কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি

Author
ওয়েবডেস্ক

বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি দেশকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি, স্থবির মজুরি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও বেকারত্ব—এসবের ফলে মানুষ দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করছে। বিশেষ করে আমেরিকার শুল্ক আরোপের পর বেকারত্ব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

Central Committee Communique
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি ১৩-১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে নয়াদিল্লির এইচ.কে.এস. সুরজিত ভবনে বৈঠক করে এবং নিম্নলিখিত বিবৃতি জারি করেছে:
অর্থনীতি
বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতি দেশকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি, স্থবির মজুরি, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও বেকারত্ব—এসবের ফলে মানুষ দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করছে। বিশেষ করে আমেরিকার শুল্ক আরোপের পর বেকারত্ব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটি ৯ জুলাইয়ের সফল সর্বভারতীয় সাধারণ ধর্মঘটের জন্য দেশের শ্রমজীবী শ্রেণিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। কৃষক, ক্ষেতমজুরসহ সমাজের নানা অংশ যারা ধর্মঘটের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এই সাধারণ ধর্মঘটের সাফল্য বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষকে প্রতিফলিত করে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে সিপিআই(এম) সক্রিয়ভাবে সমর্থন জারি রাখবে।
ট্রাম্পের শুল্ক সন্ত্রাস
আমেরিকা ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে—২৫ শতাংশ বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ায় এবং আরও ২৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনার কারণে। এর ফলে ভারতের কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং বিশেষত বস্ত্রশিল্প ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই ভারত সফরে এসে চাপ সৃষ্টি করছে। বিজেপি সরকার যেন কোনোভাবেই মার্কিন চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে—এই দাবি জানাচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি/দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ/বিটিএ)
বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সরকারকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে পরামর্শ করে সাধারণ মানুষের জন্য লাভক্ষতির মূল্যায়ন করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে বাণিজ্যচুক্তি করতে গিয়ে দুগ্ধ, কৃষি, প্রতিরক্ষা, ওষুধ শিল্প ও অর্থনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।
কর্পোরেট সুবিধা
অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার নামে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কর্পোরেট সংস্থাগুলির জন্য প্রায় ১,৫০,০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। খসড়া জাতীয় টেলিকম নীতি (এনটিপি) ২০২৫ বেসরকারি কোম্পানিগুলিকে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, অথচ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। এতে স্পষ্ট প্রমাণিত যে বিজেপি সরকার সরকারি সম্পদ কর্পোরেটদের হাতে তুলে দিচ্ছে এবং হিন্দুত্ববাদী-কর্পোরেট যোগসাজশকে মজবুত করছে।
শ্রমিক অধিকারের ওপর আক্রমণ
কর্মসংস্থান ও পরিবেশ রক্ষার আইন দুর্বল করে কর্পোরেট লুট সহজ করছে সরকার। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণের পরপরই প্রধানমন্ত্রী মোদির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি আয়োগ নতুন দুটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল গঠনের ঘোষণা করেছে, যা বিভিন্ন নিয়ম ভাঙাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দিতে উদ্যোগী। এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে বড় আঘাত করেছে।
জিএসটি হ্রাস
সরকার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে জিএসটি কমিয়েছে ও জিএসটি কাঠামোর কিছু পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সাধারণ মানুষ যে পণ্য ব্যবহার করে তাতে কর হ্রাস একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই সুবিধা যেন কর্পোরেটদের কাছে না গিয়ে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে রাজ্যগুলির ক্ষতিপূরণ কেন্দ্রীয় সরকারকে বহন করতে হবে। অথচ সরকার মানুষের সমস্যা সমাধান না করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করছে।
স্বৈরাচারী প্রবণতা
বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন কমিশন এখন সেটি গোটা দেশে চালু করতে চাইছে। বিজেপি সরকারের পক্ষপাতী হয়ে নির্বাচন কমিশন আরএসএস/সংঘ পরিবারের এজেন্ডা এগিয়ে নিচ্ছে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডকে ভোটার হিসেবে স্বীকৃতির নথি করার নির্দেশ দিয়েছে। সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো যোগ্য ভোটার বঞ্চিত না হয়। বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে এই এসআইআরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, যা স্বাগত। সিপিআই(এম) এই সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
মহারাষ্ট্র গণসুরক্ষা আইন
বিজেপি সরকার কর্তৃক পাশ হওয়া এই আইন গণতান্ত্রিক অধিকারগুলির ওপর গুরুতর আঘাত। ‘অতিবামপন্থী শক্তি’র নামে ভিন্নমতকে দমন করার ফাঁদ তৈরি হয়েছে। এই অস্পষ্ট সংজ্ঞার আড়ালে বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

অগণতান্ত্রিক বিল
বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি বিল উত্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীকে ৩০ দিনের হেফাজতের পরই অপসারণ করার বিধান রাখা হয়েছে। এই বিলগুলি সরকারের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা স্পষ্ট করে, যেখানে প্রতিষ্ঠিত আইনগত প্রক্রিয়াকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের নব্য-ফ্যাসিবাদী চরিত্র বিবেচনা করলে স্পষ্ট যে, এ ধরনের বিধান বিরোধী শাসিত রাজ্য সরকারগুলির বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই পদক্ষেপ যেকোনো গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য ব্যবস্থার উপরই আঘাত করে।
জম্মু-কাশ্মীর
উপরাজ্যপাল নির্বাচিত রাজ্য সরকারের কার্যক্রমকে ক্ষুণ্ণ করছেন। নির্বাচিত রাজ্য সরকারকে পুরোপুরি একপাশে সরিয়ে রেখে তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ধারাবাহিকভাবে পদদলিত করা হয়েছে। জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখ—সব অঞ্চলে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের একমাত্র উপায় হলো অবিলম্বে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যত্ব ফিরিয়ে দেওয়া।
বাংলাভাষী জনগণের ওপর আক্রমণ
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে বাংলাভাষী বিশেষত মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে আক্রমণ চলছে। যথাযথ নথি যাচাই বা আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়াই তাঁদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত ও কলঙ্কিত করা হচ্ছে। অনেককে পুলিশ আটক করে অমানবিক নির্যাতন ও শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণার শিকার করছে। এমনকি বহু ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে—কখনও স্থলপথে, কখনও সমুদ্রপথে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে চালানো এই বাংলাভাষী নাগরিকদের ওপর আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বহু স্থানে সিপিআই(এম) এই আক্রমণের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।
অসমে উচ্ছেদ
বিরাট সংখ্যক মানুষকে জমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এর পেছনে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার স্বার্থ কাজ করছে। এই বেআইনি উচ্ছেদ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
আরএসএস প্রধানের উসকানিমূলক মন্তব্য
দিল্লিতে নির্বাচিত এক শ্রোতৃসমাবেশের সামনে তিন দিনব্যাপী ভাষণে আরএসএস সরসংঘচালক মোহন ভাগবত মথুরা ও কাশী বিতর্ককে আবারও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মুসলমানরা যেন এই দুই স্থানের মসজিদ ‘ত্যাগ’ করে—যা নাকি ‘ভ্রাতৃত্ব’-এর পূর্বশর্ত। এ ধরনের দাবি স্পষ্টতই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উস্কে দিয়ে সমাজকে ধর্মীয় রেখায় বিভক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ভাগবতের এই মন্তব্য আরএসএস-এর ভারতীয় সংবিধানের প্রতি অবজ্ঞা এবং দেশের আইন লঙ্ঘনের পরিচায়ক। একইসঙ্গে, এটি প্রমাণ করে যে আরএসএস হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে এগোতে এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
নারী, দলিত, আদিবাসীর ওপর আক্রমণ
কেন্দ্রীয় কমিটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে, নারী, দলিত ও আদিবাসীদের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের বিষয়টি আলোচনা করেছে। নারী, দলিত ও আদিবাসীদের লক্ষ্য করে চালানো এই সহিংসতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে। একইসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গের আর.জি. কর ও কলকাতা ল’ কলেজের ঘটনাগুলির শিকারদের ন্যায়বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলন এবং কর্ণাটকের ধর্মস্থলের ভুক্তভোগীদের সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানিয়েছে কমিটি।
সংসদ অধিবেশন
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে সব বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ দেখা গেছে। বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা করতে সরকার অস্বীকার করেছে। এই প্রতিবাদের মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কয়েকটি বিল পাশ করিয়ে নেয়, যার মধ্যে রয়েছে খনি ও খনিজ সম্পদ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল এবং ক্রীড়া বিল—যা রাজ্য সরকারের অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করে।
খনি ও খনিজ সম্পদ আইনের সংশোধনের মাধ্যমে বেসরকারি ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ লুণ্ঠনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। ষষ্ঠ তফসিল দ্বারা সুরক্ষিত শত শত একর আদিবাসী জমিও কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য খালি করা হচ্ছে—যা প্রতিহত করা অত্যন্ত জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ দিতে সরকারের অনীহা তার স্বৈরাচারী চরিত্রকে প্রকাশ করে। এর ফলে জনগণের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বহু বিষয় কখনোই সংসদে যথাযথ আলোচনার সুযোগ পায় না। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসকেও অবশ্যই ভূমিকা নিতে হবে, যাতে মানুষের জীবিকা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সংসদে আলোচিত হয়।
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে, উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখরের আকস্মিক পদত্যাগের পর, ইন্ডিয়া ব্লক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সুদর্শন রেড্ডিকে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিজেপি/আরএসএস-এর হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক আদর্শ ও গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমতার মতো সাংবিধানিক নীতির ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলিকে অবশ্যই খতিয়ে দেখতে হবে তাদের সব ভোট নির্ধারিত উপ-রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর পক্ষেই পড়েছে কি না।
নেপাল সংকট
সিপিআই(এম) নেপালে পুলিশের গুলিতে নিহত প্রায় ৭০ তরুণের মৃত্যুর প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছে। মূলত তরুণ প্রজন্ম (জেনারেশন জি)-এর নেতৃত্বে সংঘটিত এই ব্যাপক আন্দোলন গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তাত্ক্ষণিক কারণ ছিল সরকারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভই এর আসল পটভূমি। পরপর সরকারগুলির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে ব্যর্থতা, ব্যাপক দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব মানুষের হতাশাকে তীব্র করেছে।
ডানপন্থী শক্তি, বিশেষ করে রাজতন্ত্রী, রাজভক্ত গোষ্ঠী এবং হিন্দুত্ববাদী শক্তির সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো এই অসন্তোষকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তাই নেপালের সংবিধানে সন্নিবিষ্ট গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ, যা দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জয়ী হয়ে অর্জিত হয়েছে, সেগুলি রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ইসরায়েলের গণহত্যা নিন্দা
ইসরায়েল অবিরামভাবে গাজায় বোমাবর্ষণ চালাচ্ছে এবং  ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে প্যালেস্তিনীয়দের ওপর হামলা চালাতে ও তাদের জমি দখল করতে ইসরায়েলি দখলদার বসতকারীদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিচ্ছে। গাজায় মানবিক সাহায্যের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে অনাহার মহামারির আকার ধারণ করেছে, প্রতিদিন শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষুধায় মৃত্যুর খবর আসছে। মাটিতে দাঁড়িয়ে খবর সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের ওপর হামলা আরও তীব্র হয়েছে এবং এমনকি হাসপাতালগুলোকেও বোমা মেরে ধ্বংস করা হচ্ছে। পুরো গাজা শহর এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতিকে পদদলিত করে, ইসরায়েল কাতারে আক্রমণ চালিয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। এটি আবারও প্রমাণ করে যে ইসরায়েল এক দস্যু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যে শান্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মানতে অনিচ্ছুক। এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একত্রিত হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচি
সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী দিনে:
১. সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ট্রাম্পের শুল্ক সন্ত্রাস ও মার্কিন চাপে বিজেপি সরকারের আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান চালানো হবে।
২. দেশজুড়ে প্যালেস্তাইন সংহতি কর্মসূচি পালিত হবে। সংহতি অভিযানের অংশ হিসেবে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসূচি সংগঠিত করা হবে। সব রাজ্যের রাজধানীতে বৃহৎ গণসমাবেশ আয়োজন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বিজেপি সরকারের ইসরায়েলপন্থী নীতি উন্মোচিত করা হবে।
৩. সব রাজ্য কমিটি জনজীবনের সমস্যাকে সামনে রেখে আন্দোলন গড়ে তুলবে।

প্রকাশ: ১৬-সেপ্টেম্বর-২০২৫

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 17-Sep-25 12:01 | by 4
Permalink: https://cpimwestbengal.org/central-committee-communique-
Categories: Press Release
Tags: donaldtrump, tariff, sir, , fta/bta
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড