অনলাইন থেকে অফলাইন গণ আন্দোলন - রাজনীতি

ইতিহাস কোনোদিন আকস্মিক অলৌকিকতায় মোড় ঘোরে না। সমাজ-শরীরে পরিবর্তনের বীজ দীর্ঘকাল ধরে নীরবে সঞ্চিত হয় মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভে, কাঠামোগত বঞ্চনায়, শোষকের দম্ভোক্তিজনিত অপমানে এবং অবমিত স্বপ্নের ছাইস্তূপে। তারপর একদিন, আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ কোনো অনুঘটক সেই রুদ্ধ আক্রোশকে বিস্ফোরিত করে। রাজনৈতিক দর্শনের ভাষায় সেটিই হয়ে ওঠে এক নতুন ঐতিহাসিক পর্বের প্রসূতি-মুহূর্ত।
ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সাল তেমনই এক দ্বান্দ্বিক সন্ধিক্ষণের প্রতীক। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের সামাজিক হতাশা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিলম্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রথাগত রাজনীতিতে যুব-প্রতিনিধিত্বের ভয়াবহ সংকট এমন এক অসংলগ্ন বস্তুগত বাস্তবতা তৈরি করেছিল, যার রাজনৈতিক প্রকাশ ছিল অনিবার্য। প্রশ্ন ছিল কেবল একটাই—এই পুঞ্জীভূত অসন্তোষ কোন্ বয়ান ও নান্দনিক রূপ পরিগ্রহ করবে? উত্তরটি প্রথাগত ছিল না। এই রাজনৈতিক বিস্ফোরণ জন্ম নেয়নি কোনো জাঁকজমকপূর্ণ দলীয় কার্যালয় থেকে, কিংবা কোনো ঐতিহাসিক মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে। এর উৎস ছিল রাষ্ট্রীয় উচ্চপর্যায়ের এক অবমাননাকর রূপক, একটি ডিজিটাল ব্যঙ্গচিত্র এবং একটি নতুন সামাজিক প্রতীকের সম্মিলিত প্রকাশ—Cockroach Janta Party (CJP)।
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা মানুষেরা একে নিছক একটি ক্ষণস্থায়ী ‘ইন্টারনেট ট্রোল' বা ‘মিম কালচার' বলে পরিহাস করেছিলেন। কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ শিক্ষা আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—শাসকশ্রেণি সর্বদা উদীয়মান যুগের নতুন ভাষা ও প্রতিরোধ-নান্দনিকতাকে প্রথমে তুচ্ছ জ্ঞান করে ভুল করে। যে রাজনৈতিক পুস্তিকা একদিন সামন্ততান্ত্রিক ও ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তাকেও একসময় শোষকশ্রেণি বলত ‘তাসের দেশীয় ফর্দ'। যে প্রথম সংগঠিত শ্রমিক সংহতি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, তাকে অভিহিত করা হয়েছিল ‘অগোছালো উন্মত্ত ভিড়' বলে।
আজকের ডিজিটাল পুঁজিবাদী যুগে সেই একই দ্বন্দ্ব নতুন রূপ পরিগ্রহ করেছে। একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে আমরা প্রত্যক্ষ করলাম: একটি মিম হয়ে উঠতে পারে শ্রেণিসংগ্রামের ধারালো তীক্ষ্ণ ভাষা, একটি ৩০ সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত রিলে সঞ্চারিত হতে পারে প্রতিবাদের গান, অ্যালগরিদমের অদৃশ্য নেটওয়ার্ক হয়ে উঠতে পারে মতাদর্শিক যুদ্ধক্ষেত্র, এবং একটি স্মার্টফোনের পর্দা পরিণত হতে পারে নতুন যুগের ক্যাডার-সংগঠনের বিশেষ যন্ত্রে। ‘জেন-জি’-দের আন্দোলনকে তাই কেবল একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে দেখলে তা হবে এক চরম সামাজিক অন্ধত্ব। এটিকে পাঠ করতে হবে এক গভীর অর্থনৈতিক-সামাজিক উপসর্গ হিসেবে—যা আমাদের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, বিশ্বায়িত পুঁজির অভিঘাতে ভারতের প্রথাগত রাজনৈতিক কাঠামো কীভাবে তরুণ সমাজকে নিঃশ্বেসিত করে নতুন রূপান্তরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
কার্ল মার্কস তাঁর জার্মান আইডিওলজি ও রাজনৈতিক অর্থনীতির সমালোচনায় কঠোরভাবে স্থাপন করেছিলেন সেই চিরন্তন নীতি—"মানুষের সামাজিক অস্তিত্বই তার চেতনাকে গড়ে তোলে।" অর্থাৎ, কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, সাংস্কৃতিক নান্দনিকতা বা প্রতিবাদের স্বর আকাশ থেকে পড়ে না; তা চূড়ান্ত বিচারে তাদের বস্তুগত জীবনধারণের শর্ত ও উৎপাদন-সম্পর্কের দ্বারা নির্ধারিত হয়।
যখন লক্ষ লক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়-উত্তীর্ণ যুবক বছরের পর বছর স্থায়ী কর্মসংস্থানহীন অবস্থায় গিগ-ইকোনমির অনিশ্চিত চক্রব্যূহে নিক্ষিপ্ত হয়; যখন রাষ্ট্রীয় নিয়োগ প্রক্রিয়া দুর্নীতির পাঁকে তলিয়ে যায়; যখন একদিকে মুষ্টিমেয় কর্পোরেট পুঁজির হাতে সম্পদের পাহাড় জমা হয় আর অন্যদিকে তরুণ শ্রমশক্তির সূচক নামতে থাকে তলানিতে—তখন সামাজিক বিস্ফোরণ অনিবার্য হয়ে ওঠে। প্রতিরোধের এই বিবর্তনকে বোঝা প্রয়োজন: ১৮-১৯ শতক: প্যামফ্লেট ও ধর্মঘট ──► ২০ শতক: মিছিল ও কারখানা-ঘেরাও ──► ২১ শতক: মিম, AI ও অ্যালগরিদমিক প্রতিরোধ ।
ইতিহাসের উপহাস এই যে, শাসকশ্রেণি নিপীড়িতকে দমন করতে যে অপমানজনক রূপক ব্যবহার করে, নিপীড়িত সমাজ প্রায়শই সেই গালিকেই নিজের রাজনৈতিক রূপান্তরে পরিণত করে। ২০২৬ সালের মধ্যভাগে বিচারব্যবস্থার শীর্ষস্থান থেকে ভেসে আসা "ককরোচ" (তেলাপোকা) ও "পরজীবী" শব্দবন্ধটি ছিল তরুণদের সামাজিক অস্তিত্বের প্রতি চরম রাষ্ট্রীয় অবমাননা। কিন্তু জেন-জি সেই গালিকে লাঞ্ছনা হিসেবে গ্রহণ না করে তাকে পরিণত করল অবাধ্যতার এক অভূতপূর্ব পতাকায়। এটি বস্তুত এক বিযুক্ত প্রজন্মের শ্রেণি-আর্তনাদ। তাদের শিক্ষা, শ্রমশক্তি ও মেধা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান পুঁজিবাদী পরিকাঠামো তাদের সম্ভাবনাকে পূর্ণ বিকশিত হতে দিচ্ছে না; বরং তাদের পরিণত করেছে পুঁজির উদ্বৃত্ত শ্রমবাহিনীর এক বিশাল পুলে।
এই ভাষাগত রূপান্তর কেবল কোপেনহেগেনীয় সামাজিক খেলা নয়; এটি ক্ষমতার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ইতালীয় মার্কসবাদী তাত্ত্বিক আন্তোনিও গ্রামশি দেখিয়েছিলেন, শাসকশ্রেণি কীভাবে কেবল লাঠি বা আইনি ক্ষমতার জোরে নয়, বরং ভাষা, নান্দনিকতা, ঐতিহ্য ও ‘সাধারণ বোধ' (Common Sense) তৈরি করে সমাজে তার সাংস্কৃতিক আধিপত্য (Cultural Hegemony) টিকিয়ে রাখে।
বর্তমান জেন-জি-রা সেই আধিপত্যের ওপর এক গভীর আঘাত হেনেছে। অবমাননাকর শব্দকে উল্টে দিয়ে, ব্যঙ্গকে শ্রেণিসংগ্রামের হাতিয়ার বানিয়ে এবং নিজেদের "অলস ও বেকার’ বলে প্রথাগত শোষক নীতিকে ভেঙচে দিয়ে তারা এক প্রতি-আধিপত্য (Counter-Hegemony) গড়ে তোলার সূচনা করেছে। এটি প্রমাণ করে, শোষক যখন অবমাননার ভাষা শেখে, শোষিত তখন সেই ভাষাকেই তার রাজনৈতিক আত্মরক্ষার ঢাল বানিয়ে নেয়।
ঐতিহাসিকভাবে রাজনীতির কেন্দ্রস্থল ছিল কারখানার গেট, কৃষকের খামার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন কক্ষ বা রাজপথের জনসভা। কিন্তু আধুনিক ডিজিটাল পুঁজিবাদ উৎপাদনের পাশাপাশি তথ্য, মানুষের মনোযোগ এবং ডেটাকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরিত করেছে। ফলে, আজকের মতাদর্শিক সংগ্রাম কেবল বাস্তব ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই; তা ঢুকে পড়েছে অ্যালগরিদমের প্রতিটি নোডে। জেন-জি এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আছে যেখানে: সামাজিক মাধ্যম কেবল বিনোদনের ক্ষেত্র নয়, তা জনমত গঠনের প্রাথমিক যুদ্ধক্ষেত্র। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও অ্যালগরিদম কেবল কর্পোরেট লাভের যন্ত্র নয়, তা রাজনৈতিক প্রচার ও সংগঠনের সাশ্রয়ী মাধ্যম।
‘জেন-জি’-রা অত্যন্ত সচেতনভাবে ChatGPT বা Claude-এর মতো Generative AI টুল ব্যবহার করে তাদের কনটেন্ট, পোস্টার ও রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করেছে। প্রযুক্তির এই দ্বৈত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তি নিজে কখনো শ্রেণি-নিরপেক্ষ নয়; তা কার হাতে রয়েছে এবং কোন্ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে—তার ওপরই নির্ধারিত হয় তার সামাজিক চরিত্র। AI যেখানে একদিকে কর্পোরেট পুঁজির হাতে শ্রমিকের কাজ ছাঁটাই ও নজরদারির হাতিয়ার, সেখানেই জেন-জি-র হাতে তা পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক প্রবেশের মূলধন-ব্যয় (Cost of Political Entry) শূন্যে নামিয়ে আনার এক বিকল্প প্রদেয়ে।
|
বৈশিষ্ট্য |
প্রথাগত বুর্জোয়া রাজনীতি |
জেন-জি আন্দোলন |
|
মাধ্যম |
বিশাল অর্থায়নে ফ্লেক্স, মিডিয়া ও সভা |
AI-নির্মিত পোস্টার, মিম, রিলস ও হ্যাশট্যাগ |
|
সংগঠনিক ভিত্তি |
আমলাতান্ত্রিক দলীয় কাঠামো |
বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল কমিউনিটি ও অফলাইন নেটওয়ার্ক |
|
ভাষা |
গম্ভীর, প্রতিশ্রুতিপূর্ণ এবং প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক |
তীব্র ব্যঙ্গাত্মক, স্ব-বিদ্রূপাত্মক (Self-deprecating) ও দ্বান্দ্বিক |
|
প্রযুক্তি ব্যবহার |
শীর্ষ থেকে নিচে (Top-down) প্রচার |
তলদেশ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত (Bottom-up) অ্যালগরিদমিক গতি |
তবে রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিতে বেকারত্ব কেবল এক পরিসংখ্যানগত সংকট নয়; তা বস্তুত পুঁজিবাদী ব্যবস্থার এক কাঠামোগত রাজনৈতিক পরাজয়। শ্রমশক্তি যখন উৎপাদন সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন মানুষের চেতনায় এক গভীর সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধ (Alienation) তৈরি হয়। জেন-জি-দের আন্দোলনের জনপ্রিয়তার রহস্য তাদের অনলাইন চাতুর্যের চেয়েও বেশি নিহিত রয়েছে এই তীব্র বিচ্ছিন্নতাবোধকে এক যৌথ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় রূপান্তরিত করার ক্ষমতার মধ্যে।
ইতিহাসের নিয়ম হলো, কোনো সামাজিক প্রতিবাদ যদি কেবল ভার্চুয়াল জগতে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা ক্যাপিটালিজমের ‘ভোগবাদী সংস্কৃতি'র পেটে ঢুকে স্রেফ একটি বিনোদন পণ্যে পরিণত হয়। কিন্তু জেন-জি-দের উত্থানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকটি হলো ডিজিটাল পরিসর থেকে রাজপথের বাস্তব মাটিতে তার উত্তরণ। শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, NEET দুর্নীতির প্রতিবাদ, নিয়োগের নিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতার দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা অবস্থান-বিক্ষোভ প্রমাণ করেছে যে, মিম ও রিলসের আড়ালে জমা হওয়া ক্ষোভটি ছদ্ম-ভার্চুয়াল ছিল না; তা ছিল এক্কেবারে জীবন্ত। ডিজিটাল সংহতকরণ ──► অ্যালগরিদমিক গতি ──► রাজপথের যৌথ উপস্থিতি ──► রাষ্ট্রীয় শাটডাউনে অফলাইন BLE প্রযুক্তি ] এমনকি রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন ও ইন্টারনেট বন্ধের মুখেও Bluetooth Low Energy (BLE)-ভিত্তিক অফলাইন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রক্ষা করার কৌশলটি বিশ্বায়িত প্রতিবাদের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি দেখায় যে, ডিজিটাল যুগের জেন-জি প্রতিরোধ কেবল শাসকদলের নীতিকেই ভেঙচায় না, তারা রাষ্ট্রের আধুনিকতম দমন-প্রযুক্তিকেও প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
এখানেই মার্কসবাদী "শ্রেণি-চেতনা" (Class Consciousness)-র ধারণাটি নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। প্রথাগতভাবে শ্রেণি-চেতনা বলতে বোঝাত নিজের শ্রেণিগত অবস্থান ও শোষণকে চেনা। আধুনিক জেন-জি তরুণের কাছে যখন স্পষ্ট হয় যে, তার বেকারত্ব বা মানসিক অবসাদ তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়—বরং তা অর্থনৈতিক কাঠামোর অভ্যন্তরীণ দেউলিয়াত্ব, তখনই ব্যক্তিগত যন্ত্রণা রূপান্তরিত হয় যৌথ রাজনৈতিক শক্তিতে। ডিজিটাল সংযোগ এই চেতনা-সংগঠনের সময়সীমাকে (Time-space Compression) অভাবনীয়ভাবে সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছে। তবে কোনো রূপান্তরকে অন্ধভাবে উদযাপন করা মার্কসবাদী দ্বান্দ্বিক পদ্ধতির অনুপন্থী নয়। জেন-জি-দের আন্দোলন-কে যেমন নিছক মিম বলে উড়িয়ে দেওয়া ভুল, তেমনই একেই রাতারাতি বিপ্লবের চূড়ান্ত উত্তর মনে করাও ঐতিহাসিক অসম্পূর্ণতা। এদের আন্দোলনকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে কয়েকটি গভীর কাঠামোগত বৈপরীত্যের মুখে:
১। অ্যালগরিদমের পুঁজিবাদী স্বাতন্ত্র্য: সামাজিক মাধ্যমের অবকাঠামো (মেটা, এক্স, অ্যালগরিদম) নিজেরাই বৃহৎ বহুজাতিক পুঁজির সম্পত্তি। আন্দোলন যতক্ষণ তাদের ব্যবসায়িক মডেলের জন্য ক্ষতিকর না হচ্ছে, ততক্ষণ তা ছড়াবে; কিন্তু রাষ্ট্রীয় বা পুঁজিভিত্তিক মূল আঘাত এলে অ্যালগরিদমিক সেন্সরশিপ এই ডিজিটাল ভিত্তিকে নিমেষে ধসিয়ে দিতে পারে।
২। সংগঠন বনাম স্বতঃস্ফূর্ততা: প্রথাগত ক্যাডারভিত্তিক সুশৃঙ্খল সংগঠন ছাড়া কেবল স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরাজিত করা অসম্ভব। মিম মানুষকে রাস্তায় নামাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামে টিকে থাকতে প্রয়োজন মতাদর্শিক গভীরতা ও স্থায়ী সাংগঠনিক অবকাঠামো।
৩। শ্রেণি-ঐক্যের বিস্তৃতি: জেন-জির এই রূপকল্প মূলত প্রযুক্তি-সচেতন, ডিজিটাল ডিভাইস-সম্পন্ন শিক্ষিত যুবসমাজের অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এই আন্দোলন যতক্ষণ না গ্রামবাংলার অসংগঠিত শ্রমিক, খেতমজুর এবং ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রান্তিক শ্রমিকের বস্তুগত দাবির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারছে, ততক্ষণ এর সামাজিক ভিত্তি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
প্রতিটি যুগ তার নিজস্ব বৈপ্লবিক বা প্রতিরোধমূলক রূপকল্প নির্মাণ করে। একসময় যা ছিল রাশিয়ার জার-বিরোধী গোপন ছাপাখানা, তা-ই একবিংশ শতাব্দীতে এসে হয়ে উঠেছে জেন-জির এনক্রিপ্টেড কমিউনিটি চ্যানেল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার। ভারতের রাজনীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন এনে দিয়েছে—তারা প্রথাগত রাজনীতির নিস্তেজ বক্তৃতা ও বুর্জোয়া দলগুলোর ছদ্ম-নৈতিকতাকে নগ্ন করে দিয়েছে হাসির চাবুকে। তারা দেখিয়েছে, রাজনীতি কেবল শীততাপ নিয়ন্ত্রিত স্টুডিও বা দলীয় তহবিলের কোটি কোটি টাকার খেলা নয়; রাজনীতি হলো জনগণের বেঁচে থাকার অধিকারের সোচ্চার উচ্চারণ।
কার্ল মার্কস তাঁর ঐতিহাসিক রচনায় উল্লেখ করেছিলেন: "মানুষ নিজের ইতিহাস নিজেই তৈরি করে; তবে সে তা নিজের পছন্দমতো পরিস্থিতিতে নয়, বরং পূর্ববর্তী বাস্তবতার উত্তরাধিকার বহন করেই করে।’ আজকের ভারতের তরুণ প্রজন্মও সেই জটিল উত্তরাধিকার বহন করছে—একদিকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চোখধাঁধানো সম্ভাবনা, আর অন্যদিকে সীমাহীন বেকারত্ব, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মূল্যবোধের সংকট। এই দুই বিপরীত স্রোতের সংঘাত থেকেই জন্ম নিচ্ছে প্রতিবাদের এই নতুন ব্যাকরণ।
ককরোচ জনতা পার্টির মতন অন্যান্য নামে শেষ পর্যন্ত জেন-জি’রা কি আলাদা একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে, নাকি ইতিহাসের পাতায় এক ঝোড়ো পরিবর্তনের আলামত হিসেবেই থেকে যাবে—তার উত্তর সময়ই দেবে। কিন্তু এই সত্য আজ অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ভারতের রাজনীতিতে তরুণ সমাজ তাদের নীরবতার যুগ শেষ করেছে। তারা নিজেদের ভাষা তৈরি করে নিয়েছে। আর যে সমাজ প্রশ্ন করার, ব্যঙ্গ করার এবং রাজপথে নামার সাহস লালন করে—সেখানে শোষকের আধিপত্য চিরস্থায়ী হতে পারে না।
আজ আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যখন Artificial Intelligence (AI), Automation, Cloud Computing, Data Economy, Digital Platform ও Algorithmic Management মানুষের কাজের ধরন এবং শ্রমের সম্পর্ককে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ ঘটছে, কিন্তু মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের প্রথমেই প্রশ্ন করতে শেখায়—এই অগ্রগতির সুফল কার হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে? প্রযুক্তি নিজে শত্রু নয়; প্রযুক্তি মানুষের জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সঞ্চিত শ্রমের ফল। প্রশ্ন হলো, প্রযুক্তির মালিকানা কার হাতে, তার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট উদ্বৃত্ত মূল্য কে আত্মসাৎ করছে।
পুঁজিবাদে প্রযুক্তি মানুষের শ্রমকে মুক্ত করার বিপুল সম্ভাবনা বহন করলেও ব্যক্তিগত মুনাফার যুক্তিতে সেই সম্ভাবনা প্রায়ই উল্টো চেহারা নেয়। Automation-এর ফলে একই কাজ অর্ধেক সময়ে করা সম্ভব হলে শ্রমিকের কর্মসময় কমে অবসর বাড়তে পারে; কিন্তু মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় সেই উৎপাদনশীলতাকেই ব্যবহার করা হয় কম শ্রমিক দিয়ে বেশি উৎপাদন, কাজের তীব্রতা বৃদ্ধি, নজরদারি এবং মুনাফা বাড়ানোর জন্য। অর্থাৎ প্রযুক্তি নয়, প্রযুক্তির উপর সামাজিক মালিকানা ও তার ব্যবহারের শ্রেণিচরিত্রই কেন্দ্রীয় প্রশ্ন।
এই কারণেই IT কর্মী, Software Engineer, Developer, Tester, Designer, Data Professional বা Support Worker-কে শুধু ‘white-collar professional’ বলে শ্রমিক শ্রেণির প্রশ্ন থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। শ্রমিকের পরিচয় পোশাক, designation বা অফিসের ধরন দিয়ে নির্ধারিত হয় না; যে ব্যক্তি জীবিকা নির্বাহের জন্য নিজের শ্রমশক্তি নির্দিষ্ট সময়ের বিনিময়ে মজুরির মাধ্যমে বিক্রি করেন, তিনি শ্রমের সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত। Factory floor-এর পাশে আজ Digital Workplace এসেছে, supervisor-এর পাশে Algorithmic Management এসেছে, attendance register-এর পাশে এসেছে Digital Monitoring। শ্রমের রূপ বদলেছে, কিন্তু শ্রম ও পুঁজির মৌলিক দ্বন্দ্ব বিলীন হয়নি।
AI-এর যুগে এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে পারে। একজন কর্মী AI ব্যবহার করে দ্বিগুণ উৎপাদনশীল হলে সেই অতিরিক্ত উৎপাদনশীলতার সুফল কি শুধু corporate profit ও shareholder-এর আয় বাড়াবে, নাকি কর্মসময় কমবে, মজুরি ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়বে, কাজের নিশ্চয়তা ও অবসর বৃদ্ধি পাবে? প্রযুক্তির উদ্দেশ্য মানুষের জীবনকে আরও বেশি কাজের অধীন করা নয়; মানুষের শ্রমসময় কমিয়ে মানুষের স্বাধীন সময় ও জীবনকে প্রসারিত করা হওয়া উচিত।
AI-কে তাই অন্ধভাবে সমর্থন বা প্রত্যাখ্যান নয়—তার শ্রেণিচরিত্র ও মালিকানার প্রশ্ন তুলতে হবে। AI কোনও স্বয়ংসম্পূর্ণ শক্তি নয়; এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞানী, গবেষক, programmer, engineer, data worker, maintenance worker এবং অসংখ্য মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শ্রম। এর সঙ্গে যুক্ত Data, Algorithm, Computing Power, Cloud Infrastructure, Intellectual Property ও বিপুল পুঁজি। ফলে প্রশ্ন উঠবেই—Data কার? AI-এর মালিকানা কার? উৎপাদিত মূল্য কার? এবং প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণে শ্রমিকের অধিকার কোথায়?
Work From Home যেমন নতুন স্বাধীনতা এনেছে, তেমনই কাজ ও ব্যক্তিজীবনের সীমারেখা ভেঙে দিয়েছে। রাতের message, ছুটির দিনের mail, অনবরত client call—ডিজিটাল প্রযুক্তি কখনও কখনও শ্রমিকের অবসরকেও পুঁজির সময়ে পরিণত করছে। তাই Right to Disconnect, নির্দিষ্ট কর্মসময়, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং মর্যাদাপূর্ণ কাজ শ্রমিকের মৌলিক দাবি হওয়া উচিত।
AI-এর যুগে ‘নিজেকে upskill করুন’ বলে সমস্ত দায় শ্রমিকের উপর চাপিয়ে দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। যে প্রতিষ্ঠান শ্রমিকের দক্ষতা থেকে মূল্য সৃষ্টি করে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দায়িত্বও তার বহন করা উচিত—Training, Reskilling ও Redeployment-এর সুযোগ দিতে হবে; প্রযুক্তির বোঝা শ্রমিকের ঘাড়ে চাপিয়ে ছাঁটাই করা চলবে না।
সবশেষে, IT ও digital workers-এর সংগঠিত হওয়ার প্রশ্নটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শ্রমিকের সমস্যা ব্যক্তিগত হতে পারে; কিন্তু একই সমস্যা যখন হাজার শ্রমিকের, তখন তা সামাজিক ও শ্রেণিগত প্রশ্ন। Collective bargaining, সংগঠিত দাবি, কর্মনিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি, কর্মসময়ের সীমা এবং প্রযুক্তির উপর শ্রমিকের অংশগ্রহণমূলক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই প্রযুক্তির সামাজিক চরিত্র বদলানো সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য এমন Digital Economy—যেখানে Technology মানুষের জন্য, AI মানুষের শ্রমকে মুক্ত করার জন্য, Automation মানুষের সময় বাঁচানোর জন্য এবং Productivity মানুষের জীবনমান উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত হবে; পুঁজির মুনাফা বৃদ্ধির জন্য মানুষের জীবনকে আরও বেশি শ্রমের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার জন্য নয়।
পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজির আধিপত্য শুধু উৎপাদন ও সম্পদের উপর সীমাবদ্ধ নয়; তথ্য, জ্ঞান, প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও জনমত নির্মাণেও তার নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ বাড়ছে। কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অ্যালগরিদম ও বিজ্ঞাপনব্যবস্থা নতুন ক্ষমতার কাঠামো তৈরি করেছে। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু প্রচারের মাধ্যম নয়—এটি মতাদর্শগত সংগ্রাম, জনমত নির্মাণ ও রাজনৈতিক চেতনা গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। আমাদের প্রশ্ন শুধু ‘কী ঘটছে?’ তা নয়—‘কেন ঘটছে, কার স্বার্থে, কারা লাভবান এবং এর বোঝা শ্রমজীবী মানুষের উপর কতটা পড়ছে ?’-এই সব কিছুকে বিশ্লেষণ করতে হবে। শ্রমিকের মজুরি, কৃষকের সংকট, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের বেসরকারিকরণ, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রশ্নকে ডিজিটাল মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। তথ্যকে রাজনৈতিক শিক্ষায়, রাজনৈতিক শিক্ষাকে শ্রেণিচেতনায় এবং শ্রেণিচেতনাকে সংগঠিত শক্তিতে রূপান্তর করাই হবে ডিজিটাল কাজের লক্ষ্য।
বর্তমান সময়ে RSS-বিজেপির নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি রাষ্ট্রক্ষমতা, কর্পোরেট পুঁজি ও প্রচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সংকট থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণ ও বিভাজনকে তীব্র করছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই শুধু নির্বাচনী নয়; এটি শ্রেণি ও মতাদর্শের লড়াই। ধর্মীয় বিভাজনের বিপরীতে শ্রেণি-ঐক্য, ধর্মনিরপেক্ষতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক-কৃষক বিরোধী নীতি, কর্পোরেট স্বার্থরক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকোচনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার গতি ও বিস্তারকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সমস্যা, শ্রমিক-কৃষকের অভিজ্ঞতা এবং গণআন্দোলনের বিষয় দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তবে ভুয়ো তথ্য, ট্রোল, ঘৃণামূলক প্রচার ও কৃত্রিম জনমতের মোকাবিলায় তথ্য যাচাই, যুক্তি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিতে হবে। ডিজিটাল সংগঠন বা সোশ্যাল মিডিয়া কখনও পার্টি সংগঠনের বিকল্প নয়; এই মাধ্যমকে বুথ, শাখা, এরিয়া, গণসংগঠন ও গণআন্দোলনের প্রচারের কাজে সচেতন, সতর্ক এবং রুচিশীল ভাবে ব্যবহার করতে হবে। নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল ভাষা—মিম, রিল, ছোট ভিডিও, ব্যঙ্গ ও সঙ্গীত—রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু বক্তব্যের রাজনৈতিক গভীরতা বজায় রাখতে হবে। অনলাইন ক্ষোভকে বাস্তব সংগঠন ও গণআন্দোলনের শক্তিতে রূপান্তর করাই মূল লক্ষ্য।
অতএব আমাদের কাজ—অনলাইন থেকে অফলাইন, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সামষ্টিক প্রশ্ন, ক্ষোভ থেকে চেতনা, চেতনা থেকে সংগঠন এবং সংগঠন থেকে গণআন্দোলন। ডিজিটাল মাধ্যম নিজে সমাজ পরিবর্তন করে না; সংগঠিত মানুষ, শ্রেণিচেতনা ও ধারাবাহিক গণআন্দোলনই পরিবর্তনের ভিত্তি। তাই ডিজিটাল ক্ষেত্রকে বাস্তব সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করে পার্টির স্বাধীন শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে এবং বুথে বুথে শ্রেণি ভারসাম্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে আমাদের বিকল্প ভাষ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইতিহাসের চাকা ঘুরছে; আর সেই চাকার শব্দে মিশে যাচ্ছে এক নতুন প্রজন্মের অবাধ্য, সোচ্চার এবং রাজনৈতিক হাসির ধ্বনি।
প্রকাশ: ২৪-সেপ্টেম্বর-২০২৬
শেষ এডিট:: 24-Sep-26 22:49 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/from-online-to-offline-mass-movements-–-politics
Categories: Fact & Figures
Tags:
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (5)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (180)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (160)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (86)
- Highlight - হাইলাইট (100)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (19)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)





