নভেম্বর বিপ্লব ও শ্রমজীবী নারীদের ভূমিকা: ইতিহাস, শিক্ষা ও আজকের প্রাসঙ্গিকতা

Gargi Chatterjee
শ্রমজীবী নারীদের এক অনন্য ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছিল। নারীরা শুধু বিপ্লবের পেছনের প্রেরণা ছিলেন না; তাঁরা বিপ্লবের ময়দানে, কারখানায়, রাস্তায়, এবং রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় সংগঠক ও যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু অধ্যায় আছে যা কেবল একটি দেশের রাজনৈতিক গতি নয়, সমগ্র মানবতার চিন্তা, দর্শন ও সংগ্রামের ধারাকে নতুন করে গড়ে দিয়েছে। ১৯১৭ সালের রাশিয়ার নভেম্বর বিপ্লব (রুশ বর্ষপঞ্জিতে অক্টোবরে ঘটেছিল বলে একে ‘অক্টোবর বিপ্লব’ও বলা হয়) এমনই এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এই বিপ্লব শুধু একটি সাম্রাজ্যের পতন ঘটায়নি—এটি শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে গঠিত প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিল।
এই বিপ্লবের ভেতর দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের, বিশেষত শ্রমজীবী নারীদের এক অনন্য ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছিল। নারীরা শুধু বিপ্লবের পেছনের প্রেরণা ছিলেন না; তাঁরা বিপ্লবের ময়দানে, কারখানায়, রাস্তায়, এবং রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় সংগঠক ও যোদ্ধা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

আজকের প্রজন্ম যখন পুঁজিবাদের সংকট, শ্রমের অনিশ্চয়তা, এবং নারীর উপর বহুমাত্রিক নিপীড়নের মুখোমুখি, তখন নভেম্বর বিপ্লবের শিক্ষা এবং শ্রমজীবী নারীদের ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় আনা প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: বিপ্লবের আগের রাশিযউনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ ও বিংশ শতকের সূচনালগ্নে রাশিয়া ছিল এক গভীর সংকটগ্রস্ত সাম্রাজ্য। জার নিকোলাস দ্বিতীয়ের একনায়ক শাসনের অধীনে সমাজে চলছিল চরম বৈষম্য। একদিকে অভিজাত ও ভূস্বামী শ্রেণী বিলাসিতায় নিমগ্ন, অন্যদিকে শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণী দারিদ্র্য, অনাহার ও শোষণের শিকার।

শিল্পায়নের কিছু অগ্রগতি হলেও তা ছিল মূলত রাজধানী ও কয়েকটি শিল্পকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ, এবং এই শিল্প কারখানাগুলিতে শ্রমিকদের অবস্থা ছিল শোচনীয়। দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা অবধি কাজ করতে হতো, মজুরি ছিল নগণ্য, এবং কোনো সামাজিক নিরাপত্তা ছিল না। কারখানার মালিকেরা ও রাষ্ট্রশক্তি শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকারও অস্বীকার করত।

অন্যদিকে কৃষক সমাজ ছিল ঋণ ও জমিদারদের অত্যাচারে জর্জরিত। জমি ছিল খুব অল্প সংখ্যক জমিদারের হাতে কেন্দ্রীভূত, আর অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।
১৯০৫ সালের রুশ-বিপ্লব এই শোষণের বিরুদ্ধে প্রথম বড় প্রতিবাদ হিসেবে ফেটে পড়ে। যদিও সেই বিপ্লব সফল হয়নি, তবুও তা জারতান্ত্রিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দেয় এবং শ্রমিকদের মধ্যে সংগঠনের বীজ বপন করে। ‘সোভিয়েত’ বা শ্রমিক পরিষদের ধারণা তখনই প্রথম জন্ম নেয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৯১৮) রাশিয়ার সংকটকে আরো গভীর করে তোলে। লাখো সৈনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারায়, খাদ্য ও জ্বালানির সংকট প্রকট হয়, মজুরি কমে যায়, মূল্যবৃদ্ধি আকাশছোঁয়া হয়। শহরজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষ রুটির দাবিতে রাস্তায় নামতে শুরু করে।

এই কঠিন সময়ে নারীরাও পিছিয়ে ছিলেন না। তাঁরা পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কারখানায় কাজ করতেন, পরিবার চালাতেন, এবং সমাজে সংগঠনের ভূমিকা নিচ্ছিলেন। তাঁদের জীবন ছিল দুর্বিষহ—মজুরি কম, কাজের সময় দীর্ঘ, আর সামাজিক মর্যাদা ছিল অত্যন্ত নিচু। তবু এই নারীশ্রমিকরাই হয়ে উঠেছিলেন বিপ্লবের প্রাথমিক স্ফুলিঙ্গ—যে আগুন পরে সমগ্র রাশিয়াকে বদলে দেয়।

ফেব্রুয়ারি থেকে নভেম্বর: বিপ্লবের গতিপথ

১৯১৭ সালের শুরুতেই পেট্রোগ্রাদের শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে ক্রোধ ও হতাশা চরমে পৌঁছেছিল। খাবার ও জ্বালানির অভাবে শহরে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরই মধ্যে ৮ মার্চ (২৩ ফেব্রুয়ারি, পুরোনো রুশ ক্যালেন্ডার অনুসারে)—আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন—টেক্সটাইল কারখানার নারী শ্রমিকেরা “রুটি ও শান্তি চাই” স্লোগান তুলে রাস্তায় নেমে আসেন।

এই নারীদের প্রতিবাদ ছিল শুধু অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়; এই প্রতিবাদ ছিল যুদ্ধবিরোধী এবং জীবনযাত্রার মর্যাদার দাবিতেও। তাঁদের দৃঢ় অবস্থান ও সাহস পুরুষ শ্রমিকদেরও আন্দোলনে নামতে অনুপ্রাণিত করে। কয়েক দিনের মধ্যেই ধর্মঘট সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারি বাহিনীও বিদ্রোহে যোগ দেয়।

ফলস্বরূপ, ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবে জার নিকোলাস দ্বিতীয়কে সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। এটি ছিল শতাব্দীর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—যা সামন্তবাদী শাসনের অবসান ঘটায়। তবে এর পর যে ‘অস্থায়ী সরকার’ ক্ষমতায় আসে, তারা শ্রমিক ও কৃষকদের প্রকৃত দাবি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। যুদ্ধ বন্ধ হয়নি, ভূমি সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি, এবং মজুরি বৃদ্ধি বা খাদ্যাভাব নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এই অচলাবস্থায় লেনিন ও বলশেভিক পার্টি জনগণকে একটি নতুন দিক নির্দেশনা দেন। “সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে”, “যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই”, “রুটি, জমি ও স্বাধীনতা”—এই স্লোগানগুলো দ্রুত শ্রমিক ও সৈনিকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

অবশেষে, ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর (২৫ অক্টোবর, পুরনো ক্যালেন্ডার অনুসারে) বলশেভিক পার্টি এক সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করে এবং রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। এভাবেই ইতিহাসের প্রথম শ্রমিক-কৃষক রাষ্ট্রের জন্ম হয়—যা মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে।

নভেম্বর বিপ্লব শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব। রাষ্ট্রের নতুন কাঠামো গঠনের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমজীবী নারী ও পুরুষ উভয়ের জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

শ্রমজীবী নারীদের ভূমিকা: বিপ্লবের অগ্রদূতেরা

নভেম্বর বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল—শ্রমজীবী নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। বিপ্লবের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল যেখানে নারী কেবল সহযোগী নয়, বরং সংগ্রামের নেতৃত্বেও ছিলেন। রাশিয়ার নারীশ্রমিকরা ছিলেন সেই সমাজের নিপীড়িততম অংশ—অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক তিন ক্ষেত্রেই তাঁরা শোষণের শিকার। কিন্তু তাঁরাই ১৯১৭ সালের বিপ্লবের প্রেরণা ও অগ্রদূত হয়ে উঠেছিলেন।

(১) ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সূচনায় নারীদের ভূমিকা

১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সূচনা ঘটেছিল একদল নারী টেক্সটাইল শ্রমিকের হাত ধরে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে তাঁরা “রুটি ও শান্তি”র দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁদের প্রতিবাদ ছিল ক্ষুধা, যুদ্ধ, এবং অমানবিক কাজের পরিবেশের বিরুদ্ধে এক সম্মিলিত রণহুংকার।

প্রথমে অনেক পুরুষ শ্রমিক এই আন্দোলনে অংশ নিতে দ্বিধা করলেও, নারীদের অবিচল সাহস ও ঐক্যের সামনে সেই দ্বিধা গলে যায়। আন্দোলন ক্রমে ধর্মঘটে রূপ নেয়, তারপর তা ছড়িয়ে পড়ে পেট্রোগ্রাদ জুড়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার নিয়ন্ত্রণ হারায়। এই ঘটনাই ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সূচনা করে, যা ইতিহাসবিদদের ভাষায়—

“The Russian Revolution began with women’s hands.”
(“রাশিয়ান বিপ্লব শুরু হয়েছিল নারীদের হাত ধরে।”)

এই দিনটি প্রমাণ করে যে, শ্রমজীবী নারীদের সংগ্রাম কেবল নিজের অধিকার নয়, গোটা সমাজ পরিবর্তনের শক্তিও ধারণ করে।

(২) আলেকজান্দ্রা কলোন্তাই – বিপ্লবের নারী মুখ

আলেকজান্দ্রা কলোন্তাই ছিলেন সেই সময়ের রাশিয়ার এক অসামান্য নারী বিপ্লবী, সমাজতাত্ত্বিক ও তাত্ত্বিক চিন্তাবিদ। তিনি বলশেভিক পার্টির শীর্ষ নেত্রী এবং বিশ্বের প্রথম নারী মন্ত্রী (১৯১৭ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী) হিসেবে ইতিহাসে স্থান পান।

কলোন্তাই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে নারীর মুক্তি শুধুমাত্র আইনি সমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—বরং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনই প্রকৃত মুক্তির পথ। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠে নারীশ্রমিক সংগঠনসমূহ, যেগুলো কারখানায় নারী শ্রমিকদের অধিকার, মাতৃত্বকালীন ছুটি, শিশুসেবা, ও কর্মক্ষেত্রে মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম চালায়।

তিনি রাষ্ট্রনির্ভর শিশুসেবা কেন্দ্র, সম্মিলিত রান্নাঘর, ও কমিউন হাউজের ধারণা দেন—যার মাধ্যমে নারী গৃহশ্রমের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কলোন্তাই-এর চিন্তাধারা সেই সময়ের সমাজতান্ত্রিক নারীবাদের ভিত্তি স্থাপন করে এবং আন্তর্জাতিক নারী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ দান করে।

(৩) নারীদের সংগঠন: Zhenotdel

১৯১৯ সালে বলশেভিক পার্টি নারীর মুক্তি ও সমাজে সমঅধিকার নিশ্চিত করতে গঠন করে “Zhenotdel” (নারী বিভাগ)। এটি ছিল পৃথিবীর প্রথম রাষ্ট্রনির্ভর নারী সংগঠন, যার নেতৃত্বে ছিলেন আলেকজান্দ্রা কলোন্তাই ও ইনেসা আরমান্দ।

Zhenotdel-এর মূল কাজ ছিল—

ক) নারীশিক্ষার প্রসার,

খ) রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি,

গ) কর্মক্ষেত্রে ও গ্রামে নারীদের সংগঠিত করা,

ঘ) স্বাস্থ্য, শিশু ও মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

গ্রামাঞ্চলে তাঁরা গিয়ে নারীদের অশিক্ষা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করেন। অনেক নারী প্রথমবারের মতো পঞ্চায়েত, সমবায় ও প্রশাসনিক কাজে অংশগ্রহণ করেন। এই সংগঠন শুধু নারীর প্রশ্নকে সামনে আনেনি—এটি নতুন সমাজ গঠনের ভিত মজবুত করেছিল।

(৪) যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ

বিপ্লব পরবর্তী গৃহযুদ্ধের সময় (১৯১৮–১৯২1) রেড আর্মির প্রায় এক লক্ষ নারী বিভিন্ন ভূমিকায় অংশ নেন—যোদ্ধা, নার্স, বার্তাবাহক, চিকিৎসক, ও প্রশাসক হিসেবে। তাঁদের মধ্যে অনেকে প্রাণ দেন রাষ্ট্ররক্ষার লড়াইয়ে। এই সময়ে নারী শুধু শ্রমজীবী নয়, সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রক্ষক হিসেবেও ইতিহাসে স্থান করে নেন।

এইভাবে নভেম্বর বিপ্লবে নারীরা কেবল প্রেরণার উৎস নয়, এক অগ্রণী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।

বিপ্লব-পরবর্তী সমাজে নারীর অবস্থান

নভেম্বর বিপ্লবের পর বলশেভিক সরকারের অন্যতম বড় অর্জন ছিল নারীসমাজের আইনি ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা। লেনিনের নেতৃত্বে নতুন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ইতিহাসে প্রথম ঘোষণা করে—নারী ও পুরুষের মধ্যে পূর্ণ সমতা প্রতিষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রীয় নীতিতে।

আইন ও নীতির পরিবর্তন

বিপ্লবের পরে রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ঘোষণা করে—

ক) নারীদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকার,

খ) সমান মজুরির নিশ্চয়তা,

গ) বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদে স্বাধীনতা,

ঘ) মাতৃত্বকালীন ছুটি ও শিশুসেবা কেন্দ্র,

ঙ) শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ।

১৯১৮ সালের পারিবারিক কোডে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার স্বীকৃত হয়—যেখানে ধর্মীয় বিবাহের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয় এবং নারীর নিজস্ব সম্পত্তির অধিকার সংরক্ষিত হয়। এটি ছিল নারীর আইনি মুক্তির প্রথম সুসংগঠিত রূপ।

(২) শিক্ষায় ও কর্মজীবনে অগ্রগতি

বিপ্লব-পরবর্তী দশকে সোভিয়েত রাশিয়ায় নারী শিক্ষার হার দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নারীরা বিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপকভাবে প্রবেশ করতে শুরু করেন। অনেক নারী চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে নেতৃত্বের আসনে পৌঁছে যান। শ্রমজীবী নারী ও কৃষক রমণীরা কৃষি সমবায়ে ও শিল্প কারখানায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তাঁদের অংশগ্রহণ শুধু উৎপাদনে নয়, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বেও ক্রমবর্ধমান হয়।

(৩) সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে নারীর নতুন ভূমিকা

বিপ্লবের মাধ্যমে গড়ে ওঠা নতুন সমাজতান্ত্রিক সংস্কৃতি নারীদের এক নতুন মর্যাদা দেয়। সাহিত্য, নাটক, চিত্রকলা ও চলচ্চিত্রে নারীর মুক্তচেতা রূপ উঠে আসে। নারী আর কেবল ঘরের গণ্ডিতে
প্রকাশের তারিখ: ১৩-নভেম্বর-২০২৫

© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
৩১, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট
মুজফ্ফ‌র আহমদ ভবন
কলকাতা - ৭০০০১৬

ফোন: ০৩৩ - ২২১৭৬৬৩৩, ২২১৭৬৬৩৪
www.cpimwestbengal.org