|
ভোটাধিকার বনাম চীন-জুজু: নজর ঘোরানোর কৌশল?Samyo Ghosh |
| দেশের অভ্যন্তরে যখন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে চীন । অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তে ভারতীয় ও চীনা সেনার মুখোমুখি অবস্থানের খবর নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে চলা এই উত্তেজনা সম্পর্কে দেশের মানুষ বিস্তারিত জানতে পারল অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসে কেন? আর এই খবর সামনে আসার রাজনৈতিক সময়কালই বা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কেন? এখানে সীমান্তের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার কোনও প্রশ্ন নেই। ভারতের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। চীন বাহিনীর কোনও পদক্ষেপ যদি ভারতের স্বীকৃত স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তার প্রতিবাদ করতে হবে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু সেই সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন জরুরি: সীমান্তের উত্তেজনাকে কি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে মানুষের নজর সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর অনুমানের ভিত্তিতে নয়। তথ্য, সময়কাল এবং সরকারি পদক্ষেপের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে খুঁজতে হবে। The Hindu-র ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকার কাছে আসাফিলা অঞ্চলে জুলাইয়ের শেষ দিক থেকেই ভারতীয় ও চীন সেনার মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান চলছিল। সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, মাজা এলাকার কাছে নিয়মিত টহলের সময় দুই দেশের সেনা মুখোমুখি হয়। পরে চীনা বাহিনী আরও সংখ্যায় ফিরে এসে উঁচু এলাকায় তাঁবু খাটায় বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁবুগুলি ভারতের LAC-সংক্রান্ত ধারণা অনুযায়ী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দূরত্বকে কোনও সর্বসম্মত, চিহ্নিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাপা দূরত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না, কারণ LAC-র বিভিন্ন অংশে ভারত ও চীনের ধারণার পার্থক্য রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর ওয়াচা-দামাই সীমান্ত বৈঠকস্থলে দুই দেশের সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু আলোচনা হয়েছে মানেই বিরোধ মিটে গিয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ নেই। এরপর ২২ অক্টোবর ITBP-র ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ কাপুর অরুণাচল প্রদেশের একাধিক স্থানে ভারতীয় ও চীনা সেনার মুখোমুখি অবস্থান চলার কথা প্রকাশ্যে জানান। অর্থাৎ, ২২ অক্টোবর উত্তেজনার সূচনা হয়নি। ওই দিন সীমান্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার আগে থেকেই চলতে থাকা উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বীকৃতি সামনে আসে। এখানেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলা দরকার। জুলাই থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি অবগত থাকলে, দেশের সামনে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কী সীমাবদ্ধতা ছিল? সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল? পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে? ভারতীয় বাহিনীর টহল দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন ঘটেছে কি? আর সীমান্তের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে কী সমন্বয় করা হয়েছে? জাতীয় নিরাপত্তার কারণে প্রতিটি সামরিক তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই যুক্তি দিয়ে সব প্রশ্নের দরজা বন্ধ করে দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার কেন আগে বিস্তারিত জানায়নি, তার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তাই তথ্য প্রকাশে বিলম্বকে সরাসরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে ঘোষণা করা যাবে না। তবে বিলম্বের কারণ জানতে চাওয়া এবং সরকারের জবাবদিহি দাবি করা অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত। এই প্রশ্নগুলির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে তাকালে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR, যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। এই বিতর্কে সিপিআই(এম)-এর অবস্থানও স্পষ্ট। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ দলের পলিটব্যুরো জ্ঞানেশ কুমারের পদে থাকার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর পদত্যাগ এবং SIR অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানায়। ২৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বামপন্থী দলের যৌথ বিবৃতিতেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ, SIR বন্ধ, অন্যায়ভাবে বাদ পড়া ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের ২৬ সেপ্টেম্বরের ব্যাখ্যাকে অপর্যাপ্ত বলে প্রত্যাখ্যান করে সিপিআই(এম) আবারও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানায়। এই দাবিগুলির পিছনে রয়েছে একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রশ্ন: ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া কি আইনসম্মত, স্বচ্ছ এবং যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষার যথেষ্ট সুরক্ষাযুক্ত? নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, ভোটারদের নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলি এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য দাবি করেছে, SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরও বিতর্ক শেষ হয়নি। ফলে বিষয়টি শুধু বিরোধী দলের প্রতিবাদ নয়, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে সীমান্তের উত্তেজনা জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে সময়ের মিল মানেই যে কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিতভাবে এই খবর সামনে এনেছে, তার প্রমাণ নয়। এখানে প্রমাণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণকে আলাদা রাখতে হবে। ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক ঘটনাকে নির্বাচনী আলোচনায় ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্কের নজির রয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে পুলওয়ামা হামলা ও বালাকোট বিমান হামলার পর নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্বাচনী প্রচারে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকলাপকে রাজনৈতিক প্রচারের উপকরণ না করার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বালাকোট হামলা ও সেনাদের প্রসঙ্গ টেনে প্রথমবারের ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও সেই সময় বিতর্ক হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক উদাহরণ বর্তমান সীমান্ত-ঘটনাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচার হিসেবে প্রমাণ করে না। তবে এটি দেখায়, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয় রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনকেও অতীতে সতর্কতা জারি করতে হয়েছে। অতএব, বর্তমান পরিস্থিতিতেও প্রশ্ন হওয়া উচিত, সীমান্তের খবর কীভাবে প্রকাশিত হচ্ছে, রাজনৈতিক বক্তব্যে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক বিতর্ক কতটা প্রভাবিত হচ্ছে। মোদি সরকারের কাছে এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে দৃঢ় বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সরকারকে নিজের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতারও জবাব দিতে হয়। The Hindu-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ITBP-র প্রধান সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তি ও বাহিনীর আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠবে, সীমান্তে নজরদারি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বাহিনীর প্রস্তুতি কতটা শক্তিশালী? সীমান্তের উত্তেজনা সম্পর্কে সরকারের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকলে সেই অনুযায়ী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? দেশের মানুষকে শুধু আশ্বাস দেওয়া যথেষ্ট নয়, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র সম্পর্কেও বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা প্রয়োজন। চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত বিরোধ বাস্তব, এবং চিনের কোনও পদক্ষেপ ভারতের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী হলে তার প্রতিবাদ করা জরুরি। কিন্তু সীমান্ত বিরোধের অর্থ এই নয় যে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থায়ী শত্রুতার কাঠামোর মধ্যে আটকে রাখতে হবে। ভারত ও চিনের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ২৩ অক্টোবর জানান, প্রতিষ্ঠিত টহল দেওয়ার ধরন থেকে চিনা বাহিনী সরে এলে সীমান্ত পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশই বিদ্যমান সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থান থেকেই দুটি বিষয় একসঙ্গে বলা সম্ভব। চিনা বাহিনীর এমন কোনও পদক্ষেপ, যা ভারতের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ এবং কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবিরোধের স্থায়ী সমাধানের জন্য সামরিক সংঘাতের বদলে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই দুটি অবস্থানের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই। বরং সীমান্তের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য দুটিই প্রয়োজন। বামপন্থী আন্তর্জাতিকতাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। চিনের কোনও পদক্ষেপের সমালোচনা করা এবং চিনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে থাকা পরস্পরবিরোধী নয়। রাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করা যায়, সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া যায়, আবার একই সঙ্গে দুই দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে শান্তি ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা যায়। সীমান্তে সংঘাত বাড়লে তার মূল্য শুধু সামরিক বাহিনীকে নয়, দুই দেশের সাধারণ মানুষ, অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাকেও দিতে হয়। সুতরাং, চিনকে ঘিরে প্রতিটি ঘটনাকে জাতীয়তাবাদী আবেগের পরীক্ষায় পরিণত করার বদলে তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করা দরকার। সীমান্তে কী ঘটেছে, ভারতের অবস্থান কী, চিনের বক্তব্য কী এবং কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি কতটা, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কাজ। কিন্তু একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। SIR-এর মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে কি না, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কতটা স্বচ্ছ এবং জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির জবাব কী, এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি সীমান্তের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করতে পারে না। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চলবে, কিন্তু তার আড়ালে ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহির প্রশ্ন হারিয়ে যেতে পারে না। এই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দুটি পৃথক কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহি দাবি করা জরুরি। অরুণাচল সীমান্তে জুলাই থেকে কী ঘটেছে, সামরিক আলোচনার ফল কী এবং ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে SIR, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা অভিযোগেরও উত্তর দিতে হবে। দেশের সীমান্ত রক্ষা করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনই দেশের ভিতরে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করাও তার দায়িত্ব। একটি প্রশ্নের গুরুত্ব দিয়ে অন্য প্রশ্নকে আড়াল করা যায় না। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা চিন বনাম ভারত নয়। প্রশ্নটা হল, ভারত কি তার সার্বভৌমত্ব, সীমান্তের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার, তিনটিকেই যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে? চিনের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা থাকলে তার মোকাবিলা করতে হবে। দেশের ভিতরে ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তারও উত্তর দিতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে গণতন্ত্রের প্রশ্ন থামানো যাবে না, আবার শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের পক্ষে কথা বললেই কাউকে দেশবিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়াও যুক্তিসঙ্গত নয়। সীমান্তে নিরাপত্তা চাই, সীমান্তে শান্তিও চাই। দেশের ভিতরে ভোটাধিকার চাই, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিও চাই। আর সরকারের কাছে চাই তথ্য, স্বচ্ছতা এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর। প্রকাশের তারিখ: ২৮-অক্টোবর-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|