|
জিএসটি হার বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ট্যুইট : ড.টমাস আইজ্যাক (২য় পর্ব)Unknown |
, জিএসটি হার বৃদ্ধির বিষয়ে সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যাপার হল এই সিদ্ধান্তের সময়। দেশ এখন মূদ্রাস্ফীতির তীব্র সংকটের মুখে। খুচরো মূদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের উপরে। পাইকারি মূল্য সূচক ১৫শতাংশ বেড়েছে। |
|
জিএসটি হারের আপৎকালীন নিম্নমুখী সংশোধন দুর্ভাগ্যবশত, সামনে লোকসভা নির্বাচন দেখে কেন্দ্রীয় সরকার পণ্যের উপর করের হার কমানোর উদ্যোগ নেয়, বিশেষ করে ২৮ শতাংশ হারের পণ্যের ওপর।এই হ্রাসের প্রভাব রাজস্ব সংগ্রহে কী হবে সে সম্পর্কে কোনও মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়নি। নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো অর্থমন্ত্রীই এ ধরনের কমানো নিয়ে আপত্তি করতে পারেননি। খুব শীঘ্রই তারা হার কমানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছিল ২৮ শতাংশ হারের ওপর যা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। হার কমানোর এই তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত নতুন হারগুলিকে আর রাজস্ব নিরপেক্ষ রাখে না। জিএসটি কর কাঠামোতে প্রগতিশীলতার গুরুত্ব কিন্তু কর্পোরেট এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই পরামর্শগুলির কোনওটিই প্রযোজ্য না। ধনীদের ওপর কর চাপানোর পরিবর্তে তারা সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত পণ্যের ওপর এই বোঝা চাপাতে চায়। ব্যবসা করার সুবিধার উন্নতির জন্য(ease of doing business) বর্তমান বহুস্তরীয় জিএসটি-কে একটি মাত্র বা বর্তমানের চেয়ে কম সংখ্যক হারে একীভূত করার জন্য কর্পোরেট দাবির সাথে এটি সম্পূর্ণভাবে খাপ খায়। যদি একটি মাত্র হারে জিএসটি নেওয়ার পথে সরকার অগ্রসর হয় তাহলে এমনিতেই পশ্চাদগামী পরোক্ষ কর হিসাবে জিএসটি-এর মধ্যে যেটুকু প্রগতিশীলতা ছিল তাও লুপ্ত হবে। দীর্ঘস্থায়ী ভোগ্য পণ্য এবং শহুরে ভোগ্যপণ্যের উপর করের হার সবচেয়ে বেশি হ্রাস পেয়েছে। এই একই পণ্যগুলি আরও মুনাফা করবে যদি সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ হারের জিএসটি-এর দাবি মেনে নেওয়া হয়। ![]() জিএসটি-এর হার সংশোধন কার লাভ কার ক্ষতি শস্য, শস্যজাত পণ্য এবং দইয়ের উপর ৫% শুল্ক চাপানো হয়েছে এবং অন্য বেশ কিছু পণ্যের উপর বিদ্যমান করের হার আরও বাড়ানো হয়েছে। সোলার ওয়াটার হিটার, চামড়ার মতো পণ্য এবং পরিষেবা যেমন ₹ ১০০০-এর নীচে হোটেলের ঘর এবং ₹ ৫০০-এর উপরে হাসপাতালের ঘর এবং বিভিন্ন চুক্তিগুলির জিএসটি ৫ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এলইডি বাল্ব, কালি, ব্লেড, পাম্প, সাইকেল, বিভিন্ন ধরনের মেশিনের মতো অনেক পণ্যে জিএসটি ১২শতাংশ থেকে ১৮শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। যে চুক্তিতে ১২ শতাংশ কর ছিল তা বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে। রাজ্যগুলি এবং কর সংশোধন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ট্যুইট করে কর বৃদ্ধির আরেকটি যুক্তি দিয়েছেন "রাজ্যগুলি প্রাক-জিএসটি সময়কালে খাদ্যশস্য থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব সংগ্রহ করছিল। শুধুমাত্র পাঞ্জাবই ক্রয় করের মাধ্যমে খাদ্যশস্যের উপর ২,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। উত্তরপ্রদেশ ৭০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।” এটি ঐতিহাসিকভাবে সত্য শস্যের উপর পাঞ্জাবে অনেকটাই কর ছিল যা একটি রপ্তানিকারক রাজ্য ছিল,এবং কিছু রাজ্যে খাদ্যশস্য এবং পণ্যের উপর কর কম ছিল, বিশেষ করে, যদি সেগুলি ব্র্যান্ডেড হয়। তবে এটি একটি কোন সাধারণ ভবিষ্যত হতে পারে না। ঐতিহাসিকভাবে এদেশে শস্যকে করছাড় দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী আরো দাবি করেছেন যে সমস্ত রাজ্য এই হার সংশোধনে সম্মত হয়েছে। ![]() এই কর বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিতে ইন্ধন জোগাবে অবশেষে, জিএসটি হার বৃদ্ধির বিষয়ে সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যাপার হল এই সিদ্ধান্তের সময়। দেশ এখন মূদ্রাস্ফীতির তীব্র সংকটের মুখে। খুচরো মূদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের উপরে। পাইকারি মূল্য সূচক ১৫শতাংশ বেড়েছে। জুন মাসের সূচকে খাদ্য সামগ্রী যার ওয়েটেজ ২৪%, ১৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংক্ষেপে, দেশের মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতির জন্য খাদ্য মূল্যস্ফীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। এখন এই ৫ শতাংশ কর অবশ্যই পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে চলেছে। এইভাবে হার বৃদ্ধি পশ্চাদপসরণমূলক, মুদ্রাস্ফীতিমূলক এবং কর ফাঁকির দিকেই পরিচালিত করবে। ওয়েবডেস্কের পক্ষে অনুবাদঃ সরিৎ মজুমদার প্রকাশের তারিখ: ৩০-জুলাই-২০২২ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|