বুর্কিনা ফাসোর স্ট্রাগল

Author
সাত্যকি ভট্টাচার্য

ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ এবং শেয়ার ফ্রান্সের ব্যাংকগুলোর হাতে থাকার জন্য উন্নত শিল্পের বিকাশ সম্ভব না। ব্যাংক ফ্রান্সের ফাটকা লাভের দিকটাই দেখবে। উন্নত শিল্পের ভিত্তি স্থাপনে বিরাট টার্ন ওভার পিরিয়ড দরকারি। সেটা ফরাসী সাম্রাজ্যবাদীদের পক্ষে লাভজনক না।

Burkina Faso’s Struggle: A Report

আফ্রিকার যে যে দেশে ফরাসী উপনিবেশ ছিল, সেগুলোতে বিভিন্ন উপায়ে সাম্রাজ্যবাদী শোষণ অব্যাহত রাখতে চেয়েছে ফ্রান্স। প্রধানতম উপায় হল CFA ফ্রাঙ্ক নামক মুদ্রার দ্বারা।

কীভাবে, দেখা যাক।

১. এই মুদ্রার মূল্য ইউরোর সাথে পেগড। অর্থাৎ ইউরোর তুলনায় এর মূল্য নির্দিষ্ট। বাড়ানো, কমানো যায় না।

সদ্য স্বাধীন, শিল্পে পিছিয়ে থাকা দেশগুলো তাড়াতাড়ি নিজেদের রপ্তানির বাজার তৈরি করতে চাইলে নিজেদের মুদ্রার মূল্য কমিয়ে দেয়। ফলে তাদের দেশে তৈরি একই জিনিস কিনতে বিদেশী আমদানীকারককে তুলনায় কম নিজের মুদ্রা খরচ করতে হয়। কিন্তু CFA ফ্রাঙ্কের ক্ষেত্রে সেই উপায় নেই। ফলে দেশগুলোর রপ্তানি বাড়িয়ে শিল্পায়নের পথে, বা বিদেশী মুদ্রা পেয়ে তার বদলে প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি করার পথে বিরাট বাধা। একইভাবে উন্নত শিল্পায়িত দেশগুলোর কোম্পানিদের আফ্রিকায় একচেটিয়া রপ্তানিও সহজ থাকে।

একটা মানুষ যদি দেখে নিজের দেশে বানানো জিনিস কিনতে ৫০০ ফ্রাঙ্ক দিতে হচ্ছে, বদলে আমদানি করলে সেটার মূল্য ফ্রাঙ্কের হিসেবে ৪০০ হচ্ছে, সে তাইই করবে।

২. CFA অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মধ্য আফ্রিকার দেশগুলোকে এখনও তাদের বিদেশী মুদ্রার ভাণ্ডারের অর্ধেক ফ্রান্সের জিম্মায় রাখতে হয়। ফ্রান্স এগুলো যথেচ্ছ লগ্নি করে এবং এই দেশগুলোকে সামান্য সুদ ফেরত দেয়। কখনও ‘তোদের অর্থনীতি সামলাচ্ছি’- এমন অজুহাতে উল্টে এদের থেকেই অর্থ নেয়।

ফ্রান্সের আরও কিছু সুবিধে রয়েছে। সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস (BCEAO) এবং ব্যাংক অফ সেন্ট্রাল আফ্রিকান স্টেটস (BEAC) তে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা আছে ফ্রান্সের। অতএব এখানকার দেশগুলো সুদের হার কমিয়ে শিল্পায়নের উৎসাহ দিতে চাইলে, ফ্রান্সের অনুমতি ব্যতীত তা সম্ভব নয়।

এই দেশগুলি শিল্পে উন্নত না হতে পারার জন্য অসম বাণিজ্যের একটা ঘটনা এমনিই চালু আছে। ধরুন, বুরকিনা ফাসোতে একটি গাড়ি বানাতে ২০০০ ঘণ্টা মানবিক শ্রম প্রয়োজন। সেই একই গাড়ি জার্মানিতে বানাতে ৫০০ ঘণ্টা মানবিক শ্রমের প্রয়োজন। সহজ হিসেবের জন্য ধরলাম এক ঘণ্টা মানবিক শ্রম জাত মূল্যকে ১ টাকায় প্রকাশ করা হয়। বিশ্বের বাজারে যেকোনও ক্রেতা নিশ্চয় ২০০০ টাকা দিয়ে গাড়ি কিনতে যাবে না। ৫০০ টাকাতেই কিনবে। এক্ষেত্রে জার্মানি নিজের ভ্যালুর চেয়ে বেশি দামে, অর্থাৎ ইচ্ছে করলেই ১৯৯৯ টাকায় গাড়ি বেচতে পারে এবং পুরো বাজারের দখল রাখতে পারে। জার্মানির ক্ষেত্রে এটা সুবিধেজনক, কারণ যতগুলিই কোম্পানি থাক, "সুসভ্য পশ্চিমে" মোটামুটি সবার মেজর শেয়ার কিনে রাখে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যাংক। কাজেই, নিজেদের মধ্যেও বিরাট কিছু প্রতিযোগিতা নেই। একমাত্র উপায়, বুরকিনা ফাসো যদি নিজের উৎপাদিত মূল্যের চেয়ে কম দামে গাড়ি বেচে। শেষমেষ হয়তো গাড়ির দাম ৭০০ টাকায় ঠিক হল। এক্ষেত্রে বুরকিনা ফাসো গাড়ি প্রতি ১৩০০ ঘণ্টা মানবিক শ্রম স্রেফ জলাঞ্জলি দিল। এই হল শ্রম চুরির কায়দা। অবশ্যই এটা কোনও "ইকুইলিব্রিয়াম" অবস্থা নয়। ইকুইলিব্রিয়াম অবস্থায় সম মূল্যের বস্তু লেনদেন হতে বাধ্য। কিন্তু এই ইকুইলিব্রিয়াম না আসা অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরেই চলতে পারে। আর এই অবস্থাকে দীর্ঘায়িত করে মার্কিন ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থরক্ষায় তৈরি ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের মত প্রতিষ্ঠান।

আর এর একমাত্র সমাধান দাঁড়ায়, আফ্রিকায় শ্রম জাত মূল্য কমিয়ে রাখলে। অর্থাৎ আফ্রিকায় ২০০০ ঘণ্টা শ্রম যা মূল্য তৈরি করে, জার্মানিতে ৫০০ ঘণ্টা শ্রম সেই মূল্য তৈরি করলে।

প্রথমত ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ এবং শেয়ার ফ্রান্সের ব্যাংকগুলোর হাতে থাকার জন্য উন্নত শিল্পের বিকাশ সম্ভব না। ব্যাংক ফ্রান্সের ফাটকা লাভের দিকটাই দেখবে। উন্নত শিল্পের ভিত্তি স্থাপনে বিরাট টার্ন ওভার পিরিয়ড দরকারি। সেটা ফরাসী সাম্রাজ্যবাদীদের পক্ষে লাভজনক না।

উন্নত শিল্পের পথে আরও বড় বাধা হল, সস্তা বিদেশী পণ্যে বাজার ছেয়ে যাওয়া এবং CFA ফ্রাঙ্কের বিনিময় মূল্য কমাতে পারার অক্ষমতা।

আর ফ্রান্স চাইবেই বা কেন, আফ্রিকা শিল্পায়িত হোক। সেক্ষেত্রে তো প্রতিযোগিতা বাড়বে, এবং আবারও উৎপাদন মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে অতি মুনাফা (সুপার প্রফিট) আয় করার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

আসলে এই সমস্ত বিষয়গুলো ইউরোপীয়, মার্কিন পুঁজিপতিরা বহু আগেই বুঝে গেছিল।

আফ্রিকাকে তারা কাঁচামাল সরবরাহকারী স্থান হিসেবেই রাখতে চেয়েছে। সেখানে তারা ওয়ারলর্ডদের পুষেছে। যারা প্রাক পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে শ্রম শোষণ করবে সুসভ্য পশ্চিমের হয়ে। আফ্রিকার কোকো উৎপাদনে রীতিমত ক্রীতদাস ধরণের মানুষ শ্রম দেবে। যেহেতু প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত কাজ নয়, তাই সুশিক্ষিত প্রলেতারিয়েত প্রয়োজন নেই এসব ক্ষেত্রে। সবচেয়ে বেশি শোষণ যার মাধ্যমে সম্ভব, তাকেই কাজে লাগাবে পুঁজিবাদ। কোকো প্ল্যান্টেশনে কর্মরত মহিলা দিবারাত্র পরিশ্রম করবেন। ধর্ষিতা হবেন যখন তখন। হয়তো ৩ সন্তানের মা হয়ে ৩৫ বছর বয়সে মারা যাবেন। আর তাঁর সন্তানেরা ৩/৪ বছর বয়স থেকেই একই কোকো প্ল্যান্টেশনে কাজ করবে। এঁদের রক্তে ভেজা কোকো পরবর্তীকালে ইউরোপে প্রসেসড ও প্যাকেজবন্দী হয়ে "বেলজিয়ান চকোলেট" নাম নিয়ে বিপুল দামে আমাদের গিফটবাক্সে এসে পৌঁছবে। মখমলের মত মসৃণ। সিল্ক চকোলেট।

এই সমস্ত নানা কারণে ফ্রান্স দালাল বুর্জোয়াদের ব্যবহার করে। ধরুন কোনও দেশের সরকার নিজেদের অভ্যন্তরীণ লেনদেনের জন্য মুদ্রা তৈরী করার কথা ভাবল। অত্যন্ত কাজের কাজ। কিন্তু ফ্রান্সের আধিপত্যের পথে বাধা। যাতে এরকম বাধা না আসে, তাই জায়গায় জায়গায় নিজেদের হাতের পুতুলদের ক্ষমতায় বসিয়ে রেখেছে ফ্রান্স। যেমন আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রপতি আলসান আউটারা। ইমানুয়েল ম্যক্রোর সাথে বৈঠক করে বলল — CFA ফ্রাঙ্ক তুলে দেওয়া হচ্ছে। তার জায়গায় "ইকো" নামের একটি মুদ্রা চালু হবে।

মজার ব্যাপার হল ইকো আর ইউরো পেগড থাকবে।

তাহলে আসল পরিবর্তন হল কই!

এসব আসলে চোখে ধুলো দেওয়া ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছু না।

আর আফ্রিকার এই দেশগুলোর মধ্যে অবাধ বাণিজ্যিক লেনদেনের ব্যাপার আছে। কাজেই কোনও দেশে বৈপ্লবিক সরকার গঠন হলে সেখানকার ফরাসী দালাল পুঁজিপতিরা বড় পরিমাণ অর্থ অন্য দেশে পাঠিয়ে দিতে পারে, খুব সহজেই।

আর ঠিক সেই কারণেই যাঁরা স্বপ্ন দেখতে চেয়েছেন, সত্যিকারের পরিবর্তনের দিকে এগিয়েছেন, তাঁদের খুন হতে হয়েছে ইউরোপীয় ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে। কমরেড ক্যাপ্টেন থমাস সংকারা, কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি, ফেলিক্স মৌমি, সিলভানাস অলিম্পিও এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এঁদের মধ্যে কর্নেল গাদ্দাফির লিবিয়া CFA ব্লকের অংশ না হলেও কর্নেল গাদ্দাফি আফ্রিকার মধ্যে দিনার দিয়ে বাণিজ্যের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদী শোষণ নিয়ে লিখতে গেলে সে কথা শেষ হওয়ার নয়, বরং আশার কথায় আসা যাক।

২০২২ সালে বুরকিনা ফাসোয়, ২০২০ এবং ২০২১ সালে মালিতে এবং ২০২৩ সালে নাইজারে সেনা অভ্যুত্থান হল। তিনটি দেশের সামরিক সরকার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করল। এবং আফ্রিকার সার্বভৌমত্বের কথা তুলল। এর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ভূমিকায় দেখা গেল বুরকিনা ফাসোর ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরেকে। একসময়ের মার্কসবাদী ছাত্র রাজনীতি করা এই সেনানায়ক হয়ে উঠলেন সাহেল অঞ্চলের নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠ। সহজ, অথচ দৃপ্ত ভঙ্গিতে বুঝিয়ে চললেন ফরাসী নয়া উপনিবেশবাদ, আফ্রিকার সার্বভৌমত্বের প্রয়োজন, এমনকি ইসলামিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ফ্রান্সের যোগ।

সত্যি বলতে, এই নতুন বিপ্লবী সরকারগুলো তৈরি হওয়ার পরেই আল কায়দা হঠাৎ এখানকার মানুষকে এদের বিরুদ্ধে জনযুদ্ধ নামতে বলে। নিন্দুকেরা বলবে ফ্রান্সের এয়ার ড্রপ করা অস্ত্রগুলো আর না পাওয়াতেই এই রাগ। এই গোষ্ঠীগুলো কীভাবে সাম্রাজ্যবাদীদের হয়ে কাজ করে আমরা জানি।

যাই হোক, এই সব দেশগুলিতে আল কায়দা এবং তার অন্যান্য আফ্রিকান ভ্রাতৃপ্রতিম গোষ্ঠীগুলোর উৎপাত একটি বড় সমস্যা। সেনা সরকার সর্বদাই এদের মোকাবিলায় ব্যস্ত।

এর মধ্যে ২০২৩ সালে এই তিনটি দেশ মিলে অ্যালায়েন্স অফ সাহেল স্টেটস (AES) তৈরী করলেন। মানুষজনের বিপ্লবী উদ্দীপনা তুঙ্গে। বিশেষত বুরকিনা ফাসোতে থমাস সংকরার খুনের পর মানুষ যেন তাঁর পুনর্জন্ম দেখছেন। সংকরার মতই দেশে উন্নত শিল্পে বিনিয়োগ করার চেষ্টা হচ্ছে। এর মধ্যেই বৈদ্যুতিন গাড়ি তৈরি হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সাথে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাতের সময়ে ইব্রাহিম ট্রাওরে অনুরোধ করেছেন শিক্ষার বিস্তারে সাহায্য করতে। বুর্কিনা ফাসো রাষ্ট্রায়ত্ত খনিজ উত্তোলনকারী কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বিদেশী কোম্পানিরা, যারা ওখানে খনিজ উত্তোলনের কাজ করবে তাদের ১৫ শতাংশ স্টেক থাকবে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির হাতে। এবং তারা বুরকিনা ফাসোর মানুষকে প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিতে বাধ্য থাকবেন। এই প্রথমবার বুরকিনা ফাসোর ইতিহাসে দেশটি স্বর্ণ পরিশোধনাগার তৈরি করছে এবং সোনা রিজার্ভ তৈরি করছে। ত্রাওরে একবার বলেছিলেন নাইজারের ইউরেনিয়াম ফ্রান্সের বিদ্যুৎ তৈরি করে, অথচ নাইজারের ঘরে বাতি জ্বলে না। আফ্রিকা, সাহেল বিপ্লবের ওপর নির্ভর করে, নিজের সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিজে নিতে শুরু করেছে।

তিনটি দেশ থেকে ফরাসী সেনাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফরাসী ঔপনিবেশিক কলঙ্ককে মুছে দিয়ে দেশগুলো সত্যিকারের সার্বভৌমত্বের পথে অগ্রসর হচ্ছে।

অনেক পথ চলা বাকি। সুদীর্ঘ অনুন্নয়ন জনিত সমস্যা দূর করতে, সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালাল মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়তে বিশাল পরিশ্রম করা বাকি। বিপ্লবের মুখ হিসেবে ট্রাওরে পরিচিতি পেয়েছেন। কিন্তু নাইজারের আব্দুরাহমান চিয়ানি ও মালির আসিমি গোয়েটা এবং দেশগুলোর অগণিত বিপ্লবী, বিশেষত তরুণ তরুণী আফ্রিকার মুক্তির স্বপ্ন বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এ এক বড় অসম যুদ্ধ। একদিকে সাম্রাজ্যবাদীরা, যারা আক্ষরিক অর্থে ‘armed to the teeth’। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার সামরিক ঘাঁটি। বিশ্বের মূল ফাইন্যান্সিয়াল ব্যবস্থা এদের দখলে। প্রথমদিকে তো ফ্রান্সের চাপে নাইজেরিয়ার সরকার এদের সাথে অত্যন্ত অসহযোগিতা করতে আরম্ভ করেছিল। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু হয়তো সমগ্র আফ্রিকার মধ্যেই এক বৈপ্লবিক হাওয়া বইছে। সেনেগালেও রীতিমত সেনার সাথে যুদ্ধ করে মানুষজন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছেন।

বুর্কিনা ফাসোর তরুণ তরুণীরা ক্যাপ্টেন ট্রাওরের বাসস্থানের পাশে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন, কারণ তাঁদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে বেশ কয়েকবার খুন করার চেষ্টা হয়েছে।

এ এক লড়াই। নিছক কোনও ব্যক্তির না, মানুষের অধিকারের। সে লড়াই মানবাধিকারের চিরায়ত দাবীকেই সামনে রাখে, এগিয়ে চলে।  

লুটেরা পরজীবীর বিরুদ্ধে শ্রমজীবী।

পুঁজির বিরুদ্ধে মানুষ।

জয়, পরাজয় তো ইতিহাসের প্রশ্ন, আমাদের সামনে আজকের বুরকিনা ফাসো, ক্যাপ্টেন ট্রাওরে এবং সে দেশের মানুষ, আর তাদের হার না মানা, মাথা উঁচু রাখা লড়াই… স্ট্রাগল।


প্রকাশ: ০৮-সেপ্টেম্বর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image


অন্যান্য মতামত:

বুর্কিনা ফাসো'র জনগণের এই লড়াই সাম্রাজ্যবাদী পদানত অথচ মুক্তিকামী (দেশগুলোর) জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবে।
- Ashesh Biswas, ০৮-সেপ্টেম্বর-২০২৫



শেষ এডিট:: 08-Sep-25 09:31 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/burkina-faso’s-struggle-a-report
Categories: International
Tags: democraticright, imperialism
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড