বার্ষিক ভাষণে আর এস এস প্রধানের রাজনীতি

বিজয়া দশমী ও আর এস এস'র ইতিহাস

বিজয়া দশমী হল আর এস এসের প্রতিষ্ঠা দিবস। এই প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন সরসঙ্ঘচালক , অর্থাৎ; সঙ্ঘ প্রধান সঙ্ঘকর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন।সেই বক্তৃতার ভিতর দিয়ে সঙ্ঘের আগামী একবছরের কার্যক্রমের যাবতীয় দিকনির্দেশ সঙ্ঘপ্রধান করে থাকেন।সঙ্ঘের দিক নির্দেশ বলতে কিন্তু কেবলমাত্র আর এস এসের দিক নির্দেশ তিনি করেন না। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল, রাষ্ট্রীয় সেবিকা সমিতি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ, মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চ, বনবাসী কল্যাণ আশ্রম ইত্যাদির সাথে তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির ও দিক নির্দেশ সরসঙ্ঘচালক করেন। সঙ্ঘ প্রধানের বিজয়া দশমীর দিন দেওয়া দিকনির্দেশবাহী এই বার্ষিক বক্তৃতা নরেন্দ্র মোদি র নেতৃত্বে বিজেপি এককভাবে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবার পর সরকারি প্রচার মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হচ্ছে। সরকারী প্রচার মাধ্যমে দেখানোর কারণেই হয়তো বেসরকারী গণমাধ্যমগুলিও বর্তমান আর এস এস প্রধান মোহন ভাগবতের বিজয়া দশমীতে দেওয়া বক্তৃতা সরাসরি সম্প্রচার করে।

বিজয়া দশমীতে সঙ্ঘের গতিমুখ নির্দেশকারী বক্তৃতা সাড়ম্বরে তখনই প্রচারিত হচ্ছে, যখন ভারত হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার গন্ডি অতিক্রম করে সংখ্যাগুরু আধিপত্যের সামাজিক গন্ডীর ভিতরে চলে এসেছে। সংখ্যাগুরুর আধিপত্যবাদ কায়েমের এই সময়কালে সরসঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত তার বক্তৃতায় তুলে এনেছেন জনসংখ্যা ঘিরে তাদের বস্তাবচা ধ্যানধারণাগুলিকেই।গত প্রায় সত্তর বছরের ও বেশি সময়, অর্থাৎ; স্বাধিনতার পর থেকেই এইসব কথা আর এস এস বলে চলেছে।সেই কথাগুলির মূল নির্যাস হলো; মুসলমানদের ভিতরে জনসংখ্যার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।তার উপরে একাধিক বিবাহ তাদের সমাজে জলচল। আর মুসলমান মাত্রেই সবথেকে বেশি প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন জীব। ফলে খুব সহজেই মুসলমান জনসংখ্যা হিন্দু জনসংখ্যাকে ছাপিয়ে যাবে।এই জনসংখ্যা দিয়েই মুসলমানেরা আজ, নয়তো কাল হিন্দুদের উপর সার্বিক কর্তৃত্ব কায়েম করবে।

অবিজ্ঞান যেকোনো সাম্প্রদায়িক , মৌলবাদী শক্তির সব থেকে বড়ো হাতিয়ার। অবিজ্ঞান, অপবিজ্ঞানকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারে দাবার চাল হিশেবে তুলে ধরবার ক্ষেত্রে সংখ্যাগুরু, সংখ্যালঘু উভয় মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তির ভিতরে নীতি ও পদ্ধতিগত কোনো ফারাক নেই। সন্তান উৎপাদন বা ধারণ ক্ষমতায় ধর্মের কোনো ভূমিকাই থাকে না- এই সহজ সত্যটাকে গোপন করে মানুষকে ভুল বোঝাবার যে কৌশল দীর্ঘদিন ধরে আর এস এস নিয়ে চলেছে, মোহন ভাগবতের এই বছরের বিজয়া দশমীর বক্তৃতায় তা আবার ও পরিস্কার হয়ে গেছে।তার পাশাপাশি বলতে হয়, মুসলমানদের বহু বিবাহ ঘিরে যে বস্তাপচা কথা গুলো সঙ্ঘ বলে থাকে, জনগণনার তথ্য ই হিন্দুত্ববাদীদের সেই দাবির অসারতা প্রমাণ করে।তাহলে তারপরে ও কেন বিগত সত্তর বছর ধরে বলে আসা অবৈজ্ঞানিক কথাগুলো সঙ্ঘপ্রধান বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়? গোয়েবলসের ধাঁচে এক ই মিথ্যা বছরের পর বছর পুনঃ পুনঃ উচ্চারণের ভিতর দিয়ে সেটিকে একটা সত্য হিশেবে যাতে মানুষ ভেবে নেয়, সেই মনস্তাত্ত্বিক খেলায় রয়েছে আর এস এস? নাকি, সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে সঙ্ঘের আদর্শবিরোধী যেসব অবস্থান নিতে হচ্ছে, সঙ্ঘের তথাকথিত স্বদেশি অর্থনীতি, যেগুলি ব্যবহার করে গ্রামীণ ভারতে সামন্ততন্ত্রকে বজায় রাখার চেষ্টা করে হিন্দুত্ববাদী শক্তি, সেই অবস্থানেই যে সঙ্ঘ আছে, নীতিগত কোনো পরিবর্তন তাদের ঘটে নি-- এটা বোঝাতেই বিজয়া দশমীতে বার্ষিক বক্তৃতায় সঙ্ঘ প্রধানের এহেন কথাবার্তা? 

সময়ের নিরিখে মানুষের চেতনা র ভুবনে অনেক অদলবদল ঘটেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট একজন প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ না পাওয়া মানুষের জীবনকেও কুপমুন্ডকতার দুনিয়ায় আত্মনির্বাসনের সময়ে দুবার ভাববার মতো একটা পরিমন্ডল তৈরি করে দিয়েছে।তাই গ্রামীণ ভারতে আজ ও কুসংস্কার, সামাজিক প্রতিক্রিয়াশীলতার যে সব ঘটনা আমরা দেখি, সেইসব ঘটনা সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষিতের ক্ষেত্রে বিগত বিশ, পঁচিশ বছর আগেকার প্রেক্ষিতের অনেক অদলবদল ঘটেছে। এই অদলবদলের বিষয়টা যে আর এস এস নেতৃত্ব বোঝে না- এমনটা ভাববার আদৌ কোনো কারন নেই। চল্লিশ বছর আগে তথাকথিত রামমন্দিরের উন্মাদনায় মানুষকে ওরা যতোটা মাতিয়ে দিতে পেরেছিল, আজ আর যে তা আদৌ সম্ভব নয়- এই বাস্তবতার দিকটা যে সঙ্ঘ নেতৃত্ব বোঝেন না- তা ভাববার কোনো কারন নেই।

তবে সময় পরিবর্তনের নিরিখ টিকে মাথায় রেখেই আর এস এস নাম সংগঠন টি তে একদম শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে ভূমি স্তরের একজন স্বয়ংসেবক বা প্রচারক- এদের প্রত্যেকেই মানুষের কাছে নিজেদের কথা তুলে ধরবার সময়ে কার্যত একরকম আঙ্গিকেই উপস্থাপিত করে। ১৯৪২ সালের ৫ ই ডিসেম্বর মহারাষ্ট্রের পুণেতে প্রান্তের গ্রামীণ কর্মকর্তাদের বৈঠকে গোলওয়ালকর উগ্রতা বর্জিত কথা বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন সমস্ত স্তরের সঙ্ঘকর্মীদের। কথাবার্য়তায় উগ্রতাকে,' অপূর্ণ কলসীর জল ছলকায় বেশি' বলে অভিহিত করেছিলেন গোলওয়ালকর। গঙ্গার তীরে জলে ভিতরে যে শব্দ শোনা যায় , সেই শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় যতো গঙ্গার গভীরের দিকে যাওয়া যায়- এটাই ছিল সঙ্ঘ কর্মীদের কাছে গোলওয়ালকরের নির্দেশ। লোক তাতানো উগ্র বক্তৃতার ফলে মানুষের ভিতরে চিরস্থায়ী কোনো আবেদন তৈরি হয় না। তৈরি হয় একটা সাময়িক উত্তেজনা। 

এই বিশ্লেষণের ভিতর দিয়েই গোলওয়ালকর জোর দিয়েছিলেন সঙ্ঘীয় আদলে চরিত্রের উপর কর্তৃত্ব নির্মাণের উপর। তার অভিমত ছিল যদি চরিত্র যদি কর্তৃত্ববাদী আদলে তৈরি হয়, তাহলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই সেই আদল থেকে বাক সংযমের মানসিকতা পুষ্ট হবে। তখন যদি সেই বাক সংযমী মানুষটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষ উপহাস করে, সেক্ষেত্রেও ওই মানুষটির ভিতরে কোনো রকমই ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া যাবে না।

একজন সক্রিয় সঙ্ঘকর্মীর এই বৈশিষ্ট্যগুলি ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যই তো বর্তমান সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের দেওয়া বিজয়া দশমীর বার্ষিক বক্তৃতার সুরের ভিতরেও তীব্র ভাবেই ফুটে উঠেছিল। দীর্ঘ কয়েকদশক ধরে জনসংখ্যার বিন্যাস ঘিরে যে অপবিজ্ঞানগত তত্ত্ব আর এস এস হাজির করে যাচ্ছিল, আজ তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি প্রায় নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পর এন আর সি, সি এ এ ইত্যাদি আইন বা আইনের সংশোধনীর সুযোগ নিয়ে যে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সঙ্কট এবং সংঘাতের পরিবেশ নোতুন করে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির তৈরি করছে, তার প্রেক্ষিতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির সেই পুরনো জুজু অপযুক্তির শানিত ভঙ্গিমায় তুলে ধরা কি সেই চারের দশকের সূচনাপর্বে দেওয়া গোলওয়ালকরের নির্দেশাবলীরই অনুসরণ নয়?

এমনি সময়ে আর এস এসের আচার আচরণ যাইই হোক না কেন, ভোট, বিশেষ করে লোকসভার ভোট যতো এগিয়ে আসবে, ততোই নিজের পরিবর্তনহীন জঙ্গম অবস্থানটিকেই নোতুন বোতলে পুরনো মদের মতো করে তুলে ধরতে হবে আর এস এস কে নিজেদের অস্তিত্ব রক্সির তাগিদ থেকেই।চিরযৌবনবতী থাকবার যযাতিয় ইচ্ছা থেকেই। ভাষণ সর্বস্বতা থেকে সরে এসে রাজনৈতিক হিন্দু সংস্কারের দৃঢ়তার ভিতর দিয়ে মানুষের ভিতর নিজেদের আদর্শের প্রচারের নির্দেশ দিয়েছিলেন গোলওয়ালকর।সেই পথটিই কিন্তু আর এস এস আজ পর্যন্ত অনুকরণ করে চলেছে। বালাসাহেব দেওরস থেকে শুরু করে কে এস সুদর্শন, রাজ্জু ভাইয়া বা হাল আমলের মোহন ভাগবত- কারো আমলেই এই অনুকরণ প্রবনতার অন্যথা হয় নি।

আর এস এসের যে কোনো স্তরের সভাতেই কখনো বক্তা অসংযমী বক্তৃতা করেন না।সঙ্ঘের সবস্তরের পদাধিকারী সম্পর্কেই এই কথা প্রযোজ্য।বক্তাদের উদ্দেশে গোলওয়ালকর নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন যে, "ভাষণদানে ব্যর্থ ব্যক্তি রক্তমাংসের উল্লেখের দ্বারা প্রভাব বিস্তার করতে চাইলেও পরিশেষে তাকে হাস্যাস্পদ হতে হয়।ভাষণ বা বক্তৃতা করতে হয় সরল ও শুদ্ধ ভাষায় , তবে লক্ষ্য রাখতে হয় যেসেটা যেন মানুষকে আকর্ষণকারী সংযমপূর্ণ ভাষা হয়।"( শ্রী গুরুজী সমগ্র। প্রথম খন্ড। প্রকাশক - ভারতীয় সংস্কৃতি ট্রাস্ট। পৃষ্ঠা-১৬) ।

সঙ্ঘীর্মীদের প্রতি গোলওয়ালকরের এই দিক নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে যে প্রশ্নটা বড়ো হয়ে দেখা দেয়; মানুষের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার কালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিগত নির্বাচনের সময়কালে কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  এই নির্দেশিকা মেনে চলেন নি? তিনি যেভাবে বিরোধী রাজনীতির লোকেদের উদ্দেশে ব্যক্তি আক্রমণাত্মক , ব্যঙ্গার্থক অনুভূতি সম্পন্ন ভাষা এবং ভঙ্গিমা গত বিধানসভা ভোটের সময়ে প্রায় গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে করেছেন, সেটি তো সঙ্ঘের নির্দেশিকার সঙ্গে একদম ই সাযুজ্যপূর্ণ নয়। মোদির ওই ধরণের আচরণ তো বিজেপির প্রতি সাধারণ ভোটারদের একটা বড়ো অংশ কে দূরে ঠেলে দিয়েছে।তাহলে কেন মোদি অমনটা করলেন? প্রধানমন্ত্রী মোদি তো সঙ্ঘ ঘরানার মানুষ।আর এস এসের প্রচারক হিশেবে সঙ্ঘের নিজস্ব সংস্কৃতি ঘিরে তো যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ব্যক্তিত্ব নরেন্দ্র মোদি।তা স্বত্ত্বেও গৌলওয়ালকর নির্ধারিত লক্ষণরেখা কেন তিনি অতিক্রম করলেন? কেন ই বা মোদির থেকে ও শিষ্টাচারের লক্ষণরেখাকে আরো চারগুণ অতিক্রম করেছিলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক শাখার তৎকালীন সম্পাদক দিলীপ ঘোষ? তিনি যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণ করেছিলেন, সেই আক্রমণ কি বিজেপির প্রতি মানুষকে আরো বেশি করে বিরক্তি উদ্রেকে সহায়ক হয় নি?

এইসব প্রশ্নেরই উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আর এস এসের প্রতিষ্ঠাদিবস বিজয়া দশমী উপলক্ষে সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তৃতার ভিতরেই। ভোট রাজনীতিতে নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপির অবস্থান ঘিরে আর এস এস যে কখনোই নিজেদের সামাজিক আবরণের আড়ালে রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং অস্তিত্ব থেকে দূরে সরে যাবে না- মুসলিম জনসংখ্যা ঘিরে নিজেদের বস্তাপচা অবস্থান কে চাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে মোহন ভাগবতের বক্তৃতার ভিতর দিয়েই তা পরিস্কার হয়ে গেল। 

গোলওয়ালকর যখন এই নির্দেশিকা জারি করেছিল তখন দেশ ছিল পরাধীন।সেই পরাধীন দেশে সশস্ত্র উপায়ে ব্রিটিশকে তাড়ানোর যাঁরা পক্ষপাতী ছিলেন , তাঁদের উদ্দেশে গোলওয়ালকরের  নির্দেশ ছিল;" তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।...তাদের পথ আমাদের পছন্দ নয়।" (ঐ পৃষ্ঠা-১৭) । কাকোরি যড়যন্ত্র মামলার সঙ্গে যুক্ত বিপ্লবীদের' কাপুরুষ' বলে অভিহিত করতেও গোলওয়ালকরের হাত কাঁপে নি (ঐ)। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা ,সশস্ত্র গণ অভ্যুত্থানের ধারা ঘিরে হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবিরের এই যে নেতিবাচক অবস্থান , সেই অবস্থানে তারা কিন্তু এখন ও এতোটুকু সরে আসে নি।জাতীয় আন্দোলনকালে ব্রিটিশকে সুরক্ষিত রাখবার পক্ষে ই ছিল হিন্দু সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শক্তির অবস্থান।আজ ও ভারতের স্বাধীনতা যুদ্ধের এই চরমপন্থীরা ধারা সম্পর্কে অসম্মানজনক , অমর্যাদাকর কথা বলাই হিন্দুত্ববাদীদের দস্তুর থেকে গিয়েছে। এইবার (২০২১) বিজয়া দশমীতে জনসংখ্যা ঘিরে মোহন ভাগবতের বক্তৃতার ভিতর দিয়ে এইটা পরিস্কার যে , মুসলমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটা আজগুবি তত্ত্বকে আর এস এস আগামী লোকসভা ভোট কে সামনে রেখে আবার রাজনীতির অঙ্গনে তীব্র করে তুলবে। আগামী বছরের (২০২২) গোড়ার দিকে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, ত্রিপুরা সহ পাঁচটি রাজ্যের ভোট। সেই ভোটের দিকেই পাখির চোখ করে ইতিমধ্যেই স্বঘোষিত 'যোগী' আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশে  জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নাম করে জরুরি অবস্থার সময়কালে সঞ্জয় গান্ধীর 'নসবন্দি'র যুগ ফিরিয়ে আনতে চাইছে। মূল লক্ষ্য কিন্তু সেই মুসলমান সমাজ ই।আধুনিক বিজ্ঞানমুখী শিক্ষার ভিতর দিয়ে মুসলমান সমাজ ই কেবলনয়, অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা জাতি- ধর্ম- বর্ণ- ভাষা নির্বিশেষে সব মানুষদের ভিতরে জনসংখ্যার চাপ জনিত বিপদ ঘিরে সচেতনতার তৈরির কোনো পথে তো কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি হাঁটছে না। বিজ্ঞানমুখী কোনো পথ ধরে হাঁটাটা কোনো সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী শিবিরেরই রেওয়াজ নয়। তাদের লক্ষ্য হল; বিজ্ঞানকে বিকৃতভাবে মানুষের সামনে মেলে ধরা।আর সেই বিকৃতির সুযোগ নিয়ে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ঘটানো। সেই রাজনৈতিক লক্ষ্যেই আর এস এসের প্রতিষ্ঠা দিবস, বিজয়া দশমীর দিন সঙ্ঘ কর্মীদের উদ্দেশে বলা প্রতিটি বাক্যকে প্রয়োগ করেছেন মোহন ভাগবত।

Gautam-Roy

গৌতম রায়

*মতামত লেখকের ব্যাক্তিগত


শেয়ার করুন

উত্তর দিন