলেই যথেষ্ট হবে। স্তালিনের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর অনেকেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান : ” স্তালিন জোর করে যৌথখামার প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন। লক্ষ লক্ষ চাষীকে উপবাসী দেখে তাদের যৌথ-খামারে যোগ দিতে বাধ্য করেছিলেন।” যৌথখামার ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে গিয়ে তাকে হয়তো কিছুটা বল প্রয়োগ করতে হয়েছিল।

কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে তাকে তা করতে হয়েছিল? প্রখ্যাত সাংবাদিক সাহিত্যিক আনা ল্যুইস স্ট্রং এর ভাষায়: ‘ আমি ওই সময় ঘুরে ঘুরে দেখেছি, আমি জানি, কি ঘটেছিল। স্তালিন অবশ্যই পরিবর্তন চালু করেছিলেন, এটা পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু স্তালিন যে গতিতে যৌথ প্রথা প্রবর্তন করার পরিকল্পনা করেছিলেন, প্রবর্তন তারচেয়ে এত বেশি দ্রুত হলো যে, খামার গুলোর জন্যই যথেষ্ট যন্ত্রপাতি প্রস্তুত পাওয়া গেল না। দেশের লোকের সাধ ছিল, কিন্তু পটুতা ছিল না। তার সঙ্গে যুক্ত হলো কুলাক দের প্ররোচনায় আতঙ্কগ্রস্থ চাষীদের গরু ঘোড়া বধ। তার উপর দেখা দিল দু’বছর অনাবৃষ্টি। ফলে ১৯৩২ সালে খাদ্যসঙ্কট ঘটলো – সেটা ঘটল স্তালিনের চাপ – এর দু’বছর পরে। সারাদেশব্যাপী করা রেশনিং ব্যবস্থা চালিয়ে মস্কো সে সংকটের মধ্যে দেশকে পার করে দিল।’ যারা যৌথখামার পদ্ধতির বাড়াবাড়ির উপর গুরুত্ব দেন, তারা কি সোভিয়েত ইউনিয়নের কৃষকদের অবস্থার পরিবর্তন গুলিকেই খাটো করে দেখেন না ? তারা কি জমিদার, কুলাক, ব্যবসাদার, মুনাফাখোর, সুদখোরদের শোষণের অবসান কেই খাটো করে দেখেন না ?

সোভিয়েত বিশ্বকোষে স্তালিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়: ” মহান দেশপ্রেমিক যুদ্ধের পূর্ব মুহূর্তে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিচারে ভুল করেছিলেন। সোভিয়েত জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি গুরুত্বকে বড় করে দেখায় সোভিয়েত ভূখণ্ডে আক্রমণের জন্য জার্মান ফ্যাসিস্ট বাহিনীর প্রস্তুতি সম্বন্ধে গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টকে তিনি বিবেচনা করেন নি।”

যে অনাক্রমণ চুক্তি সমালোচনায় সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির সংশোধনবাদীরা মুখর, সেই চুক্তি কোন পরিস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল ? এই সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ধনবাদী বিশ্ব দ্বারা বেষ্টিত। প্রতিটি মুহূর্তে সোভিয়েত ইউনিয়নের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। যুদ্ধের উন্মত্ততায় জার্মানি জাপান জাতিপুঞ্জ ত্যাগ করল। ঠিক সেই মুহূর্তেই সোভিয়েত ইউনিয়ন শান্তির পতাকা হাতে জাতিপুঞ্জে প্রবেশ করল। ইউরোপ যখন প্রতিমুহূর্তে হিটলার কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের প্রতীক্ষা করছিল, ঠিক সেই সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় ইউরোপের শক্তির হেরফের হয়ে গেল। আর এই ভারসাম্যের পরিবর্তন যে সৌভিয়েত ইউনিয়নের অনুকূলেই হয়েছিল, পরবর্তী ইতিহাস তার প্রমান।

দীর্ঘ ত্রিশ বছরের ঘটনাবহুল জীবনে কমরেড স্তালিন যে কোন ভুলত্রুটি করেননি, সে কথা কেউ বলবেন না। কিন্তু তার বিচার করতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে তিনি কি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন আর সেই সিদ্ধান্তের সাফল্যই বা কতটা আর ব্যর্থতাটাই বা কি? যে সিদ্ধান্ত কোটি কোটি মানুষকে দুর্ভিক্ষের হাত থেকে রক্ষা করে তা বাড়াবাড়ি হলেও সেই সিদ্ধান্ত লেনিনবাদী নীতির বাস্তব প্রয়োগ। যে সিদ্ধান্ত ফ্যাসিস্ট আক্রমণের হাত থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নকে রক্ষা করে, সেই সিদ্ধান্তকে যতই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিচারে ভুল বলে চিহ্নিত করা হোক না কেন – তাজে সঠিক লেনিনবাদী নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

স্তালিন বিরোধী কুৎসা রটনাকারী রা যতই কুৎসা রটনা করুক না কেন, ইতিহাসের পাতা থেকে তার নাম মুছে ফেলার সাধ্য তাদের নেই। লেনিনবাদ চিরন্তন, আর লেনিনবাদের সঙ্গে কমরেড স্তালিন এর নামও চির অম্লান।

Spread the word