কোচবিহার থেকে কামারহাটি ,বাংলা বাঁচাও যাত্রা , ভবিষ্যত সম্ভাবনার রাস্তা খুঁজে পাওয়া

Author
সায়নদীপ মিত্র

চা বাগানের শ্রমিক, বনবস্তির আদিবাসী মানুষ, রাজবংশী পাড়া, সংখ্যালঘু মহল্লা, বিড়ি শ্রমিকের বাড়ির উঠোনের আলাপচারিতা থেকে উঠে আসছে মানুষের জীবনের জলন্ত সংকটগুলো। 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'র নেতৃত্বরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে জীবন্ত অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ অভিমুখ ঠিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

From Cooch Behar to Kamarhati

উত্তরের হিমেল হাওয়া শীতের বার্তা বয়ে এনেছে ।শীতের তীব্রতায় পারদ নিম্নমুখী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম শহরের রাস্তায় উষ্ণতার উত্তাপ ছড়িয়ে এগিয়ে চলেছে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'। ভাওয়াইয়া গানের প্রবাদ প্রতীম  শিল্পী আব্বাসউদ্দিন আহমেদ এবং মনীষী পঞ্চানন বর্মাকে স্মরণ করার মধ্যে দিয়ে বাংলার মূল্যবান লোকসংস্কৃতিকে কুর্নিশ জানিয়ে এই যাত্রা ২৯ শে নভেম্বর শুরু হয়েছে কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ থেকে। নতুন বাংলা গড়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে 'নানা ভাষা' নানা মত' নানা পরিধান'-এর সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ বাংলার নানা অংশের মানুষের জীবন-যন্ত্রণা আর লড়াইয়ের অভিজ্ঞতায় পুষ্ট হয়ে এই যাত্রা সমাপ্ত হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কামারহাটিতে। শ্রমিক আন্দোলন এবং আমাদের দেশের কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে ওঠার শুরুর সময়ের উর্বর মাটি কামারহাটির  জনগণ প্রস্তুত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ বদলের লড়াই এই 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'কে অভিবাদন জানাবার জন্য।

   বামপন্থার পুনর্জাগরণ এবং বাম বিকল্প শক্তিশালী করার মধ্যেই নতুন বাংলা গড়ার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে। বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক ন্যায়, ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের কথা বলা 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা' শুধুমাত্র একটা কর্মসূচি না, বৃহত্তর  একটা রাজনৈতিক বার্তা।কর্মসংস্থান,শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতি, মূল্যবৃদ্ধি এইরকম অসংখ্য সামাজিক- রাজনৈতিক বাস্তব সমস্যার সমাধানের রাস্তা খুঁজে নিতে এই রাজনৈতিক অভিযান। 'নতুন বাংলা' গড়ার বিকল্প রূপরেখা খুঁজে পাওয়া যাবে এই যাত্রার দীর্ঘ রাস্তা থেকে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের জল, জমি, জঙ্গল, জীবন-জীবিকা বাঁচানোর ঘোষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা থেকে উঠে আসা নানা ধরনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে।উত্তরবঙ্গ থেকে এই 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা' যত দক্ষিণের দিকে এগিয়েছে তত নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছে। চা বাগানের শ্রমিক, বন বস্তির মানুষ, আদিবাসী,নেপালি রাজবংশী,বাঙালি-অবাঙালি বহু মানুষের জীবন যন্ত্রণার কথা উঠে এসেছে এই ঘোষণা পত্র থেকে। যার আনুষ্ঠানিক নাম 'উত্তরপত্র'। এই উত্তরপত্রে শুধু সংকট নিয়ে আলোচনাই নয়। সমস্যার সমাধানের উত্তরও খোঁজার চেষ্টা হয়েছে। আরও বহু মানুষের পরামর্শ আহ্বান করা হয়েছে এই ঘোষণাপত্রকে সমৃদ্ধ করার জন্য। রাজ্যের বাকি অংশ  নিয়েও একই বিকল্পের দিশা উপস্থিত করাও এই 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'র অন্যতম রাজনৈতিক অভিমুখ।  

    সাদরি ভাষায় কথা বলা চা বাগানের শ্রমিক, বনবস্তির আদিবাসী মানুষ, রাজবংশী পাড়া, সংখ্যালঘু মহল্লা, বিড়ি শ্রমিকের বাড়ির উঠোনের আলাপচারিতা থেকে উঠে আসছে মানুষের জীবনের জলন্ত সংকটগুলো। 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'র নেতৃত্বরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে জীবন্ত অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ অভিমুখ ঠিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। মানুষের গন্ধ গায়ে মেখে, মানুষের ভরসার মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুত বদ্ধ বামপন্থীরা। লাল ঝান্ডা। 

    আমাদের দেশের অর্থনীতির ভিত কৃষি এবং কৃষকের বহুমুখী সংকট প্রতিধ্বনিত হচ্ছে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'য়। শ্রমিকের ঘামের মূল্য চুরি করে মালিকের সম্পদের পাহাড় তৈরি করার কথা উঠে আসছে শ্রমিক মহল্লায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে। রেগা প্রকল্পে রাজ্যে ঘোষিত মজুরি মাত্র ২৫০ টাকা। বেপরোয়া মূল্য বৃদ্ধির তুলনায় হাস্যকর সেই মজুরি পাওয়ার অধিকার থেকেও বছরের পর বছর ধরে লক্ষ লক্ষ রেগা শ্রমিক বঞ্চিত। তাদের দীর্ঘশ্বাস সাক্ষী থেকেছে এই যাত্রায়। গ্রাম-শহর সর্বত্র কর্মহীনতা এবং বেকারত্বের নির্মম যন্ত্রণার ছবি।  ধুঁকতে থাকা স্বাস্থ্য পরিষেবা বেআব্রু করেছে করেছে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার দৈন্য দশাকে।  ঝাঁ চকচকে বেসরকারি স্কুলের বৈভবের দাপটে কুঁকড়ে যাওয়া সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা চেনা বাস্তবতার ছবিটা আরো স্পষ্ট করেছে। যত রাস্তা এগিয়েছে তত অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরে উঠেছে। পরিযায়ী শ্রমিক এবং তার পরিবারের জীবন জীবিকার সংকট  প্রতিফলিত হয়েছে। সর্বগ্রাসী নদী ভাঙ্গনে বিপন্ন মানুষের হাহাকার শোনা গেছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষের দিন যাপনে। লুটের সিন্ডিকেট,চাকরী বিক্রির চক্র, কয়লা-বালি-গরু পাচারের মাফিয়া রাজ, প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করে পরিবেশ বিপন্ন করে তোলার ভয়াবহ চেহারা প্রত্যক্ষ করেছে যাত্রায় অংশগ্রহণকারী লড়াইয়ের নেতারা। পঞ্চায়েত- পৌরসভা কিভাবে জনগণের সরকার থেকে কার্যত ঘুঘুর বাসা হয়ে উঠেছে তাও অভিজ্ঞতা হয়েছে এই যাত্রায়। শাসক- পুলিশের যৌথ বাহিনীর নেতৃত্বে গণতন্ত্র লুটের চেনা ছবি নিজেদের অভিজ্ঞতায় আবার নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। অভয়া-তামান্নার নৃশংস খুনের ঘটনায় নারী নিরাপত্তার বেআব্রু চেহারায় শিউরে উঠতে হয়েছে। 

  তবে সমস্যার বেড়াজালে শুধু আবদ্ধ থাকা নয়, সংকটের শুধু পর্যালোচনা নয়। বিকল্পের কথা বলা 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা' কার্যত গ্রাম-শহরে ঝড় তুলছে। মানুষের ভরসা এবং ভালোবাসা পাচ্ছে। অবশ্য কর্পোরেট হুজুরের নির্দেশে একাংশের মিডিয়া 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'র জন্য তাদের দুর্মূল্য এয়ারটাইম নষ্ট করতে রাজি হয়নি। কার্যত মিডিয়া ব্ল্যাক আউট করেছে। মিডিয়া ব্যস্ত  মেরুকরণ এর চিত্রনাট্যের পুরনো প্লট সাজাতে। প্রত্যক্ষ আরএসএস বিজেপি এবং পরোক্ষ আরএসএস তৃণমূলকে এই চিত্রনাট্য সফল করতে মাঠে আসরে নামানো হয়েছে। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্টুডিও থেকে রাস্তার ঝগড়া, সবই চলছে নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী। চিত্রনাট্যের কোনও অঙ্কে মসজিদ তৈরি, মসজিদের জন্য ইট বয়ে আনা বা মসজিদ তৈরির জন্য উড়ে আসা লক্ষ লক্ষ টাকা মেশিনে গোনার দৃশ্য দৃশ্যায়িত হচ্ছে।আবার কোনও অঙ্কে সরকারি টাকায়, সরকারি জমি হাতিয়ে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মন্দির তৈরির দৃশ্যায়ন হচ্ছে। ব্যক্তিগত জমিতে,অজানা উৎস থেকে আসা অনুদানে মসজিদ তৈরি করলে দল থেকে বহিষ্কৃত হচ্ছে। অথচ জনগণের টাকায় সরকারি জমিতে মন্দির তৈরি করে কার্যত রাজ্যজুড়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। বহিষ্কার বা পুরস্কার সবই আরএসএসের মর্জিতে চলছে। মন্দির-মসজিদ বানানোর চড়া রাজনৈতিক ভাষ্যের আড়ালে  আরএসএস- বিজেপির গুড বুকে থাকতে তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশে হাজার হাজার একরের ওয়াকফ সম্পত্তি  বিজেপি সরকারকে নিঃশব্দে উপঢৌকন দিয়ে দিচ্ছে। সহজপাঠ  পড়ে বড় হওয়া বাংলায় গীতা পাঠের রাজনৈতিক আসর বসছে। প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পন্ন হওয়া সেই রাজনৈতিক আসরের রং ত্যাগের প্রতীক গেরুয়া হলেও ক্ষমতা ভোগের শিকার হচ্ছেন নিরীহ হকার। তার অপরাধের প্রধান কারণ তার শ্রেণী পরিচয় এবং তার ধর্মীয় পরিচিতি। তবে শুধু মন্দির- মসজিদ দিয়ে পুরো কার্যসিদ্ধি হচ্ছে না। তাই  নির্বাচন কমিশনকেও এখন মাঠে নামানো হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের দায় এখন জনগণের উপর এসে বর্তেছে। মৃত,ভুয়ো,ডুপ্লিকেট ভোটারে ভর্তি ভোটার তালিকা সংশোধন করার সহজপন্থা গ্রহণ করার বদলে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে মানুষের মধ্যে কার্যত আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অনৈতিক দায়িত্ব নির্বাচনের কমিশনের কাঁধে চাপিয়ে তৃণমূল-বিজেপি নিজেদের মধ্যে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।

   রাজনীতিতে ভুল ইস্যুর আবহে  হারিয়ে যাচ্ছে জীবন-জীবিকার মূল ইস্যুগুলি। দেশের সরকার ২৯টা শ্রম আইন বদল করে শ্রম কোড চালু করেছে। শ্রমিক-মজুরের অধিকার, কাজের ঘন্টা, ধর্মঘটের অধিকার, ন্যায্য প্রাপ্য, সামাজিক সুরক্ষা, ন্যূনতম মজুরি কর্পোরেট হুজুরের চাপে শ্রম কোডের ধাক্কায় বিশ বাঁও জলে। কৃষকের জমিতে কর্পোরেট রাজ কায়েম হচ্ছে। অর্থনীতির মেরুদন্ড কৃষি ক্রমশ অলাভজনক হচ্ছে। ফসলের ন্যূনতম দাম সোনার পাথর বাটি। মহাজনী ঋণ এবং মাইক্রোফিনান্স এর যাঁতাকলে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থানের অন্যতম সম্ভাবনা যা বামপন্থীদের সাহায্যে চালু হয়েছিল সেই রেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ক্রমশ কমছে। আইন স্বীকৃত ১০০ দিনের কাজের অধিকার দেশের সরকারের কাছে এখন নিছক অপচয়। কৃষক-খেতমজুরদের  বহু লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে আইনসিদ্ধ এই কর্মসংস্থান প্রকল্প এখন বিপন্ন। বছরের পর বছর এই প্রকল্প বন্ধ থাকার পরিণতিতে গ্রামীণ জীবনে সামগ্রিক বিপর্যয় নেমে আসছে। বিপর্যয় কাজের বাজারেও।মোদির বিকশিত ভারতে বেকার সর্বোচ্চ। মূল্যবৃদ্ধির ছোবলে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ।  আরএসএসের একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে শিক্ষা ক্ষেত্রে।আই.এস.আই-এর মত একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার কেড়ে নেওয়া সেই উদ্দেশ্যেই। গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বহু দূরে থমকে যাচ্ছে। সংসদীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠতার মর্জি মাফিক নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। সংসদের ভেতরে জোর যার মুলুক তার। আরএসএস নিয়ন্ত্রিত বিজেপির এটাই নিয়ম নীতি।

