Site icon CPI(M)

Indian Freedom Struggle And RSS – A Retrospective (Part-18)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১৮)

ধারাবাহিক রচনায়ঃ গৌতম রায়

জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম কুড়ি বছরের কার্যকালের ভেতরে কিন্তু একদিকে হিন্দু পুনরুত্থানবাদী  চিন্তা চেতনা বিকাশ লাভ করছে,  অপরদিকে ব্রাহ্মসমাজ বা সমমতাবলম্বী মানুষজনদের দ্বারা একটা আধুনিক প্রেক্ষিত ভারতবর্ষের সমাজজীবনে গেঁথে দেওয়ার জন্য, সামাজিক আন্দোলনের পর্যায়গুলি  জোরদারভাবে শুরু হয়ে গেছে। হিন্দু ধর্মের শ্রেষ্ঠতাকে ঘিরে রাজনারায়ণ বসুর যে বক্তৃতা সেই সময় কালে , তার স্মৃতিচারণ করে পরবর্তীকালে শিবনাথ শাস্ত্রী লিখেছেন ;
                  কেশব চন্দ্র সেনের  পক্ষ হইয়া আমরা কয়েকজন  তদুত্তরে বক্তৃতা করিলাম ,কিন্তু সে কথা যেন কাহার ও  করর্ণে পৌঁছিল না এবং কেশববাবুর  দলস্থ ব্রাহ্মণগণ  অহিন্দু বলিয়া হিন্দু সমাজের অবজ্ঞার তলে পড়িলেন।”               

শিবনাথ শাস্ত্রী

শিবনাথ শাস্ত্রীর এই স্মৃতিচারণের ভেতর থেকে উঠে আসছে একটি চরম সত্য ।সেটি হল;  হিন্দু ধর্মকে ঘিরে একটি মৌলবাদী প্রবণতা উনিশ শতকের শেষভাগে আমাদের বাংলার সমাজ জীবনে কিভাবে ধীরে ধীরে প্রাবল্য লাভ করছিল, যার জেরে, ব্রাহ্মসমাজ বা সেই  সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনদের প্রতিষ্ঠিত হিন্দু পরিমণ্ডলের ভেতরে দেখবার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে, প্রাচীন ধারণা সম্পর্ণ মানুষরা ,একটা সামাজিক অচলায়তনের দিকে গোটা বিধিব্যবস্থা কে ঠেলে দেওয়ার জন্য কতখানি উদগ্রীব হয়েছিলেন — সেই টিই।
                

কেশবচন্দ্র যখন’ নববিধান ব্রাহ্মসমাজ’  প্রতিষ্ঠা করেন , সেই সময় কালে কিন্তু ভারতবর্ষের তথা বাংলার আর্থ-সামাজিক- রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে । হিন্দু পুনরুত্থানবাদীধারাটি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ১৮৮০ সালের ১৪  ই ডিসেম্বর কেশবচন্দ্র একটি বক্তৃতায় বলছেন;
                 হিন্দুধর্মের নিকটে তোমরা বিদায় নিতে পারো না এবং নির্বোধের মতো বলিতে পারো না যে , উহাতে দিদিমার গল্প বিনা আর কিছুই নাই। না,  আমাদের ধর্ম জাতীয় হইবে। যে বংশ হইতে বেদ ও  পুরাণ ,রামায়ণ  ও মহাভারত উদ্ভূত হযইয়াছে,  আমরা সেই হিন্দু বংশে জন্মগ্রহণ করিয়াছি, ইহা আমাদের অভিমানের বিষয় হউক।আমরা  হিন্দু শাস্ত্র মধ্যে যে অমূল্য সম্পৎ  নিহিত আছে ,সেগুলি আমরা হারাইতে পারি না। আমরা হিন্দু ,আমরা সেই দিগ্ দিগন্তরগত  আর্য বংশ সম্ভূত, যে বংশ হইতে অন্যান্য জাতি উৎপন্ন হইয়াছে।” (উপাধ্যায় গৌরগোবিন্দ রায়ের লেখা আচার্য কেশবচন্দ্র গ্রন্থের তৃতীয় খন্ডে সম্পূর্ণ বক্তৃতাটি আছে)              

কেশবচন্দ্র সেন

কেশবচন্দ্রের এই যে অনুদ্ধান, তার প্রেক্ষিত কিন্তু আমাদের বাংলার বা ভারতীয় সমাজ জীবনে মিথলজি নির্ভর ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরার প্রবণতাকে একটা জোরদার পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়ার ইঙ্গিত। কলকাতার  খেলাতচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে ,’ সনাতন ধর্মরক্ষিণী সভা’ র অধিবেশন গুলি অনুষ্ঠিত হতো ।সেই সব অধিবেশন গুলিতে ,প্রথমদিকে প্রাচীন শাস্ত্রীয় বিধি-বিধানের ব্যাখ্যা , শাস্ত্রীয় বিধি বিধান গুলির ভিতরে একটা সাত্বিক ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠনের কর্মকর্তাদের আরোপিত নানা ধরনের আচার-আচরণের প্রতি একটা গভীর অনুরাগ ,ব্রাহ্মণ -পণ্ডিতদের অভ্যর্থনা– এইসব বিষয়গুলি অত্যন্ত প্রবল ছিল। অর্থাৎ ;জাতপাত ভিত্তিক একটা আত্মাভিমান পুনরুত্থানবাদী  চিন্তা চেতনার সঙ্গে যে অত্যন্ত অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল, যেটি পরবর্তীকালে রাজনৈতিক হিন্দুরা, তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে সামাজিক আন্দোলনের মুখোশ পড়ে যে কর্মসূচি, তার মধ্যে কিন্তু খুব প্রবল ভাবে প্রবেশ করিয়ে ছিল ।
                 

পুনরুত্থানবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত যে সমস্ত সভা-সমিতি  কলকাতা শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল ,সেগুলির ভিতরে কিন্তু ব্রাহ্মসমাজের সংস্কার আন্দোলনের প্রবল বিরোধিতার বিষয়টি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ ।প্রাতিষ্ঠানিক হিন্দুধর্মের জয়গানের ভেতর দিয়ে ভারতবর্ষের প্রবাহমান বহুত্ববাদী ধ্যান-ধারণার প্রতি একটা অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং মিথোলজি নির্ভর নানা ধরনের কল্পকাহিনীকে প্রতিষ্ঠিত ধর্ম হিসেবে সমাজের বুকে প্রোথিত করে দেওয়ার যে প্রবণতা ,তার ভেতর দিয়ে এক ধরনের তমসাচ্ছন্ন মানসিকতা ক্রমশ প্রবল হয়ে উঠেছিল ।এই প্রবণতা কলকাতা কে কেন্দ্র করে শুরু হলেও আশেপাশের বহু অঞ্চলে এই প্রবণতা খুব বিশেষভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এই সময়ে।
                  

মুঙ্গেরে  কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন(১৮৪৯-১৯০২) ‘ ধর্ম প্রচারক’ নামে একটি মাসিকপত্র প্রকাশ করে ,হিন্দু পুনরুত্থানবাদী চিন্তা-চেতনাকে প্রবল করে দেওয়ার পক্ষে ,ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং  জাত্যাভিমানে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা দিয়েছিলেন। ১৮৭৭  সালে কৃষ্ণ প্রসন্ন সেন প্রবর্তিত ‘ ধর্ম প্রচারক’ মাসিক  পত্রিকাটি বিহারের সামাজিক জীবনে, উচ্চবর্ণের হিন্দু অভিজাতদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিশেষ রকমের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল।                    

যে জাতপাতের রাজনীতি পরবর্তীকালে বিহার সন্নিহিত অঞ্চলে অত্যন্ত প্রবল হয়ে উঠেছে,  যাকে আশ্রয় করে রাজনৈতিক হিন্দুরা সেখানে রাজনৈতিক আগ্রাসন চালাতে অনেকখানি সুবিধাজনক অবস্থায় ভেতরে  এসেছে, সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরির ক্ষেত্রে কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন এবং তাঁর সহযোগীদের, উচ্চবর্ণীয় ব্রাহ্মণ্য ভাবধারার সমার্থক ধর্মীয় প্রচারগুলো একটা বড়ো রকমের ভূমিকা পালন করেছিল ।
                

কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন ১৮৭৯  সালে ভারতবর্ষে ‘আর্য ধর্ম প্রচারিণী সভা’ স্থাপন করেছিলেন ( তখন তিনি মুঙ্গেরেই অবস্থান করছেন) ।এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছিল;
                বালকদের ধর্ম এবং নীতি শিক্ষা দেওয়া। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে, অর্থাৎ ;সুনীতি সঞ্চারিনী সভা গঠন ,প্রবীনদের কাছে ধর্ম ব্যাখ্যা করা ,ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা, হরিসভা স্থাপন করা ইত্যাদি ।সুবক্তা কৃষ্ণপ্রসন্ন সেনের বক্তৃতায় উঠে আসত;  আর্য পূজা। ভারতবর্ষের উপাসক সম্প্রদায় বলতে কেবলমাত্র হিন্দু উপাসকদের কথাই তিনি বলতেন ।মধ্যকালীন ভারতের সমন্বয়বাদী চিন্তাচেতনার কোনো প্রভাব তাঁর বক্তব্যের ভেতরে থাকত না ।তার পাশাপাশি মূর্তিপূজা আর্য শাস্ত্র এবং ধর্মের অনুশীলন , হিন্দুধর্মের নানান ধরনের ক্রিয়াকর্মের প্রতি আকর্ষণ জাগানো , হিন্দু সমাজের অতীতের সঙ্গে বর্তমানে তুলনামূলক একটা আলোচনার ভিত্তিতে হিন্দু সমাজের বর্তমান কঠিন অবস্থাকে  ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করা।  তাঁরা বলতেন;  ভারত তুমি স্বাধীনতা চাও?  তাহলে অচেতন ভারতে চেতনা সঞ্চার দরকার।
                     

জাতপাতের বিভীষিকায় বিহার কিভাবে এই পটভূমিতে উপবিষ্ট হয়েছিল ,তার সামাজিকীকরণের একটি তথ্যনিষ্ঠ উদাহরণ আমরা পাই কৃষ্ণপ্রসন্ন সেনের সহযোগী মহামহোপাধ্যায় পদ্মনাথ ভট্টাচার্য স্মৃতিচারণে ।
                     পদ্মনাথ লিখছেন ;
                বক্তৃতার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল উন্মার্গপ্রস্থিত লোকদিগকে সনাতন ধর্মের পথে ফিরাইয়া আনা ।বিধর্মীদের আপাতমনোহর যুক্তিতর্কে  উদভ্রান্ত হইয়া যে সকল হিন্দু সন্তান পরীক্ষা পৈত্রিক পন্থা-যেনাস্য  পিতরো যাতা যেন যাতাঃ  পিতামহঃ –পরিত্যাগ করিয়াছিলেন বা তদর্থে  উন্মুখ হইয়াছিলেন– তাঁহাদের অনেকেই নিজের হোম নিজের ভ্রম বুঝিয়া  স্বধর্মানুরাগী হইয়াছিলেন। যাঁহারা পরান্মুখ ছিলেন, এমন সব লোক পরিব্রাজকের বক্তৃতা শুনিয়া ধর্মানুষ্ঠানে ব্রতী হইয়াছিলেন ।ঐরূপ শত শত দৃষ্টান্ত আমরা অবগত আছি।তাই তাঁহার উদ্দেশ্য খুব ই সিদ্ধ হইয়াছিল।তিনি যেখানে যেখানে যাইতেনদিগ্বিজয়ী বীরের ন্যায় বিধর্মীর দুর্গ জয় করিয়া হিন্দু ধর্মের জয়পতাকা উড়াইয়া আসাতেন।
                     তাঁহার বক্তৃতায় দার্শনিক বিচার কম থাকিত।মধ্যে মধ্যে হয়তো গীতা বা ভিগবতের দু- একটা বচন উদ্ধৃত হইত।কিন্তু প্রায়শ সামাজিক ও ভক্তি বিষয়ক বক্তৃতা হওয়াতে পুরাণ ও ভক্তমাল প্রভৃতি পুস্তক হইতে ই গল্পাদি উদাহৃত হইত।”
              — এই স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারা যায় বাংলার বাইরে হিন্দিভাষী এলাকায় হিন্দু পুনরুত্থানবাদ কে কি ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবার তাগিদ একাংশের মানুষের ভেতর তৈরি হয়েছিল। এই তাগিদকে কিন্তু পরবর্তীকালে বিহার সহ গোটা হিন্দিভাষী এলাকাতে জাতপাত ভিত্তিক ,বর্ণবাদী সংস্কৃতির প্রসার ,প্রয়োগ ও প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ একটা পর্যায় হিসেবে কায়েমী শক্তি প্রয়োগ করেছিল। জাতপাতের এই বিধি-বিধানের ভেতর দিয়ে  হিন্দু সাম্প্রদায়িক ,মৌলবাদী, সন্ত্রাসী শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে, একটা সামাজিক বাতাবরণের তৈরি করে   ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে শুরু করেছিল।
                 

মহামহোপাধ্যায় পদ্মনাথ ভট্টাচার্য

আরএসএসের ভিত্তিভূমি রচনা ক্ষেত্রে বাংলা ,মহারাষ্ট্রের বাইরে বিহার অঞ্চলে হিন্দু পুনরুত্থানবাদীদের  এই ভূমিকা গুলি নিয়ে কিন্তু সেভাবে সার্বিক আলোচনা হয় না ।তার ফলে বিহারের জাতপাত কেন্দ্রিক রাজনীতির  প্রাধান্য এবং প্রাবল্য কিভাবে শুরু হল– ইতিহাসের সেই  ক্রমবিবর্তনের দিকটা সম্বন্ধে আমাদের কাছে একটা স্পষ্ট ধারণা সব সময় গড়ে ওঠে না ।জাতপাতের প্রাবল্যের এই ভয়াবহকতার ভেতর দিয়ে ই  আরএসএস ,তার নানা রকমের তথাকথিত সামাজিক কর্মকান্ডের ভেতর দিয়ে, রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কে ধীরে ধীরে প্রসারিত করতে শুরু করেছিল।
                 

আরএসএসের এই সামাজিক কর্মকান্ডের ছদ্মবেশে ,রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারণের ক্ষেত্রটি প্রস্তুত করতে উনিশ শতকের হিন্দু পুনরুত্থানবাদ কতখানি সক্রিয় ভূমিকা ফেলেছিল ,সে বিষয়ে আমাদের একটা সম্যক ধারণা থাকা দরকার ।
                    কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন গোটা বিহার জুড়ে তাঁর হিন্দু পুনরুত্থানবাদী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে একটি গান ব্যবহার করতেন ।তারঁ নিজের লেখা গানটি হল;
             

” বাজল  হরিনামের ভেরী  গগনভেদী স্বরে

আর্যধর্মের জয়পতাকা উড়িল অম্বরে।

মুদলে আঁখি সকল ফাঁকি ভবের গন্ডগোল

সবে ভক্তিভরে উচ্চস্বরে বল হরিবোল ।”
                  

হিন্দিভাষী বিহারে এই গানটি সেখানকার স্থানীয় জনগণের ভেতরে বিশেষ প্রভাব বিস্তার না করতে পারলেও আর্য ধর্মের নাম করে ,প্রাচীন ভারতের বহুত্ববাদী দর্শন কে অস্বীকার করে ,  সমন্বয়বাদী চেতনাকে ভুলিয়ে দেওয়ার এই প্রবণতা , বিহারের বাংলাভাষীদের মধ্যে কতখানি প্রভাব বিস্তার করেছিল,  তার প্রেক্ষিতে ইতিহাস গত সামাজিক আখ্যান আমরা পাই সতীনাথ ভাদুড়ীর ‘জাগরী’  উপন্যাসের বিভিন্ন চরিত্র গুলির আঙ্গিক ও কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে।
                 

জাতীয় আন্দোলন কে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জাতীয়তাবোধ যেভাবে গড়ে উঠেছিল ,তার মূল ভিত্তিতে যে ব্রিটিশ বিরোধিতা, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে ভারতবর্ষ থেকে তাড়ানোর একটা আন্তরিক বাসনা সবসময় কাজ করেছিল, তার বিন্দুবিসর্গ কিন্তু রাজনৈতিক হিন্দুরা যে জাতীয়তাবোধের কথা বলে , সেখানে ছিলনা বা বর্তমানে নেই। জাতীয় আন্দোলন থেকে উদ্বুদ্ধ জাতীয়তাবোধকে রাজনৈতিক হিন্দুত্বের মোড়কে উদ্ভাসিত করে ,তাকে ‘রাষ্ট্রবাদে’  পরিণত করবার যে কর্মকাণ্ড আরএসএস তার জন্মলগ্ন থেকেই পালন করে আসছে ,তার প্রেক্ষাপট তৈরীর ক্ষেত্রে ,অবিভক্ত পাঞ্জাবের ‘ লালা’  সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীদের দ্বারা পুষ্ট ,রাজনৈতিক হিন্দুদের যেমন কর্ম পন্থা ছিল ,তেমনি ই  কিন্তু বাংলা ,বিহার, এই অঞ্চলে হিন্দু পুনরুত্থানবাদীদের ভূমিকা কোনো অংশে কম ছিল না।
               

কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন ,যাঁকে বিহার অঞ্চলে হিন্দু পুনরুত্থানবাদের ধ্যান ধারণা সংক্রমনের ভেতর দিয়ে রাজনৈতিক হিন্দু চেতনাকে পরিপুষ্ট করবার অন্যতম প্রধান কর্মকর্তা বলে চিহ্নিত করা যায়, তিনি এক জায়গায় লিখছেন ;
             

ভারতবাসী গান! আর্য সন্তানগণ! একবার চোখ খুলিয়া দেখ চক্ষুরুন্মীলন  করিয়া দেখো ,তোমাদের আত্মীয়ময় সমাজে কি ঘোর বিপত্তি আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে ।তোমাদের অজ্ঞাতসারে তোমরা ধীরে ধীরে কোন্  দূরদেশে যাইতেছ ,তাহা দেখ,  দেখিয়া তাহার প্রতিবিধান করিতে কৃত সংকল্প হও, জাতীয় ভাব রক্ষা কর। বাল্য হইতে তোমরা বিদেশীয়  রীতিনীতি শিক্ষা করিয়া তোমাদের পূর্বপুরুষ- ঋষিদিগের উপাদেয় শাস্ত্রের,উপাদেয় উপদেশকে অগ্রাহ্য করিয়া আসিয়াছে সত্য, কিন্তু তোমরা এক্ষণে তোমাদের অন্যায় কার্যকে অন্যায় বলিয়া বুঝিতে পারিয়াছ যাহাতে তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের মত বিপথে না যায় ,তাহার চেষ্টা কর।যাহাতে তোমাদের ভাবী বংশধরেরা জাতীয়ভাবে উদ্দীপিত হইয়া জাতীয় ধর্ম , জাতীয় আচার-ব্যবহারের প্রতি শ্রদ্ধাবান হইয়া জগতে পুরুষার্থ সাধন করিতে পারে, তাহার চেষ্টা কর। তোমাদের কামনা এক্ষণে তাহাদের শক্তিতে সঞ্চার করিয়া নিশ্চিন্ত হতাশ হও ,হতাশ হইও না- হতাশ হওয়া  কাপুরুষের লক্ষণ ।”( কুমার পরিব্রাজক- পূর্ণানন্দ স্বরূপজী মহারাজ,১৯০৮)।
               

হিন্দু পুনরুত্থানবাদীদের এই যে জাতীয়তাবোধের দৃষ্টিভঙ্গি, সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে কিন্তু পরবর্তীকালে আরএসএস জাতীয়তাকেবিকৃত করে ‘ রাষ্ট্রবাদে’  রূপান্তরিত করে একটি সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিষয়টিকে পরিচালিত করার লক্ষ্যে ব্যবহার করে এসেছে ।কৃষ্ণপ্রসন্ন সেনের যে সমস্ত রচনাবলী পাওয়া যায় ,যেমন; ভক্তি ও ভক্ত ,পরিব্রাজকের বক্তৃতা ,শ্রীকৃষ্ণ পুষ্পাঞ্জলী, পরিব্রাজকের সংগীত, সংগীত মঞ্জরী– এগুলি সবই জাতীয়তাবোধকে রাজনৈতিক হিন্দু চেতনার আঁতুরঘর হিশেবে পরিগণিত করবার এক একটি অস্ত্র।কৃষ্ণপ্রসন্নের ‘ গীতার্থ সন্দীপনী’ গ্রন্থটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র।এই গ্রন্থটি সমসাময়ীককালে যথেষ্ট প্রচার পেয়েছিল।
                 

