করোনার জন্য পিছিয়ে যেতে বসেছে রাজ্যে পৌরভোট ?

Author
ওয়েবডেস্ক

WB Corporation Election: Delay Due To COVID-19?

প্রকাশ: ১৬-মার্চ-২০২০

পৌরভোট নয়, করোনাকেই সর্বোচ্চ বিবেচনায় রাখছে রাজ্য নির্বাচন কমিশনও। ফলে পিছিয়ে যেতে বসেছে রাজ্যে পৌরভোট। 

সোমবার দুপুর ৩টেয় পৌরভোট নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে রেখেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ওই বৈঠকেই কমিশনের তরফে করোনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ মহল থেকে জানানো হয়েছে, ‘‘করোনা নিয়ে সমস্যা আছে। সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে আমরা নিশ্চিতভাবে করোনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার মধ্যে রাখব।’’ সর্বদলীয় বৈঠকের আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই মনোভাবই বুঝিয়ে দিচ্ছে, রাজ্যে এই মুহূর্তে পৌরভোটের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস করোনার জন্য পৌরভোট স্থগিত রাখার দাবি জানাবে। গত শনিবার রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও করোনার জন্য পৌরভোট নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। করোনার জন্য ভোট পিছিয়ে গেলে আপত্তি নেই বিজেপি’রও। এই প্রসঙ্গে বামফ্রন্ট পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী জানান, ‘‘রাজ্য সরকার নির্বাচনের দিন ঠিক করে। এ ব্যাপারে সরকার কী ভাবছে, আমাদের জানা নেই। আমরা সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচন চাই। কিন্তু নির্বাচনের থেকে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকে কমিশন যদি সব পরিস্থিতি সার্বিক বিবেচনা করে প্রস্তাব রাখে, আমাদের তা গ্রহণ করতে অসুবিধা নেই।’’ 

কিন্তু আইন অনুযায়ী রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাজ পৌরভোট পরিচালনা করা। ভোটের দিনক্ষণ রাজ্য সরকার ঠিক করে নির্বাচন কমিশনকে জানাবে। তার ভিত্তিতে ভোট পরিচালনা করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ফলে রাজ্য সরকারের তরফে ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কী বার্তা এসেছে, সেটাই বড় প্রশ্ন। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের তরফে নির্বাচন কমিশনকে করোনার কারণে ভোট পিছিয়ে দেওয়ার চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

করোনার জন্য পৌরভোট স্থগিত হলে এপ্রিল মাসে তা হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে না। গত শুক্রবারই তার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন মমতা ব্যানার্জি। নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ক্লাবের চেক বিলির সভায় মমতা ব্যানার্জি করোনা নিয়ে সতর্কতার প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘‘কেউ কারও সঙ্গে হাত মেলাবেন না। নমস্কার করবেন। ৫ মিটার দূরে থাকবেন। বাজারে গিয়ে ভিড় এড়িয়ে থাকবেন। দূরে, দূরে থেকে বাজার করবেন।’’ এই সতর্কবার্তার সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানিয়েছিলেন, ‘‘আমাদের তো কিছু করার নেই। সবাই যেমন করছে, আমাদের তা করতে হবে। দেড়, দু’ মাস এখন এইভাবে সতর্ক থাকতে হবে।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে এপ্রিল মাসে রাজ্যে পৌরভোট নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার পৌরভোট নিয়ে কী চাইছে, তা সোমবারের বৈঠকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। সোমবারই আবার নবান্নে করোনা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। 

শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন পৌরভোট পরিচালনা নিয়ে প্রস্তুতির মধ্যে ছিল। কমিশন সূত্রের খবর, সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর আগামী বৃহস্পতিবার কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশনে ভোটের দিন ঘোষণা হতো। আগামী ১৯ এপ্রিল কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশনের ভোট সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিতে শুরুও করেছিল কমিশন। করোনা রুখতে মুখ্যমন্ত্রী দেড়-দু’ মাস সময় বেঁধে দেওয়ার পরই রাজ্যে পৌরভোট নিয়ে আশঙ্কা দানা বাঁধতে শুরু করে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর, ‘‘শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূলেই ছিল। তারপরই বদলে যায়।’’

গত শুক্রবার ইন্ডোর থেকে ফিরে নবান্নে করোনা নিয়ে প্রশাসনিক সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও তিনি সংক্রমণের জন্য দেড়-দু’ মাসের  সতর্কতার কথা বলেন। শনিবার রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সব মিলিয়ে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্তে পৌরভোট নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। 

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 16-Mar-20 13:14 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/wb-corporation-election-delay-due-to-covid-19
Categories: Current Affairs
Tags: covid-19, tmcgovtwb, wb state election commission
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড