|
ট্রাম্পের কর সন্ত্রাসবাদ ও তার শিক্ষাPrabhat Patnaik |
গাজায় যা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপে ঘটছে তেমন কোনও সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে শুল্ক-সন্ত্রাসের মাধ্যমেও যে কোনও দেশে একই ঘটনা ঘটানো যেতে পারে। |
আমদানি করা পণ্যসমূহের বেলায় যেকোনো দেশই নিজেদের দেশের উৎপাদনকারীদের রক্ষা করতে চায়, আর তাই তারা আমদানি শুল্ক আরোপ করে- অর্থনীতির পাঠ্যবই আমাদের এমনটিই শিখিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে চাপিয়ে দেওয়া শুল্কের উদ্দেশ্য আরও বেশি কিছু। সামরিক হস্তক্ষেপ, অভ্যুত্থান বা সন্ত্রাসবাদী হামলার মতোই অন্যান্য দেশকে তার ইচ্ছার কাছে মাথা নত হতে বাধ্য করতেই ঐ পদক্ষেপ। উদাহরণ হিসাবে বলা চলে, ভারতের পোশাক রপ্তানিকারকদের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কোনও আমেরিকান পোশাক উৎপাদনকারীকে রক্ষা করতে নয়, এমনটা করা হয়েছে ভারতকে ট্রাম্পের ইচ্ছার সমীপে নত করার লক্ষ্যে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে চাপিয়ে দেওয়া শুল্ক নীতির এমনসব অসঙ্গতিই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনার শাস্তিস্বরূপ ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। তবে চীন ও রাশিয়ার রফতানি করা জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা, যারা ভারতের থেকে অনেক বেশি আমদানি করে সেই চীনের বেশিরভাগ আমদানির উপর শুল্কের হার ৫০ শতাংশের চাইতে কম রাখা হয়েছে। এমন বৈষম্যমূলক আচরণের কারণ ট্রাম্প বিশ্বাস করেন ভারতকে খুব সহজেই প্রভাবিত করা গেলেও চীনের বেলায় ঠিক তেমনটি ঘটে না। চীন এমন পাল্টা আঘাত হানতে পারে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সমস্যায় ফেলবে। যেমন চীন চাইলে বিরল খনিজ পদার্থগুলির রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে। অন্যদিকে ভারত এখনো অবধি তেমন কোনো প্রতিশোধের হুমকি ইত্যাদি দেয়নি। এদিক থেকে ব্রাজিলের আচরণের থেকেও ভারত আলাদা। ব্রাজিলই একমাত্র অন্য দেশ যাদের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হলে তারা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু করে দিয়েছে। ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পেছনে ট্রাম্পের আপাত কারণ আরও বেশি অদ্ভুত। নয়া-ফ্যাসিবাদী জাইর বলসেনারো, ব্রাজিলের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মহাশয় গত নির্বাচনে পরাজিত হন, তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাই নাকি এমন শাস্তি। ট্রাম্প মনে করেন বলসেনারোর সম্মানজনক মুক্তি পাওয়া উচিত। অন্য একটি দেশের বিচার ব্যবস্থায় এ এক অবিশ্বাস্য হস্তক্ষেপ! ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মনোভাবের মূল কারণ সম্ভবত তা নয় যেমনটি বলা হচ্ছে। ভারত এবং ব্রাজিলকে বেছে বেছে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আসল কারণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে যেকোনও সম্ভাব্য ঐক্য বা জোটকে ভেঙে দেওয়া। শুল্ক মারফত শাস্তি চাপানোর মাধ্যমে তিনি তৃতীয় বিশ্বের দুটি বৃহত্তম দেশকে ভয় দেখিয়ে সে জোট থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছেন। শুল্ককে এভাবে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করা সাম্রাজ্যবাদের তরফে এক সম্পূর্ণ নতুন কৌশল। উপনিবেশ-পরবর্তী সময়ে তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশগুলিই এক সাধারণ কৌশল অবলম্বন করেছিল। এমন কৌশলের উদ্দেশ্য ছিল স্বনির্ভরতাকে উৎসাহ যোগানো, অভ্যন্তরীণ বাজারের প্রসারন ও দেশীয় উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে বিকাশের মাধ্যম হিসেবে রাষ্ট্র, বিশেষ করে সরকারি ক্ষেত্রের ব্যবহার। এমন কৌশলের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদ এক নিরলস সংগ্রাম শুরু করে। মতাদর্শগত উপাদান হিসেবে প্রাথমিকভাবে পূর্ব এশিয়ার তথাকথিত ‘গ্যাং অফ ফোর’কে অর্থাৎ হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্যকে তুলে ধরা হয়। বিশ্বব্যাংকের ‘অভিমুখ’-এ এবং ‘বহির্মুখী’ উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে একটি পার্থক্য তৈরি করে এবং তারই সঙ্গে পূর্ব এশিয়ার চার দেশের সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে ঐ ‘বহির্মুখী’ কৌশলের শ্রেষ্ঠত্বকেও তারা তুলে ধরে। এই উদ্দেশ্যে এক সম্পূর্ণ অসৎ যুক্তি’কে ব্যবহার করা হয়। বলা হল পূর্ব এশিয়ার ঐ চারটি দেশ রপ্তানি ও জিডিপি’র নিরিখে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির যে উচ্চ হার অর্জন করেছে সেসব অন্যরাও অর্জন করতে পারবে যদি তারা অমনই এক ‘বহির্মুখী’ আর্থিক কৌশল অনুসরণ করে। আদতে এমন যুক্তি ভিত্তিহীন, কারণ সব দেশের সম্মিলিত রপ্তানি বৃদ্ধির হার আসলে বিশ্ব বাজারের বৃদ্ধির হারের উপরই নির্ভরশীল হয়। তাই এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি দেশের দ্রুতগতির আর্থিক বৃদ্ধি শেষ অবধি অন্যদের জন্য ধীর গতির কারণ হবেই। কিন্তু সেই যুক্তিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়। উল্টে প্রচার করা হয় যে সকলেই নাকি ‘ছোট্ট দেশ’ এবং সেই কারণে তারা চাইলেই যত খুশি রপ্তানি করতে পারে। এমন বিতর্কের আবহে কার্যত দুটি কারণ অনেককেই সাম্রাজ্যবাদের তরফে পেশ করা যুক্তির পক্ষে ঝুঁকতে বাধ্য করে। প্রথমটি রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের সাফল্য। যদিও তাদের ঐ সাফল্য আগাগোড়া এক ভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভিন্ন উন্নয়ন কৌশলের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তা স্বত্বেও একে ‘বহির্মুখী’ কৌশলের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসেবে একেই গোটা বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করা হল। দ্বিতীয় কারণ তৃতীয় বিশ্বের বাজারে নিজেদের কার্যক্রমকে স্থানান্তরিত করার জন্য বহিজাতিক পুঁজির আপাত আগ্রহ। যুক্তি দেওয়া হল যে এর ফলে তৃতীয় বিশ্বে পুঁজিবাদের প্রসার ঘটবে এবং আর্থিক দুই বিশ্বের মধ্যেকার বিভাজনটুকু সম্পূর্ণরূপে দূর হয়ে যাবে। ধরে নেওয়া হল বহুজাতিক রাষ্ট্রগুলি নিজেদের দেশীয় অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বকে নিষ্ক্রিয়রূপে বিবেচনা করবে এবং এধরনের পুঁজির স্থানান্তর ঠেকাতে কোনও পদক্ষেপই নেবে না। কিন্তু এ সমস্ত কারণ ঐ সাধারণ কৌশলের বিরুদ্ধে যুক্তিকেই আরও জোরদার করেছে। এর মূল কারণ ছিল বৃহৎ বুর্জোয়া শ্রেণির নিজস্ব শ্রেণিস্বার্থ রক্ষা। শহুরে উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষজন সহ যারাই বিশ্বায়নের সম্ভাবনায় আকৃষ্ট হয়, এদের সন্তানেরাই ক্রমবর্ধমান হারে দেশের বাইরে গিয়ে উন্নত দেশগুলিতে স্থায়ী বসবাসকারী হচ্ছিল। ফলে ঐ শ্রেণি ও সংশ্লিষ্টরা নিজেদেরকে দেশীয় শ্রমিক ও কৃষকদের চেয়ে উন্নত দেশগুলির সাথে বেশি সম্পর্কিত বলে মনে করত এবং এখনও করে। এদিকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফও বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। তেল সংকটের সময় তৃতীয় বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ আয়-ব্যয়ের হিসাব জনিত সংকটের (ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট) মুখোমুখি হয়েছিল। তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলির অর্থমন্ত্রকের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পদগুলিতে তারা নিজেদের কর্মচারীদের বসিয়েছিল। প্রথমে আফ্রিকায়, পরে অন্যান্য দেশেও ভিতর থেকে নির্বাচিত শাসনব্যবস্থাগুলিকে দুর্বল করার জন্য এমন কৌশল প্রয়োগ করা হয়। ভারত এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রতিরোধ চালায়, কিন্তু ১৯৯১ সালে শেষ পর্যন্ত তারাও আত্মসমর্পণ করে। নয়া-উদারবাদী শাসনের অধীনে পরবর্তীকালে কী কী ঘটেছে সেসব এখানে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। বর্তমানে যা স্পষ্ট তা হল, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে উন্নত দেশসমূহের বাজারের উপর নির্ভরশীল করে এবং একটি ‘নিয়মতান্ত্রিক’ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কথা বলে সাম্রাজ্যবাদ এখন শুল্কের মাধ্যমে তাদের উপরেই চাইলে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারে। তৃতীয় বিশ্বের কোটি কোটি অসহায় শ্রমিক-কৃষক, যাদের মধ্যে বহু লক্ষ মহিলা শ্রমজীবীও রয়েছেন, তাদের কর্মহীন করে দিয়ে ব্যাপক দুর্দশা চাপিয়ে দেওয়ার হুমকি অবধি দিতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের দেশের কৃষিক্ষেত্রে বিশাল পরিমাণে ভর্তুকি বজায় রেখেছে অথচ ভারতের তুলা চাষিদের সঙ্গে ঠিক সেটিই করছে। সম্প্রতি আমদানিকৃত তুলার উপর থেকে মোদী সরকার ১১ শতাংশ আমদানি শুল্ক তুলে নিয়েছে। আরও বেশি সংখ্যক কৃষকের আত্মহত্যাকে অনিবার্য করে তোলার পাশপাশি অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্কের কারণে ভারতীয় তুলা বিক্রির জন্য মার্কিন বাজার বন্ধ হয়ে গেলে ভারতের লক্ষ লক্ষ বস্ত্র শ্রমিকের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বেই। এই হল ভারতীয় বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানির উপর ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের মূল হুমকি। অর্থাৎ, গাজায় যা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপে ঘটছে তেমন কোনও সামরিক হস্তক্ষেপের পরিবর্তে শুল্ক-সন্ত্রাসের মাধ্যমেও যে কোনও দেশে একই ঘটনা ঘটানো যেতে পারে। তৃতীয় বিশ্বের কোনও দেশ সাম্রাজ্যবাদী নির্দেশকে অমান্য করার সাহস দেখালেই ঐ কৌশল প্রয়োগ করা হবে। এ হলো প্রতিশোধের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। এমন পরিস্থিতিতে যে শিক্ষাটি গ্রহণীয় তা হল প্রধানত অভ্যন্তরীণ বাজার-ভিত্তিক, স্বনির্ভরশীলতা প্রত্যাশী দেশের জন্য এক অভিন্ন সাধারণ উন্নয়নের কৌশলই হল উপনিবেশ-পরবর্তী সময়ে আগেকার মতো সুনিশ্চিত অবস্থা টিকিয়ে রাখতে এক অপরিহার্য পরিপূরক। উপনিবেশের শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পরই ভারত এবং তৃতীয় বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি একে উপলব্ধি করেছিল। অন্যান্য কারণ ছাড়াও উন্নত দেশগুলির বাজারের উপর নির্ভরশীলতার কারণেই অর্থনীতির দিশা হিসাবে ঐ ‘বহির্মুখী’ উন্নয়ন কৌশল তৃতীয় বিশ্বের দেশকে সাম্রাজ্যবাদী নির্দেশের অধীন করে তোলে। ভারতে কৃষকদের তরফে এক বছর ধরে চালিয়ে যাওয়া আন্দোলনের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকাই উচিত। ঐ লড়াই আমাদের দেশকে খাদ্যশস্যে স্বনির্ভরতা পরিত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে আমদানির উপর নির্ভরশীল হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। যদি ভারত খাদ্যশস্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির উপর নির্ভর হয়ে পড়ত তাহলে ভারতকে নিজেদের ইচ্ছামতো নত করানোর জন্য সাম্রাজ্যবাদের হাতে আরও শক্তিশালী একটি অস্ত্র তুলে দেওয়া হতো। কোনও এক উন্নত দেশ যারা গাজায় গণহত্যায় সহযোগিতা করতে পারে, তৃতীয় বিশ্বের কোনও দেশ তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করলে সে দেশে খাদ্য রফতানি বন্ধ করে দুর্ভিক্ষ ঘটানোর ব্যাপারে তাদের সামান্যতম দ্বিধাও থাকবে না। ভারতের মতো দেশের জন্য নিজেদের আর্থিক উন্নয়নের কৌশল পরিবর্তন করা জরুরি। এর অর্থ কেবল পুরানো কৌশলে ফিরে যাওয়া নয় বরং এমন এক কৌশল গ্রহণ করা যা কৃষিক্ষেত্রের শ্রীবৃদ্ধি (অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে), কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের জন্য আয়ের পুনর্বন্টন, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করে সামাজিক মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের সম্প্রসারণ। গত ১৫ই আগস্ট মোদী সরকার পণ্য ও পরিষেবা করে (GST) যে ছাড়ের ঘোষণা করেছে তার উদ্দেশ ঠিক সেটাই বলে কেউ ভাবতেই পারেন। কিন্তু এমন দাবি একেবারেই ভিত্তিহীন। জিএসটি’তে ছাড়যা ঘোষণা করা হয়েছে সেস আদৌ কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের জন্য কার্যকর নয়। ধনীদের উপর বাড়তি করের মাধ্যমে আয়ের ঘাটতিকে পূরণ করা হয়নি। পিপল'স ডেমোক্রেসি-র ২৪শে আগস্ট সংখ্যায় আমার লেখা প্রবন্ধে প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে কিছুটা বেশি (জিডিপি-র ০.১ শতাংশের পরিবর্তে ০.৬ শতাংশ, এবং ০.৩২ লক্ষ কোটি টাকার পরিবর্তে ১.৯৫ লক্ষ কোটি টাকা) কিছুটা বেশি ছাড়ের ঘোষণা স্বত্বেও সেসব প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই নগণ্য। দরকার উন্নয়নের এক বিকল্প পথ যা কল্যাণমূলক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেবে। এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জিডিপি-র অন্তত আরও ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ব্যয় করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের দুর্দশা লাঘবের জন্য সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া শুল্কের কারণে এদের কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে। সাম্রাজ্যবাদ শুল্ককে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে, তাই এর প্রভাব মোকাবিলার জন্য রপ্তানি ভর্তুকির মতো পদক্ষেপগুলি সম্ভবত যথেষ্ট না, কারণ ট্রাম্প পরে শুল্ক আরও বাড়িয়ে দিতে পারেন। চীন ও ব্রাজিল যেভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, আমরাও তেমনকিছু চেষ্টা করে দেখতে পারি। শুল্কের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজার পাশাপাশি বিকল্প বাজার খুঁজে বের করার জন্যও সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মোদী সরকার এমন কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করছে না বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে শান্ত করার জন্য অন্যান্য ক্ষেত্রে ছাড় দিতে চাইছে। যেমন শুল্কমুক্ত তুলা আমদানির অনুমতি ইত্যাদির ঘোষণা, এসবে ভারতীয় কৃষকদের ক্ষতি হবে। আরও বড় কথা হল এই সঙ্কটময় মুহূর্তে তারা এমএনরেগা (মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প) খাতে সরকারী ব্যয়ের পরিমাণ হ্রাস করছে। অথচ গ্রামীণ ভারতের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্য ঐ প্রকল্প জীবনদায়ী হতে পারত।
পিপলস ডেমোক্র্যাসি পত্রিকার ১-৭ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত বাংলায় অনুবাদঃ সৌভিক ঘোষ প্রকাশের তারিখ: ০৫-সেপ্টেম্বর-২০২৫ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|