অ্যান্টি ড্যুরিং কেন পড়তে হবে?

ওয়েবডেস্কের পক্ষে সৌভিক ঘোষ

Kapital und Arbeit (Germ) – Capital and Labour (1865)

Der Wert des Lebens (Germ) – The Value of Life (1865)

Natürliche Dialektik (Germ) – The Natural Dialectic (1865)

Kritische Geschichte der Philosophie (von ihren Anfängen bis zur Gegenwart) Germ – The Critique to Philosophy (From its beginning to the present day) (1869)

Kritische Geschichte der allgemeinen Principien der Mechanik (Germ) – Critical History of the General Principles of Mechanics (1872)

Kursus der National und Sozialokonomie (Germ) – The Course of the National and Socail Economy (1873)

Kursus der Philosophie (Germ) – Course of the Philospohy (1875)

Wirklichkeitsphilosophie; Logik und Wissenschaftstheorie (Germ) – Theory of Philospohy, Logic and of Science (1878)

ইটালিকসে মূল নামগুলি জার্মান ভাষায় লেখা, হাইফেনের পাশে উল্লিখিত ইংরেজি নামসমূহ লেখকের নিজস্ব অনুবাদ

১৮৬৫ সাল থেকে শুরু করে ১৮৭৮ সাল এই সময়কালে উপরোল্লিখিত রচনাগুলিতে জার্মানির একজন অধ্যাপক ইউজিন ড্যুরিং এমন এক “সিস্টেম” গড়ে তোলার দাবী জানান যা একইসাথে পুঁজিবাদ এবং মার্কসীয় প্রজ্ঞানুবর্তী সাম্যবাদের বিরুদ্ধে এক প্রকৃত বিজ্ঞানসম্মত বিশ্ব সমাজব্যাবস্থা! ইউজিন ড্যুরিং জার্মানিতে বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ছিলেন – তার কৃতিত্ব সম্পর্কে বার্লিনের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালকমন্ডলী এতই অভিভূত ছিলেন যে তাকে বিজ্ঞান, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক অর্থনীতি এই তিন বিষয়েই অধ্যাপনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

অধ্যাপক ইউজিন ড্যুরিং
অধ্যাপক ইউজিন ড্যুরিং

ইউজিন ড্যুরিং জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন উল্লেখযোগ্য নেতৃত্ব হয়ে ওঠেন – শুরুর দিকে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পত্রিকা ভরোয়ার্টস-এ তার প্রতিভাস্ফুরিত ধারাবাহিক নানা লেখার ভক্ত হয়ে ওঠেন এডুয়ার্ড বার্নস্টেইন, অগাস্ট বেবেল এমনকি উইলহেলম লিবনেখটও। অবশ্য কয়েকবছরেই লিবনেখট’র মোহমুক্তি ঘটে এবং তিনি উপলব্ধি করেন ড্যুরিং আসলে নিজেকেই নরশ্রেষ্ঠ প্রমাণে সচেষ্ট। দার্শনিক কান্ট এবং ফ্যুরিয়ের-কে শিশুসুলভ, হেগেল-কে বড় বেশি বুনিয়াদি, ডারউইনের আবিষ্কার-প্রসঙ্গে “মানবতার বিরুদ্ধে এক বর্বরোচিত আঘাত” বলে শেষ অবধি পালের গোদা হিসাবে মার্কস প্রসঙ্গে “অত্যন্ত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সম্বলিত, দুর্বল যুক্তি ও অভাবি মনোনিবেশের সমাহার, আড়বোঝা তর্কের ভারে ন্যুব্জ, জঘন্য সব লেখার ধরন এবং দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক মতবাদের দিক থেকে পশ্চাদপদ একজন” এইসব বলে গলা ফাটিয়ে ততদিনে ড্যুরিং-এর নাম বুদ্ধিজীবী হিসাবে বিখ্যাত হয়ে গেছে। 

এডুয়ার্ড বার্নস্টেইন
অগাস্ট বেবেল
উইলহেলম লিবনেখট

জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি সিদ্ধান্ত নেয় ড্যুরিং-এর রচনাসমূহের প্রসঙ্গে একটা “উপযুক্ত জবাব” দিতে হবে এবং সেই মুসাবিদা লেখার দায়িত্ব নিতে হবে ফ্রেডেরিখ এঙ্গেলস-কে! ১৮৭৫ সালে লিবনেখট সেই উদ্দেশ্যে দুবার হাজির হন এঙ্গেলসের দরজায়, একবার ১লা ফেব্রুয়ারি আরেকবার ২১শে এপ্রিল।

