উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনঃ বিজেপি'র কৌশল

বিরোধী রাজনীতিকদের ছুতোনাতায় পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করবার প্রশ্নে অখিলেশের খ্যাতি তো নারায়ণ দত্ত তেওয়ারি থেকে কল্যাণ সিং বা মায়াবতী-- কারো থেকে এতোটুকু কম ছিল না। তা স্বত্ত্বেও দাদরির অভিযুক্তেরা আইনের ফাঁক গলে বেড়িয়ে এসে স্থানীয় বিজেপি সাংসদের সৌজন্যে এলাকায় নানা অস্থায়ী সরকারী কাজে নিযুক্ত হল- আর অখিলেশ বা তাঁর দল, সমাজবাদী পার্টি চোখ বুজে সবটা দেখে গেল-- ব্যাপারটা কি এমন ই সরল ধারাপাতেই চলেছিল? আর সেই সরল ধারাপাতেই কি আগামী বছরের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভার ভোট হতে চলেছে?

প্রকাশ: ৩০-জুলাই-২০২১
উত্তরপ্রদেশের ভোট ঘিরে বিজেপির প্রস্তুতি

গৌতম রায়

চলতি বছরের (২০২১) শুরুতে পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে আশানুরূপ ফল করতে পারে নি বিজেপি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে সরকার করতে না পারাটা যে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এক অর্থে ব্যক্তিগত পরাজয়- এই সহজ সত্যটা দলীয় কর্মী, সমর্থকদের কাছে কোনো অবস্থাতেই আর গোপন করতে পারছে না আর এস এস বা তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির নেতারা। আগামী বছরের (২০২২) শুরুতে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখন্ড, গুজরাট, ত্রিপুরা সহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভার ভোট হতে চলছে। সেই পাঁচটি রাজ্যের ভিতরে উত্তরপ্রদেশ এবং গুজরাটে ক্ষমতা ধরে রাখবার বিষয়টা এখন গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবিরের কাছে আগামী লোকসভা ভোটের (২০২৪) নিরিখে অত্যপ্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।তার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও বাঙালি প্রধান ত্রিপুরাতে ক্ষমতা ধরে রাখবার প্রশ্নটি ও বিজেপির কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ; বাঙালির কাছে গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখাটা জাতীয় স্তরে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখবার প্রশ্নে বিজেপিকে অনেকখানিই মাইলেজ দেয়।
স্বাধীনতার পর থেকে একটা বড়ো সময় পর্যন্ত ভারতের রাজনীতির মূল ভরকেন্দ্র ছিল উত্তরপ্রদেশ।পন্ডিত নেহরু থেকে রাজীব গান্ধী, সব প্রধানমন্ত্রীই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন উত্তরপ্রদেশ থেকে।প্রথম অকংগ্রেসী প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই গুজরাট থেকে নির্বাচিত হয়ে এলেও সেইসময়ের প্রধান বিরোধী ব্যক্তিত্ব ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক ক্ষেত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল উত্তরপ্রদেশ ই।পি ভি নরসিংহ রাও দক্ষিণ ভারতের মানুষ হলেও লোকসভায় গিয়েছিলেন উড়িষ্যার বেহরামপুর থেকে।এইচ ডি দেবগৌড়া এবং আই কে গুজরাল উত্তরপ্রদেশের বাইরে থেকে সংসদে এসেছিলেন।ডঃ মনমোহন সিং আসাম থেকে রাজ্যসভায় যান।অটলবিহারী এবং মোদি দুইজনেই উত্তরপ্রদেশ থেকে লোকসভায় নির্বাচিত।
উত্তরপ্রদেশ , পরবর্তীতে বিভাগোত্তর উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখন্ড শাসকদল কে সবথেকে বেশি সাংসদ দেয়।মোদির দুই দফা প্রধানমন্ত্রীত্ব কালেও তার থেকে ব্যতিক্রম হয় নি।কেন্দ্রে তাই যখন যেদল ক্ষমতায় থেকেছে, সেই দলের কাছেই উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতা ধরে রাখাটা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজেপির উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অন্যতম ভিত্তিভূমি হিশেবেও উত্তরপ্রদেশ এবং সেখানে নিজেদের দলীয় শাসন বজায় রাখাটা সঙ্ঘ রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংসের গোটা প্রেক্ষিত টি ই বিজেপিকে ভোট রাজনীতিতে ধারাবাহিক মাইলেজ দিয়ে এসেছে। গোটা হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তির সমবেত বিভৎসতায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বাবরি মসজিদের ভৌগলিক অবস্থান ছিল এই উত্তরপ্রদেশেই।

তাই মোদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর কিভাবে সমাজবাদী পাটির অখিলেশ সিং যাদব কে সরিয়ে বিজেপিকে রাজ্যপাটে বসানো যায় সেটা ই ছিল আর এস এস সহ গোটা হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবিরের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।দ্বিতীয় দফা ইউ পি এ সরকারের আমলে সমাজবাদী পার্টি উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় এসেছিল।মূলায়ম সিং যাদব তখন নিজে মুখ্যমন্ত্রী হন নি।ছেলে অখিলেশ কে তিনি মুখ্যমন্ত্রী করেছিলেন।মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ই পিতা মূলায়মের সঙ্গে পারিবারিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ। আর সমাজবাদী পার্টির বহু সীমাবদ্ধতা স্বত্ত্বেও তাঁদের যে একনিষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান ছিল, সেই অবস্থানের প্রতি আন্তরিক থাকতে পারেন নি অখিলেশ।তাঁর মুখ্যমন্ত্রীত্বের প্রায় শেষ লগ্নে আর এস এস - বিজেপি সহ গোটা হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর আর্থ- সামাজিক- সাংস্কৃতিক অত্যাচার , নির্যাতনের উদ্দেশে মুজফফর নগরে যে বিভৎস দাঙ্গা চালিয়েছিল, সেই দাঙ্গা দমনে চূড়ান্ত অপদার্থতার পরিচয় দিয়েছিলেন সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ। দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংয়ের ও সেই সময়ের শীতল, আবিমৃষ্যকারী ভূমিকা ছিল একই সঙ্গে হতাশা এবং বেদনাবাহী।
গোরুকে ঘিরে মেরুকরণের রাজনীতি হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবিরের অনেককালের কৌশল। ২০১৪ র লোকসভা ভোটের আগে থেকেই উত্তরভারতে, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে এই গো রাজনীতি আর এস এস- বিজেপি শুরু করে দিয়েছিল।দাদরির শেখ আখলাখের আত্মদানের স্মৃতি আজ ও আমাদের উদ্বেল করে।উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতা দখল করতে এই গোরক্ষা তখন হিপাদুত্ববাদীদের রাজনীতির বলতে গেলে সব থেকে বড়ো অঙ্গ। শেখ আখলাখ বাড়ির ফ্রিজে গো মাংস রেখেছেন- এই মিথ্যে অপবাদে হিন্দুত্ববাদী শিবির তাঁকে নির্মম ভাবে হত্যা করে। আখলাখকে খুন করার পিছনে হিন্দুত্ববাদীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ; গোটা মুসলমান সমাজের কাছে একটা আতঙ্কের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।হিন্দুত্ববাদীদের সঙ্গে কোনোরকম বিবাদ- বিসংবাদে গেলে প্রতিটি মুসলমানের দশা হবে শেখ আখলাখের মতো- আখলাককে নির্মম ভাবে খুন করে এই বার্তাই মুসলমান সমাজকে দিতে চেয়েছিল।
মেরুকরণের রাজনীতি ছাড়া সুস্থ রাজনীতি দিয়ে বিজেপি কখনো নির্বাচনী সংগ্রামে যেতে পারে না।তারা খুব ভালো ভাবেই জানে ধর্মের নামে ধর্মান্ধতা, বিভাজন, দেশপ্রেমের নামে উগ্রতা, অর্থাৎ; শ্যভিনিজম, মেরুকরণ- এইসব অপরাজনীতি ছাড়া রাজনীতির সাধারণ, স্বাভাবিক ধারাপাতে রাজনীতি করা বিজেপির রাজনৈতিক চরিত্রে নেই। তাই ডঃ মনমোহন সিংয়ের দ্বিতীয় দফার শাসনকাল থেকেই পরবর্তী (২০১৪) লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করে বিভাজনের রাজনীতি করে গিয়েছিল বিজেপি।সেই লক্ষ্যেই মুজফফরনগর।যেটির মোকাবিলা করতে মনমোহন এবং অখিলেশ উভয়েরই ব্যর্থতা ভারতের রাজনীতিকে পরবর্তী সাম্প্রদায়িক ঝোঁকের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রশ্নে বেশ অনেকখানিই দায়ী।

মুজফফরনগর দাঙ্গা থেকে যে বিভাজনের পরিবেশ সঙ্ঘ এবং তার রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি তৈরি করেছিল , মোদি ক্ষমতায় আসার পর উত্তরপ্রদেশে বিজেপি রাজ কায়েম করবার লক্ষ্যে সেই পরিবেশকে আবার নোতুন মাত্রা দিতে তারা শুরু করে, সেই মাত্রার ই একটি পরিচয় হল দাদরির ঘটনাবলী আর ঠান্ডা মাথায় সহনাগরিক শেখ আখলাখকে হত্যা করা।এই সময়কালে অখিলেশ সি যাদব ও ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানে তাঁর পিতা মূলায়মের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন নি।সহনাগরিক মুসলমানেরা উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িকদের নারকীয়তার হাত থেকে বাঁচার প্রশ্নে অনেকবেশি নিরাপদ ছিলেন মূলায়মের কাছে।রাজনীতিগত ক্ষেত্রে মূলায়ম সিং যাদবের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমালের নিরাপত্তা কে সুনিশ্চিত করবার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকাটি ছিল সবিশেষ প্রশংসার এবং শ্রদ্ধার।সেই ধারাটি অখিলেশ বজায় রাখতে পারেন নি বলেই দাদরি ঘটেছিল।আত্মবলিদান দিতে হয়েছিল সহায় সম্বলহীন সহনাগরিক শেখ আখলাককে।একটা দাদরির ঘটনা সংবাদ মাধ্যমের দৌলতে প্রকাশ্যে এসেছে।তা নিয়ে শোরগোল হয়েছে।তবে অমন কতো ছোট - বড়ো অজানা দাদরির কবর- শ্মশানের উপর যে অজয় বিশোয়াত , ওরফে স্বঘোষিত ' যোগী' আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই।
মুসলমান সমাজকে বিভ্রান্ত করতে আর এস এস ২০০২ সালের ২৪ শে ডিসেম্বর,' মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ' নামক একটি সংগঠন তৈরি করে। আর এস এসের যাবতীয় চিন্তাভাবনার অনুসারী এই সংগঠনটি ভারতের মুসলমান সমাজের যাবতীয় আর্থ- সামাজিক- রাজনৈতিক- সাংস্কৃতিক- ধর্মীয় দাবি দাওয়ার সম্পূর্ণ বিরোধী।মুসলমান সমাজ সম্পর্কে আর এস এসের যে ভয়ঙ্কর বিদ্বেষমূলক মানসিকতা, সেটিকেই এই সংগঠন নানা ধরণের বিভ্রান্তির ভিতর দিয়ে মুসলমান সমাজে ছড়িয়ে দিতে চায়।