স্বাধীন ভারতে কমিউনিস্ট পার্টির উপর থেকে হাইকোর্টের রায়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয় আজ

৪৭ সালে দেশভাগের সাথেই ভারত স্বাধীন হল। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন প্রফুল্ল চন্দ্র ঘোষ। রাজ্যের সর্বত্র জনরোষ ক্রমশ চরম আকার নিচ্ছে, হরতাল - আইন অমান্য চলছে। কংগ্রেসী রাজ্য সরকার জনগণের অসন্তোষ নিরসন করতে না পেরে আইনের শাসনের নামে পুলিশি রাজত্ব কায়েম করে।

নতুন বিধানসভায় আইন পাশ হল ওয়েস্ট বেঙ্গল স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট। কার্যত ১৯১৫ সালের ডিফেন্স অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট আইনকেই নতুন কায়দায় প্রয়োগ করা হল।

এই আইনে যে কোনরকম জমায়েতকেই বেআইনি হিসাবে চিহ্নিত হত, যে কোনো ব্যক্তিকেই ৬মাস অবধি বিনা বিচারে আটক রাখা যেত। আইনের শাসন বজায় রাখার অজুহাতে যেকোনো পুলিশি নিপিড়ন মান্যতা পেত।


এমন নিবর্তন মূলক আইনের বিরুদ্ধে সর্বত্র প্রতিবাদ হয়, বিধানসভায় তখন কমিউনিস্ট পার্টির দুজন প্রতিনিধি। জ্যোতি বসু এবং রতনলাল ব্রাক্ষণ। জ্যোতি বসু স্পষ্ট জানান এই আইন প্রবর্তনের মধ্যে দিয়ে সরকার কার্যত পুলিশি নির্যাতনকে আইনানুগ করে তুলতে চাইছে, সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায় বলেই এই আইনের ব্যবহার করতে চাইছে। ৪৮সালে ওয়েস্ট বেঙ্গল সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স নিয়ে আসে রাজ্য সরকার। পুরানো আইনে "যথার্থ অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার" করতে হত, নতুন অর্ডিন্যান্স সেটুকু সুযোগও দিল না। কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যকে 'উপদ্রুত এলাকা' হিসাবে চিহ্নিত করলে ডা: বিধান চন্দ্র রায় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে এলেন।


আইন প্রবর্তনের পরেই ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়, সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অভিযোগে স্বাধীন দেশে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।


এই পরিস্থিতিতে ১৯৪৯ সালে উপযুক্ত মজুরি এবং উপযুক্ত কাজের পরিবেশের দাবিতে রেলওয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন। এই আন্দোলন সরকারের বুক কাঁপিয়ে দেয়। তখন অল ইন্ডিয়া রেলওয়েমেনস ফেডারেশনের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি জ্যোতি বসু।

কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম থেকেই এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে আক্রমণের পথ নেয়, ততদিনে স্বাধীন ভারতের সরকারও সর্বত্র কমিউনিজমের ভুত দেখছে। ফেডারেশনের ১১৮ জন নেতৃত্বকে গ্রেফতার করা হল, সংগঠনের সোশ্যালিস্ট অংশ তখন সরকারের সাথে আপোষ পথে হাঁটতে শুরু করেছে, কমিউনিস্টরা শেষ অবধি লড়াই জারী রাখার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন। একইসাথে জেলার ভিতরে এবং বাইরে লড়াই জারী থাকে, স্ট্রাইক ভাঙতে সরকার তখন নিজেদের বাহিনী এবং পুলিশকে যথেচ্ছ ক্ষমতা প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, রেলওয়ে শ্রমিকদের ইউনিয়নে কমিউনিস্টদের প্রভাব কমানো। নিপীড়ন সেই লক্ষ্যেই।

১৯৫০ সালে স্বাধীন ভারতের সংবিধান প্রণীত হয়। ১৯৫১ সালের ৫ই জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে কমিউনিস্ট পার্টির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

সেই ইতিহাসের ৭১ বছর আজ।


শেয়ার করুন

উত্তর দিন