ইপিএফ-এ সুদের হার কমল ৬বছরে সর্বোচ্চ

Author
ওয়েবডেস্ক

EPF Interest Rate Falls To 6 Years Low

প্রকাশ: ০৬-মার্চ-২০২০

এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ডের (ইপিএফ) ২০১৯-২০ সালের সুদের হার কমালো কেন্দ্র। গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বাধিক হারে কমানো হলো সুদের হার। এই হার বর্তমান ৮.৬৫ শতাংশ থেকে ০.১৫ শতাংশ কমিয়ে ৮.৫০শতাংশ করা হয়েছে। ইপিএফ-এর কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। মোদী জমানায় ইপিএফ-এ সুদের হার ক্রমাগত কমেছে। বর্তমানে ইপিএফ-এর সুদের হার ২০১২-১৩ সালের হারে পৌঁছে গেছে। অছি পরিষদে সুদের হার স্থির করার পর তা প্রস্তাব আকারে অর্থমন্ত্রকে পাঠানো হয়। অর্থমন্ত্রকের অনুমোদনের পর তা কার্যকর হয়। বৃহস্পতিবার শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গঙ্গোয়ার জানিয়েছেন, বর্তমান ইপিএফ তহবিলে উদ্বৃত্ত কমে দাঁড়াবে ৭০০ কোটি টাকা। তাতেই সুদের বর্তমান হার স্থির হয়েছে। তিনি জানান, সুদের বর্তমান হার বহাল রাখা হলে তহবিলের ঘাটতি বাড়তো। উদ্বৃত্ত সীমিত হওয়ায় হার কমানো হয়েছে।

ইপিএফের শ্রমিক কর্মচারীদের উপার্জিত সঞ্চিত তহবিলের ১৮লক্ষ কোটি টাকার ৮৫ শতাংশ টাকা বিনিয়োগ হয় ঋণ বাজারে। বিশেষ করে সরকারি পরিকাঠামোয় বিনিয়োগে এই ঋণ নিয়ে থাকে কেন্দ্র। বাকি ১৫শতাংশ অর্থ শেয়ার বাজারে লগ্নি হয়ে থাকে। আর্থিক মন্দা তীব্র হওয়ায় শেয়ার বাজার থেকে বাড়তি আয় হ্রাস পেয়েছে। শেয়ার বাজারে ২০১৯ সালে লভ্যাংশ মিলেছে ১৪.৭৪ শতাংশ হারে। ইপিএফ-এ সুদের হার ক্রমশ কমেছে। ২০১২-১৩ সালে এই সুদের হার ৮.৫০শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৩-১৪ সালে হয়েছিল ৮.৭৫শতাংশ। এর পর মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা কমতে কমতে ২০১৮-১৯ সালে কমে হয়েছিল ৮.৬৫শতাংশ। এবারে এক ধাক্কায় তা কমিয়ে নিয়ে আসা হলো সেই ৮.৫০শতাংশে।

ইপিএফ-এর মতো ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে মোদী সরকারের। সেই লক্ষ্যে শ্যামলা গোপীনাথ কমিটির সুপারিশমতো প্রতি তিন মাসে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের সুদের হার ঘোষণা করার কথা ভাবা হচ্ছে। কমিটির সুপারিশ, প্রতি তিনমাস অন্তর ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের সুদের হার পর্যালোচনা করা দরকার। প্রতি তিনমাস অন্তর নতুন সুদের হার পর্যালোচনার ভিত্তিতে (সুদের হার কমানো) ঘোষণা করতে হবে। এই সুদের হার ধাপে ধাপে বাজারের সুদের হারে নিয়ে আনা দরকার। সরকারের বন্ডের সুদের হার যেভাবে বাজার দরে স্থির হয় সেই একই পথে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের সুদের হার স্থির করতে হবে।

কমিটির সুপারিশ ১২টি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে সুদের হার পর্যালোচনা করে প্রতিমাসে তার নতুন সুদের হার স্থির করতে হবে। এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস প্রকল্প (এসসিএসএস), ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট (এনএসসি), কিষান বিকাশ পত্র (কেভিপি), সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা (এসএসওয়াই), পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিপিএফ) এবং ডাকঘরের বিভিন্ন ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প। প্রসঙ্গত, প্রথম মোদী সরকারের আমলে শ্যামলা গোপীনাথ কমিটির সুপারিশ মতো ২০১৬ সাল থেকে প্রতি তিনমাস অন্তর ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হার পরিবর্তন করার নীতি স্থির হয়। সেই সময়ে এই সুদের হার সরকারি বন্ডের সুদের হারের সঙ্গে মিল রেখে হবে বলে নীতি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দেখা যায় বন্ডের সুদের হার বাজারের হার ওঠানামা করলেও ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হারে সেভাবে বড় পরিবর্তন হয়নি। তা সরকারিভাবে কার্যকর করা হয়নি। দ্বিতীয় মোদী সরকার এবার ওই নীতি কার্যকরে অগ্রাধিকার দিয়ে বন্ডের হারে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হার স্থির করতে চলেছে।

মোদীর নির্দেশে তাঁর ঘনিষ্ঠ আমলা শক্তিকান্ত দাস রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদে আসার পর থেকে প্রতি দু’মাস অন্তর রেপো রেট কমানো হচ্ছে। ফলে ব্যাঙ্কে দফায় দফায় কমেছে সুদের হার। দাস পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন শিল্পে স্বল্প সুদে ঋণ বিলির লক্ষ্যে সুদের হার কমাতে রেপো রেট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এখন ধারাবাহিক ব্যাঙ্কে রেপো রেট কমার ফলে ব্যাঙ্কের সুদের হার প্রায় তলানিতে পৌঁছেছে। কর্পোরেটকে স্বল্প সুদে মূলধন বিলি করতে গিয়ে বাজার থেকে অর্থসংগ্রহের জন্য রিভার্স রেপো রেট কমাতে হচ্ছে। ফলে ক্ষুদ্র সঞ্চয় থেকে ব্যাঙ্ক যে টাকা বাজার থেকে সংগ্রহ করতো রিভার্স রেপো রেটে সুদের হার কম হওয়ায় সেখানে অর্থসংগ্রহে ঘাটতি হচ্ছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।

অর্থমন্ত্রক সূত্রে খবর অর্থনীতিতে গতি আনতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে মূলধনের জোগান বাড়ানো বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের। সূত্রের খবর, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অর্থ মন্ত্রককে জানিয়েছে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হার বেশি থাকায় ব্যাঙ্ককে বাজার থেকে জমায় সুদের হার বেশির রেখেই অর্থসংগ্রহ করতে হয়। ফলে তাদের কম সুদে ঋণ বিলি করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়। কর্পোরেটকে কম সুদে ঋণ বিলি করতে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হার কমানো দরকার বলেই তারা সওয়াল করে। ব্যাঙ্কের পরিষ্কার মতো কর্পোরেটকে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে অর্থনীতি চাঙা করতে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে সুদের হার পর্যালোচনা (কমানো) করা দরকার। দিল্লি নির্বাচন মিটে যাওয়ায় যেভাবে ইপিএফ-এর সুদের হার কমল এবারে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদেও কোপ পড়তে চলেছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 06-Mar-20 13:13 | by 4
Permalink: https://cpimwestbengal.org/epf-interest-rate-falls-to-6-years-low
Categories: Current Affairs
Tags: employees, epf, indian economy, modi govt 2.0, pension
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড