কাজ নেই! অথচ ক্লাবগুলিকে খয়রাতি ১৩০০ কোটি টাকা


প্রকাশ: ১৪-মার্চ-২০২০
কলকাতা, ১৩ মার্চ — বেকারদের কাজ নেই, খয়রাতিতে দরাজ রাজ্য সরকার।
২৬হাজার ক্লাব। খয়রাতির জন্য খরচ ১৩০০কোটি। সরকারের কোষাগার থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়ে গেছে ক্লাবের অনুদানে। ২০১২সাল থেকে ক্লাবের জন্য টাকা বরাদ্দ শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। প্রথম বছর ২লক্ষ টাকা করে। পরে প্রতি ৩বছর ১লক্ষ করে টাকা খরচ হয়েছে ক্লাব পিছু খয়রাতিতে।
এদিনই কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মচারীদের জন্য ৪ শতাংশ ডিএ ঘোষণা হয়েছে। এরাজ্যের সরকারি কর্মীদের নয়া বেতন কাঠামোতে ডিএ বকেয়া দাঁড়ালো ২১শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারি থেকে ডিএ-হীন বেতন পাচ্ছেন রাজ্যের কর্মীরা।
এরাজ্যে বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের জন্য বামফ্রন্ট সরকার চালু করেছিল আর্থিক সহায়তা। ৫০০টাকা দিয়ে শুরু করে মাসিক সেই অনুদান ১৫০০টাকা করে যায় বিগত সরকার। গত ৮বছরে এক টাকাও আর বাড়ায়নি রাজ্য সরকার।
ধান কেনার জন্য চলতি মরশুমে কেন্দ্রীয় সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ধার্য করেছে কুইন্টাল পিছু ১৮৩৫টাকা। নবান্ন সহায়ক মূল্যের সঙ্গে কুইন্টালে বোনাস দিচ্ছে ২০টাকা। অথচ কেরালার বামফ্রন্ট সরকার সহায়ক মূল্যের সঙ্গে কুইন্টালে ৮৬৫টাকা বোনাস দিচ্ছে। কেরালার কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রি করে কুইন্টাল পিছু ২৭০০টাকা দর পাচ্ছে।
এরাজ্যে ক্লাব পিছু ৫লক্ষ টাকা। ২৬হাজার ক্লাবের জন্য এখনও পর্যন্ত মমতা ব্যানার্জির সরকার ১৩০০কোটি টাকা উড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার ইন্ডোর স্টেডিয়ামের এক সভা থেকে মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘২৬হাজার ক্লাবকে প্রথমে ২লক্ষ টাকা, পরে তিন বছরে ১লক্ষ টাকা করে দিই। ক্লাবের স্পোর্টস ইকুইপমেন্টস কেনার জন্য। মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য।’
শুধু ৫লক্ষ টাকা করে দেওয়াই নয়। দুর্গাপুজোতেও ক্লাবের জন্য দরাজ মমতা ব্যানার্জির সরকার। এক বছরে ১৫০শতাংশ অনুদান বাড়িয়ে গতবার দুর্গাপুজোর সময় ২৮হাজার ক্লাবকে টাকা দিয়েছিল রাজ্য সরকার।
২০১৮সালে ১০হাজার টাকা করে অনুদান ছিল দুর্গাপুজোর। ২০১৯’র শারদোৎসবের আগে সেই অনুদান বাড়িয়ে ২৫হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর জন্য ২৮হাজার ক্লাবের জন্য এককালীন অনুদানের কথা এদিন জানাতে ভোলেননি মমতা ব্যানার্জি। এদিন ক্লাবের চেক বিলির অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘আজকে যাঁরা টাকা নেওয়ার জন্য এসেছেন তাঁরা টাকা পাবেন। তবে এখান থেকে বিলি করা হবে না। কলকাতার ক্লাবের টাকা কলকাতা পুলিশ কমিশনার মারফত পৌঁছে দেওয়া হবে। জেলার ক্লাবের চেক রাজ্য পুলিশের ডিজিকে দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। দুর্গাপুজোর সময় ক্লাবগুলির টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।’ মঞ্চ থেকে মমতা ব্যানার্জি ৩দিনের মধ্যে চেক ক্লাবের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুলিশ ও যুবকল্যাণ দপ্তরকে নির্দেশ দেন।
২৬হাজার ক্লাবের চেক বিলির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বামফ্রন্ট পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এদিন বিধানসভায় সুজন চক্রবর্তী জানান, কার টাকা দেওয়া হচ্ছে? কীসের ভিত্তিতে ক্লাব বাছাই করা হয়েছে? আসলে তৃণমূলের বাহিনী তৈরি করার জন্য জনগণের টাকা এইভাবে ক্লাবকে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ক্লাবের চেক বিলি করা হবে পুলিশকে দিয়ে। পুলিশের নজরদারিতে থাকতে হবে ক্লাবকে। আবার ক্লাবও যদি কিছু করতে চায় তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী যোগাযোগ রাখতে বলেছেন থানার আইসি’র সঙ্গে। ইন্ডোর থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারের প্রচুর স্কিম আছে। কাজ আছে। যে ক্লাব চাইবে জেলা শাসক, বিডিও, থানার আইসি’র কাছে তাদের পরিকল্পনা জমা দেবে।’ শাসক দলের অনুমোদনে মিলবে টাকা মেলার ছাড়পত্র। টাকা হাতে আসার পর পুলিশ, প্রশাসনের নজরদারিতে থাকতে হবে ক্লাবকে।
জনগণের করের টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে ক্লাবের কাছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় এই টাকা দেওয়া হচ্ছে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য। কিন্তু ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এলাকার বেকার যুবকরাই। মাথা তুলে দাঁড়াতে সরকারের খয়রাতির থেকে দরকার কাজ। প্রয়োজন কারখানা গড়া। নিয়মিত স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের বিজ্ঞাপন। গত সাত বছরে বেকার যুবকদের নিয়োগের কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের। তৈরি হয়নি বেকার যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার জন্য কারখানা।
কাজ কি নেই এরাজ্যে! এদিন চেক বিলির অনুষ্ঠানে আসা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত বেকারদের কাছে কাজের কথা শুনিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেমন সেই কাজ?
রাজ্যের বেকারদের জন্য কাজের অনেক পরামর্শ এদিন এসেছে মমতা ব্যানার্জির কাছ থেকে। এলাকায় গাছ পোঁতা, শহর এলাকায় পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখার কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মনে হতে পারে, সামাজিক কর্মকাণ্ড এলাকার যুবকদের যুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তাৎপর্যপূর্ণভাবেই তিনি একসময় বলেন, ‘ক্লাবে ছেলেমেয়েদের কেউ পড়াতে পারে। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। অন্তত একটা ক্লাব থেকে একটা এলাকায় আমরা পড়াশোনার জন্য নিতে পারি। ক্লাব থেকে তাদের একটা হাতখরচা দেওয়া হলো। ক্লাবেরও দু’টো ছেলের কাজ হলো। যারা ভালো কাজ করবে আস্তে, আস্তে তারাও যুক্ত হবে।’
কোথায় যুক্ত হবে?
ইন্ডোরে আসা বেকারদের কাছে মমতা ব্যানার্জির ঘোষণা, ‘আমরা পুলিশে ফুটবল খেলাই। জঙ্গলমহলে, সুন্দরবনে। যারা জিতেছে, যারা রানার্স হয়েছে তাদের ৯০শতাংশকে আমরা সিভিক পুলিশে ঢুকিয়ে দিয়েছি। রেডিমেড ছেলেমেয়ে বলে তাদের আমরা কাজ দিয়েছি।’
এদিন ইন্ডোরের অনুষ্ঠানে আই লিগ জয়ী মোহনবাগান ও শতবর্ষ পার করা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে ২১লক্ষ করে টাকা তুলে দেয় সরকার। ক্রীড়াক্ষেত্রের বিভিন্ন ব্যাক্তিত্বদের সম্মান প্রদান করা হয়।
শেষ এডিট:: 14-Mar-20 11:35 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/workless-bengal-subsidies-clubs-by-1300-crores
Categories: Current Affairs
Tags: mamata banerjee cm, tmcgovtwb
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (159)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (144)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (79)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





