ব্রিটেনের নতুন বামপন্থী পার্টি প্রসঙ্গে

অসমর্থদের সম্মানজনক জীবন নির্বাহের প্রয়োজনীয় সাহায্যকেই উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাঁরা দেখেছেন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলি থেকে তাঁদের কীভাবে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।

প্রাক্তন লেবার সাংসদ জারা সুলতানার একটি নতুন বামপন্থী পার্টি গঠনের অপ্রত্যাশিত ঘোষনা ব্রিটেন জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে উদবেলিত করেছে বিগত কয়েক সপ্তাহে। কের স্টারমারের লেবার পার্টির সরকারের প্রথম বছরের কাজকর্ম হতাশাজনক। মানুষ সন্ধান করছিল একটি রাজনৈতিক শক্তির, যারা কের স্টারমারের গণহত্যা এবং ব্যয়-সংকোচন নীতির বিরোধিতা করতে পারে। ইতিমধ্যেই, সাড়ে ছয় লক্ষের বেশি মানুষ এই পার্টির সভ্য হওয়ার জন্য স্বাক্ষর করেছে। মিডিয়ার প্রথাগত নিরুত্তাপ প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, এই ঘোষণা ব্রিটিশ বামপন্থীদের মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় এনে দিয়েছে।
ট্রিবিউন-এর সহযোগী সম্পাদক মার্কাস বার্নেট সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, এই নতুন বামপন্থী পার্টির একজন অন্যতম প্রধান কারিগর, লেবার পার্টির প্রাক্তন নেতা, জেরেমি করবিনের। আলোচনার বিষয় ছিল নানাবিধ। সমাজতান্ত্রিক নেতা জেরেমি করবিন ব্যাখ্যা করেছেন কেন শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতায়নের জন্য এই সময়ে একটি নতুন বামপন্থী পার্টির প্রয়োজন।
মার্কাস বার্নেট: একটি সম্ভাব্য নতুন বামপন্থী পার্টি অনেক মানুষের মনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে তাঁদের দেশ এবং বিশ্বকে একটি উন্নততর রূপে দেখতে পাওয়ার জন্য। মানুষের এই যোগদানের ইচ্ছা আপনার কাছে তাঁদের রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মাত্রা সম্পর্কে কী বার্তা দিচ্ছে?
জেরেমি করবিন: সাড়ে ছয় লক্ষ মানুষ এই নতুন কার্যক্রমে যোগ দিচ্ছেন অবশ্যই বিশেষ কারণে – বর্তমান ব্যবস্থার প্রতি ক্ষোভ। গরিবের আরও গরিব হতে থাকা আর ধনীদের আরো ধনী হতে থাকা তো অনেক হল। জলের বিল বাড়ছে আর পরিবর্তে মানুষ পাচ্ছে ফাটা পাইপ আর সমুদ্রে যাচ্ছে অপরিশোধিত জল। তাঁরা দেখেছেন কীভাবে তাঁদের মৌলিক দাবি– অসমর্থদের সম্মানজনক জীবন নির্বাহের প্রয়োজনীয় সাহায্যকেই উপেক্ষা করা হচ্ছে। তাঁরা দেখেছেন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলি থেকে তাঁদের কীভাবে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।
