আমরা করব জয় নিশ্চয়

আমাদের দেশ ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি উপরোক্ত পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতা-উত্তর সময়কালে যে সংকটের মুখোমুখি হয়েছে তা অভূতপূর্ব। কারণ, সংঘ পরিবার পরিচালিত একটি ডবল ইঞ্জিন সরকার এই প্রথম এ রাজ্যে ক্ষমতাসীন হয়েছে। স্বাধীনতার আগে বা পরে কখনো এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। যে পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ৩৪ বছর একটানা সরকার পরিচালনা করেছে তা এর সঙ্গে তুলনীয় নয়।

১৯৬৭ সালে আমাদের রাজ্যে গণআন্দোলনের বিকাশের প্রেক্ষাপটে প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা ও বাংলা ভাগের পর থেকে টানা ২০ বছর কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটেছিল। প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকারের ভাঙন ও রাষ্ট্রপতি শাসন এবং দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকার (১৯৬৯) গঠন, ‘৭১ সালে বিধানসভা নির্বাচন, অবশেষে ‘৭২ সালে সিদ্ধার্থশংকর রায়ের নেতৃত্বে ব্যাপক সন্ত্রাস ও জালিয়াতির মধ্যদিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আধা-ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। নির্বাচনের দিনই আমরা এই নির্বাচন ও বিধানসভা বয়কট করেছিলাম। আমাদের নির্বাচিত বিধায়করা পরের পাঁচ বছর বিধানসভায় যাননি। মাত্র পাঁচ বছর পরেই ১৯৭৭ সালে লোকসভা নির্বাচনে টানা ৩০ বছরের কংগ্রেস শাসনের অবসান হয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধী,সঞ্জয় গান্ধীরা পরাস্ত হয়েছিলেন। ওই বছর জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআই(এম)’র একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা সহ বামফ্রন্ট বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার গঠন করেছিল। যা একটানা ৩৪ বছর স্থায়ী হয়েছিল। এটা প্রমাণ করে পাঁচ বছর বিধানসভায় শূন্য থাকার পরও এই ইতিহাস তৈরি করা যায়। কিন্তু সেটাই একমাত্র বিষয় নয়। এটা একমাত্র সিপিআই (এম)’র নিজস্ব শক্তির প্রতিফলন নয়। যা আমাদের ওপর আক্রমণ দিয়ে শুরু হয়েছিল,তা কেবল পশ্চিমবাংলায় নয়,অন্যান্য রাজ্যে ও সারা দেশে বিরোধীদের ওপরেও আক্রমণ প্রসারিত হয়েছিল। বিশেষত অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারির পর (১৯৭৫ সালের ২৫ জুন) এই সব ধরনের বিরোধী শক্তি জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল এবং ‘৭৭-এর লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রে মোরারজি দেশাইয়ের নেতৃত্বে নবগঠিত জনতা পার্টির সরকার গড়ে উঠেছিল। পশ্চিমবঙ্গেও বামপন্থীরা বিধানসভার নির্বাচনে জনতা দলের সঙ্গে আসন সমঝোতায় ৫২ শতাংশ আসন তাদের ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছিল। তাতে তারা সন্তুষ্ট না হয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপকতম ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জয়প্রকাশ নারায়ণ একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি একদা সমাজতন্ত্রী ছিলেন।
১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১৯ মে বামপন্থী ফ্রন্টের সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচি ইশতেহারে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে পশ্চিমবাংলার পরিপ্রেক্ষিত ছাড়াও কেন্দ্রের কাছে আমাদের পক্ষ থেকে অর্থনীতি, শ্রম, ভূমিসংস্কার ও কৃষক, শিক্ষা,তদন্ত কমিশন নিয়োগ, সংখ্যালঘু ও জনগণের অন্যান্য দুর্বল অংশ সমূহ ইত্যাদি মোট ৩৬ দফা কর্মসূচি সুপারিশ আকারে পেশ করা হয়েছিল। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন নির্বাচনে বামফ্রন্টের ইশ্্তেহারে আমাদের মূল বক্তব্যগুলি উল্লেখ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট সকল বামপন্থী, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির একটি বিকল্প ইশতেহার প্রকাশ করে আহ্বান জানিয়েছিল: “রাজ্যের এই অরাজক বন্দিদশার অবসান ঘটাতে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি’কে রুখে দিতে হবে। বাম,গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির বিকল্পকে জয়ী করতে হবে। বামফ্রন্ট ও সহযোগী ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট,সিপিআই(এমএল)লিবারেশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সোশ্যালিস্ট পার্টির সমস্ত প্রার্থীকে জয়যুক্ত করুন। বামপন্থার পুনর্জাগরণের পথে তৈরি হোক বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির মানুষের-সরকার।” বলাবাহুল্য, ১৯৭৭ সাল থেকে ২০২৬-এর মধ্যবর্তী প্রায় পঞ্চাশ বছরে দুনিয়া,দেশ ও রাজ্যের পরিস্থিতি অপরিবর্তনীয় নয়, হতে পারেনা। মিল কম,গড়মিলটাই বেশি। সেই কারণেই যুক্তফ্রন্ট, বামফ্রন্ট এবং বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির ঐক্য সমার্থক হতে পারেনা। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর দুনিয়ার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ -- এই দু’টিই ছিল আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বের নিটফল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের সুবিধাবাদী রণনীতির ফলাফল স্বরূপ তার পতন ও লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকদের তৃতীয় আন্তর্জাতিক গঠন,মহান নভেম্বর বিপ্লবের সাফল্য, বহুচর্চিত জার্মানির বিপ্লবের ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতালি,জার্মানি ও স্পেন ইত্যাদি উত্তর গোলার্ধের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় আন্তর্জাতিকের সপ্তম কংগ্রেসে গৃহীত বহুকথিত ডিমিট্রভের থিসিস বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে সঠিক পথের দিশা দেখিয়েছিল। এর ফলশ্রুতিতে স্তালিনের নেতৃত্বে মহাপরাক্রমশালী সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রুশভেল্ট ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের তথাকথিত মিত্রশক্তির জয় সুনিশ্চিত হয়েছিল। এর পরেই হো চি মিনের নেতৃত্বে ভিয়েতনাম বিপ্লব, পূর্ব ইয়োরোপের দেশগুলির সমাজতন্ত্রের অভিমুখে যাত্রা, মাও সে তুঙের নেতৃত্বে চীন বিপ্লব, কোরিয়া (উত্তর), ফিদেল-চে প্রমুখের নেতৃত্বে কিউবার বিপ্লব, এশিয়া-আফ্রিকা-লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতে স্বাধীনতা সংগ্রামকে শক্তি জুগিয়েছিল। অগ্রসর পুঁজিবাদী তথা সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলিতে অর্থনৈতিক সংকট সাময়িকভাবে হলেও মন্দার নিরসন করতে পেরেছিল। এর বিপরীতে এখনকার সময় দুনিয়াজুড়ে অর্থনীতির যে সংকট, নয়া ফ্যাসিবাদের উত্থান, বিশেষকরে ২০০৮ সালে তথাকথিত লুটেরাপুঁজির আধিপত্য, প্যালেস্তাইন-ইরান-মধ্যপ্রাচ্য সহ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার দেশগুলিতে সাম্রাজ্যবাদ ও তার মদতপুষ্ট গৃহযুদ্ধগুলি মানবসমাজ, প্রাণী ও উদ্ভিদ জগৎ, প্রকৃতি ও পরিবেশজুড়ে বহুমাত্রিক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে। একটা বহুমাত্রিক ঐক্যই কেবল এর মোকাবিলা করতে পারে।
আমাদের দেশ ও রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি উপরোক্ত পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতা-উত্তর সময়কালে যে সংকটের মুখোমুখি হয়েছে তা অভূতপূর্ব। কারণ, সংঘ পরিবার পরিচালিত একটি ডবল ইঞ্জিন সরকার এই প্রথম এ রাজ্যে ক্ষমতাসীন হয়েছে। স্বাধীনতার আগে বা পরে কখনো এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। যে পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ৩৪ বছর একটানা সরকার পরিচালনা করেছে তা এর সঙ্গে তুলনীয় নয়। কিন্তু এখানে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে,১৯৭৭ সালে নির্বাচনের আগে সারা দেশের মতো আমাদের রাজ্যেও লোকসভা নির্বাচনে আমরা তখনকার জনতা পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছিলাম এবং বিধানসভায়ও আমরা ৫২ শতাংশ আসন তাদের ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছিলাম। পরবর্তীকালে ২০০৪ সালে কেন্দ্রে কংগ্রেসের মনমোহন সিং সরকারকে আমরা বাইরে থেকে সমর্থন জানিয়েছিলাম। পরমাণু চুক্তির প্রশ্নে আমরা সেই সমর্থন প্রত্যাহার করলেও পরবর্তীকালে পর্যালোচনার সময় আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও প্রধানমন্ত্রী চুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য বিমানযাত্রার সময় তা না করে আলোচনার শুরুতেই তা করলে ভালো হতো বলে মনে করা হয়েছে। মূলকথা হলো, মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিগুলির মধ্যে নিছক তুলনা না করে ‘নির্দিষ্ট পরিস্থিতির নির্দিষ্ট বিশ্লেষণ’ই হলো দ্বন্দ্বতত্ত্বের সারসত্তা। বামফ্রন্ট সরকার গঠন ও পরিচালনা, সীমাবদ্ধ ক্ষমতার মধ্যে ভূমিসংস্কার,কৃষি উৎপাদন,শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, ধাপে ধাপে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার প্রসার,শিক্ষক- কর্মচারীদের নিয়োগ-বেতন ও নিরাপত্তার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার,সর্বোপরি ত্রিস্তর পঞ্চায়েত,পৌরসভা, সমবায়, মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ইত্যাদির মধ্য দিয়ে সীমাবদ্ধ হলেও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিতে ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক -শিক্ষাকর্মী সংগঠনগুলির নিয়মিত নির্বাচন ইত্যাদির ক্ষেত্রে বামফ্রন্ট সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। বনসৃজন এবং সর্বশিক্ষায় সাফল্যের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছিল। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, আদিবাসী-তপশিলি-ওবিসিভুক্তদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা হয়েছিল। ৩৪ বছরে বামফ্রন্ট সরকারের সাফল্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহুবার প্রশংসিত ও স্বীকৃত হয়েছে,যা কোনোদিনই মুছে ফেলা যাবেনা। যেগুলির বিবরণ এই নিবন্ধের ক্ষুদ্র পরিসরে তুলে ধরা অসম্ভব। তবে এই সমস্ত কিছুই সমালোচনা-আত্মসমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সংখ্যায় ও কর্মসংস্থানে আমরা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে ছিলাম এবং মাঝারি শিল্প উৎপাদনে আমরা অগ্রসর হচ্ছিলাম। বৃহৎ ও ভারি শিল্প গড়ে তোলার আবশ্যকীয়তা উপলব্ধি করে প্রথম বামফ্রন্ট সরকার থেকে বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও সপ্তম বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বিরোধীদের সম্মিলিত ধ্বংসাত্মক অভিযান সাময়িকভাবে হলেও সফল হয়েছিল। যার ফল রাজ্যবাসীকে এখনো ভোগ করতে হচ্ছে। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে বাইরের রাজ্য থেকে এ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের আসা এরাজ্যের শ্রমিকদের বাইরে যাবার তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল। কিন্তু এই সরকারের শেষের দিকে বিরোধীদের শিল্পবিরোধী ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের ফলে এই পরিস্থিতিটা পুরোপুরি উলটে যায়।
বামফ্রন্ট সরকারই শেষ কথা নয়। সরকার না থাকলেও বামফ্রন্ট ছিল,আছে ও থাকবে। কিন্তু বামফ্রন্টই যথেষ্ট নয়। বামফ্রন্টের বাইরের বাম, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলির যুক্ত আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলাই এই সময়ের মূল কর্তব্য। সংসদ বহির্ভূত সংগ্রামই হলো সংসদীয় সংগ্রামের ভিত্তি। এর বিপরীতে সংসদ সর্বস্বতা হলো সংসদীয় সুবিধাবাদ। শেষ বিচারে জনগণই ইতিহাস রচনা করেন। কিন্তু মার্কস এ কথাও লিখেছিলেন যে,জনগণকে যে পরিস্থিতির মধ্যে তা করতে হয় সেটাই তাদের বাধ্যবাধকতা। পরিস্থিতির পরিবর্তন আপনা-আপনি হয়না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতির নির্দিষ্ট বিশ্লেষণের দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেই তার পরিবর্তন সম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এককথায় প্রায় এক শতাংশ মানুষ বাকি নিরানব্বই শতাংশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক তথা বহুমুখী আধিপত্য কায়েম করে। এই হাতিয়ারের মূল লক্ষ্য হলো জাতি, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ ইত্যাদি বহুবিধ বিভাজনের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে পরস্পর বিরোধী সংঘাত ও সংঘর্ষ নির্মাণ করা। এর বিপরীতে ব্যাপকতম মানুষকে প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ করা যে সম্ভব, তা ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত। নিছক বইপড়ে জ্ঞানলাভ সম্পূর্ণ হয়না। অনেক নিরক্ষর মানুষও মহাকাব্য রচনা করেছেন মুখেমুখে। যা পরে মুদ্রিত হয়েছে। চলতি কথায় বলা হয় পড়াশোনা। এই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাণ্ডজ্ঞান আমাদের বহুপঠিত জ্ঞানের চাইতে কম নয়। তাঁদের সঙ্গে আমাদের দৈনন্দিন ও নিবিড় সম্পর্ক ছাড়া গণসংগ্রাম গড়ে তোলা অসম্ভব। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াই যথেষ্ট নয়,ধারাবাহিকতা ছাড়া গণসংগ্রামগুলিকে কার্যকর রূপ দেওয়া ও জয় সুনিশ্চিত করা অসম্ভব। ঠিক এই মুহূর্তে আমাদের রাজ্য, দেশ ও দুনিয়ার গণসংগ্রামগুলি সেই পথেই অগ্রসর হচ্ছে। আমরা জয় করব নিশ্চয়— এই প্রত্যয় আমাদের আছে।
দেশহিতৈষী পত্রিকায় প্রকাশিত
প্রকাশ: ২১-জুন-২০২৬
শেষ এডিট:: 20-Jun-26 20:05 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/we-will-definitely-win
Categories: Fact & Figures
Tags: 34 years left front
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (165)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (149)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (81)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)




