মোদি- বেনারস, করিডর আর ভাতরাজ্য

কোন পথ প্রশস্ত হল ?

Gautam-Roy

গৌতম রায়

বছর শেষ হলেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার ভোট।সেটা শেষ হতে না হতেই ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের ঢাকে কার্যত কাঠি পড়ে যাবে।তাই গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবিরের কাছে এখন উত্তরপ্রদেশে ' উন্নয়নে' র জোয়ার আনার প্রাণপণ চেষ্টা।' উন্নয়ন'কেই সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার, নাকি হিন্দুত্ব- মেরুকরণের পালে আরো জোরদার বাতাস দেওয়াটা জরুরি- সেই সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না আর এস এস।ফলে ভোটকে সামনে রেখে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির এই দুটি পর্যায়কেই সমান তালে গুরুত্ব দিয়ে চলেছে।

আসন্ন ভোটকে কেন্দ্র করে আর এস এস তার রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে দিয়ে যে কসমেটিক ডেভলপমেন্টকে তুলে ধরছে, সেই তথাকথিত উন্নয়ন যে সংখ্যাগুরুর সাম্প্রদায়িকতার পর্ব অতিক্রম করে ' সংখ্যাগুরুর আধিপত্যবাদে' যুগে প্রবেশের পরে বিভাজনের ফর্মুলার বাইরে কোনো ' উন্নয়ন' হচ্ছে-- এমনটা মনে করবার আদৌ কোনো কারণ নেই।

পশ্চিমবঙ্গে ' উন্নয়ন'কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে তাঁর নিজের নাম আর ভাবমুর্তির সঙ্গে মিলিয়ে মিশিয়ে মিক্সচার বানিয়ে দিয়েছেন, ঠিক সেই আদলেই চলে বিজেপি। কিন্তু সেই চলাটা মোদি- অজয় বিশওয়াত , ওরফে স্বঘোষিত ' যোগী' আদিত্যনাথের ইমেজ বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি আর এস এস রাজনৈতিক হিন্দুত্ব আর মুসলমান বিদ্বেষের যে রাজনীতি, সেই রাজনীতির ভিত্তিকে আরো প্রসারিত করাই ছিল সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মমতার রাজনীতির একমাত্র মূলধন হল , ব্যক্তিসর্বস্বতা। যেহেতু মমতার রাজনীতির এক এবং একমাত্র গতিমুখ ছিল বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করে প্রগতির আভরণে সুসজ্জিতা অথচ সবরকম ভাবে প্রতিক্রিয়াশীল মমতাকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করা, তাই তাঁর রাজনীতির কোনো আর্থ- সামাজিক- রাজনৈতিক দর্শনের প্রয়োজন নেই। মমতা কিন্তু একটাবারের জন্যেও ভাবেন না, নিজের রাজনৈতিক ভাবনা কি ভেবে ব্যক্তি মমতার অনুপস্থিতির পর বজায়  থাকবে। তিনি যতোই পরিবারতন্ত্রের দিকে ঝুকুন না, ব্যক্তির ইমেজ, তাঁর বায়োলজিকাল উপস্থিতিকাল পর্যন্তই টিকে থাকে। মর্মান্তিক ভাবে নিহত ইন্দিরা গান্ধীর ইমেজ কংগ্রেস সম্বল করে '৮৫ র লোকসভা ভোটে জেতে। যদি এমন হতো, শ্রীমতী গান্ধীর মর্মান্তিক মৃত্যুর দু বছর বা তিন বছর পর লোকসভার ভোট হতো- দু- তিন বছর ধরে ইন্দিরা আবেগ জিইয়ে রেখে , কংগ্রেসের অতো ভালো ফল কিন্তু সম্ভবপর হতো না।

বিজেপির রাজনীতিটা কিন্তু এই ধারাতে চলে না। যতো ক্ষতিকারকই হোক না কেন, একটা মতাদর্শ তাদের আছে। হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী আদর্শকে মুলধন করেই আর এস এস তার রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপিকে হাজির করেছে রাজনীতির ময়দানে। তাই ব্যক্তি অটলবিহারী বা নরেন্দ্র মোদিকে তুলে ধরে সাময়িক কিছু সুফল ভোট রাজনীতিতে পেলেও তাদের মূল লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি ফসল ঘরে তোলা। সেই উদ্দেশেই বাজপেয়ী জামানার হিন্দুত্বকে তারা আজ যেনতেনপ্রকারেন সংখ্যাগুরুর আধিপত্যবাদে পরিণত করেছে।

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের জমি সংক্রান্ত রায়দানের পর সুপ্রিম কোর্টের  সেই সময়ের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের মদ্যপান জনিত উদযাপনের খবর বিভিন্ন খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছে। এই যে স্বয়ং বিচারপতির একটা রাজনৈতিক অভিমুখে পরিচালিত হয়ে রায়দানের অভিযোগ ওঠা - এই পরিবেশ রচনার ক্ষেত্রেও আর এস এসের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির একটা বড় ভূমিকা আছে।ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ এবং বেশ কিছু রাজনৈতিক দল যে রঞ্জন গগৈয়ের বাবরি মসজিদের জমি সংক্রান্ত রায়দানের পর সেটির উদযাপনে মদ্যপানের খবর সংবাদপত্রে প্রকাশের পর ও নীরব থাকা- এটি ও আর এস এস - বিজেপির হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের প্রসার থেকে তৈরি হওয়া পরিবেশেরই জের। অবিজেপি , অবাম রাজনৈতিক দলগুলি মনে করছে যে, রঞ্জন গগৈ এর এই রায়দানের পরের উদযাপনের বিষয়টি ঘিরে বেশি হইচই করলে গোটা ব্যাপারটা হিন্দু সেন্টিমেন্টের বিরুদ্ধেই যাবে। ফলে হিন্দু ভোট আরও বেশি পরিমাণে সংহত হবে বিজেপির দিকে।প্রগলভ মমতার ও রঞ্জন গগৈয়ের খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর হিমশীতল নীরবতার এই একটিই মাত্র কারণ।

এই পরিবেশ তৈরির কৃতিত্বকেই সম্বল করে বিজেপিকে আগামী উত্তরপ্রদেশ ভোটে বৈতরণী পার করিয়ে দিতে চায় আর এস এস। তারপরের পরিস্থিতি বুঝে উন্নয়ন না হিন্দুত্ব, নাকি দুটোকেই সমানতালে গুরুত্ব দেওয়া হবে '২৪ সালের ভোটে , সে সম্পর্কে স্থির সিদ্ধান্তে আসবে সঙ্ঘ। তবে আপাতত তারা উন্নয়ন আর হিন্দুত্ব , ভায়া মেরুকরণের দিকেই সবথেকে বেশি নজর দিয়েছে।আর এই কাজে আর এস এস কে আড়াল থেকে শক্তি জোগাতে সবরকমের প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছেন সঙ্ঘের সবথেকে নির্ভরযোগ্য অদৃশ্যমান বন্ধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।মমতা সঙ্ঘকে ভরসা দেওয়ৃর ক্ষেত্রে এখন একা ' রামে' র উপর ভরসা না করে,' সুগ্রীব' অর্থাৎ, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল কেও সঙ্গী করেছেন। গোয়ার আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস , এমন কি এন সি পি ভাঙিয়েও সেই রাজ্যে তৃণমূলের যে শাখা খুলেছেন মমতা, সেই শাখার সঙ্গে ভোট বোঝাপড়ার কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ভুলে গেলে চলবে না, যে শারদ পাওয়ারকে পাশে বসিয়ে মমতা তথাকথিত বিজেপি বিরোধী জোটের কথা বলছেন, আবদার জুড়ছেন, সেই জোট হবে কংগ্রেস বর্জিত, দয়াকরে যদি মমতা সেই জোটে কংগ্রেসকে থাকতে দেনও , কংগ্রেসের নেতৃত্ব ,নৈব নৈব চ। গোয়াতে সেই এন সি পি’র বিধায়ক ভাঙিয়েই নিজের দলভারি করছেন মমতা।

এইরকম একটা সময়েই আটশো কোটি টাকা খরচ করে নিজের নির্বাচন কেন্দ্র বারাণসীতে বিশ্বনাথ মন্দির করিডোর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।সেখানে দুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান থেকে উন্নয়ন আর হিন্দুত্বের একটা জগাখিচুরি দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা হলো। প্রচলিত ধর্মাচারে বিগ্রহের থেকে উচ্চতায় কখনো পূজারি বা আরাধনারত মানুষের বসার দস্তুর নেই। কিন্তু দেখা গেল, বিশ্বনাথ মন্দিরে আর দশজন ভক্ত বা পূজারির মতো মাটিতে বসতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিশ্বনাথের বিগ্রহের সামনে মুর্তির থেকে উচ্চতায় বড়ো একটা জলচৌকির উপর বসে, বিশ্বনাথ মন্দিরের পরম্পরার বাইরে গিয়ে পুজোপাঠ করলেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।এতোকাল পন্ডিত নেহরু থেকে পি ভি নরসিংহ রাও- যাঁরা পূজার্চনার জন্যে বিশ্বনাথ মন্দিরে গিয়েছেন, তাঁরা কেউ ই কিন্তু আজ পর্যন্ত দেববিগ্রহের থেকে উচ্চতায় বড়ো কোনো আসনে বসে বিশ্বনাথ মন্দিরে পূজার্চনা করেন নি। বিজেপি মোদিকে ব্যতিক্রমী দেখাতে গিয়ে বিশ্বনাথ মন্দিরের প্রচলিত পরম্পরাকেও ভেঙে খান খান করে দিলো।

 উন্নয়ন আর হিন্দুত্বের মিশেলে এই বিশ্বনাথ মন্দির করিডরের নামে মোদি- যোগীর যৌথ আস্ফালনে যে ব্যাপক উচ্ছেদ ঘটলো সে সম্পর্কে কি করিডর উদ্বোধন কালে মোদি একটা শব্দ ও উচ্চারণ করলেন? উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সেই উচ্ছেদ হওয়া ছোট ছোট ব্যবসায়ী, যাঁরা বংশ পরম্পরাগত ভাবে বিশ্বনাথ মন্দিরে যাওয়ার পথে ' বিশ্বনাথের গলি' তে ছোট ছোট দোকানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেইসব মানুষদের জীবন- জীবিকা সম্পর্কে মোদি কি বললেন? অপ্রশস্ত কিন্তু ঐতিহ্যশালী ওই গলিটির দুইপাশ জুড়ে ছিল শতাব্দী প্রাচীন হাজার হাজার বাড়ি। সেইসব বাড়ির মানুষেরা ওই গলিটিকে ঘিরেই অন্নসংস্থান করতেন। মন্দির লাগোয়া ওইসব বাড়িতে দেশের দূর দূর প্রান্ত থেকে আসা মানুষেরা থাকতেন। এ থেকে ওই বাড়ার বাসিন্দাদের অন্নসংস্থান ও হতো।

যে আলঙ্কারিক উন্নয়নের সঙ্গে সমষ্টির কোনো সংযোগ নেই, আছে কেবল ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারের উদগ্র আহ্বান- সেই উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে ভোটের স্বার্থে, আর সেই উন্নয়নের ফলে বাসস্থান থেকে শুরু করে রোজগার- সব হারাচ্ছে সাধারণ গরীবগুর্বো মানুষ। উন্নয়নের নামে যে উচ্ছেদ হচ্ছে, সেখানেও দেখা যাচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার ভয়ঙ্কর থাবা।উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের ভিতরে যাঁরা ধর্ম পরিচয়ে ' হিন্দু' তাঁদের পুনর্বাসন ঘিরে আদিত্যনাথের প্রশাসন কিছু টা হলেও যত্নবান।যদিও সাবেক বিশ্বনাথ গলি থেকে উচ্ছেদ হওয়া ছোট ছোট দোকানদারদের যেসব আধুনিক মলে পুনর্বাসিত করা হয়েছে, সেইসব মলে ওই ধরণের দোকানে কয়জন ক্রেতা আসবে- তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দোকানদারেরা যথেষ্ট চিন্তিত।তাঁরা যে ধরণের মণিহারি জিনিষপত্র বেচতেন বা পূজার্চনার সামগ্রী বেচতেন, সেইসব জিনিষপত্রের ক্রেতা ছিলেন গোটা ভারত থেকে আসা তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকেরা। সাধারণতঃ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের মানুষেরাই ছিলেন ক্রেতা।মন্দির যাতায়াতের পথে , দেখেশুনে, যাচাই করে ওই সব ছোট ছোট দোকান থেকে তাঁরা জিনিষ কিনতেন।

এইসব মানুষদের মন্দির চত্ত্বর থেকে অনেকটা দূরে যে মলে এইসব দোকানিদের পুনর্বাসিত করা হয়েছে, সেই জায়গাতে আকর্ষিত করতে পারা যাবে তো? নরেন্দ্র মোদির করিডর উদ্বোধনের জাঁকজমকের ভিতরেও সাধারণ মানুষ, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের নাগরিকদের কাছে এখন এটাই সবথেকে বড়ো প্রশ্ন।

কেবল যে বিশ্বনাথের গলি কে ধ্বংস করেই এই করিডর তৈরি হয়েছে, তা তো নয়।বিশ্বনাথ গলির পূর্বদিকের কেশরী গলি, কেশরী হোটেল নামের একটি বহু প্রাচীন হোটেল থেকে যে গলির নামকরণ, সেই গলিকেও গ্রাস করেছে এই করিডর।দশাশ্বমৃদ ঘাটের আশেপাশের বহু বাড়ি, ছোট ছোট হোটেল, তার মধ্যে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিবিজড়িত,' দশাশ্বমেধ লজ' ও, যেখানে হয়েছিল ' জয়বাবা ফেলুনাথে'র শুটিং- সেইসব ঐতিহ্য ও এখন ' উন্নয়ন' আর ' হিন্দুত্বে' র মিশেলের গর্ভে।

করিডর তৈরির জন্যে যে উচ্ছেদ হয়েছে, তাতে বেশ কিছু দোকানের মালিক, যাঁরা ধর্ম পরিচয়ে মুসলমান, তাদের পুনর্বাসনের আদৌ কোনো ব্যবস্থা হয় নি। গত কয়েক বছর ধরে, এই করিডর নির্মাণকালে উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারদের সামান্য হলেও কিছু আর্থিক সহায়তা উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। এই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম সাম্প্রদায়িক বিভাজন করেছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার। যেসব দোকানদারেরা ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলমান, তাদের মেলে নি কোনো রকমের আর্থিক সহায়তা। পুনর্বাসনের সময়েও তাঁরা প্রশাসনের কোনো রকম বিবেচনার ভিতরে আসে নি।

বেনারসে দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটা ধারাবাহিক ঐতিহ্য আছে। সেই পরম্পরা তে কখনো চাপান- উতোর দেখতে পাওয়া গেলেও একদম এক সম্প্রদায় অপর সম্প্রদায়ের মুখ দেখবেন না- এমন পরিস্থিতি বেনারসে আজ পর্যন্ত কোনো দিন তৈরি হয় নি। হিন্দু- মুসলমান নির্বিশেষে আজ ও সেখানকার মানুষ সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করে ওস্তাদ বিসমিল্লা খান কে। বিসমিল্লা খান যেমন ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির সেই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে সানাই বাজিয়েছিলেন, তেমনিই তিনি অশুভ শক্তির লোকেরা সম্প্রীতি নষ্টের লক্ষ্যে বেনারসের সঙ্কটমোচন মন্দিরে বিস্ফোরণ ঘটানোয়, জীবনের শেষ জন্মদিনে কোনো আড়ম্বর পালন করেন নি ওস্তাদ বিসমিল্লা খান।

এমন ঐতিহ্যপূর্ণ শহরের প্রসিদ্ধ দেবালয়ে প্রবেশের মুখে বিশ্বনাথের গলিতে নানা রাজনৈতিক চাপ সহ্য করেও যে দুই একটি মুসলমান সহনাগরিকের মালিকানার দোকান ছিল, যা চিরন্তন ভারতের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার কাছে তুলে ধরছিল, সেইসব দোকানের মালিকদের সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক কারণে আদিত্যনাথের সরকারের কোনো পুনর্বাসনের জন্যে জায়গা দেয় নি। এইসব মানুষেরা সংখ্যাগুরুর আধিপত্যে আজ এতোটাই কোনঠাসা অবস্থায় রয়েছেন যে, কেবলমাত্র ধর্ম পরিচয়ের কারণে তাঁদের প্রতি এই যে বঞ্চনা, তাঁদের ভাতে মেরে বেনারস ছাড়া  করবার এই যে সূক্ষ্ম আর এস এসীয় রাজনৈতিক কৌশল, এ সম্পর্কে ভয়ে তাঁরা বাইরে মুখ পর্যন্ত খুলতে পারছে না।মিডিয়া র সামনে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে।কারণ, আর এস এসের তরফ থেকে তাঁদের কে শাসিয়ে রাখা হয়েছে যে, কোনো কথা প্রচারমাধ্যমের সামনে বললে, তাঁদের ' জিনা হারাম' করে দেওয়া হবে।

এই অবস্থার উপরে দাঁড়িয়েই কিন্তু ইতিহাসের মৃত্যু ঘটিয়ে স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী করিডর উদ্বোধনের কালে আওরঙ্গজেব'কে শিবাজী কি ভাবে শায়েস্তা করতে পারতেন- তার কল্পকাহিনি শুনিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসের নামে , মাসীর যদি গোঁফ গজাতো , মাসী তবে কি মেশো হতো- গোছের গল্প শোনান- তখনই বুঝতে হবে, আসন্ন রাজনৈতিক সঙ্কটকে অনুমান করেই প্রধানমন্ত্রী এখন দিশেহারা। কৃষক আন্দোলনের জেরে গোটা গোবলয়ের এখন যা সামাজিক পরিস্থিতি, তাতে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, হিন্দুত্বের বটিকা আর এস এস- বিজেপির ঘরের লোকেরারাই আর সেবন করতে চাইছেন না।রাম রাজত্ব তাঁরা কি বস্তু বুঝে গিয়েছেন। তাই এখন তাঁদের মধ্যেও 'ভাত' রাজত্বের দাবি সোচ্চার হয়ে উঠছে। আর সেই কারণেই চিন্তার ভাঁজ আর এস এস নেতাদের কপালে।

*মতামত লেখকের নিজস্ব


শেয়ার করুন

উত্তর দিন