সমাজের আজকের সমস্যাগুলির দিকে তাকান, হাজার হাজার মানুষের জীবনের প্রধান আশ্রয় হয়ে উঠেছে দাতব্য খাদ্য ব্যাংক; প্রাইভেট সেক্টরের বাসস্থানের ভাড়া তাঁদের বেতনের অর্ধেকের বেশি; মানুষের জীবনে অসম্ভব রকমের চাপ। যখন ব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে এবং কিছুই করে না, তখন কিছু তো করা দরকার। কোনও দাবিই নতুন নয়, দীর্ঘদিন ধরেই দমন করা হচ্ছিল। পরের পর সরকার এই ব্যাপারে কিছু করেনি। এর একটা ফল তো থাকবেই – তারা যে বীজ বুনেছিল, আজ তার ফল পাচ্ছে।
পার্টির ওয়েবসাইটের প্রকাশ ছিল যেন এক বাঁধভাঙ্গা প্লাবন। সত্যিকারের কোনও বিকল্প পাচ্ছিলেন না যেসব মানুষ, হঠাতই নিজেদের যুক্ত করার মত কিছু হাতে পেলেন। তাঁদের আশা যুক্তিসংগত। আমরা সাম্য এবং শান্তির নীতির ভিত্তিতে আমাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি কাঠামো উপস্থাপিত করেছি – পাবলিক মালিকানা, সম্পত্তি কর, সামাজিক গৃহনির্মাণে বিনিয়োগ, এবং প্যালেস্তাইনের পক্ষে সমর্থনের মতো বিষয়গুলি যুক্ত করে। ভবিষ্যতে, আরো বিস্তারিত দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করবেন আমাদের সদস্যরা। তবে, মানুষ এই ঘোষণা থেকে বুঝবেন আমরা কোন পথে চলতে চাই। এতদিন ধরে তাঁরা বঞ্চিত এই পথ থেকেই – সম্পদ এবং ক্ষমতার পুনর্বণ্টনের পথ।
মার্কাস বার্নেট: কোন ধরণের মানুষেরা সই করছেন সে সম্পর্কে আপনার নির্দিষ্ট ধারণা?
জেরেমি করবিন: স্বাভাবিকভাবেই, বড় অংশই এসেছে লন্ডন, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার, নিউক্যাসলের মতো বড় শহরগুলি থেকে। তবে, যা আমাকে অবাক করেছে, সাধারণভাবে এই সমর্থন ছড়িয়ে রয়েছে সকল অঞ্চল এবং দেশের মধ্যেই। সবচেয়ে জোরালো সমর্থন এসেছে লন্ডন, উত্তর-পশ্চিম, এবং ইয়র্কশায়ার এবং হাম্বারের মোহনা অঞ্চল থেকে, তবে এটি ছড়িয়ে আছে অন্যান্য দূরের অঞ্চলেও – এমনকি দূরের হেব্রিড দ্বীপেও। এটি সাক্ষ্য দেয় দেশজুড়ে থাকা মানুষের মৌলিক সমস্যার – দারিদ্র, বেতন সংকোচন, চাপ, ক্ষয়িষ্ণু সরকারি পরিষেবা, বেড়ে চলা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা।
বেশিরভাগ মানুষই আমাকে বলেছেন, তাঁরা অনেকদিন ধরেই এইরকম কিছুর অপেক্ষা করছিলেন। তাঁরা ছিলেন অস্থির, উত্তেজিত। তবে তাঁরা আশাবাদী। এমন অনেক মানুষও এসেছেন, যাঁরা এর আগে রাজনীতিতে জড়ান নি। গত বছরের নির্বাচনী প্রচারেও আমার এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। আমরা একটি নতুন ধরণের রাজনৈতিক দল নির্মাণ করছি, যা এতদিনকার জরাজীর্ণ দুই-পার্টি ব্যবস্থায় বঞ্চিত মানুষের জন্য সংস্থান করবে ঘরের।
মার্কাস বার্নেট: অবশ্যই ‘অস্থির’ ছিলেন তাঁরা – লেবার পার্টি আপনাকে সাসপেন্ড করার সময় থেকেই –আপনার নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের গঠনের আশা নিয়ে এবং এই ব্যাপারে আপনি সোচ্চার ছিলেন ধারাবাহিকভাবেই। এই ঘোষণা যেন এক বছর আগে আপনার উপর লেবার পার্টির দক্ষিণপন্থীদের আক্রমণের থেকে শুরু হওয়া একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অবসান। এই সবকিছু কীভাবে হল?