ধর্মপ্রচার কে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ,সেই উদ্দেশ্যের  ভেতর একটি রাজনৈতিক অভিপ্সাকে খুব সূক্ষ্মভাবে স্থাপন করে ,গোটা পরিকল্পনা, যার পিছনে অর্থ বিনিয়োগ, এই যে প্রক্রিয়া ,আধুনিক ভারতে সম্ভবত তার সূচনা করেন কৃষ্ণ প্রসন্ন সেন ।মুঙ্গেরে  তাঁর ‘ আর্য ধর্ম প্রচারিণী’ সভার’ ধর্মাচার্য’  নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই পর্যায়টির সূচনা।পরবর্তী সময়ে ধর্মকে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে, সেই উদ্দেশ্যের  ভিতরে নানা ধরনের কায়েমি স্বার্থ বজায় রাখা, বিশেষ করে সঙ্কীর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কে বজায় রাখার তাগিদে, তার পেছনে অর্থ বিনিয়োগের যে ভয়াবহ প্রবণতা আমরা ভারতবর্ষের বুকে দেখেছি ,আন্তর্জাতিক স্তরে দেখেছি, সাম্প্রতিক ভারতে সম্ভবত তার প্রথম উদাহরণ স্থাপিত হয় ১৮৮২ সালে র অক্টোবর মাসে কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন কর্তৃক ‘ধর্মপ্রচারক’  নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপনের ভেতর দিয়ে।
                  সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনটিতে একটি প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয় ।

প্রশ্নটি ছিল;
              ‘  শ্রাদ্ধ তর্পণাদি করিলে   মৃত পিতৃগণ কিরূপে তাহা লাভ করেন? তাহাতে তাঁহাদের কিরূপ কল্যাণ সাধিত হয় ?”
               সম্ভবত পিতৃপুরুষের স্বর্গপ্রাপ্তি কল্পিত আকাঙ্ক্ষাকে উৎসাহিত করার তাগিদ দিয়ে,  মানুষের ভেতরের ধর্ম ভয় জাগিয়ে তোলার তাগিদ– পুনরুত্থানবাদীদের এই কর্মকান্ডের ভেতর বিশেষভাবে কাজ করেছিল। পরকালের কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে, মানুষের ভেতরে আধ্যাত্বিক আকুলতা কে ,একটা ভয়ের সাম্রাজ্যে পর্যবসিত করে ,সেই বিষয়টিকে ঘিরে এক ধরনের কায়েমী স্বার্থের মানসিকতা সমাজের বুকে গেঁথে দিয়ে ,অতীতের যাদুবিদ্যা জনিত যে ধরনের বোধ প্রাচীন সমাজে বিদ্যমান ছিল, সেই বোধ কেই এক ধরনের আতঙ্কের ভূগোলে পর্যবসিত করা ছিল ধর্মের রাজনৈতিক কারবারীদের একদম প্রাথমিক উদ্দেশ্য ।
                  

কৃষ্ণ প্রসন্নের এই বিজ্ঞাপনের উত্তরে শশধর তর্কচূড়ামণি শ্রাদ্ধতত্ত্ব বিষয়ক একটি প্রবন্ধ দাখিল করেছিলেন। সেই প্রবন্ধটিতে আচার সর্বস্ব  প্রচলিত হিন্দু ধর্মের প্রতি যে একটা ভয়ঙ্কর রকমের প্রাবল্য এবং পক্ষপাতিত্ব ছিল সেটি কৃষ্ণপ্রসন্ন সেনকে বিশেষ রকম ভাবে খুশি করেছিল ।তাই তিনি শশধর তর্কচূড়ামণি কে তাঁর সংগঠনের ধর্মাচার্য পদে নিযুক্ত করেছিলেন ৩০  টাকা মাসিক বেতনের  বিনিময়ে।
                

শশধর তর্কচূড়ামণি কাজ ছিল; বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে ‘শাস্ত্রের নিগূঢ়  বৈজ্ঞানিক রহস্যের প্রচার ‘।কৃষ্ণ  প্রসন্ন সেনের জীবনী কার নিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণ প্রসন্নের জীবনসাধনার সংক্রান্ত একটি গ্রন্থে জানাচ্ছেন;  ১৮৮৩  সাল থেকে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছিল।
                   

প্রাচীন ভারতীয় কর্মকাণ্ডের পেছনে এক ধরনের মহত্বের লেবেল সেঁটে, অতীতের সমস্ত ধ্যান-ধারণাকে বহুত্ববাদী ভারত চেতনার বিপরীতে প্রতিস্থাপিত করে ,মধ্যকালীন ভারতের সমন্বয়ী চেতনাকে কার্যত অস্বীকার করে ,একটি স্থানিক, কৌণিক এবং সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে হিন্দুধর্মকে স্থাপন করবার লক্ষ্যে, হিন্দু পুনরুত্থানবাদীদের অন্যতম মুখপাত্র শশধর চূড়ামণি এইসময় বেনারস থেকে মুঙ্গেরে এসে প্রবাহিত ভারতবর্ষের প্রচলিত ধর্ম বোধের সম্পূর্ণ বিপক্ষে, হিন্দু ধর্মকে একটি সাম্প্রদায়িক , একদেশদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির উপস্থাপন করে ,এক ধরনের মহত্ত্বের লেবাস এঁটে প্রচার করতে শুরু করেন।
                        

১৮৮৪  খ্রিস্টাব্দে শশধর তর্কচূড়ামণি কলকাতায় আসেন ।এই সময় তিনি কলকাতার বুকেও বেশকিছু হিন্দু পুনরুত্থানবাদীকে সংগঠিত করে, এক ধরনের জনপ্রিয়তা লাভ করেন শশধর তর্কচূড়ামণি সঙ্গে শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের সাক্ষাৎ ঘটেছিল। প্রচলিত হিন্দু ধর্মকে একটি স্থানিক, কৌণিক বিন্দুতে অবস্থান করিয়ে , একটা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে শশধরের  যে দেখবার প্রবণতা, সেই প্রবণতা কিন্তু সর্বধর্ম সমন্বয়ের চেতনায় বিশ্বাসী শ্রীরামকৃষ্ণের দ্বারা কখনোই সমর্থন বা উৎসাহ পাইনি ।
                     অপরপক্ষে শশধর বেশি রকমের প্রচার পেয়ে যাচ্ছেন –এমন একটি সংকীর্ণ মানসিকতা কৃষ্ণপ্রসন্নকে  শশধরের  প্রতি খানিকটা বিরক্ত করে তুলেছিল।  একটি চিঠিতে তিনি শশধর কে লিখছেন;
               কলিকাতায় আপনার কার্য উত্তমরূপে হইতেছে বিদিত হইতেছি।বঙ্গবাসী ,সোমপ্রকাশ ,সাধারণী, সহচর, প্রজাবন্ধু ,রঙ্গপুর ,দিক্ প্রকাশ , নব বিভাকর, মীরার, ইকো ,বর্ধমান সঞ্জীবনী, আদি অনেক পত্রেই  বিশেষরূপে প্রতিষ্ঠা করিয়াছে , তবে সময় ,সঞ্জীবনী আদি নিন্দা করিতে ছাড়ে নাই, তাহাতে আমাদের কার্যের ক্ষতি হইবে না ।
            গত সপ্তাহের বঙ্গবাসী তে আপনার পরিচয় স্থানে দেখিলাম ‘তিনি নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ , ফরিদপুরস্থ ভাঙ্গার অন্তর্গত প্রাণ ভপুর গ্রামে’  ইত্যাদি। আপনার এরূপ পরিচয় প্রকাশিত হওয়ায় সভার বিশেষ ক্ষতি হইতেছে। আপনি ধর্মচার্যের  ব্রত লইয়া যখন কার্য করিতেছেন , তখন এরূপ পরিচয় প্রকাশ নিতান্ত অসংগত বলিয়া বোধ হইল। যদি আপনার ধর্মব্যাখ্যান  ও আমার দেশে দেশে প্রচারকার্য আমাদের নিজ নিজ বলিয়া পরিগণিত হয় , তবে সভার কার্য কে করিবে ।স্থানে স্থানে বরং আপনার বা আমার নাম প্রচার না হইলেও ক্ষতি নাই। কিন্তু ‘ভারতীয় আর্য ধর্ম প্রচারিণী সভা’ র ধর্মাচার্য বা সম্পাদক বক্তৃতা করিলেন এরূপ  প্রচারিত হওয়া নিতান্ত আবশ্যক। আমরা দেশে বিদেশে গমন করিলে আমাদের নিজ  পরিচয় কেউ জানুক বা না জানুক , যাহাতে সভার পরিচয় বিঘোষিত হয় , তাহারই  চেষ্টা করা কর্তব্য।
            আরেকটি কথা বঙ্গবাসীতে  লিখিত হইয়াছে,  আপনার বক্তৃতা তাঁহারা পুস্তকাকারে প্রকাশ করিবেন, তাহাতেও  বোধ হয় সভা বিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হইবেন।কেননা  সে সকল পুস্তক এখান হইতে প্রকাশিত হইলে অবশ্যই সভার কার্যের সহায়তা ও আর্থিক উপকার হইত। কলিকাতায় ধুমধাম হইল এইমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত আনন্দ হইল , এইমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত আনন্দ হইল।কিন্তু সম্পাদকীয় অধিকারে যেন ততটুকু আনন্দ পাইলাম না , কেননা কার্যক্ষেত্রে সভার অস্তিত্বের সমাচার ও প্রদর্শিত হইতেছে না ।”
                