ড্যুরিং-এর সেই বিখ্যাত “সিস্টেম” প্রসঙ্গে এঙ্গেলসের প্রতিক্রিয়া ছিল “সেই যুগে জার্মানিতে নিস্কর্মা বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের একজন যথাযথ প্রতিনিধি হিসাবে বিজ্ঞানের নামে ড্যুরিং’র আবিষ্কার আসলে এক মহোত্তম ছাইপাঁশ”।

কম বয়স থেকেই একটি চোখের সমস্যায় জর্জরিত ইউজিন ড্যুরিং সত্যিই উনবিংশ শতাব্দীর জার্মানিতে সর্বজ্ঞ, আত্মকেন্দ্রিক অহংকারে বুঁদ হয়ে থাকা একচোখা বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের এক উজ্জ্বল প্রতিনিধি ছিলেন। পুঁজিবাদ এবং ধর্মের শাসনের বিরুদ্ধে তার লেখাপত্র শুরু হলেও পরের দিকে নিজের নামে “বিশ্বতত্ত্ব” প্রচারে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন – ইতিহাসের শিক্ষাও এমনই, মেধাবৃত্তির আড়ালে মানুষের মুক্তির দিশা খোঁজার পথে অনেকেই শুরু করেন বিরাট সম্ভাবনা নিয়ে, শেষ করেন নির্লজ্জের মতো নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার আরও বড় এক প্রহসনে অভিনয় করে!

ড্যুরিং-এর লেখার “জবাব” দিতে গিয়ে এঙ্গেলস আরেকবার নিজেকে ঝালিয়ে নেন উচ্চতর গনিত, সমসাময়িকতায় আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, অর্থশাস্ত্রতত্ত্ব, দর্শন এবং সমসাময়িক জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখা সম্পর্কে। অর্থশাস্ত্র সম্পর্কে লেখায় মার্কস নিজেই অংশগ্রহন করেন। ১৮৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভল্কস্টাট পত্রিকায় ড্যুরিং-প্রসঙ্গে এঙ্গেলসের লেখা একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয় “জার্মান রাইখস্ট্যাগে প্রুসিয়ান ভদকা” নামে। এরপরে ঐ বছরের মে মাস থেকে শুরু করে পরের বছর ১৮৭৭-এর জুলাই অবধি সময় ব্যয় হয় সেই “জবাব” লেখার সম্পূর্ণ খসড়া প্রস্তুত হতে। ১৮৭৭ সাল থেকে ভরোয়ার্টস পত্রিকায় এঙ্গেলসের লেখা ধারাবাহিক হিসাবে প্রকাশিত হতে শুরু হয়। “বিজ্ঞানে বিপ্লব রচনাকারী ড্যুরিং প্রসঙ্গে” শিরোনামে জার্মান ভাষায় সেই লেখা পূর্ণাঙ্গ বই-এর আকারে প্রথম প্রকাশ হয় ১৮৭৮ সালের ৮ই জুলাই। ইংরেজিতে “এফ এঙ্গেলস, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বৈশিষ্টসমূহ, অ্যান্টি ড্যুরিং” প্রকাশিত হয় শিকাগোতে, ১৯০৭ সালে। পরবর্তীকালে “অ্যান্টি ড্যুরিং” নামটিই বহুল প্রচারিত হয়, সমাদৃত হয় - সেই নামেই গোটা পৃথিবীতে প্রচারিত হতে থাকে মার্কসবাদ শিক্ষার সবচেয়ে সুসংহত, এমনকি অতি প্রয়োজনীয় বাহুল্যতাটুকুও বর্জিত, ঠাস বুনোটের বুনিয়াদি পাঠ্যপুস্তক। ১৯৬৭ সালের জুলাই মাসের এক তারিখ অবধি সোভিয়েত ইউনিয়নে এই বইয়ের ৬৯টি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে, ২১টি বিভিন্ন ভাষায় সেই বই ছাপা হয়েছে মোট ২,৬০,৯০০০টি। আজকের পৃথিবীতে ইউজিন ড্যুরিং-এর নামটুকু যে কারনে মানুষ মনে রাখে তা এই “অ্যান্টি ড্যুরিং” এর কারনেই, তার নিজের ছাইপাঁশ তত্ত্বের জন্য আদৌ নয়!

ভরোয়ার্টস পত্রিকা

মার্কসবাদ শিক্ষার পাঠ্যক্রম বুনিয়াদি স্তরে মূলত তিনটি বিষয় কেন্দ্রিক (লেনিন সেই কারনেই মার্কসবাদের তিনটি উৎস এবং তিনটি অঙ্গ নামে বই লিখেছিলেন) – ১. মার্কসীয় দর্শন, ২. মার্কসীয় অর্থনীতি এবং ৩. সমাজতন্ত্রের ধারণা। এই তিনটি বিষয়ে মার্কস, এঙ্গেলস, লেনিন, স্তালিন, মাও সে তুং রচিত অনেকগুলি পাঠ্যবই রয়েছে। এঙ্গেলসের নিজেরই লেখা কয়েকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলির মধ্যে দুটির শিরোনাম প্রকৃতির দ্বান্দ্বিকতা (Dialectics of Nature), পরিবার, ব্যাক্তিগত মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি ( Origin of Family, Private property and The State)। তবুও “অ্যান্টি ড্যুরিং” – মার্কসীয় সাহিত্যে এক অনন্য জায়গা করে নিয়েছে।

বিতক্র্য ধাঁচের এই সাহিত্যে এঙ্গেলস-কে অত্যন্ত সতর্ক থেকে বারে বারে ড্যুরিং-এর লেখাজোখা থেকে বিভিন্ন প্রলম্বিত উক্তিসমূহের উল্লেখ করতে বাধ্য হতে হয়েছে, তবু এঙ্গেলসের লেখার বাঁধুনি এমনই যে পাঠক বই-এর পাতা উল্টানোর সাথেই কোনো একটি প্রসঙ্গ থেকে প্রসঙ্গান্তরে চলে যেতে পারেন স্বচ্ছন্দেই। আসলে ড্যুরিং যা করেছিলেন বা বলা ভাল করতে চেষ্টা করেছিলেন তা হল কিছুটা খামচে তোলা মার্কসবাদ (ঋণস্বীকার না করেই!), তার সাথে বেশ খানিকটা একক ব্যাক্তিত্বের বিষাক্ত, অহমিকাময় দিবাস্বপ্ন যেগুলি তিনি দর্শন এবং অর্থনীতির নামে চালিয়ে দিয়েছেন এবং যখন-যেমন সুবিধা তখন-তেমন ভাষায় (তবে ভাষার ব্যাঞ্জনায় ড্যুরিং-এর দখল ছিল একথা পাঠককে স্বীকার করতেই হবে, এমনকি বই পড়ার শুরু থেকেই!) গনিত এবং বিজ্ঞানের প্রাচীন থেকে আধুনিক সমস্ত সূত্রাবলীর এবড় খেবড়ো উপস্থাপনার এক দুর্দান্ত খিচুড়ি। এরকম একটা জগাখিচুড়িতে জনমানসে আগ্রহ তৈরি হয় অনেক সহজে, কারন এতে একে তো ভাষার ঝনঝন মানুষের কানে তালা লাগিয়ে দেয়, দ্বিতীয়ত সহজ অকাট্য যুক্তির বদলে অনর্থক কঠিন সুত্রের প্রয়োগে সাধারন মানুষ নিজেকে অতি সাধারন, যৎকিঞ্চিত অনুভব করেন এবং লেখককে মহান মেনে নিতে বাধ্য হন (কারন তিনি দুর্বোধ্য ! ) আর সবশেষে সিদ্ধান্তে আসেন পিসার হেলানো মন্দিরে গ্যালিলিওর পরীক্ষা দেখার পরেও “শাস্ত্রবাক্য অমান্য করা যায় না” বলা লোকজনের আর এমন কি দোষ, তারা তো কিছুই বোঝেনি!

এরকম একটি বুদ্ধিজীবীপালনক্ষম পরিবেশেই ড্যুরিং-রা নিজেদের মতামতকে “জ্ঞানের প্রয়োজনে শেষ কথা” হিসাবে চারিয়ে দেন – তিনি অনেকটা সেই কাজে সফলও হয়েছিলেন, বাধ সাধলেন ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস।

ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস

“অ্যান্টি ড্যুরিং” বইতে তিনটি অংশ (Part) রয়েছে –

প্রথম অংশ “দর্শন” (Philosophy) সম্বন্ধীয়ঃ এতে বিষয়বস্তু বহুবিধ, সময় ও স্থান সম্পর্কিত পদার্থবিদ্যা (Mechanics / Mechanical Science), বস্তুর রুপান্তর সম্পর্কিত রসায়নের উদাহরণসমূহ, পৃথিবীতে জৈবজগতের সাধারন নিয়মাবলী সম্পর্কিত জীববিদ্যার বিবিধ উপাদান সম্বন্ধে আলোচনা, চিরায়ত সত্য, সাম্য এবং মুক্তির তত্ত্ব সম্পর্কিত আলোচনায় বিভিন্ন গাণিতিক তত্ব এবং তথ্যের উদাহরণ হিসাবে ব্যাবহার - সবশেষে প্রকৃতির দ্বান্দিকতার পুনরালোচনা হিসাবে পরিমাণ এবং গুণের আন্তঃসম্পর্ক এবং নেতির নেতিকরনের দ্বারা বহুযুগ ধরে ব্যাখ্যা–প্রতিব্যাখ্যার দারিদ্রজর্জর দর্শনশাস্ত্রের কবরে যাওয়া নিশ্চিত করতে সাম্যবাদী দর্শনের আবির্ভাব সম্পর্কে এঙ্গেলসের ব্যাখা।

দ্বিতীয় অংশ “রাজনৈতিক অর্থনীতি” (Political Economy) সম্বন্ধীয়ঃ এতে রয়েছে অর্থনীতিকে বিষয়বস্তু হিসাবে বিচার্য করে তার ব্যাপ্তি (Scope) এবং প্রকরণ (Method), পণ্যের মূল্যমান, শ্রমের সরল ও জটিল রুপভেদ, পুঁজি এবং উদ্বৃত্ত মূল্যসহ অর্থশাস্ত্রের স্বাভাবিক নিয়মাবলী সম্পর্কিত নাতিদীর্ঘ বিশদ আলোচনা। 

তৃতীয় অংশ “সমাজতন্ত্র” (Socialism) সম্বন্ধীয়ঃ ১৮৮০ সালে পল লাফার্গের অনুরোধে এঙ্গেলস এই অংশটির রচনা করেন এবং মূল লেখার সাথে যুক্ত করেন, “অ্যান্টি ড্যুরিং” ছাড়াও এই অংশটি আলাদা করে “ইউটোপিয় এবং বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র” নামে একটি বই হিসাবে প্রচলিত। এতে রয়েছে ইতিহাসের বস্তুবাদী ধারণা, সমাজতন্ত্রের বুনিয়াদি তত্ত্ব, উৎপাদন এবং বণ্টনের উপায়সমূহ এবং রাষ্ট্র, পরিবার ও শিক্ষা সম্পর্কে আলোচনা। 

“অ্যান্টি ড্যুরিং” সম্পর্কে দুই তরফের অভিযোগ রয়েছে, প্রথমটি স্বাভাবিকভাবেই জার্মান সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভিতর থেকে এসেছিল। ড্যুরিং’র ভক্তবৃন্দেরা প্রবল আপত্তি জানান, তাদের যুক্তি ছিল এতে পার্টির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নষ্ট হবে, নিজেদের মধ্যেকার কলহ প্রকাশ্যে জনগণের খোরাকে পরিণত হবে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন ডিজরাপশন দেখেও নিশ্চুপ থেকে ভালো সেজে নিজেদের মধ্যে চুপিচুপি মিটমাট করে নেওয়া আসলে দুর্বল চিত্তের এক মানসিক ব্যাধি, যাকে লেনিন পরবর্তীকালে রাশিয়ায় বলশেভিক পার্টি গড়ে তোলার সময় দুরমুশ করে দিয়েছিলেন এবং এধরণের মতবাদকে কনশিলিয়েশনিজম বলে চিহ্নিত করেছিলেন। দ্বিতীয় অভিযোগের বিবরণ অতি কম কথায় বইয়ের মুখবন্ধে (প্রথম প্রকাশের মুখবন্ধ) এঙ্গেলস নিজেই উল্লেখ করেছেন – এক অজ্ঞাতপরিচয় গনিতশাস্ত্রে প্রতিভাধর ব্যাক্তি মার্কসের কাছে চিঠি লিখে অভিযোগ জানান যে এঙ্গেলস অহেতুক √(-১) (Complex Number বা জটিল রাশির তত্ত্বে একক হিসাবে যা ব্যাবহৃত হয়) - এর মর্যাদাহানি করেছেন। বস্তুত যে নির্দিষ্ট জায়গায় ঐ সংক্রান্ত আলোচনায় গেছেন তা পড়লেই বোঝা যায় সেই অজ্ঞাতপরিচয় প্রতিভাধর ব্যক্তিটি হয়ত এঙ্গেলসের ব্যাজস্তুতি সম্পূর্ণ পড়ার আগেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলেন, আর তাই মজাটা ধরতে পারেন নি – “It is a contradiction that a negative quantity should be a square of anything, for every negative quantity multiplied by itself gives a positive square. The square root of minus one is therefore not only a contradiction, but even an absurd contradiction, a real absurdity. And yet is in many cases a necessary result of correct mathematical operations. Furthermore where would mathematics – lower or higher – be, if it were prohibited from operation with?”

ড্যুরিং এঙ্গেলসের কোন ব্যাক্তিগত শত্রু ছিলেন না, এঙ্গেলস নিজেই লিখেছেন “অ্যান্টি ড্যুরিং” কোন মনের কোন থেকে বেরিয়ে আসা ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ (inner urge) নয়। এঙ্গেলসকে এই বই লিখতে হয়েছিল এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে, এই দায়িত্ববোধও কমিউনিস্টদের জন্য এক চিরায়ত শিক্ষা। মার্কসবাদ চর্চার পাঠ্যক্রমে এই বইটি সবার জন্য এক অমোঘ হাতিয়ার – মার্কসবাদ কোন আপ্তবাক্য নয়, মার্কসবাদীদের আচরণ কখনোই কোন মৌলবাদীদের মতো নয়। প্রতিটি ঐতিহাসিক সময়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে, সাহিত্য-শিল্পকর্মের আধুনিকতম অভ্যাসের সাথে এবং সর্বোপরি মানবিক সমস্ত সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশের সাথে মার্কসবাদকে সম্পৃক্ত করে নিতে হয়, দুতরফেই যাচাই করে নিতে হয় তত্ত্ব ও প্রয়োগের যথার্থতা – এমনটা করা হয় বলেই, করা যায় বলেই মার্কসবাদ হয়ে ওঠে বিজ্ঞান, হয়ে ওঠে সর্বশক্তিমান। কোনো ভাড়া করা মেধার ভরসায় নয়, এই কাজ মার্কসবাদীদের নিজেদের চেতনায় পরিশ্রমসাধ্য শান দিয়েই করতে হয়, মেধার চর্চাও মার্কসবাদীদের অন্যতম এক অভ্যাস

কিছুতেই উল্লেখ করার ইচ্ছা অবদমন করা যাচ্ছেনা, তাই ড্যুরিং-এর বিশ্বজয়ের নামে কিম্ভূতকিমাকার তত্ত্ব প্রসঙ্গে এঙ্গেলসের উক্তিটি সবার জন্য সাজিয়ে দিলাম – “When a man is in possession of the final and ultimate truth and of the strictly scientific approach’ it is only natural that he should have a certain contempt for the rest of erring and unscientific humanity.”

আজকের পৃথিবীতেও মার্কসবাদ, সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে চেতনার জগতে অনেক আক্রমন নামিয়ে আনা হয়, তার বেশিরভাগটাই হয় বৃহৎ পূঁজির প্রত্যক্ষ সহায়তায় ভাড়াটে মেধার হাত ধরে (End Of History and The Last Man – মনে রাখতেই হয়)। সেইসব আক্রমনের বিরুদ্ধে আমাদের, পার্টি কর্মীদের মগজে শান দিতেই হবে, এও পার্টির কাজ, দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের মধ্যেই সময় বার করে নিয়ম মেনেই (আত্মগত শৃঙ্খলার প্রয়োগে) প্রয়োজনীয় যে সব বই আমাদের সবার বারে বারে পড়া উচিত “অ্যান্টি ড্যুরিং”-কে সেই তালিকার উপরের দিকেই রাখতে হবে।


শেয়ার করুন

উত্তর দিন