জেরেমি করবিন: অনেক কমরেডই বছরভর বলছিলেন একটি নতুন ধরণের রাজনৈতিক আওয়াজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। সংসদীয় লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে সাসপেন্ড করার পরে, আমি লেবার পার্টির একজন সাধারণ সদস্য এবং পিছন-সারির এক সাংসদ হিসাবেই ছিলাম। অনেক স্থানীয় লেবার পার্টির কমরেড আমাকে সমর্থন করছিলেন তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে। কের স্টারমার অবশেষে আমার লেবার পার্টির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন, যা স্থানীয় স্তরের গণতন্ত্রের উপর এক অসম্মানজনক আক্রমণ; আমার দৃষ্টিকোণ ছিল মানুষই নির্ণয় করুন। সেই কারণেই আমি নির্দল প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম।
পার্টি গঠনের আগেই, একজন নির্দল হিসাবে নির্বাচনে জেতা, ছিল ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আইলিংটনে জেতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল শুধুমাত্র সেখানকার জনগণের জন্যেই নয়, বরং বাইরের বৃহত্তর সমাজের জন্যেও। নির্বাচনের আগে, খুব স্বল্প সময়ে, নতুন পার্টির গঠন করতে হলে আমাকে দেশের নানাপ্রান্তে যাতায়াত করতে হতো, যা আমার নির্বাচনী প্রচারে অসুবিধার সৃষ্টি করত।
নির্বাচনী প্রচার চলাকালীনই একটি নতুন রাজনৈতিক দলের জন্য আওয়াজ জোরালো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল। অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, দেশ জুড়ে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন এমন সব মানুষ, যাঁদের আমি আগে দেখিনি, যাঁদের অনেকেই রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। আমি বুঝেছিলাম, একটি প্রকৃত রাজনৈতিক বিকল্পের পক্ষে সমর্থনের তীব্রতা। অনেকের সাথে আলোচনা থেকে ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছিল যে একটি নতুন দল শুধু সম্ভবই নয়, মৌলিকভাবে প্রয়োজনীয়ও।
এটি পরিষ্কার যে লেবার পার্টি তাদের প্রতিশ্রুত পরিবর্তন আনতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে – ট্যাক্স ছাড়ের ক্ষেত্রে দুই-সন্তানের ঊর্ধ্বসীমা বাতিল করতে অস্বীকার, অসমর্থতাজনিত সহায়তা বাতিল করা, মহিলা পুরুষের জন্য পেনশন পাওয়ার বয়সের সমতা সরানোর বিষয়ে WASPI-র সঙ্গে বেইমানি, শীতকালীন জ্বালানির বরাদ্দ কমানো, বা, প্যালেস্তিনিয়দের হত্যাকাণ্ডে এই সরকারের জঘন্য যোগসাজস।
বর্তমানে, আমরা এমন এক অবস্থার মুখোমুখি যেখানে লেবার পার্টি একটি সংশোধনবাদী সরকারের পথ ধরেছে। ব্রিটেনের রাজনীতির এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে আমরা – এবং সেই কারণেই নতুন রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত। এক সাম্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শান্তিপূর্ণ সমাজে বাঁচতে হলে, এবং অসাম্য, বিভাজন এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে থাকতে হলে, বিকল্পের সন্ধান করতেই হবে।
মার্কাস বার্নেট: আপনি সচেতনভাবে একটি সম্পূর্ণ নতুন কাঠামো নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পিছনে কী ধরণের চিন্তা কাজ করেছে? এর কারণ কি আপনার দেখা উঁচু-থেকে-চালানো পার্টির সমস্যাপ্রসূত? উদাহরনস্বরূপ, এটি কি লেবার পার্টির অভিজ্ঞতাপ্রসূত – এমনকি, একে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও?
