ভারতের ক্রীড়ানীতি: একটি ধারাবাহিক ইতিহাস (চতুর্থ পর্ব)

Author
সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়

কপিল দেবের উত্থান দেখিয়ে দেয় যে ক্রিকেট আর কেবল শহুরে অভিজাতদের খেলা নয়; এটি গ্রামীণ উত্তর ভারতের মধ্যবিত্তের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনও হতে পারে। হকির পতন ও ক্রিকেটের উত্থানের এই যুগপৎ প্রক্রিয়া রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া নীতির....

India's Sports Policy: A Continuous History ( part iv)
সবুজ বিপ্লবকে সাধারণত ভারতের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ইতিহাস হিসেবে দেখা হলেও, এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অভিঘাত ছিল বহুমাত্রিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। এই অভিঘাতের একটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল ক্রীড়া জগৎ। খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি, আয়বৃদ্ধি, সামাজিক স্তরবিন্যাস এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিবর্তনের মাধ্যমে সবুজ বিপ্লব যে নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করেছিল, তা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই ভারতের ক্রীড়া কাঠামো, অংশগ্রহণের সামাজিক ভিত্তি এবং সাফল্য–ব্যর্থতার ধরনকে প্রভাবিত করে। 

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভারত যখন গুরুতর খাদ্যসংকট, খরা ও আমদানিনির্ভরতার মুখোমুখি, তখন উচ্চফলনশীল বীজ, সেচ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের উপর নির্ভরশীল কৃষি সংস্কার কর্মসূচি চালু হয়। এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা পরিমণ্ডল এবং দেশীয় নীতিনির্ধারকরা। এই কৃষি রূপান্তর উত্তর-পশ্চিম ভারত, বিশেষত পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে দ্রুত ফল দিতে শুরু করে। 
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া ক্রীড়ার জন্য এক মৌলিক শর্ত। অপুষ্টি ও অনাহার ক্রীড়া প্রতিভার সবচেয়ে বড় শত্রু। সবুজ বিপ্লবের ফলে শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ায় গ্রামীণ ও শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুষ্টিস্তরে ধীরে ধীরে উন্নতি ঘটে। যদিও এই উন্নতি ছিল অসম ও অঞ্চলভিত্তিক, তবুও সামগ্রিকভাবে শারীরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। 

সবুজ বিপ্লবের আরেকটি বড় ফল ছিল গ্রামীণ আয়ের বৃদ্ধি ও কৃষিভিত্তিক মধ্যবিত্তের উত্থান। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো অঞ্চলে কৃষক পরিবারগুলির হাতে অতিরিক্ত নগদ অর্থ আসে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের ক্ষেত্রে ব্যয় হতে থাকে। এই বিনোদনের পরিসরের মধ্যেই ক্রীড়ার স্থান ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়। গ্রামীণ যুবসমাজের মধ্যে কাবাডি, কুস্তি, হকি ও অ্যাথলেটিক্সের মতো খেলাগুলির জনপ্রিয়তা বাড়ে। 
এই অর্থনৈতিক পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া নীতিতেও প্রভাব ফেলে। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে ভারতীয় রাষ্ট্র, বিশেষত ইন্দিরা গান্ধী-র নেতৃত্বাধীন সময়ে, আত্মনির্ভরতা ও জাতীয় মর্যাদার ধারণাকে জোরদার করে। খাদ্যে আত্মনির্ভরতার সাফল্য ক্রীড়াকেও জাতীয় শক্তির প্রদর্শনী হিসেবে ব্যবহারের অনুপ্রেরণা জোগায়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও সাফল্যকে আধুনিক ভারতের সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা বাড়ে। 

সবুজ বিপ্লবের ফলে গ্রামীণ সমাজে যে নতুন শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হয়, তা ক্রীড়াক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়। বড় ও মাঝারি কৃষকরা ক্রীড়া ক্লাব, আখড়া ও স্থানীয় প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষকতা করতে শুরু করেন। গ্রাম ও মফস্বলে খেলার মাঠ উন্নয়ন, আখড়া সংস্কার এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে ক্রীড়া চর্চার সুযোগ বাড়ে। তবে এই সুযোগ মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভূমিহীন কৃষক ও প্রান্তিক চাষিদের জন্য ক্রীড়া এখনও রয়ে যায় শ্রমের পর অবসরের সীমিত পরিসরে আবদ্ধ এক কার্যকলাপ।
ক্রীড়ার সামাজিক ভিত্তির এই অসম বিস্তার ভারতের ক্রীড়া সাফল্যের ধরণকেও প্রভাবিত করে। দলগত খেলায়, বিশেষত হকিতে, গ্রামীণ উত্তর ভারতের অবদান উল্লেখযোগ্য হলেও ব্যক্তিগত খেলায় যেমন অ্যাথলেটিক্স বা সাঁতার, কাঠামোগত বিনিয়োগের অভাবে সাফল্য সীমিত থাকে। সবুজ বিপ্লব অর্থনৈতিক উদ্বৃত্ত তৈরি করলেও, সেই উদ্বৃত্তের বৃহৎ অংশ কৃষি যন্ত্রপাতি, জমি ও ভোগ্যপণ্যে বিনিয়োগ হয়; ক্রীড়াকে দীর্ঘমেয়াদি পেশা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দরকার, তা গড়ে ওঠে ধীরগতিতে।
শহর ও গ্রামের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সবুজ বিপ্লব ক্রীড়াকে নতুনভাবে প্রভাবিত করে। কৃষিভিত্তিক অঞ্চলের সমৃদ্ধি শহরমুখী অভিবাসন কমিয়ে দেয় এবং গ্রামীণ এলাকাতেই ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে। সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রামীণ যুবকদের শারীরিক সক্ষমতা একটি বড় সুবিধা হয়ে ওঠে, এবং এই বাহিনীগুলি বহু ক্ষেত্রে ক্রীড়ার প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। 

সবুজ বিপ্লব ভারতের ক্রীড়া জগতের জন্য একটি অনুকূল কিন্তু অসম্পূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। এটি ক্রীড়ার সামাজিক ভিত্তি বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল, কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে যে কাঠামোগত ও নীতিগত রূপান্তর দরকার ছিল, তা আংশিকই বাস্তবায়িত হয়। 

ঔপনিবেশিক আমল থেকেই উত্তর ভারত, বিশেষত পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, ভারতীয় হকির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। সেনাবাহিনী, পুলিশ, রেলওয়ে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-নির্ভর হকি সংস্কৃতি গ্রামীণ যুবসমাজের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, দলগত শৃঙ্খলা ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলেছিল। মাঠ, আখড়া ও খোলা প্রান্তর ছিল এই খেলাটির স্বাভাবিক পরিবেশ। কিন্তু সবুজ বিপ্লবের সূচনার পর এই গ্রামীণ ভূদৃশ্য ও সামাজিক ছন্দ দ্রুত বদলাতে থাকে। উচ্চফলনশীল বীজ, সেচব্যবস্থা ও যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষিকাজের সময়সূচি ও শ্রমবণ্টনে মৌলিক পরিবর্তন আসে। যে অবসর সময় একসময় হকির অনুশীলনে ব্যয় হত, তা ক্রমশ কৃষিকাজের তদারকি, বাজারমুখী উৎপাদন ও আয়ের হিসাবনিকাশে গ্রাসিত হয়।
ক্রীড়া, বিশেষত হকির মতো শ্রমসাধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলননির্ভর খেলায় এই উদ্বৃত্ত বিনিয়োগের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কারণ হকি তখনও রাষ্ট্রীয় চাকরি বা সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত, যার ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলি ধীরে ধীরে হকিকে পেশা হিসেবে দেখার আগ্রহ হারাতে শুরু করে।
এর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হকির পতনকে আরও ত্বরান্বিত করে। ১৯৭০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক হকিতে কৃত্রিম টার্ফের ব্যবহার শুরু হলে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার শারীরিক ও গতিময় হকি আধিপত্য বিস্তার করে। ভারতের গ্রামীণ মাঠভিত্তিক হকি সংস্কৃতি এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়। সবুজ বিপ্লব কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণ সম্ভব করলেও, ক্রীড়াক্ষেত্রে সেই একই গতিতে প্রযুক্তিগত অভিযোজন ঘটেনি। ফলে উত্তর ভারতের হকি ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতার বাইরে সরে যেতে থাকে।

এই পতনের সামাজিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। সবুজ বিপ্লব গ্রামীণ সমাজে নতুন শ্রেণিবিন্যাস তৈরি করে, যেখানে বড় ও মাঝারি কৃষকরা সামাজিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। এই নতুন অভিজাত শ্রেণির সাংস্কৃতিক পছন্দে হকির পরিবর্তে ক্রিকেট ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়। ক্রিকেট ছিল তুলনামূলকভাবে কম শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ, সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ একটি খেলা। শহুরে মধ্যবিত্ত সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ক্রিকেট সবুজ বিপ্লব-পরবর্তী গ্রামীণ সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ভালোভাবেই খাপ খেয়ে যায়।
ক্রিকেটের উত্থানকে বোঝার জন্য রাষ্ট্রীয় ও গণমাধ্যমের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭০-এর দশকে দূরদর্শনের সম্প্রসারণ ক্রিকেটকে উত্তর ভারতের গ্রাম ও মফস্বলেও দৃশ্যমান করে তোলে। হকি যেখানে মাঠে উপস্থিত না থাকলে দেখা যেত না, ক্রিকেট সেখানে রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে। সবুজ বিপ্লবের ফলে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করে। ক্রিকেট ধীরে ধীরে কেবল একটি খেলা নয়, বরং বিনোদন ও সামাজিক আলাপের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এই সময়ে রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদের ভাষ্যেও ক্রিকেট বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করে। ইন্দিরা গান্ধী-র আমলে খাদ্যে আত্মনির্ভরতার সাফল্য যেমন জাতীয় গর্বের প্রতীক হয়ে ওঠে, তেমনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের সাফল্য আধুনিক ভারতের সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারতের টেস্ট সিরিজ জয় উত্তর ভারতের যুবসমাজের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি নতুন আকর্ষণ সৃষ্টি করে। এই আকর্ষণই পরবর্তী দশকে ক্রিকেটের বিস্ফোরক জনপ্রিয়তার ভিত্তি রচনা করে।
সবুজ বিপ্লব-পরবর্তী উত্তর ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রের সম্প্রসারণও ক্রিকেটের উত্থানে ভূমিকা রাখে। কৃষিভিত্তিক সমৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারগুলি সন্তানদের বিদ্যালয় ও কলেজে পাঠাতে শুরু করে, যেখানে ক্রিকেট ছিল প্রধান খেলা। স্কুল ও কলেজ মাঠে হকির তুলনায় ক্রিকেটের চর্চা বেশি হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে ক্রিকেটের আধিপত্য গড়ে ওঠে। হকি ক্রমশ সেনা ও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, আর ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাব সংস্কৃতির মাধ্যমে।

উত্তর ভারতের ক্রিকেট উত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হল ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে গ্রামীণ হরিয়ানা থেকে উঠে আসা ক্রিকেটাররা, যাদের মধ্যে কপিল দেব অন্যতম। তাঁর সামাজিক পটভূমি সবুজ বিপ্লব-পরবর্তী গ্রামীণ সমৃদ্ধির প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে শারীরিক সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও নতুন সুযোগের সমন্বয় সম্ভব হয়েছিল। কপিল দেবের উত্থান দেখিয়ে দেয় যে ক্রিকেট আর কেবল শহুরে অভিজাতদের খেলা নয়; এটি গ্রামীণ উত্তর ভারতের মধ্যবিত্তের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনও হতে পারে।
হকির পতন ও ক্রিকেটের উত্থানের এই যুগপৎ প্রক্রিয়া রাষ্ট্রীয় ক্রীড়া নীতির সীমাবদ্ধতাকেও উন্মোচিত করে। সবুজ বিপ্লব কৃষিতে কেন্দ্রীভূত পরিকল্পনার মাধ্যমে সাফল্য আনলেও, ক্রীড়াক্ষেত্রে অনুরূপ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। হকির জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত অভিযোজনের অভাবে একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা তার সামাজিক ভিত্তি হারায়। বিপরীতে ক্রিকেট, তুলনামূলকভাবে কম রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সত্ত্বেও, বাজার, গণমাধ্যম ও সামাজিক আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে দ্রুত বিকশিত হয়।
এই প্রক্রিয়ার আরেকটি দিক হল ক্রীড়ার পেশাগত চরিত্রের পরিবর্তন। সবুজ বিপ্লব-পরবর্তী অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পরিবারগুলি ঝুঁকিহীন ও দীর্ঘমেয়াদি আয়ের পথ খুঁজছিল। ক্রিকেটে ক্রমশ পেশাদারিত্ব, বিজ্ঞাপন ও ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় এটি হকির তুলনায় অধিক গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ফলে প্রতিভাবান যুবকেরা হকি ছেড়ে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে, যা হকির পতনকে আরও গভীর করে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সবুজ বিপ্লব উত্তর ভারতের ক্রীড়া জগতে এক দ্বিমুখী রূপান্তর ঘটায়। এটি সরাসরি হকির পতন ঘটায়নি, আবার এককভাবে ক্রিকেটের উত্থানও ঘটায়নি; বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যেখানে হকির ঐতিহ্যগত ভিত্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং ক্রিকেট নতুন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।


আগামীকাল পঞ্চম পর্ব প্রকাশিত হবে, থাকবেঃ ১৯৭০-এর দশক ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসের সংক্রমণকাল।
রাজনৈতিক কেন্দ্রিকতা, অর্থনৈতিক সংকট ও জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রনীতির মধ্যে ক্রীড়া
প্রকাশ: ২৯-জানুয়ারি-২০২৬

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 01-Feb-26 00:34 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/indias-sports-policy-a-continuous-history-part-iv
Categories: Fact & Figures
Tags: , sports policy, indias sports, scope of sports
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড