আরএসএস বলে কিছু নেই! (৬ষ্ঠ পর্ব)

Amrita Singha
সংঘ জানে কিভাবে ধৈর্য্য ধরে তার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কাজ করতে হয় এবং তাদের আদর্শিক লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করতে হয়। একজন পৌর কর্পোরেশন কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন, “আর.এস.এস অবৈধ কিছু করবে না ঠিকই, কিন্তু তারা যা চায়, তা পাবার জন্য দরকার পড়লে তোমার হাত মুচড়েও নিয়ে নেবে”। গত কয়েক দশক ধরে সংগঠনের যাত্রায় এটি প্রমাণিত হয়েছে।

একটি জবাবদিহি-বিহীন সংগঠনের গোপন কাঠামোর মানচিত্র (৬ষ্ঠ পর্ব)

‘দ্য ক্যারাভান’ ওয়েবজিনে ১ জুলাই, ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত

প্রায় ষাট বছর বয়সী একজন মহিলা শকুন্তলা আমাকে বললেন, “মন্দিরের লোকেরা বড় বদমায়েশ, তারা সবার জমি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেয়”। উনি ফুলওয়ালি গলিতে থাকেন, একটি সরু গলি যা বাড়িগুলোর সারিকে ছেদ করে এবং মন্দিরের সবচেয়ে কাছ দিয়ে চলে গেছে। গলির আরেক বাসিন্দা ত্রিশোর্ধ্ব জ্যোতি কানওয়ার, শকুন্তলার হয়রানির দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করলেন। তার অনুমান যে এই এলাকায় পঞ্চাশটিরও বেশি বাড়ি খালি করা হয়েছে কারণ বিবিজেটিএস সেগুলো দাবি করেছে। কানওয়ার আমাকে গীতা শর্মার সাথে দেখা করতে নিয়ে গেলেন, একজন বয়স্ক মহিলা যিনি এখন মন্দির দ্বারা পরিচালিত একটি ছোট দোকান দেখাশোনা করেন। শর্মা বললেন, “লোকেরা টাকা নিয়ে চলে গেছে”। সাক্ষাতের পর, কানওয়ার আমাকে বললেন যে সব বাসিন্দা যারা হয়রানির কথা উল্লেখ করেননি তারা এই বিষয়ে কথা বলতে ভয় পেয়েছিলেন। 

আমি যখন এই গলি থেকে মন্দিরের দিকে এগিয়েছিলাম, কিছু বাড়ি খালি ছিল, তারপরে একটি টিন শেড এবং নির্মাণ কাজ দৃশ্যমান ছিল। বাসিন্দারা বলেছিলেন যে এই পুরো এলাকাটি মন্দির দ্বারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দখল করা হয়েছে। 

কয়েকটি অভিযোগ সরাসরি ‘কেশব কুঞ্জ’কে নিয়ে। আশী বছর বয়সী মোরা দেবী আমাকে বলেছিলেন যে তিনি কেশব কুঞ্জ নির্মিত হওয়ার জায়গায় তার পরিবারের ‘নিজস্ব জমিতে’ একটি ‘পাক্কা ঝুপড়ি’তে থাকতেন, এবং প্রায় বারো বছর আগেও উচ্ছেদ হয়েছিলেন। কেশব কুঞ্জের বিপরীত ব্লকে একটি চায়ের দোকান চালান আশোক শ্রীবাস্তব, যিনি সদর দপ্তরের সংলগ্ন গলিতে অবস্থিত শ্রীবাস্তব ধর্মশালা চালানো পরিবারের সাথে সম্পর্কিত। তিনি বললেন, “প্রায় বারো বছর আগে, আরএসএস ধর্মশালার প্রায় দুই মিটার ভেঙে ফেলেছিল, তারা বলেছিল যে তারা আমাদের এর জন্য টাকা দেবে, কিন্তু দেয়নি”। শ্রীবাস্তব বলেছিলেন যে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং পরিবার এ সম্পর্কে আর কথা বলতে চায় না। আমি যখন কুমারকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, “কেশব কুঞ্জের ক্ষেত্রে, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, এই বিল্ডিং বা এই পুরো প্রাঙ্গণে কোন কাজই হোক না কেন, যখন আমরা মানচিত্র দিয়েছি, তখন পর্যন্ত আমরা সব ভাড়াটে এবং অবৈধ দখলদারদের পারস্পরিক আলোচনা বা আদালতের মাধ্যমে খালি করিয়েছি। তাই আমাদের কোন চালু জিনিস ভাঙার প্রয়োজন নেই”। কুমার এবং আহুজা তাদের সংস্থাগুলোর অপারেশন নির্মাণ ও সম্প্রসারণে কোন অবৈধ কার্যকলাপ অস্বীকার করেছেন।

আহুজা আমাকে বলেছিলেন যে প্রায়ই বাসিন্দারা তাকে বলে যে তারা ইচ্ছে করে তাদের প্লট মন্দিরকে টাকার বিনিময়ে দেবে। তিনি বললেন, “আমরা বলি, 'কিসের জন্য টাকা দেব’? এখন তারা একটি বস্তির মতো এলাকায় বাস করছে। তাদের ভাঙাচোরা বাড়ি। সেগুলো টুকরো টুকরো করে তৈরি। আপনি নিশ্চয়ই সেগুলো দেখেছেন”? তিনি আরও বলেন যে এলাকায় মানুষ কোন কার্যকলাপ করলে তিনি সতর্ক থাকেন। “আমরা নিজেরা কাউকে নোটিশ দিই না। কিন্তু যে কেউ নির্মাণ করে, ভাড়া নেয়, সাব-লেট করে, আমরা তাকে নোটিশ দিই”। 

কানওয়ার বলেন যে বাসিন্দাদের মধ্যে এই ধারণা রয়েছে যে আদেশগুলো আরএসএস থেকে আসে। ওম প্রকাশ বললেন, “এটা সব টাকার ব্যাপার, কোনও কল্যাণমূলক কাজ চললে মন্দির বন্ধ হয়ে যাবে। মন্দিরে, এমনকি মাথা মুড়ানোর জন্যও টাকা লাগে”। তিনি বলেন, “এটা ওদের সরকার। কেউ কিছু বলবে”? তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে মন্দিরের সম্প্রসারণ শুধুমাত্র একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ। তিনি যোগ করেন, “এখন যা কিছু ঘটবে তা মন্দিরের নামে ঘটবে, তারপর তারা এটা আরএসএসকে লিজে দেবে”। 

২০১৭ সালের আগস্টে, নাগপুরের একজন প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ‘জনার্দন মুন’ একটি অসমসাহসিক কাজ করেছিলেন: তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ নামে একটি সংগঠন নিবন্ধন করার চেষ্টা করেছিলেন। মুন আমাকে বললেন, “আমরা অনেক দিন ধরে এটি নিয়ে পড়াশোনা করছি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এমন একটি বড় সংগঠন। এটি সারা বিশ্বে কাজ করছে, কিন্তু এটি কি নিবন্ধিত নয়”? এই কর্তব্য পূরণ করতে এগিয়ে আসেন মুন এবং আরও ১২ জন - বহুজন সম্প্রদায়ের কর্মী, শিক্ষক ও বস্তি কর্মী। তারা নাগপুরের চ্যারিটি কমিশনারের কাছে তাদের কাগজপত্র জমা দেন এবং বার্ষিক প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন শুরু করেন। তারা এই নামে সমাজসেবামূলক কাজ করেন, শিক্ষা ও নাগরিক বিষয়ে প্রচারণা চালান এবং এমনকি ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী ভারতীয় জাতীয় উন্নয়নমূলক অন্তর্ভুক্তিমূলক জোটকে (I.N.D.I.A) সমর্থনও করেছিলেন। 

কিন্তু মুনের সংগঠন নিবন্ধনের আবেদন, সহকারী রেজিস্ট্রার অফ সোসাইটিজ দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল এই কারণ দেখিয়ে যে এটি পূর্বে নিবন্ধিত একটি সংগঠনের সাথে ‘অভিন্ন’ ছিল, এবং ‘রাষ্ট্রীয়’ শব্দটি ব্যবহার করার অর্থ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বোঝায়। মুন এই রায়কে বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে ভাগবতের আর.এস.এস, মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরে নিবন্ধিত হয়েছিল। তবে, এটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমি একটি আর.টি.আই আবেদন করেছিলাম, এবং চন্দ্রপুরের পাবলিক ট্রাস্ট রেজিস্ট্রেশন অফিস এই দাবি অস্বীকার করেছে। তবুও আদালত মুনের আবেদন খারিজ করে দেয়। 

মুন সংগঠন নিবন্ধন করার পেছনের যুক্তি ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এটি একটি অননুমোদিত সংগঠন যা সারা ভারত জুড়ে কাজ করছে, মানবতাবাদে কাজ করছে, আমাদের কি এটিকে একটি সামাজিক সংগঠন বলতে হবে নাকি একটি বর্ণবাদী সংগঠন”? এই অন্য rss সংগঠন সবার জন্য সাংবিধানিকভাবে কাজ করছে, যা RSS (হিন্দুত্ববাদী সংগঠন) সাধারণত করে না। এই কাজটি যেন একটি আয়না ধরিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে আসল RSS-এর অগণতান্ত্রিক এবং সর্বশক্তিমান রূপটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে - এটা তাদের জন্য অস্বস্তিকর।। 

মুন যুক্তি দিয়েছেন যে সত্যিটি খুবই সরল। ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন, যার রয়েছে Z-plus সিকিউরিটি, বিপুল জমির মালিকানা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর প্রভাব – যে সংস্থা আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন (নিবন্ধিত নয়)। তিনি বলেন, যদি আমার কাছে ১০ কোটি টাকার বাংলো থাকে, তাহলে সিবিআই বা ইডি আমার পিছনে লাগবে - আমি নিবন্ধিত হই বা না হই। কিন্তু, যদি আমার বিল্ডিংয়ের দাম ১০ কোটি টাকা হয়, আর আমি বলি যে এটি 'গুরুদক্ষিণা' বা শ্রমিকদের দান থেকে এসেছে, তাহলে কি সরকার তা বিশ্বাস করবে? কেশব কুঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভাগবতের RSS-এর উচিত স্পষ্টভাবে জানানো যে "সমগ্র ভারত বা বিশ্বের মানুষ এত কোটি টাকা দান করেছে"  - এটা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা।

আরএসএস সম্পর্কে এই প্রশ্নগুলি জিজ্ঞাসা করার কণ্ঠস্বর খুবই কম এবং দুর্লভপ্রায়। ২০২১ সালের জুন থেকে, ৬৪ বছর বয়সী লালন কিশোর সিং, যিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় ট্রেড ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন, সরকার সঙ্ঘকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য কত টাকা ব্যয় করছে তা জানার জন্য একটি অনুসন্ধান শুরু করেছিলেন। সিং আমাকে বললেন, “যখন আরএসএস একটি নিবন্ধিত সংগঠন নয়, তখন সরকার কোন নিয়মে এর জন্য ব্যয় করছে? এবং যদি আরএসএস সুরক্ষার জন্য অর্থ প্রদান করে, তাহলে কত খরচ হয়েছে”? শ্রী সিং সরকারের কাছে তার আরটিআই আবেদনে এই প্রশ্নগুলি তুলতে চেষ্টা করেছিলেন। তথ্য অধিকার আইনের ধারা ২৪(৪) এর অধীন তথ্য অস্বীকার করা হয়েছিল (যে ধারা গোয়েন্দা ও সুরক্ষা সংস্থা সম্পর্কে বিবরণ প্রদান থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের অব্যাহতি দেয়) । সিং অভিযোগ করেছিলেন যে, এর পরে, ট্রাফিক পুলিশ তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তাকে অফিসে ডেকে আনে এবং দীর্ঘ সময় ধরে বসিয়ে রেখে হেনস্থা করে। 

২০২৪ সালে, সিং বোম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন যাতে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছিল যে, সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএসএফ ২০১৫ সাল থেকে ভাগবত এবং নাগপুরে আরএসএস সদর দপ্তরে জেড-প্লাস সুরক্ষা - সরকারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠোর সুরক্ষা - প্রদান করছে। তিনি আদালতকে বলেছিলেন, “প্রায় একশত পঞ্চাশ জন সুরক্ষা কর্মী এতে নিযুক্ত রয়েছেন”, আরেকটি সংবাদ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছিলেন যে সিআরপিএফ-এর ৫৮ জন কর্মী, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী শিল্পপতি মুকেশ আম্বানিকে মাসে ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি খরচে জেড-প্লাস সুরক্ষা প্রদান করছেন। এর ভিত্তিতে, সিং হিসাব করেছিলেন যে সরকার আরএসএসকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য মাসে প্রায় ১.২৫ কোটি টাকা ব্যয় করছে, যেহেতু ভাগবতের জন্য প্রায় তিনগুণ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। এর অর্থ গত দশকে ১৫০ কোটি টাকা। সিং ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশের উল্লেখ করেছিলেন যাতে আম্বানিকে নিজেই খরচ বহন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে এর অর্থ কি এই নয় যে আরএসএস-কেও তার জন্য প্রদত্ত সুরক্ষার জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে? সিং আমাকে বললেন, এটি জনগণের অর্থ। এটি জনস্বার্থে ব্যবহার করা প্রয়োজন, তাছাড়া, এটি একটি বেসরকারী সংগঠন যা নিবন্ধিতও নয় এবং যা অতীতে তিনবার সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ হয়েছে

২০১৫ সাল থেকে সিআইএসএফ, মোহন ভাগবত এবং নাগপুরে আরএসএস সদর দপ্তরকে জেড-প্লাস (সর্বোচ্চ) নিরাপত্তা প্রদান করছে। - সন্তোষ কুমার/হিন্দুস্তান টাইমস

আমি যখন কুমারকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন আরএসএস একটি নিবন্ধনবিহীন সংস্থা হিসাবে রয়েছে, তিনি বলেছিলেন, “এটি নিবন্ধিত হওয়ার প্রয়োজন কোথায়? এর কি কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা আছে? না”। তিনি শ্রম বিভাজন এবং সঙ্ঘের কাজ করার পদ্ধতির যুক্তি কীভাবে দেখেন তা এইরকমভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন, “দেখুন, আমি কেশব স্মারক সমিতি সম্পর্কে জানি। এটি কিছু স্বতন্ত্র কাজ করে, যা সরাসরি আরএসএসের কাজের অন্তর্গত নয়। আরএসএস যে কাজটি নিজের উপর নিয়েছে তা হল ভবন নির্মাণ নয় - এটা হল শাখা চালানো”। সঙ্ঘের মধ্যে থাকা লোকেরা প্রকাশনা শুরু এবং জ্ঞান বিস্তারের মতো কাজ গ্রহণ করতে চাইতে পারে, যা আরএসএস-এর নিজের গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেছিলেন, “সুতরাং, স্বয়ংসেবকরা যে সংস্থাগুলি গঠন করেছেন, তারা সেগুলি নির্দিষ্ট অংশের জন্য, নির্দিষ্ট কাজের জন্য গঠন করেছেন, এসব সমিতির কোনওটিই শাখা চালায় না। শাখা চালানো একমাত্র সঙ্ঘের জন্য, এটাই। আমরা সবাই কাজ করি, এবং এই কার্যকারিতা যেটা নির্ধারণ করে না, যে কোন ট্রাস্ট বা সমিতি গঠন করতেই হবে”। 

আরএসএস, জবাবদিহি থেকে কীভাবে অব্যাহতি পেতে হয় তা খুব ভালোভাবেই জানে। সম্ভাব্য অস্বীকারযোগ্যতার ধারণা তার মজ্জায় প্রোথিত করা আছে। এর বিভিন্ন অংশ এমনভাবে কাজ করে, যেন তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কুমার বলেন, “আমি বলতে চাইছি, আমি জানি না তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো কিনা, আমি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি। আর.এস.এস আমাদের আদেশ দেয় না। আমরা একসাথে বসে আলোচনা করি। কখনও কখনও তারা আমাদের সাথে একমত হয়। কখনও কখনও, হয়তো আমাদের ভিন্ন ধারণা থাকে। তারপর তারা বলে, 'আমরা তোমাদের আমাদের ধারণা বলেছি। এখন তোমরা যা ইচ্ছা তাই গ্রহণ করো’। তাই, আর.এস.এস’-এর কার্যকারিতা বোঝা কঠিন”।

কিন্তু সংঘ জানে কিভাবে ধৈর্য্য ধরে তার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কাজ করতে হয় এবং তাদের আদর্শিক লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করতে হয়। একজন পৌর কর্পোরেশন কর্মকর্তা আমাকে বলেছিলেন, আর.এস.এস অবৈধ কিছু করবে না ঠিকই, কিন্তু তারা যা চায়, তা পাবার জন্য দরকার পড়লে তোমার হাত মুচড়েও নিয়ে নেবে। গত কয়েক দশক ধরে সংগঠনের যাত্রায় এটি প্রমাণিত হয়েছে। জনমানসে সংঘের প্রতীকদের পুনর্বাসিত করা হচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে  আর.এস.এস সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল করা হচ্ছে, এবং এই প্রক্রিয়া ক্রমবর্ধমান।

অযোধ্যায় বিজেপির মণ্ডল অধ্যক্ষ (এলাকা সভাপতি) মহেন্দ্র মিশরা আমাকে বলেছিলেন, “সংঘের সংগ্রামের সময় শেষ হয়েছে”। কিন্তু শরদ শর্মা, যিনি আমার দেখা অন্য আরএসএস সদস্যদের তুলনায় অনেক বেশি সতর্কতার সাথে কথা বলেছিলেন, তিনি এই মত মানতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “তা নয়, কিন্তু এটা সত্যি—১৯৯০ সালে গুলি চালানো হয়েছিল।” উনি তখনকার পরিস্থিতির কথা বলছিলেন, যখন মুলায়াম সিংহ সরকারের পুলিশ আরএসএস কর্মীদের উপর (যারা বাবরি মসজিদ ভাঙতে আয়োধ্যায় যাচ্ছিল) গুলি চালিয়েছিল। তিনি যোগ করেন, “আজ আর কেউ গুলি চালায় না। এটাই একমাত্র পার্থক্য। আমাদের সংগ্রামের জন্য জেলে যাওয়া - সেটা এখন আর হচ্ছে না”।

রাজধানীতে সংঘের নতুন সদর দপ্তর দেখলে বোঝা যায়, যে সংগঠনটি কতদূর এগিয়েছে - একটি শক্তিশালী, গোপন, জবাবদিহি করতে হয়না এমন শক্তি, দেশকে তার ইচ্ছানুযায়ী রূপ দিচ্ছে। জেলা কার্যবাহী অনিল আমাকে বলেছিলেন, “যে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে, এটি আগামী একশো বছরের কথা মাথায় রেখে তৈরী করা হয়েছে”।

 

বাংলা ভাষান্তরঃ অঞ্জন মুখোপাধ্যায়

*এটিই ধারাবাহিকের শেষ পর্ব


প্রকাশের তারিখ: ২৩-আগস্ট-২০২৫

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org