|
বাংলার বিকল্প অর্থনীতিRatan Khasnabis |
সারা ভারতেই ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর চাপের মুখে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। হাই-এন্ড কাজ, যেখানে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হয় এবং মজুরি গড় হারের চেয়ে অনেক বেশি থাকে, তা পশ্চিমবঙ্গে কার্যত নেই। বড় কারখানাগুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে, না হয় তারা তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নিচ্ছে। লজিস্টিক হাব বা গুদাম ঘর তৈরি হলেও সেখানে শ্রমিকের মজুরি অত্যন্ত কম। |
পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং শিল্পায়নের বিকল্প রূপরেখা: একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ আজ এক গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের সম্মুখীন। একদিকে রাজ্য সরকার দাবি করছে যে রাজ্যে বেকারত্বের হার সারা ভারতের তুলনায় কম, অন্যদিকে হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক-যুবতী কাজের সন্ধানে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বা কেরালার পথে পাড়ি দিচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান এবং বাস্তবের এই যে বৈপরীত্য, তার মূলে রয়েছে শ্রমবাজারের এক জটিল সমীকরণ। পিরিওডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (PLFS)-এর তথ্যকে হাতিয়ার করে শাসকদল যখন প্রচার চালায়, তখন তারা কৌশলে এড়িয়ে যায় কর্মসংস্থানের গুণগত মান এবং আয়ের নিম্নগামী সূচককে। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থনৈতিক অচলাবস্থা থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে গেলে আমাদের যেমন সমস্যার মূলে পৌঁছাতে হবে, তেমনই প্রয়োজন এক বিকল্প ও প্রগতিশীল প্রশাসনিক দর্শনের।
১. পরিসংখ্যানের মায়া এবং শ্রমবাজারের রূঢ় বাস্তব
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উন্নয়ন প্রচারের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে কর্মসংস্থানের খতিয়ান। তারা দাবি করেন, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে 'ইউজুয়াল স্ট্যাটাস আনএমপ্লয়মেন্ট' বা দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্ব অনেক কম। তাত্ত্বিকভাবে এটি হয়তো ভুল নয়, কিন্তু এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক বিপজ্জনক সত্য।
নিম্ন আয়ের ফাঁদ (The Low-Income Trap):
PLFS-এর তথ্য বিশদভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ রাজ্যে মানুষ কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু সেই কাজের বিনিময়ে তারা যে মজুরি বা আয় পাচ্ছে, তা অত্যন্ত নগণ্য। অর্থনীতিতে তিন ধরণের উপার্জনকে প্রধান হিসেবে ধরা হয়:
* ক্যাজুয়াল ওয়ার্কার (অস্থায়ী শ্রমিক): যারা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন।
* রেগুলার ওয়ার্কার (স্থায়ী বা নিয়মিত কর্মী): যারা মাসান্তে একটি নির্দিষ্ট বেতন পান।
* ওন অ্যাকাউন্ট এন্টারপ্রাইজ (নিজস্ব মালিকানাধীন কাজ): যেমন ক্ষুদ্র ব্যবসা, মুদি দোকান বা নিজস্ব জমিতে চাষাবাদ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই তিনটি বিভাগেই পশ্চিমবঙ্গের গড় আয় সর্বভারতীয় গড়ের চেয়ে অনেকটা নিচে। অর্থাৎ, এ রাজ্যের একজন ক্যাজুয়াল ওয়ার্কার ভারতের অন্য রাজ্যের সমগোত্রীয় শ্রমিকের চেয়ে কম মজুরি পান। এমনকি যারা নিজস্ব ব্যবসা বা চাষ করেন, তাদের লভ্যাংশও জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। এই 'আয়ের দারিদ্র্য' (Income Poverty) মানুষকে রাজ্যে থাকতে নিরুৎসাহিত করছে। মানুষ কাজ না পেয়ে বাইরে যাচ্ছে না, বরং রাজ্যে থেকে সম্মানজনক মজুরি না পেয়ে পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হচ্ছে।
২. শিল্পায়নের অনুপস্থিতি এবং উৎপাদনশীলতার পতন
যেকোনো রাজ্যের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো তার উৎপাদন ক্ষেত্র বা ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর। উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থান তৈরি করতে হলে শ্রমের উৎপাদনশীলতা (Labour Productivity) বাড়ানো প্রয়োজন, যা একমাত্র বড় কারখানাতেই সম্ভব। এই ক্ষেত্রে বেসরকারি পুঁজির পাশাপাশি কেন্দ্রের থেকে সরকারি লগ্নি আনার প্রয়োজনটাও অনস্বীকার্য। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পচিত্র আজ ধূসর। এর থেকে মুক্তির জন্য সরকারি-বেসরকারি উভয়ের অংশগ্রহণই প্রয়োজন।
ম্যানুফ্যাকচারিং-এর বিলুপ্তি:
সারা ভারতেই ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর চাপের মুখে থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। হাই-এন্ড কাজ, যেখানে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হয় এবং মজুরি গড় হারের চেয়ে অনেক বেশি থাকে, তা পশ্চিমবঙ্গে কার্যত নেই। বড় কারখানাগুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে, না হয় তারা তাদের কর্মকাণ্ড গুটিয়ে নিচ্ছে। লজিস্টিক হাব বা গুদাম ঘর তৈরি হলেও সেখানে শ্রমিকের মজুরি অত্যন্ত কম।
বিনিয়োগ বিমুখতার কারণ:
সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা না হওয়া এ রাজ্যের শিল্পায়নের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হয়ে রয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকার নিজেদের 'ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি' দাবি করলেও আম্বানি বা আদানিদের মতো বড় বিনিয়োগকারীরা এখানে বড় কোনো প্রকল্প (Big Ticket Projects) আনতে দ্বিধাবোধ করেন। তাজপুর বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বা বড় কোনো ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট না আসা প্রমাণ করে যে, এই সরকারের 'ট্র্যাক রেকর্ড' বিনিয়োগকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
৩. প্রশাসনিক ব্যর্থতা: তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ
পশ্চিমবঙ্গের শিল্প বিমুখতার প্রধানতম কারণ হলো এখানকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তৃণমূল স্তরে 'তোলাবাজি' আজ এক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
* বিনিয়োগে বাধা: কোনো শিল্পপতি যদি এখানে একটি ছোট কারখানা বা বাউন্ডারি ওয়াল দিতে যান, তবে শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের বা কাউন্সিলরের অনুগামীদের নির্দিষ্ট হারে 'চাঁদা' দিতে হয়। এই সিন্ডিকেট কালচার বিনিয়োগের খরচ (Cost of Doing Business) বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
* পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা: এই তোলাবাজির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানালে থানা ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে 'নিজেদের মধ্যে মিটিয়ে নেওয়ার' পরামর্শ দেয়। আইনের শাসনের এই অনুপস্থিতি বড় পুঁজিকে রাজ্যের সীমানার বাইরে রাখছে।
* দুর্নীতি ও ঘুষের সংস্কৃতি: বিডিও অফিস থেকে শুরু করে মহাকরণ—হাত পেতে টাকা নেওয়া বা ঘুষ খাওয়ার সংস্কৃতি আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। এই সংস্কৃতির কারণে সাধারণ মানুষের মনেও এক ধরণের ক্ষোভ ও হতাশা দানা বেঁধেছে।
৪. বিকল্প রূপরেখা: একটি প্রগতিশীল সরকারের লক্ষ্য
পশ্চিমবঙ্গকে এই অন্ধকার থেকে বের করে আনতে হলে কেবল নামমাত্র সরকার বদল যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন আদর্শগত বদল। একটি বাম-অভিমুখী বা প্রগতিশীল সরকার এলে তাদের প্রথম কাজ হবে রাজ্যের অর্থনৈতিক ইঞ্জিনকে সচল করা।
ক) আইনের শাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা
উন্নয়নের প্রথম শর্ত হলো নিরাপত্তার পরিবেশ। তোলাবাজি নির্মূল করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করা নতুন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বিনিয়োগকারীরা যাতে নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
খ) জেলাভিত্তিক শিল্প ম্যাপিং
রাজ্যের প্রতিটি জেলার আলাদা ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক গুরুত্ব আছে। জেলাভিত্তিক শিল্পের 'ম্যাপিং' করা প্রয়োজন। বামফ্রন্ট আমলে বেশ কিছু জেলাতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব তৈরি হয়েছিল, যা গত দশ বছরে নষ্ট হয়ে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে সমন্বয় রেখে সেই হাবগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করতে হবে। প্রতিটি জেলার পটেনশিয়ালিটি ধরে নতুন জীবিকা ও নগরায়নের রাস্তা খুঁজতে হবে।
গ) স্বচ্ছ নিয়োগ ও শূন্যপদ পূরণ
বর্তমানে রাজ্যে নিয়োগের নামে যা চলছে তা এক কথায় ভয়াবহ। পাবলিক সার্ভিস কমিশন (PSC) অচল হয়ে আছে। স্কুল, কলেজ এবং সরকারি দপ্তরে লক্ষ লক্ষ স্থায়ী পদ শূন্য পড়ে আছে।
* স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ করে এক-তৃতীয়াংশ বেতনে চুক্তিভিত্তিক লোক নিয়োগের যে কালচার তৈরি হয়েছে, তা বন্ধ করতে হবে।
* নিয়োগ পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে হবে যাতে কোনো 'অপার বাড়ি' থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধার না হয়।
ঘ) প্রতি পরিবারে একটি স্থায়ী কাজ
প্রগতিশীল সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত—প্রতি পরিবারে অন্তত একজনের জন্য স্থায়ী নিয়োগ বা সম্মানজনক জীবিকার সুযোগ তৈরি করা। পাঁচ বছরের একটি লক্ষ্যমাত্রা (Target) নিয়ে এগোতে হবে যাতে প্রতিটি কর্মক্ষম মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়।
৫. সামাজিক ও গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্গঠন
শহুরে শিল্পের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্যও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি।
মজুরি ও কাজের নিশ্চয়তা:
* ন্যূনতম মজুরি: অদক্ষ শ্রমিকের জন্য দৈনিক ন্যূনতম মজুরি অন্তত ৭০০ টাকা করা নতুন সরকারের প্রথম ঘোষণা হওয়া উচিত। মজুরির এই বৃদ্ধি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে, যা বাজারকে চাঙ্গা করবে।
* ২০০ দিনের কাজ: MGNREGA বা ১০০ দিনের কাজকে রাজ্যের নিজস্ব অর্থায়নে ২০০ দিনে উন্নীত করা সম্ভব। ক্লাবগুলোতে বা উৎসবে অহেতুক টাকা না দিয়ে সেই অর্থ গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্টের জন্য ব্যবহার করা উচিত।
* শহুরে কর্মসংস্থান: ২০১০ সালে বামফ্রন্ট সরকার 'আরবান এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন স্কিম' চালু করেছিল। শহরের বেকার যুবকদের ১২০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দিয়ে তাদের সম্মানজনক জীবিকা প্রদান করা সম্ভব।
স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও কুদুম্বশ্রী মডেল:
বর্তমানে স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা সেলফ হেল্প গ্রুপগুলো (SHG) কেবল আউটসোর্সিং-এর মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেরালার 'কুদুম্বশ্রী' মডেল আজ সারা বিশ্বে প্রশংসিত। পশ্চিমবঙ্গের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোকে প্রকৃত উদ্যোক্তা (Entrepreneur) হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তারা যাতে কেবল মধ্যস্বত্বভোগী না হয়ে নিজেরাই পণ্য উৎপাদন ও বিপণন করতে পারে, সেই পরিকাঠামো পঞ্চায়েত স্তরে তৈরি করতে হবে।
৬. ভাতার রাজনীতি বনাম অধিকারের রাজনীতি
পশ্চিমবঙ্গ আজ এক চরম সন্ধিক্ষণে। বর্তমান সরকার মানুষকে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' বা ১০০০-১৫০০ টাকার মাসিক ভাতার জালে আটকে রাখতে চাইছে। মানুষ যখন দারিদ্র্যের মধ্যে থাকে, তখন এই সামান্য অর্থও তাদের কাছে অনেক। কিন্তু এই ভাতা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। ৫০০ টাকা দিয়ে কি একজন যুবকের ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব?
আমাদের প্রয়োজন এমন এক সরকার যা ভিক্ষের ঝুলি নয়, বরং হাতের কাজ এবং সম্মানজনক জীবনের গ্যারান্টি দেবে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বড় শিল্পায়নের মাধ্যমে যে দিশা দেখাতে চেয়েছিলেন, তার কিছু ত্রুটি থাকলেও উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে, স্বচ্ছতা বজায় রেখে সেই বড় শিল্পায়নের পথে আবার হাঁটতে হবে।
বিজেপির মতো দলগুলো কেবল মুখ বদলের কথা বলে, কিন্তু তাদের আদর্শগত অবস্থান তৃণমূলের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। তৃণমূলের লোকেরাই কাল বিজেপি হবে—কাজেই সেখানে কোনো নীতিগত পরিবর্তন আশা করা বৃথা। আমাদের প্রয়োজন একটি সম্পূর্ণ আদর্শগত বদল। একটি প্রগতিশীল সরকার, যা শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং একই সাথে পুঁজি ও বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করবে।
পশ্চিমবঙ্গকে আবার গর্বের জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হলে তোলাবাজি মুক্ত, শিল্প-বান্ধব এবং কর্মসংস্থান-কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সৎ প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এক বছরের মধ্যেই রাজ্যের এই দিশাহীন যুবক-যুবতীদের মনে আশার আলো জ্বালানো সম্ভব। বাংলার মানুষ আজ সেই নতুন ভোরের অপেক্ষায়। প্রকাশের তারিখ: ১০-এপ্রিল-২০২৬ |
© কপিরাইট ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) - পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
|