কৃষ্ণপ্রসন্ন সেনের এই চিঠির ভেতর থেকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ;হিন্দু পুনরুত্থানবাদী ব্যক্তিত্বদের উনিশ শতকের শেষ দিকেই ব্যক্তি প্রচারকে ঘিরে ব্যক্তিত্বের সংঘাত কি প্রবল হয়েছিল। এই সংঘাতের আবহাওয়া টি কিন্তু পরবর্তীকালে আমরা আরএসএস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হেডগেওয়ার বনাম গোলওয়ালকার কিংবা তারপর সাভারকারের ভেতরেও অত্যন্ত প্রবলভাবে দেখতে পাই।
                 

সাভারকারের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিত্বের সংঘাত সুবিদিত ।আবার শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে দিনদয়াল উপাধ্যায়ের  ব্যক্তিত্বের সংঘাত সুবিদিত। প্রকৃতপক্ষে হিন্দুত্ববাদীদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো,  তাদের কর্মকর্তারা যখন দেখেন ,অপর একজন কর্মকর্তা ধীরেধীরে অনেক বেশি প্রচার পেয়ে যাচ্ছেন ,তখন উভয়ের ভেতর দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং একে অপরকে খাটো করে দেখানোর প্রবণতা অত্যন্ত বেশি রকমের শুরু হয়ে যায় ।
              

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও বিনায়ক দামোদর সাভারকার

এই প্রবণতা থেকে কিন্তু  আরএসএস কখনো মুক্ত থাকে না বিশেষ করে  করে সাভারকারের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের যে দ্বন্দ্ব, আবার শ্যামাপ্রসাদের কর্তৃত্ব খর্ব করতে হিন্দুত্ববাদীরা যেভাবে দীনদয়াল উপাধ্যায় কে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছে– সেই প্রেক্ষিত কিন্তু কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন বনাম শশধর তর্কচূড়ামণি দ্বন্দ্ব-সংঘাত –‘সেখান থেকেই এসেছে ।কৃষ্ণপ্রসন্ন সেন যে ধর্মাচার্য নিয়োগের একটি পেশাদার ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন ,পরবর্তীকালে আরএসএস যে স্বয়ংসেবক এবং প্রচারক নিয়োগ করে ,সেই ভাব ধারাটি কিন্তু কৃষ্ণপ্রসন্নের এই কর্মপদ্ধতির ভেতর থেকেই সঙ্ঘ সংগৃহীত করেছিল।

ধারাবাহিক লেখাগুলি পড়তে ক্লিক করুনঃ www.cpimwb.org.in

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১৭)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১৬)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১৫)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১৪)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১৩)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১২)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১১)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব – ১০)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পর্ব- ৯)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (অষ্টম পর্ব)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (সপ্তম পর্ব)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (ষষ্ঠ পর্ব)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (পঞ্চম পর্ব)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (চতুর্থ পর্ব)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (তৃতীয় পর্ব)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (দ্বিতীয় পর্ব)

ভারতের জাতীয় আন্দোলন ও আর এস এস – (প্রথম পর্ব)

Spread the word