অভয়া ও তমন্নাদের বিচার চাই ঃ প্রসঙ্গ নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতা

Author
কনীনিকা ঘোষ

এই তৃণমূল বিজেপির আমলে যদি আপনি জমির প্রশ্ন বিবেচনা করেন, তাহলে তো সেই অধিকারই আজকে হারাচ্ছে  সকলে।একের পর এক জমি,জমি হাঙরদের হাতে চলে যাচ্ছে, তা পাচ্ছে আদানি আম্বানিরা, পাচ্ছে কর্পোরেট।  মেয়েরা তো সেখানে আরো প্রান্তিক।

Demand justice for Abhaya and Tamanna: Context security and self-dependence

কবির ভাষায 'সে ছিল একদিন আমাদের যৌবনে কলকাতা'র মতো আমাদের আজকে বলতে হচ্ছে, সে ছিল একদিন আমাদের যৌবনে রাজ্যটা। আসলে আমরা যখন ছোট থেকে বড় হয়েছি, তখন রাজ্যে ছিল বামপন্থী ফ্রন্টের সরকার, আর সে কারণেই মেয়েদের নিরাপত্তা, মেয়েদের কাজ, শিক্ষা, এমনকি আর্থিক ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা পর্যন্ত এক অন্য মাত্রায় পৌঁছেছিল। কিন্তু আজ তা সবই অতীত, আর তাই মেয়েদেরকে নিয়ে যখন কলম ধরতে হয়, তখন কোথায় ছিলাম, কোথায় আছি, আর কোথায় বা নির্মাণ করতে চাই ভবিষ্যতের ঠিকানা, তার একটা আভাস অবশ্যই থাকা দরকার।  এখন তো নির্বাচন, এখনই তো আপনার সামনে সুযোগ এই দিকগুলোকে বিচার বিবেচনা করে আপনার প্রকৃত বন্ধুকে খুঁজে নেওয়ার। তাই চলুন এই বিষয়গুলো একটু দেখে নেওয়া যাক।

       আজ সব  ক্ষেত্রে ই বারেবারে আলোচিত হচ্ছে ভাতার প্রশ্নটি, কিন্তু এ প্রশ্ন আমরা সযত্নে এড়িয়ে যাচ্ছি, যে মেয়েরা কিছু করে না কিন্তু বাড়িতে থাকে বলে খ্যাত (অপদার্থ?)   তাদের ওই মজুরি বিহীন কাজ অর্থাৎ 'আনপেইড ওয়ার্ক 'কে যদি জিডিপিতে রূপান্তরিত করা যায় তাহলে এসবিআই এর সমীক্ষা অনুযায়ী তা ২২.৭ লক্ষ কোটি টাকার মত হবে। তাহলে বুঝতে পারছেন তো কোন মেয়ে আসলে বসে খায় না, এতোটুকু নুন ভাতের জন্য তাদের সকলকেই পরিশ্রম করতে হয়। তাই আজকে  মেয়েরা যখন অংশীদারিত্ব চাইতেই পারে তখন সুকৌশলে রাষ্ট্রের কর্ণধারদের পক্ষ থেকে তাদের অধিকারকে এড়িয়ে গিয়ে উপভোক্তাতে পরিণত করা হচ্ছে। তবেই তো বলা যাবে আমরা দিলাম, আমরা করলাম আর তোমরা পেলে। সেভাবেই  এ প্রশ্নটিকে দেখা হচ্ছে অথচ যদি বিচার করেন এ কিন্তু তাদের অধিকারের ন্যূনতম স্বীকৃতি, আসল কাজ  এখনো অনেক বাকি, সেই কাজগুলোই তো করা দরকার, প্রকৃতপক্ষে মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত করতে হলে, স্বনির্ভর করতে হলে, সার্বিক ভাবে মেয়েদের ক্ষমতায়ন করতে হলে।

        তারই তো চেষ্টা করেছিল বামপন্থী ফ্রন্টের সরকার, আর সেই কারণেই একদম প্রথম থেকে যদি ধরেন ভূমিহীনরা যখন পাট্টা পেয়েছে তাতে মেয়েদেরও ছিল অংশ। কোথাও যৌথ পাট্টা কোথাও বা মেয়েরা একক পাট্টা পেয়েছে। অথচ আজও সমস্ত দেশ জুড়ে মেয়েদের ক্ষেত্রে কৃষি কাজে অংশগ্রহণ করলেও জমির মালিকানা টা নিতান্তই স্বল্প, যে প্রশ্নেও লড়াই করতে হবে আমাদেরই।আজ এই তৃণমূল বিজেপির আমলে যদি আপনি জমির প্রশ্ন বিবেচনা করেন, তাহলে তো সেই অধিকারই আজকে হারাচ্ছে  সকলে।একের পর এক জমি,জমি হাঙরদের হাতে চলে যাচ্ছে, তা পাচ্ছে আদানি আম্বানিরা, পাচ্ছে কর্পোরেট।  মেয়েরা তো সেখানে আরো প্রান্তিক। কিন্তু কে না জানে রাজ্যের জমির লড়াই, রাজ্যে পাট্টা প্রদান এ প্রশ্নে বামফ্রন্টের এক অনন্য ভূমিকা ছিল স্বাভাবিকভাবেই উপকৃত হয়েছিল মেয়েরাও, তাই আজও বামপন্থীরা ফিরে  আসলে তারাই এ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে, যেখানে যা ক্ষতি হয়ে গেছে গত ১৫ বছরে তাকে মেরামত করবে, আর, এগোবে সামনের দিকে।

       প্রকল্প থাকবে, বাড়াতেও হবে তার পরিমাণ, আর দুর্নীতি কড়াকড়ি ভাবে বামপন্থীরা  বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর, ফলে তা বন্ধ হবে,  তাই ভাতায় অনুদানের  পরিমাণও বাড়বে। কিন্তু পাশাপাশি তার সাথেই বাড়বে,(ওপরে যা বলা হলো) কৃষিতে অংশগ্রহণের পরিমাণ। বাড়বে ক্ষেতমজুরের মজুরি বাড়বে কৃষিতে কাজ, কারণ ঢেলে  সাজানো হবে কৃষি ক্ষেত্রকে, সেচ, সার, বীজ যা ছাড়া কৃষি আসলে অপূর্ণ, নজর দেওয়া হবে সেদিকেই, মেয়েরাও সে  ক্ষেত্রে হবে অংশীদার। মজুরি বাড়বে খেত মজুরের সেখানে যে বড় অংশে আছে মেয়েরা।
          ইউপি এক সরকারের হাত থেকে  বামপন্থীদের  সংগ্রামের সাফল্য  মনরেগাকে আজ লুটের ক্ষেত্র করে তুলেছে তৃণমূল, এই ক্ষেত্রে তো  বেশিরভাগ  মেয়েরাই কাজ করে তাহলে এই কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতি কাদের?  মেয়েদেরই বেশি। অথচ আমাদের রাজ্যে যখন লুটের জন্য বন্ধ হল মজুরি তখন কিন্তু সে দুর্নীতিতে বিজেপি খুঁজে বার করে শাস্তি দিল না তৃণমূলকে, কেমন করে দেবে,? ওরা যে একই জন্মদাতা আরএসএসের সৃষ্টি। তাই আজ দেখুন মন রেগা কে বদলে দিচ্ছে নতুন নামকরণ করছে তার আর এরই মধ্যে দিয়ে গ্যারান্টি বা ক্ষতিপূরণ তুলে দিয়ে লঘু করে দিচ্ছে এই ক্ষেত্রকে, ছিনিয়ে নিতে চাইছে কাজের অধিকার। বামপন্থীরা তো লড়াই করেই একে রক্ষা করবে যা আপনি তৃণমূলের ক্ষেত্রে নাটক  ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাননি।

        মেয়েরা বামপন্থী আমলে একের পর এক স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যুক্ত হয়েছিল। দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারতার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল এক পৃথক মন্ত্রক, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর, আর তার মন্ত্রী ছিলেন নারী আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী রেখা গোস্বামী। সংগ্রাম ও  আন্দোলনের অভিজ্ঞতায় যারা বুঝেছিলেন কেমন করে মেয়েদেরকে এতে যুক্ত করে, স্বনির্ভর করা যায়। তাই তৈরি হয়েছিল এক লক্ষের ওপর স্বনির্ভর গোষ্ঠী, তাতে যুক্ত হয়েছিলেন প্রায় এক কোটি মহিলা। তারা কি না করতো নিজেদের টাকা নিজেরা প্রথমে জমাত, সরকার করত সাহায্য আর করতো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, ছিল উচ্চপর্যায়ের তদারকি। তার মধ্যে দিয়ে অসংখ্য কাজ করেছে এই গোষ্ঠী গুলো। জলাধার নির্মাণ, সেতু তৈরি, মুরগী, ছাগল প্রতিপালন, স্কুলের পোশাক তৈরি, চক, ডাস্টার বড়ি, আচার, পাঁপড়, আবার হাতের কাজ, নানান শৈলী। এসব কিছুর মধ্যে দিয়ে এক অনবদ্য স্থান দখল করেছিল তারা। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি জিনিসের বাজার গড়ে উঠেছিল। বিভিন্ন রাজ্যে অংশগ্রহণ করত আমাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা, তাদের তৈরি জিনিস দেশের নানান প্রান্তে তো বটেই এমনকি বিদেশেও বিক্রি হয়েছে। স্বনির্ভর হয়েছে মহিলা তার মধ্যে দিয়ে পরিবার এগিয়েছিল স্বনির্ভরতার পথে। কিন্তু আজ দেখুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী আছে, কিন্তু তা যেন শুধুই ঋণদান সমিতি আর সেখানে আছে দুর্নীতির এক বড় চক্র ফলে উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রায় কোন কাজে লাগছে না। তার জন্যই তো এক বিপদজনক জায়গায় গেছে এমএফ আই ঋণ, তাতে মহিলাদের হয়রানি। এ প্রশ্নে  তো, রাজ্য বলে আমায় দেখ, তো কেন্দ্র বলে আমায় দেখ। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২২ সালে এম এফ আই  ঋণের সুদের উর্ধসীমা তুলে দিয়েছে, ২২%, ২৪% এমনকি ২৬% পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। একবার ঋণ নিলে তার জালে জড়িয়ে পড়ছেন মহিলারা, কারণ নতুন করে উৎপাদন তো হচ্ছে না, কনসিউরাজিম এর ফাঁদে পড়ে প্রাণান্তকর অবস্থা তাদের! বাউন্সার স্যার আসছেন বাড়িতে, নানান ভাবে মহিলাদের করা হচ্ছে হয়রানি, এর জন্যই আত্মহত্যাও করছেন অনেকে।সরকার নির্বিকার, বরং তারা তো   স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে সরকারি সাহায্যের বিনিময়ে, তাদের থেকে দাবি করছে রাজনৈতিক আনুগত্য, যা সম্পূর্ণ অন্যায়, অনুচিত। আসলে সেই উচিত অনুচিতের সীমানা তো  আমাদের রাজ্যে তৃণমূল সরকার আর দেশের বিজেপি সরকারের বদান্যতায় মুছে যেতে বসেছে। আপনি কি বলছেন?   আবার নতুন করে উদ্ধার করবেন না মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠী গুলো, আপনার সাথেই  তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করবে তো  বাম সরকার,  স্বনির্ভরতার পথে আবার করে হাঁটাতে হবে না তাদের?  তাইতো বামপন্থীরা বলছে ভাতা থাকবে কিন্তু ভাতা প্রাপ্ত মহিলাদেরও দেওয়া হবে বিশেষ প্রশিক্ষণ, অন্তর্ভুক্ত করা হবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে, তারা কাজ করবেন আনন্দে, অংশগ্রহণ করবে উৎপাদনে, প্রকৃত অর্থে স্বনির্ভর হবেন তারা।

       নারীর নিরাপত্তা, সমাজ সভ্যতার অগ্রগতির যা  অন্যতম মাপকাঠি সে দিকেও তাকান, আজ আমাদের দেশ এবং রাজ্য উভয় ক্ষেত্রেই অবস্থা খুব সংগীণ। রাজ্যে যখন বামপন্থী ফ্রন্টের সরকার ছিল তখন নিরাপত্তা ছিল অনেক জোরদার। এইরকম শ্রেণীবিভক্ত সমাজে কখনো কোনো দুষ্কৃতীমূলক কাজ হবে না তা নয়, দুষ্কৃতী  থাকতেই পারে  কিন্তু সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তার প্রতি কি হবে তার ওপরে নির্ভর করে সমাজ কোন দিকে হাঁটবে। আগে  কোন ঘটনা মেয়েদের প্রতি ঘটেনি তা নয় কিন্তু সেই দুষ্কৃতীরা আজও কারাগারের অন্তরালে। খোলা মুক্ত আকাশ তাদের জন্য আজ নেই, অথচ আজ দেখুন রাজ্য বা দেশে ভাষণের কোন অন্ত নেই, মুখ ঢেকে যাচ্ছে মেয়েদের উন্নয়নের বিজ্ঞাপনে, কিন্তু বাস্তবের অবস্থা খুবই করুন।
         বিজেপি আরএসএস সরকার আসার পর আমাদের দেশে হিংসা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।  এন সি আর বি রিপোর্ট অনুসারে মহিলাদের উপর হিংসার রেজিস্ট্রিকৃত সংখ্যা ৪ লক্ষের বেশি, বর্তমানে ৫ লক্ষ, এনসিআরবি রিপোর্টে অনেক তথ্যই আসে না, তা সত্ত্বেও অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৭%, সাজার  ঘটনা খুবই  নগণ্য, গড়ে ৬০০০ মৃত্যুর ঘটনায়  সাজা মাত্র ১০০ টি।

        শেষ তিন দশকে প্রতিবছর পণপ্রথার শিকার হয়ে  গড়ে  ৭০০০ করে মৃত্যু  হয়েছে, অর্থাৎ ১০ বছরের ৭০ হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন  স্বাধীন দেশে যুদ্ধে যতজন সেনার মৃত্যু হয়েছে  তার চেয়েও বেশি মৃত্যুর সংখ্যা  পণপ্রথায় মেয়েদের। 
      ২০২২ সালে রিপোর্ট অনুসারে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার  নথিভুক্ত  ৩০০০০, প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি। প্রতিদিন গড়ে ৯০ জন  মহিলা ধর্ষিত হন আমাদের দেশে। থম্পসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন বলেছে ভারত আজ মেয়েদের জন্য নিরাপদ না। বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ এক্ষেত্রে  প্রথম। প্রতি ঘন্টায় ৫০ জন মহিলা শ্লীলতাহানির  শিকার হন।বিলকিস  বানো, হাথরস  মহিলা কুস্তিগীরদের ঘটনা, উন্নাও, কাঠুয়া, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ হওয়ার পর মন্তব্য," সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করতে লাইসেন্স লাগবেনা," এ সবকিছুর মধ্যে দিয়ে বিজেপির  মনুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিই প্রকাশিত হয়। মাতৃ জঠর থেকেই তো মেয়েরা হিংসার শিকার,  কন্যা ভ্রূণ হত্যা  প্রতিদিন বাড়ছে। লিঙ্গ বৈষম্যর ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে ১৪৮ টি দেশের মধ্যে আমাদের দেশের স্থান ১৩১।

       আমাদের রাজ্যে তো হিংসা এক ভয়াবহ জায়গায়  পৌঁছেছে। নারীর বিরুদ্ধে হিংসা বিভিন্ন সমাজে কম বেশি থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই দেশ বা রাজ্য যারা চালাচ্ছেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর এই বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করে। আমাদের রাজ্যে তৃণমূল সরকার এবং তার প্রধান মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নিজের দলের কদর্যতাকে চাপা দেবার জন্য, বিজ্ঞাপনে ভাষণ দেওয়ার জন্য, তথ্যকে আড়াল করছেন, নানান ধরনের বিকৃতি ঘটাচ্ছেন,  ভিক্টিম শেমিং করছেন, সঠিকভাবে পুলিশকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না, দলদাসত্ব করছে পুলিশের  বড় অংশ, শাসক দলের যোগাযোগ থাকলে সেই  অপরাধকে চাপা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, এ সমস্ত কারণে নারীর বিরুদ্ধে হিংসা রাজ্যে আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
       আমাদের রাজ্যের নৃশংস ঘটনা আর জি কর মেডিকেল কলেজের কথা আমরা সবাই জানি। লড়াই আন্দোলনে  এ প্রশ্নে এক অভূতপূর্ব  নজির সৃষ্টি করেছিল রাজ্য,কিন্তু তাও দেখুন তৃণমূল বিজেপির সেটিং এ আজও বিচার অধরা।শুধু তাই নয়,  ২০২৫ সালেও এন.সি.আর.বি-র তথ্য অনুযায়ী এসিড অ্যাটাক পশ্চিমবঙ্গেই ভারতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৭.৫%। 

২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪,৬৯১ টি মেয়েদের বিরুদ্ধে অপরাধের কেস  রেজিস্টার্ড হয়েছিল যা ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স বা  গৃহহিংসার ক্ষেত্রে স্বামী অথবা ঘনিষ্ঠ আত্মীয় দ্বারা যে পরিসংখ্যান   সেক্ষেত্রেও ভারতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেস পশ্চিমবঙ্গেই।প্রতি এক লাখ  মহিলা জনসংখ্যায় ৭১.৩ জন নারী হিংসার  শিকার,যা  অপরাধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ হার নির্দেশ করে। অথচ সাজার হার মাত্র ৩. ৭%। যা অত্যন্ত কম। কামদুনি, হাঁসখালী একটার পর একটা ঘটনায় রাজ্যের পুলিশের অত্যন্ত দায়সারা  মনোভাব আমরা সবাই লক্ষ্য করেছি।  হাঁসখালীর ঘটনায়  'ওকি প্রেগন্যান্ট ছিল, ওর কি লাভ অ্যাফেয়ার ছিলএরকম সব মন্তব্য মাননীয়া করেছেন,যা অবশ্যই ভিকটিম শেমিং।  তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সাংসদ ইত্যাদিরা মহিলাদের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্য করেছেন, কেন ছোট ড্রেস পড়েছে, পার্ক স্ট্রিটে তো খদ্দেরদের মধ্যে ঘটনা, এটা ছোট ঘটনা, এরকম অনেকই ঘটে, ইত্যাদি, যা এই ঘটনাগুলিকে  আরো বাড়তে সাহায্য করেছে।

      কোন সভ্য  রাজ্যে তো এ জিনিস চলতে পারেনা, আমার রাজ্যকে কেন আমরা এরকম হতে দেবো বলুন তো, তাই বামপন্থীদেরই প্রয়োজন।বামপন্থীরা বলেছে মেয়েদের বিরুদ্ধে হিংসার প্রশ্নে থাকবে জিরো টলারেন্স,পুলিশ  হবে রক্ষক, দলদাস না। পুলিশের আওতায়  তৈরী হবে অভয়া বাহিনী যারা বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে নারী নির্যাতনকে কঠোর হাতে দমন করে নারী নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করবে। এসব বাস্তবায়িত করতে হলে বিধান সভায়  চাই জোরালো  বামপন্থী স্বর। তাই আসুন নির্বাচনে  আপনার সুযোগকে কাজে লাগান,  আপনার জন্য, আপনার পরিবারের জন্য, আপনার সন্তানের জন্য এই অপদার্থ স্বৈরাচারী তৃণমূল ও ফ্যাসিস্টিক, মনুবাদী, সাম্প্রদায়িক  বিজেপি কে পরাস্ত করে বামফ্রণ্ট ও সহযোগী শক্তি দের জয়ী করুন।
প্রকাশ: ০৮-এপ্রিল-২০২৬

আপনার মতামত

এই লেখাটি সম্বন্ধে আপনার কেমন লাগলো আপনার মতামত জানতে আমরা আগ্রহী।
আপনার মতামত টি, সম্পাদকীয় বিভাগের অনুমতিক্রমে, পূর্ণ রূপে অথবা সম্পাদিত আকারে, আপনার নাম সহ এখানে প্রকাশিত হতে পারে।

This Is CAPTCHA Image

শেষ এডিট:: 08-Apr-26 08:15 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/demand-justice-for-abhaya-and-tamanna-context-security-and-self-dependence
Categories: Fact & Figures
Tags:
শেয়ার:
সেভ পিডিএফ:



লেখক/কিওয়ার্ড