|
কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ও ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার সরকারি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হচ্ছেWebdesk |
এখন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হলে এই প্রকল্পগুলি আরও বেশি সংখ্যক মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। |
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র পলিট ব্যুরো নিম্নলিখিত বিবৃতি জারি করেছে:
পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং-এর ঘোষণার মাধ্যমে কল্যাণমূলক প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে আধারকে সরিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC) বাধ্যতামূলক করার যে সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) তার তীব্র ও দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের ওপর আরও একটি আঘাত।
বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচয় যাচাইয়ের কারণে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে কৃষিশ্রমিকরা তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বহু বয়স্ক মহিলা শ্রমিকের চোখের আইরিস যন্ত্রে শনাক্ত না হওয়ায় তাঁরা সরকারি সুবিধা পাননি। একইভাবে, কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের ফলে আঙুলের ছাপ ক্ষয়ে যাওয়ায় বহু শ্রমজীবী মানুষকে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় শনাক্ত করা যাচ্ছে না এবং তাঁরাও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করার জন্য স্মার্টফোনের প্রয়োজন হয়, অথচ অধিকাংশ গ্রামীণ পরিবারের কাছেই স্মার্টফোন নেই।
এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, আধার বাধ্যতামূলক করা হবে না। কিন্তু সেই আশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীতে গোপনে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পে আধার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন যে সরকার আধারকে ত্রুটিহীন বলে প্রচার করেছিল, তারাই আধার ব্যবস্থা পরিত্যাগ করছে।
ভোটাধিকারের ওপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এবং ব্যাপক হারে ভোটাধিকার হরণের সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া হিসেবে গড়ে তোলা বর্জনমূলক স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর সাথে মিলিয়ে এটিকে দেখতে হবে। অনুমান করা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই ১৩.৪ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, মুসলিম, মহিলা এবং আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষ অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এখন কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হলে এই প্রকল্পগুলি আরও বেশি সংখ্যক মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্য সরকার SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অজুহাতে রেশনসহ অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা দিতে অস্বীকার করছে। অথচ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়ার কারণে তাঁর সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের অধীনে প্রাপ্য অধিকার কোনওভাবেই খর্ব করা যায় না। এই ধরনের পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই সমস্ত পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে তাঁদের প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এই জনবিরোধী ও বর্জনমূলক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে পার্টি দাবি করছে, গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের নাগালের বাইরে থাকা কোনও প্রযুক্তি বা নথিপত্রের শর্ত আরোপ না করে সর্বজনীনভাবে সকলের কাছে কল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে।
....................................................................................................................................................................................................................................................................................................................... The Polit Bureau of the Communist Party of India (Marxist) has issued the following statement:
Condemn Government’s Move to Make Biometrics and Voter ID Compulsory for Welfare
The Communist Party of India (Marxist) unequivocally condemns the Union government’s announcement, made by Minister of Panchayat Raj, Rajiv Ranjan Singh, to replace Aadhaar with biometrics and voter ID (EPIC) as the basis for welfare payments. This is a further assault on the rural poor.
It has been repeatedly exposed how biometric authentication denies access to agricultural workers in rural employment schemes. Many elderly women workers have been denied benefits because the machines failed to capture their iris (eyes). Manual labourers are also being excluded because their worn-out thumbprints cannot be matched by the biometric system. E-KYC requires smartphones that most rural households do not own.
The government assured the Supreme Court earlier that Aadhaar would not be compulsory, only to surreptitiously impose it across welfare schemes. Now, having touted Aadhaar as foolproof, the government itself is discarding it.
This must be seen alongside the exclusionary Special Intensive Revision (SIR) process, which is a ‘surgical strike’ on voting rights and a systematic exercise in mass disenfranchisement. It is estimated that more than 13.4 crore voters have been excluded, with marginalised communities, Muslims, women, and the economically vulnerable disproportionately impacted.
Now, demanding Voter ID for welfare will make these schemes even more exclusive. Already, certain state governments are denying ration and other benefits on the pretext that names have been deleted through SIR, a clear violation of the Supreme Court’s ruling that electoral roll exclusion cannot affect social welfare entitlements.
All these designs point to a concerted effort to deny benefits to a vast majority of the people. The CPI(M) demands the immediate withdrawal of this exclusionary decision and insists that welfare entitlements be delivered universally, without conditioning them on technology or documents that the rural poor cannot access. প্রকাশের তারিখ: ০৪-নভেম্বর-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|