আধুনিক বিজ্ঞানমুখী শিক্ষায় যাতে মুসলমান সমাজ নিজেদের গড়ে তুলতে না পারে, সেই উদ্দেশে উলেমা, মৌলবীদের ভিতরেও সঙ্ঘের এই শাখা সংগঠন টি ভয়ঙ্কর সক্রিয় ভূমিকা পালন করে থাকে।বহু ক্ষেত্রে দাঙ্গার পরিবেশ তৈরিতে মন্দিরে গো মাংস ফেলার মতো ঘটনা ঘটিয়ে সামগ্রিক ভাবে দেষের সহনাগরিক মুসলমানদের সম্পর্কে ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং বিভাজনের মানসিকতা তৈরিতেও এই সংগঠন টি একদম আর এস এসের নির্দেশিত পথে কাজ করে।

শেখ আখলাখের মর্মান্তিক খুনের ঘটনার আগে থেকেই দাদরি সন্নিহিত অঞ্চলে আর এস এস এবং তার হাজার রকমের সহযোগী সংগঠন মুসলমান বিদ্বেষ ছড়িয়ে সামাজিক মেরুকরণের কাজ টি জোরদার ভাবে কলছিল। রাষ্ট্রীয় মুসলিম মঞ্চ ও মুসলমানদের ভিতরে বিভ্রান্তি ছড়াতে সবরকম ভাবে সচেষ্ট ছিল।এখন ও যেমন তাদের মঞ্চ থেকে আর এস এস প্রধান মোহন ভাগবত কে দিয়ে গোরক্ষা ঘিরে মব লিঞ্চিং এর বিরুদ্ধে কথা বলে গোটা মুসলমান সমাজকে সবরকম ভাবে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। অখিলেশ যাদব কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিশেবে বিজেপি - আর এস এসের এই ষড়যন্ত্রকে রাজনৈতিক ভাবে হয় মোকাবিলা করতে চান নি, নয়তো করতে পারেন নি।আখলাখের খুনের পরে তাঁর পত্নীকে তিরিশ লক্ষ টাকা এবং আখলাখের তিন ভাইদের প্রত্যেককে পাঁচ লক্ষ করে টাকা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ দিয়েছিলেন।কিন্তু তাঁর ই পুলিশ যে আখলাখের বিধবা পত্নিকে পুলিশি এবং আইনি হেনস্থা করছে, আখলাখের ভাইদের হেনস্থা করছে-- সেই বিষয়ে এতোটুকু সক্রিয় ভূমিকা মুখ্যমন্ত্রী হিশেবে সেইদিন অখিলেশ নেন নি।
মুজফফর নগরের দাঙ্গার সময়ে যদি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ডঃ মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় দফার ইউ পি এ সরকার এবং লক্ষ্মৌতে সেই সময়ে রাজকরা সমাজবাদী পার্টির সরকার একটু দৃঢ় অবস্থান নিতেন, তাহলে বিভাজনের রাজনীতিকে সেইদিন অতোখানি তীব্র করে তুলতে পারতো না হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি।আর ভোট রাজনীতিতেও ততোটা সাফল্য তারা পেতো না। প্রশাসনে নিজের রাশ যদি এতোটা আলগা করে না দিতেন অখিলেশ কেন্দ্রে মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর, তাহলেও কিন্তু দাদরির ঘটনার পর নিহত অখিলেশের পরিবারের মানুষদের অখিলেশের ই পুলিশ এতোখানি হেনস্থা করতে পারতো না।আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আখলাখ খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন দাদরি অঞ্চলেরই এক হিন্দুত্ববাদী নেতা হরি ওম পান্ডে।তার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ থাকা স্বত্ত্বেও অখিলেশের পুলিশ সেইদিন এমন ভাবে চার্জশীট তৈরি করেছিল যে, খুব অল্প সময়ের ভিতরেই সেই ব্যক্তিটি জামিন পেয়ে যায়।শুধু জামিনই পায় নি, ২০১৭ র বিধানসভার ভোটে সে বিজেপির টিকিটে লড়ে, ২০১৯ এর লোকসভা ভোটেও লড়ে। এই হরি ওম পান্ডে এখন আম্বেদকর নগর থেকে নির্বাচিত বিজেপির লোকসভা সাংসদ। শেখ আখলাখকে খুনের ঘটনায় গোটা দেশ তোলপাড় হয়েছিল। অথচ সেই খুনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ জড়িত বলে অভিযুক্ত হরি ওম পান্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ এমনই সব হালকা অভিযোগ আনলো যে অভিযুক্ত সহজেই কেবল জামিনই পেল না, পরের বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পর্যন্ত করলো।
এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে, আখলাখ খুন হওয়ার পর সেইসময়ের কি কেন্দ্রের শাসক, কি রাজ্যের শাসক ওই জঘন্য অপরাধ যারা ঘটিয়েছে, তাদের শাস্তির বিষয়ে কতোখানি গাছাড়া মানসিকতা নিয়ে চলেছিল।নীচু স্তরের পুলিশ যে চার্জশীট দিয়েছিল, অমন একটি আলোড়ন তোলা ঘটনায়, সেই চার্জশীটের ফাঁকফোকর গোলে অপরাধী যাতে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা দেখার দায়িত্ব কি পুলিশের উপরের মহলের ছিল না? খোদ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ছিল না? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশের ছিল না? এমন কি কেন্দ্রে সেই সময়ে যিনি গৃহ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন, তার দায় টাকেও কি আদৌ অস্বীকার করা যায়? মুজফফরনগরের কালপর্ব সম্পর্কে এই কথা অনেক বেশি প্রযোজ্য। এড়িয়ে যাওয়া যায়, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা ঘিরে কেন্দ্রকে দেওয়া রিপোর্টে উত্তরপ্রদেশের সেই সময়ের রাজ্যপালের ঘুমন্ত অবস্থান কে?

আসলে বিজেপিকে ঘিরে সেই সময়ে কি অখিলেশ নিজের স্বার্থে কিছুটা নরম মনৌভাব নিয়েই চলেছিলেন? স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক তেজপাল, তা না হলে কি করে সেইসময়ে দাদরির হামলাকারীদের সবরকমের সাহায্য করতে পারলেন? স্থানীয় সাংসদ মহেশ প্রসাদ ই বা কি করে আখলাখ খুনের সঙ্গে জড়িত বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, সেইসব লোকেদের স্থানীয় স্তরে নানা ধরণের চুক্তি ভিত্তিক কাজে নিয়োগ করে স্থানীয় মুসলমানদের উপর একটা ভিন্ন পদ্ধতিতে আতঙ্ক এবং হুমকির পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হল? বিরোধী রাজনীতিকদের ছুতোনাতায় পুলিশ দিয়ে হেনস্থা করবার প্রশ্নে অখিলেশের খ্যাতি তো নারায়ণ দত্ত তেওয়ারি থেকে কল্যাণ সিং বা মায়াবতী-- কারো থেকে এতোটুকু কম ছিল না। তা স্বত্ত্বেও দাদরির অভিযুক্তেরা আইনের ফাঁক গলে বেড়িয়ে এসে স্থানীয় বিজেপি সাংসদের সৌজন্যে এলাকায় নানা অস্থায়ী সরকারী কাজে নিযুক্ত হল- আর অখিলেশ বা তাঁর দল, সমাজবাদী পার্টি চোখ বুজে সবটা দেখে গেল-- ব্যাপারটা কি এমন ই সরল ধারাপাতেই চলেছিল? আর সেই সরল ধারাপাতেই কি আগামী বছরের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভার ভোট হতে চলেছে?
শেষ এডিট:: 30-Jul-21 10:49 | by 2
Permalink: https://cpimwestbengal.org/upcoming-election-in-uttar-pradesh-the-inside-story
Categories: Current Affairs
Tags: bjp, dadri, moblynching, muzaffarnagar, rss-bjp, upelection
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (150)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (133)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
.jpg)