   এখন রাজনীতির ভুল ইস্যুগুলো সরিয়ে  মানুষের লড়াইকে মূল  ইস্যুর স্রোতে নিয়ে আসা 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'র অন্যতম লক্ষ্য। সেই কারণে শ্রমিক-কৃষক-ক্ষেতমজুর- ছাত্র- যুব-মহিলাদের জীবন জীবিকার  বিকল্প দাবি সনদ তৈরি হচ্ছে সঞ্চিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে।  পরিযায়ী শ্রমিকের জন্য সহায়তা কেন্দ্র,বিকল্প লাভজনক কৃষি নির্ভর অর্থনীতি, পরিকাঠামোগত  উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক এবং সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে উন্নত স্বাস্থ্যপরিসেবা, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক-উন্নত পরিবেশ গড়ে তোলা, মহিলাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক ক্ষমতা দেওয়া, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সহ অসংখ্য কর্মকাণ্ড যা বিকল্পের দিশা তৈরি করবে। সাংস্কৃতিক- সামাজিক-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত পশ্চিমবঙ্গকে ঘুরে দাঁড় করাবে। অর্থনীতিতে বহুল প্রচলিত কথা 'টেক অফ স্টেজ'।২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকার চলে যাওয়ার সাথে সাথে সেই অগ্রগতির উড়ান থমকে গেছিল। অতীতের সিড়ি বেয়ে উন্নততর বাংলা গড়ার দায়বদ্ধতা নিয়ে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা' এগিয়ে চলেছে।
গত ২৯ নভেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে শুরু হওয়া লড়াই সংগ্রামের এই অবিরাম যাত্রা আগামী ১৭ই ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সমাপ্ত হবে।এই যাত্রা উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রবেশের সময় আজকের ভারতে বহু সংখ্যকবাদের দাপটের মধ্যেও মাথা উঁচু করে থাকা 'যত মত-তত পথে'র সংস্কৃতিতে লালিত আড়িয়াদহ-দক্ষিণেশ্বরের মাটি ছুঁয়ে  প্রবেশ করবে। এরপর বিস্তীর্ণ জেলার গ্রাম শহরের বুক ছুঁয়ে এই যাত্রা শেষ হবে শ্রমিক আন্দোলনের অতীত ঐতিহ্যের ধারক এবং কমরেড জ্যোতি বসু, কমরেড চতুর আলীর নির্বাচনী রাজনৈতিক ক্ষেত্র কামারহাটির মাটিতে।

 উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মানুষের নিজস্ব দাবি গুলো শুনতে শুনতে সমাপ্তি সমাবেশের দিকে এগিয়ে যাবে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'। অশোকনগরে ওএনজিসি প্রকল্পের সম্ভাবনা বা কাঁচরাপাড়ার রেল কোচ ফ্যাক্টরির ভবিষ্যৎ তুলে ধরবে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'। ইছামতি  সহ জেলার একাধিক নদী-খাল সংস্কারের আওয়াজ উঠবে এই যাত্রা থেকে। চটকল শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকারের কথা, বন্ধ কারখানা চালু করা, শিল্পের জমিতে শিল্প স্থাপনের দাবিতে সোচ্চারিত হবে এই যাত্রা। জেলার কৃষক মান্ডি গুলো ব্যবহারযোগ্য এবং ব্লক অফিসগুলোকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে এগিয়ে যাবে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের দাবি যুক্ত হবে। উর্দু মাধ্যমের কলেজ সহ আরো নতুন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের জেলার মানুষের প্রাপ্য অধিকার। নদীর উপর সেতু নির্মাণ সহ সুন্দরবনের দীপাঞ্চলের মানুষকে সড়কপথে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হওয়ার  ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আওয়াজ উঠবে এই যাত্রা থেকে। মেট্রো রেল সহ রেলপথ এবং জাতীয় সড়কের সম্প্রসারণের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এই জেলায় সময়ের দাবি।দাবি উঠবে ভেঙে পড়া গণপরিবহন  ব্যবস্থাকে উদ্ধার করে সুসংহত পরিকল্পনার মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ শেষ করতে হবে। 
   বহুমুখী দাবি নিয়ে বহুমাত্রিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি গড়ে তুলে বিকল্প বাংলা গড়ার দিশা  দেখাবে 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'। শক্তিশালী লাল ঝাণ্ডা এবং বামপন্থার পুনর্জাগরণ এই বিকল্পের স্বপ্নকে সত্যি করবে। মিডিয়া নিয়ন্ত্রিত তৃণমূল- বিজেপির সাজানো রাজনৈতিক মেরুকরণ কে পরাস্ত করে মানুষের জীবন জীবিকার দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লড়াই শুরু হয়েছে। তুফানগঞ্জ থেকে কামারহাটি। সংগ্রামের শেষ নয়,শুরু। প্রস্তুতি নতুন বাংলা গড়ার।
প্রকাশ: ১৬-ডিসেম্বর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 16-Dec-25 18:05 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/from-cooch-behar-to-kamarhati-bangla-bachao-yatra-finding-the-road-to-future-possibilities
Categories: Fact & Figures
Tags: left alternative, tea garden, bangla bachao yatra
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড