“ এসো নির্মূল করি , স্বৈরাচারের ক্ষমতাকে ”

সৌম্যদীপ রাহা
এসবের সঙ্গে সুস্পষ্ট পার্থক্য টেনে সমাজতন্ত্রী প্রলেতারীয়েতকে উপস্থিত করতে হবে এবং যতখানি সম্ভব পূর্ণতা দিয়ে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে । ” কাজেই একথা পরিষ্কার যে , সাহিত্য কখনই সমাজ বিচ্ছিন্ন কেবল ব্যক্তি স্বার্থ মেটাতে সৃষ্টি নয় ; যারা একাজ সম্পন্ন করে তারা কেবল কথার বুলিতে মানুষকে ভুলিয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করে ।

প্রথম পর্ব
শিরোনামটি রুশবিপ্লবের নায়ক ভ্লাদ্মির ইলিচ লেনিনের লিখিত একটি মাত্র দীর্ঘ কবিতা থেকে ধার নেওয়া । মার্কসবাদের সফল প্রয়োগ ও তার বিশুদ্ধতা রক্ষায় বিংশ শতাব্দীতে যিনি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছেন তিনি হলেন কমরেড লেনিন । তাঁর রাজনৈতিক – অর্থনৈতিক চিন্তা – ভাবনার পরিধি অনেক গভীর ও বিস্তর । সে তাঁর রচনাবলী পড়লেই পাঠকমাত্র-ই উপলদ্ধি করতে পারবে । যে তার গভীরতা কত । সেসব নিয়ে অনেকেই আলোচনা করেছেন । এ নিবন্ধে কেবলমাত্র তাঁর লিখিত ঐ দীর্ঘ কবিতা নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টা করব ।
শিরোনামটি রুশবিপ্লবের নায়ক ভ্লাদ্মির ইলিচ লেনিনের লিখিত একটি মাত্র দীর্ঘ কবিতা থেকে ধার নেওয়া । মার্কসবাদের সফল প্রয়োগ ও তার বিশুদ্ধতা রক্ষায় বিংশ শতাব্দীতে যিনি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছেন তিনি হলেন কমরেড লেনিন । তাঁর রাজনৈতিক – অর্থনৈতিক চিন্তা – ভাবনার পরিধি অনেক গভীর ও বিস্তর । সে তাঁর রচনাবলী পড়লেই পাঠকমাত্র-ই উপলদ্ধি করতে পারবে । যে তার গভীরতা কত । সেসব নিয়ে অনেকেই আলোচনা করেছেন । এ নিবন্ধে কেবলমাত্র তাঁর লিখিত ঐ দীর্ঘ কবিতা নিয়ে কিছুটা আলোকপাত করার চেষ্টা করব ।
না , শুধু শিল্পের জন্য শিল্প তো নয় । একথা যারা ভাবে তারা যে নেহাত-ই মুর্খামির পরিচয় দেন , একথা বলা বাহুল্য । আসলে তো জীবনের জন্য শিল্প । শিল্প – সাহিত্য – দর্শনে ভাববাদী ও বস্তুবাদী ভাবনার যে মৌলিক লড়াই সেখানে থিসিস - অ্যান্টি থিসিস – সিন্থেসিসের মধ্যে জীবনকেন্দ্রীক জীবন – যাপনে নানা বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয় প্রতিনিয়ত ।
অত্যাচার – শোষণ – বঞ্চনা –কে ভিত্তি করে ক্ষমতা ও আধিপত্যকে সুদৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে শাসক সবসময়েই উদগ্রীব হয়ে থাকে । সময়ের সংকট-ই তো কঠিন পরিস্থিতির জন্ম দেয় । আর এই কঠিন পরিস্থিতি জন্ম দেয় শিল্প – সাহিত্য – সংস্কৃতির ।
১২নং “ নোভয়া জিজন ”, ১৩ নভেম্বর ১৯০৫ – এ “ পার্টি সংগঠন পার্টি সাহিত্য ” নামক নিবন্ধে লেনিন লিখছেন , “ …… সাহিত্যের ব্যাপারটাকে হতে হবে সমগ্র প্রলেতারিয়েতের কর্মযোগের একটা অংশ , হতে হবে সমগ্র শ্রমিক শ্রেণির সমস্ত রাজনীতি সচেতন অগ্রবাহিনী দ্বারা চালানো একক ও অখন্ড …. যন্ত্র ব্যবস্থাটার খাঁজ ও ইস্ক্রুপ ।” এই নিবন্ধে-ই আরেক জায়গায় তিনি লিখলেন , “ সাহিত্যকে অবশ্যই হতে হবে পার্টি সাহিত্য । বুর্জোয়া রীতিনীতি , মুনাফাকারিতা , বুর্জোয়া পত্র-পত্রিকার ব্যবস্থাপনা , সাহিত্যক্ষেত্রে বুর্জোয়া ভাগ্যান্বেষণ ও ব্যাক্তি স্বতন্ত্রতা , অভিজাত সুলভ নৈরাশ্য , মুনাফা – শিকার – এসবের কোনটাই নয় , এসবের সঙ্গে সুস্পষ্ট পার্থক্য টেনে সমাজতন্ত্রী প্রলেতারীয়েতকে উপস্থিত করতে হবে এবং যতখানি সম্ভব পূর্ণতা দিয়ে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে । ” কাজেই একথা পরিষ্কার যে , সাহিত্য কখনই সমাজ বিচ্ছিন্ন কেবল ব্যক্তি স্বার্থ মেটাতে সৃষ্টি নয় ; যারা একাজ সম্পন্ন করে তারা কেবল কথার বুলিতে মানুষকে ভুলিয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করে । তাই সেটাই সাহিত্য হওয়া উচিত যা সমাজের বাস্তব রূপটাকে তুলে ধরে । শোষিত মানুষকে পথ দেখায় ।
১৯০৫ – এর রাশিয়ার প্রথম বিপ্লবের পরের বছর ১৯০৬ সালের গ্রীষ্মকালের শেষ দিকে লেনিন চলে গেলেন ফিনল্যান্ডের কুওকালা গ্রামে “ভাজা” নামে একটা বাড়িতে । ১৯০৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন । জারের নির্দেশে দ্বিতীয় ডুমা ভেঙে গেছে । লেনিন সহ সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক দলের কর্মীদের ধরে ধরে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ আসে । ছদ্মনামে লেনিন ফিনল্যান্ডে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গীকে বলেন – “ …… পার্টি জনগণের মধ্যে প্রচার কার্যের জন্য কাব্য ফর্মকে যথেষ্ট ব্যবহার করছে না । ” তিনি আরও বলেন যে , “ যার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণ বৈপ্লবিক সদিচ্ছা আর বুদ্ধি আছে , সেই লিখতে পারবে বৈপ্লবিক কবিতা । ” লেনিন লিখে ফেললেন দীর্ঘ এক কবিতা । কেবল শারীরিক গঠন দেখে বিচার করলেই হবে না , দেখতে হবে তার অন্তর্নিহিত গভীর অর্থ ।
দ্বিতীয় পর্ব
১৯০১ সাল থেকে ১৯০৭ বিপ্লবের রেখাপাত করেছেন লেনিন তাঁর কবিতায় । ফরাসী পত্রিকা L’ARCHE – এ ফরাসী অনুবাদ প্রকাশ করা হয় এই দীর্ঘ কবিতাটি । এই দীর্ঘ কবিতাটি বাংলায় অনুবাদ করেন কবি অরুণ মিত্র । রুশ সোশ্যাল ডেমোক্রাটিক পার্টির পত্রিকা “ রাদুগা ”-য় এটি প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল । কিন্তু প্রকাশিত হওয়ার আগেই পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায় ।পরে এটি ফরাসী অনুবাদে ফরাসী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ।
এই দীর্ঘ কবিতাটি পড়লেই বোঝা যায় যে , লেনিন কেবলমাত্র বৈপ্লবিক চিন্তার নায়কই শুধু নয় , তাঁর কাব্য সৃষ্টির ক্ষমতাও বেশ গভীর । শোষিত , বঞ্চিত মানুষের যন্ত্রণা তাঁদের উপর অমানুষিক নির্যাতন এসবের বিরুদ্ধে তাঁদের সংঘবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান তাঁর এই কবিতার মধ্যে ফুটে উঠেছে । কবি অরুণ মিত্র অনূদিত কবিতাটি তিনশত পংক্তিরও বেশি । এ প্রসঙ্গে কবি অরুণ মিত্র বলেছেন , “ ফরাসী থেকে অনুবাদ করে লেনিনের কবিতাটি …. দেওয়া হল । যতদূর সাধ্য – কথায় – কথায় প্রায় আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়েছে । খুশিমতো নিজে কিছু জুড়বার বা ছাঁটবার চেষ্টা করিনি ।” কবি অরুণ মিত্র আর অনুবাদক অরুণ মিত্রকে যদি আমরা দেখি । যে অনুবাদকের ক্ষেত্রে তিনি এতটাই নিখুঁত ও সহজ যে পাঠক সহজেই তা অনুধাবন করতে পারবে । কবিতায় যতি চিহ্নের ব্যবহার ও লয় পাঠককে ভাবাবে। না , এটা কোনও স্লোগান ধর্মী লেখা নয় । দীর্ঘ কবিতা সাহিত্যের ইতিহাসে অনেকেই লিখেছেন কিন্তু তাঁর লেখা এই কবিতায় কিছু অভিনবত্ব আছে । যা কবিতার নিজস্ব কিছু ব্যক্তিগত চাহিদাকে পূরণ করছে । একটা পূর্ণাঙ্গ কবিতায় আরেকটা নতুন ভাবনার জন্ম দেয় । সেই ভাবনা নতুন লেখার জন্ম দেয় আর এভাবেই পরস্পর - পরস্পরে মিলে তৈরি হয় আধুনিকতা । লেনিনের এই দীর্ঘ কবিতাটি যথার্থ – ই এক আধুনিক কবিতা । কারণ একটা পরিপূর্ণ কবিতা হতে গেলে যা- যা বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার তার সবটাই এতে আছে ।
এই দীর্ঘ কবিতার দ্বিতীয় স্তবকে তিনি লিখছেন ,
“ ...... সারা সৃষ্টি সমস্ত মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে গেল
এক থমথমে উদ্বেগে পীড়িত হতে থাকল সমস্ত হৃদয়
বুক গুলি যন্ত্রণায় হাঁসফাঁস করতে লাগল
বন্ধ হয়ে গেল সমস্ত শুকনো সব মুখ ।
রক্তাক্ত ঝড়ে হাজার শহীদ প্রাণ হারাল
কিন্তু তারা বৃথাই দুঃখ সয়নি,কাঁটার মুকুট বৃথাই পরেনি ।
মিথ্যা আর অন্ধকারের রাজ্যে ভন্ড দাসদের মধ্যে
তারা এগিয়ে গেল ভবিষ্যতের মশালের মতো । ….”
শোষিত – বঞ্চিত – নিপীড়িত মানুষ তাঁদের নিজেদের সুস্থ – সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এগিয়ে আসছেন । লেনিন-তো এটাই চেয়েছেন মেহনতী মানুষ সচেতন হয়ে নিজেদের অধিকার বুঝে নেবে । এই লড়াই–ই তো তিনি করে গেছেন আজীবন । তাঁর চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে বাস্তবে । আবার এক জায়গায় তিনি লিখছেন ,
“…… আগুনের ফলকে , অনির্বাণ এক ফলকে
তারা আমাদের সামনে এঁকে দিয়ে গেছে আত্মোৎসর্গের পথ ।।…”
সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে যারা নিজেদের আত্মোৎসর্গ করেছেন , তারাই তো সেই আলোর পথযাত্রী । তাঁদের দেখানো পথেই তো আমাদের পথ চলা । তিনি লিখছেন ,
“ …… ঝকমকে লাল সূর্য তার রশ্মির তলোয়ারে
ফেড়ে ফেলল মেঘ , ছিড়ে গেল কুয়াশার শবাচ্ছাদন ।
পৃথিবীর সমুদ্র গহ্বরে বাতিঘরের দিপ্তীর মতো
প্রকৃতির বেদীমূলে কোনও অজানা হাতে জ্বালানো শাশ্বত হোমাগ্নির মতো
নিদ্রিত মানুষকে সে আকর্ষণ করল আলোর দিকে ।….”
এই দীর্ঘ কবিতায় লেনিন ১৯০১-১৯০৭-এর বিপ্লবের কথা বলেছেন । যাকে তিনি বলতে চেয়েছেন প্রথম “ বসন্ত”,তারপরে প্রতিক্রিয়ার মানে “শীত” আর শেষে আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তির জন্য । তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে , যদি আমরা এই দীর্ঘ কবিতাটি পড়ি তাহলে বোঝা যাবে যে , এর মূল সুর কি ? এর মূল সুর হলো – রূপান্তরের পথে সংগ্রামী জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত অবিরত সংগ্রাম করে যাওয়া ।
এ দীর্ঘ কবিতার নির্দিষ্ট একজন নায়ক নেই । নায়ক সমাজের সংগ্রামী জনতা । লড়াইয়ের পথে উত্থান – পতন – হার – জিত সবটাই তাঁর কবিতায় ধরা দিয়েছে । তিনি লিখছেন ,
“ …… সব কিছুর উপর বরফ , সর্বত্র মৃত্যু , সমস্ত চরাচর হিমে জমাট
সকল জীবন যেন নিশ্চিহ্ন ,
সারা পৃথিবী যেন এক কবরের গহ্বর ।
মুক্ত আলোকিত জীবনের আর কোনও চিহ্ন নেই ।
কিন্তু তবু রাত্রির কাছে দিনের পরাজয় হয়নি এখনও
এখনও জীবনকে পর্যুদস্ত করে কবরের জয়োৎসব নয় ।
এখনও ভস্মের মধ্যে ধিকিধিকি জ্বলছে স্ফুলিঙ্গ ,
জীবন তার নিশ্বাসে তাকে তাকে আবার জাগাবে ।…’’
হাজারও ঝড় ঝঞ্ঝাতেও যে প্রাণ স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে , প্রতিবাদী প্রাণের মৃত্যু নেই । সাময়িক কিছুটা থিতিয়ে গেলেও আবার তারা জেগে ওঠে নিজস্ব ছন্দে । জীবন – সংগ্রাম এভাবেই আবর্তিত হয় ।
জারের অত্যাচারের এক করুন দৃশ্য এঁকেছেন , তিনি তাঁর কবিতায়। তিনি লিখেছেন , -
“ …. স্বৈরশাসন , জাতীয়তাবাদ , গোঁড়ামি
অকাট্য ভাবে প্রমাণ করেছে তারা কত গুণের আধার ।
তাদেরই নামে ওরা আমাদের মেরেছে মেরেছে মেরেছে ,
ওরা কৃষককে আঘাত করেছে তার অস্থি মজ্জায় ,
ওরা ভেঙ্গে দিয়েছে দাঁত ,
ওরা শৃঙ্খলিত মানুষকে কবর দিয়েছে বন্দীশালায় ,
ওরা লুট করেছে , ওরা খুন করেছে ,
আমাদের মঙ্গলের জন্য আইন মাফিক ,
জারের গৌরবের জন্য , সাম্রাজ্যে কল্যাণের জন্য !
জারের গোলামরা তার জল্লাদদের পরিতৃপ্ত করেছে ,
তার সৈন্যরা তার গৃধ্নু শকুনদের ভোজ দিয়েছে ,
রাষ্ট্রের মদ আর জনগণের রক্ত দিয়ে । …. ”
এভাবে তিনি দেখিয়েছেন জার ও তার ভাড়াটে প্রশাসনের অত্যাচার । কবিতার দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে এ নিদারুণ যন্ত্রণার কথা কবিতাতে পড়লেই তৎকালীন রাশিয়ার সামাজিক অবস্থানের কথা পরিষ্কার বোঝা যায় । এবং সব শেষে কবিতার তৃতীয় পর্যায়ে তিনি দেখিয়েছেন , ঐ শোষিত – বঞ্চিত – নিপীড়িত মানুষের মাথা তুলে দাঁড়াবার জন্য সংগ্রামের শপথ গ্রহণের কথা । অত্যাচার যখন নিয়মিত হয়ে দাঁড়ায় প্রতিবাদ তখন হয় দৃঢ় । প্রতিবাদ – প্রতিরোধে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যায় । লেনিন তাঁর এই দীর্ঘ কবিতার শেষের দিকে বঞ্চিত – নিপীড়িত মানুষকে মাথা তুলে দাঁড়াবার জন্য শপথ নিতে আহ্বান করেছেন । এই দীর্ঘ কবিতার শেষে তিনি লিখছেন ,
“ …. সুখ আর সত্যের রশ্মি
জনগণের দৃষ্টির সামনে ফুটে উঠেছে ।
মুক্তির সূর্য মেঘ ভেদ করে
আমাদের আলোকিত করবে ।
পাগলা ঘন্টির জোড়ালো স্বর
মুক্তিকে আবাহন করবে
আর জারের বদমাশদের হেঁকে বলবে
‘হাত নামাও , ভাগো তোমরা।’….
…. এসো নির্মূল করি
স্বৈরাচারের ক্ষমতাকে ।
মুক্তির জন্য মৃত্যু হল সম্মান ,
শৃঙ্খলিত জীবনধারণ লজ্জা ।
এসো ভেঙে ফেলি দাসত্ব ,
গোলামীর লজ্জা ভেঙে ফেলি ।
হে মুক্তি , তুমি আমাদের দাও –
পৃথিবী আর স্বাধীনতা !”
তৃতীয় পর্ব
এ কবিতার জন্ম আজ থেকে কত দিন আগে । তবুও কি অদ্ভুত । এ সময়ের সাথে কত মিল তার সামাজিক অবস্থানের । একপাল কালো মেঘ এখনও এ দুনিয়ার অর্ধেক আকাশে ছেয়ে আছে । আমাদের দেশও এক সমূহ বিপদের সম্মুখীন । মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিষ । অদের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে নুইয়ে পড়ছে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা সর্বোপরি দেশের সংবিধান । আক্রান্ত জনজীবন – তার সাথে নিখুঁত মিথ্যার তথ্যকে কাজে লাগিয়ে মস্তিষ্ককে নিজেদের আধিপত্য রাখার কারবার চালিয়ে যাচ্ছে এরা । তাই এই কঠিন পরিস্থিতিতে গোটা দুনিয়ার মেহনতী মানুষের কাছে লেনিন আজও সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক ।
এ নিবন্ধ শেষ করব তাঁর–ই লেখা ঐ দীর্ঘ কবিতা থেকে নেওয়া তিনটি পংক্তি দিয়ে –
“ …. সাহসে বুক বাঁধো ! এই দুর্দিন শিগগিরই দৃঢ় হবে ।
এক হয়ে তোমরা দাঁড়াও মুক্তি পীড়কদের বিরুদ্ধে ।
বসন্ত আসবে …. আসছে …. এসে গেছে সে । ”
প্রকাশ: ২২-এপ্রিল-২০২৬
শেষ এডিট:: 22-Apr-26 18:58 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/lets-eradicate-the-power-of-tyranny-
Categories: Fact & Figures
Tags: lenin
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (149)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (132)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (78)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
সমবায় প্রসঙ্গে
- ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন
“ এসো নির্মূল করি , স্বৈরাচারের ক্ষমতাকে ”
- সৌম্যদীপ রাহা
বাংলার বিকল্প পরিবেশ ভাবনা ও উন্নয়নের অভিমুখ
- সৌরভ চক্রবর্ত্তী
পশ্চিমবাংলার ক্রীড়ানীতি ও বিপল্প প্রস্তাব
- সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়
তথ্য প্রযুক্তি এ আই আমাদের রাজ্যে সম্ভাবনা
- নন্দিনী মুখার্জি
প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি
- ওয়েবডেস্ক
.jpg)



