"কিছু মানুষ থাকেন যারা বিক্রি হয়ে যান না!" - গোদাবরী পারুলেকরকে স্মরণ করে

জনগণের মধ্যে সাক্ষরতার কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। প্রকৃত অর্থেই সেই কাজ ছিল এদেশে জনশিক্ষার কর্মসূচি। সেই কাজের সাফল্যে সন্ত্রস্ত হয়ে মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বি জি খের তাকে প্রস্তাব দেন সে রাজ্যের সরকারি জনসাক্ষরতা দপ্তরের চেয়ারপার্সন হিসাবে যুক্ত হতে। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গোদাবরী জানান "There are some people yet who cannot be purchased"!

১৯০৭ সালের ১৪ই অগাস্ট, মহারাস্ট্রে তার জন্ম। তিনিই আইনশাস্ত্রে মহারাস্ট্রের প্রথম মহিলা স্নাতক। প্রথমে ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়ে ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত যোগাযোগ। তার জেরে ১৯৩২ সালে এক বছরের কারাবাস। জেল থেকে বেরিয়ে এসে প্রথমে জনসাক্ষরতার কাজে যুক্ত হওয়া, পরে ১৯৩৮ সালা নাগাদ ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে।

১৯৩৯ সালে শামরাও পারুলেকরের সাথে বিবাহ। তারা দুজনেই একসাথে যুক্ত হন কমিউনিস্ট পার্টিতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালিন যুদ্ধ বিরোধী অবস্থান আন্দোলনে যুক্ত হয়ে বোম্বাইয়ের সুতাকল শ্রমিকদের ৪০ দিন ব্যাপি ঐতিহাসিক ধর্মঘটে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন গোদাবরী। এর কিছুদিন বাদেই তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন।

১৯৪২ সাল নাগাদ জেল থেকে মুক্তি পাবার পরে গোদাবরী পারুলেকর কৃষক আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন, মহারাস্ট্র রাজ্য কিষান সভার প্রথম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন।মহারাষ্ট্রের ওয়রলি, উম্বরগাঁও, দহানু এবং পালঘর তালুকগুলিতে আদিবাসী মানুষদের সংগঠিত করে সেখানকার সামন্ত-জমিদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ভারতে আদিবাসী মানুষদের আন্দোলনের ইতিহাসে ওয়রলি'র সেই বিদ্রোহ এক কিংবদন্তি।

ভারতের স্বাধীনতা লাভের পরে দাদরা এবং নগরহাভেলি অঞ্চলকে পর্তুগিজ উপনিবেশের হাত থেকে স্বাধীন করতে গোদাবরী এবং শামরাও পারুলেকর দুজনেই সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

গোদাবরী পারুলেকর ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মারক্সবাদী)'র মহারাষ্ট্র রাজ্যের সম্পাদক, AIDWA - সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি'র কার্যকরী সভাপতি, CITU'র সহ সভাপতি'র দায়িত্ব পালন করেন।

তার সংগ্রামী জীবন আজও কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে যুক্ত হওয়া নতুন প্রজন্মের জন্য এক অবশ্যপাঠ, এক অনুপ্রেরনা।


শেয়ার করুন

উত্তর দিন