জেরেমি করবিন: সংসদে বিগত চল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে, আমি নিজের চোখে দেখেছি আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার কারণগুলি।
একটি হল আমাদের রাজনৈতিক দলগুলির কাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত – উপর থেকে পরিচালিত, কেন্দ্রীভূত এবং আমলাতান্ত্রিক। লেবার পার্টির নেতা থাকাকালীন, আমি প্রচুর বাধা পেয়েছি সম্পদায়ভিত্তিক সংগঠিত ইউনিটগুলিকে সংগঠিত হতে সাহায্য করার কাজে – স্থানীয় সম্প্রদায়গুলিই প্রত্যক্ষভাবে জানে তাদের সমস্যাগুলি। এটি জন্ম দেয় বিশ্বাসের, এবং পার্টি এই সম্প্রদায়গুলির মধ্যে যুক্ত হয়ে পড়ে, যা আরো বড় নির্বাচনী সফলতা আনে। ২০১৯ সালে যেসব স্থানে এইরকম সম্পদায়ভিত্তিক সংগঠিত ইউনিট ছিল, সেখানেই আমাদের বড় সাফল্য এসেছে। আমলাতান্ত্রিক বাধা না থাকলে, এর প্রভাব আরও বাড়ত।
লেবার পার্টির বর্তমান অবস্থা এমন, সাংসদরা ভয় পাচ্ছেন মানুষকে, যাঁদের প্রতিনিধি তাঁরা। এবং, এইভাবে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাওয়া পার্টিতে দেখা যায় ক্ষতিকারক নীতি এবং সিদ্ধান্ত – সরকারি পরিষেবার বেসরকারিকরণ, ইরাক আক্রমণ, ব্যয় সংকোচন ইত্যাদি।
সেই কারণেই আমরা কিছুটা আলাদা করার চেষ্টা করছি। রাজনীতি হওয়া উচিৎ ক্ষমতায়নের – এবং আমি চাই, পার্টি সেই নীতিতেই চলুক – অবাধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, তৃণমূল স্তরে ভিত্তি, এবং গণতান্ত্রিক। সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের ভিত্তিতে পার্টির ভবিষ্যৎ নির্মাণের ব্যাপারটাই মিডিয়ার অনেকে বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে, যে মানুষেরা সই দিয়েছেন, এটি বুঝতে তাঁদের কোনও অসুবিধা নেই।
এই বছরের শেষের মধ্যেই আমরা মিলিত হব প্রারম্ভিক সম্মেলনে, পার্টির গতিমুখ এবং আমাদের উদ্দেশ্য সুনিশ্চিত করার জন্য। এই সম্মেলনের আগেই দেশ জুড়ে একের পর এক সুচিন্তিত আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। শুধু জমায়েত নয়, এই আলোচনাগুলি সুযোগ দেবে বিভিন্ন সম্প্রদায়, সামাজিক আন্দোলন এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলিকে একসঙ্গে বসার, পার্টি এবং দেশের প্রধান সমস্যাগুলি নিয়ে মতবিনিময় করার। নিশ্চিতভাবে, মিটিংগুলি তীব্র বিতর্কের জন্ম দেবে, এবং সেটিই হওয়া উচিৎ। এটিই গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য।
মার্কাস বার্নেট: এই প্রসঙ্গে, গণতান্ত্রিক সংগঠন বলতে কী বোঝাচ্ছেন? কীভাবে পার্টি বাসস্থানের সমস্যা বা যুদ্ধবিরোধী সংগঠনগুলির মতো বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে?
জেরেমি করবিন: আমি সাম্প্রতিক একটি লেখায় বলার চেষ্টা করেছি, সংসদীয় বা অন্য ধরণের আন্দোলনগুলির মধ্যে, শুধু একটিকেই বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পার্টির ক্ষেত্রে বড় ভুল হবে। আমাদের সংগঠিত করতে হবে সর্বত্র: স্থানীয় স্তরে, সংসদে, কর্মক্ষেত্রে, এবং সম্প্রদায়গুলির মধ্যে। এটিই গণতান্ত্রিক পার্টির ক্ষমতার উৎস: সাধারণ মানুষকে ক্ষমতা দেওয়া নিজেদের অগ্রাধিকার গড়ে তুলতে, শুধুমাত্র সাংসদদের লবি করতে শেখা নয়। এভাবেই সমাজ জুড়ে বিভিন্ন আন্দোলনগুলির মধ্যে সংযোগ গড়ে তুলব।
বিগত বছরের রাজনীতিকে, কেউ হয়ত লেবার পার্টির ব্যর্থতা হিসাবেই সংজ্ঞায়িত করবেন। আমার মত কিছুটা আলাদা। একে সংজ্ঞায়িত করা উচিৎ আন্দোলনের বিস্ময়কর বিস্তারের সময়কাল হিসাবে: ট্রেড ইউনিয়ন, ভাড়াটিয়াদের ইউনিয়ন, অসমর্থদের জন্য ন্যায়বিচারের প্রচারক, বর্ণবাদ-বিরোধী প্রচারক, পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, শান্তিবাদী কর্মী সকলের। এই গ্রুপগুলি নিজেদের আন্দোলনের জোরেই যদি এতকিছু অর্জন করতে পারে, তাহলে ভাবা দরকার এগুলি একত্রিত হলে কী হতে পারে, যদি এদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়।
মার্কাস বার্নেট: ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের উত্তাপ দেখে, অনেক শপ স্টুয়ার্ড এবং বরিষ্ঠ ইউনিয়ন কার্যনির্বাহী – প্রথাগতভাবে লেবার পার্টির বামপন্থী বা এমনকি দক্ষিণপন্থীদের সাথে যুক্ত – এই নতুন কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জেরেমি করবিন: আমি ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী, নেতা, এবং সদস্যদের সাথে নিয়মিতভাবে কথা বলি। এটি যথেষ্ট পরিষ্কার যে সরকারের কাজের অভিমুখ নিয়ে প্রচুর ক্ষোভ রয়েছে। আমি চাইব, আমাদের পার্টি ইউনিয়ন এবং সামাজিক আন্দোলনগুলির সাথে দেশজুড়ে কাজ করুক। ব্যক্তিগতভাবে, সব ধরণের ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আমি খুব খুশি।
আমি এমনকি চাই অসংগঠিত ক্ষেত্রের – বিশেষ করে গিগ অর্থনীতির – শ্রমিকদেরও সমর্থন দিক পার্টি। বছরের শুরুতে উত্তর আইলিংটনে একটি চমৎকার গণসম্মেলনের আয়োজন হয়েছিল, গিগ অর্থনীতির উপর দৃষ্টি রেখে। আমরা বুঝেছি, সত্যিকারের উন্নতি আসতে পারে শ্রমিকশ্রেণির সম্মিলিত শক্তি হিসাবে কাজ করার মাধ্যমেই।
ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে অন্যান্য ধরণের আন্দোলনের – যেমন, শান্তির স্বপক্ষে আন্দোলন – থেকে আলাদা করে দেখা চলবে না। আমি খুশি হয়েছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস স্মলের সঙ্গে আলোচনা করে, যিনি অ্যামাজন শ্রমিকদের সংগঠিত করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনিও গাজায় সাহায্য পৌঁছানোর জন্য ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে দেখে বোঝা যায়, শ্রমিকশ্রেণির জন্য আন্দোলনকে প্যালেস্টাইনের জন্য আন্দোলন থেকে আলাদা করে দেখার দরকার নেই। দুটিই করতে হবে!
মার্কাস বার্নেট: প্রায় একই ধরণের প্রশ্ন, কখন আপনি বলতে পারবেন যে জোটটি যথেষ্ট বিস্তৃত? জোটের ফলে কোন কোন ধরণের দ্বন্দ্ব আসবে বলে মনে করেন, এবং কীভাবে সেগুলির সমাধান হবে?
জেরেমি করবিন: গাজার গণহত্যার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদের অংশ হিসাবে আমি আমার স্বাধীন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করছি ভালোভাবেই। তাঁরা অনেক আশার সঞ্চার করেছেন সেই সব মানুষের জন্য যাঁরা জানেন, আমাদের এমন সাংসদও আছেন যাঁরা সংসদে প্যালেস্তাইনের পক্ষে দাঁড়াতে লজ্জা বা ভয় পান না। সবসময়ে সবকিছুতে একমত না-হলেও, অনেকগুলি বিষয়েই আমরা পরিষ্কারভাবে বিরোধিতা করতে পেরেছি: দুই-সন্তানের ঊর্ধ্বসীমা, শীতকালীন জ্বালানি ছাঁটাই, অসমর্থতাজনিত সুবিধার ছাঁটাই, এবং ইজরায়েলকে অস্ত্র বিক্রির মতো বিষয়গুলিতে।
আমি বিশ্বাসী, গণতান্ত্রিক পথে ঐক্যের ক্ষমতায়। হ্যাঁ, এই পার্টি জন্ম দেবে অনেক মতভেদ এবং বিভাজনের। আমাদের খোলামনের এবং সৎ থাকতে হবে, ভরসা রাখতে হবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির গঠনমূলক এবং কার্যক্ষম পদ্ধতির উপর। আন্দোলন এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যা মতামতের ভিন্নতাকে স্বীকার করবে, কিন্তু, প্রাথমিকতা থাকবে সকলের জন্য মানবাধিকার এবং সম্মানের। ঐক্যবদ্ধতা দরকার সব ধরণের নিপীড়ন এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে – এবং আমরা সেটিই করব।
মার্কাস বার্নেট: ব্যক্তিত্বকেন্দ্রিক সংস্কৃতি এবং অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীলড়াই থেকে উদ্ভূত বিপর্যয়ের হাত থেকে কীভাবে একটি বামপন্থী পার্টি বাঁচতে পারে? আপনার মত কী?
জেরেমি করবিন: পার্টি হোক খোলামেলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং তৃনমূল স্তরের। সাংগঠনিক কাঠামো হতে হবে এমন, যা প্রতিফলিত করবে আমাদের সমর্থনের বৃহত্তর ভৌগলিক প্রকৃতি এবং নীচের স্তর থেকে পরিবর্তন আনার জন্য ক্ষমতায়ন করবে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলির। কে কোন জাতীয় কমিটিতে রইল, তা নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক আমি চাই না।
পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য প্রয়োজন মৌলিক সমস্যা এবং শিশু দারিদ্র, মানবাধিকার, এবং শান্তির দাবীর মতো আন্দোলনগুলিতে যুক্ত থাকা। আমরা এগুলি কেন করছি: সম্পদ এবং ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতে সমাজে পরিবর্তন আনার জন্য। এগুলি শুধু আমাদের বিষয় নয়, লক্ষ লক্ষ মানুষের বিষয় – দারিদ্রের মধ্যে বাস করা শিশুদের; প্যালেস্তাইনের মানুষের – যাঁদের প্রাপ্য একটি উন্নততর জীবন। এটা তাঁদের জন্য, আমাদের নয়।
মার্কাস বার্নেট: গ্রীনস-দের সঙ্গে জোট বাঁধা সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী?
জেরেমি করবিন: আমাদের পার্টি গুরুত্ব দেবে পরিবেশ বিষয়ে, কারণ পরিবেশের প্রতি ন্যায়বিচারই সামাজিক ন্যায়বিচার। আমরা গ্রীনদের সঙ্গে কাজ করব যেখানে তা সম্ভব – অবশ্যই পরিবেশ বিষয়ে, এবং, আশা রাখি, শান্তি এবং মানবাধিকার বিষয়েও। সমভাবাপন্ন সকল ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজের ব্যাপারে আমি মুক্তমনা। সহযোগিতা আরো শক্তিশালী করে তোলে আমাদের।
আমি অনেক গ্রীন সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত, সংসদে গ্রীন সাংসদদের সাথেও অনেক কাজ করেছি এবং যেখানে সম্ভব সহযোগিতা করেছি। এটি সাহায্য করেছে নানা ইস্যুতে বিরোধী জোট গড়ে তুলতে, যেমন অসমর্থতাজনিত সুবিধা ছাঁটাইয়ের ইস্যু। জ্যাক পোলানস্কির সঙ্গেও অনেক ইস্যুতে প্রচার চালিয়েছি, ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে অনেক মঞ্চে একসাথে প্রদর্শনে অংশ নিয়েছি।
ব্যবহৃত ছবিঃ সোশ্যাল মিডিয়া
বাংলা অনুবাদ: শ্যামাশীষ ঘোষ
প্রকাশ: ২৫-আগস্ট-২০২৫
শেষ এডিট:: 25-Aug-25 18:58 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/on-britain’s-new-left-wing-party
Categories: International
Tags: communism, neoliberalism, scientificsocialism
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (159)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (144)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (80)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





