ইকবালের সৃষ্টি প্রসঙ্গে

মহাকবি ইকবাল( ১৮৭৭, ৯ ই নভেম্বর- ১৯৩৮, ২১ শে এপ্রিল) বিশ শতকের ভারতীয় প্রতিভার এক বিস্ময়।১৯২৪ সালে তাঁর উর্দু কাব্যগ্রন্থ ' বাঙ্গ ই দরা' ,যার বাংলা করে হয় ' ঘন্টাধ্বনি' , তাঁকে আত্মনিবেদিত একজন জাতীয়তাবাদী ভারতবাসী হিশেবে আমাদের সামনে তুলে ধরে।এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ' হিমালা' , ' তস্ ওঈর ই দর্দ( ব্যথার চিত্র) , 'নয়া শিওআলা' , ' হিন্দুস্থানী বাচ্চোঁকা কৌমগীত, ,'তারানা ই হিন্দ' ইত্যাদির কবিতার ভিতর দিয়ে ইকবাল স্বদেশপ্রেম এবং দেশের প্রতি আত্মনিবেদনের যে কাকুতি জানিয়িছেন, সেটিই তাঁর জীবনচর্চার অন্যতম প্রধান উপপাদ্য বিষয়।         

মহাকবি ' রুমি'র ' মস্ নবী' ছন্দ কে আত্মস্থ করে এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলিতে যে দার্শনিক বার্তা ইকবাল দিয়েছেন, তাতে অনেকেই ফরাসী দার্শনিক বার্গসঁ এবং জার্মান দার্শনিক নিটসের প্রভাব দেখতে পান। এর পাশাপাশি গতানুগতিকতার বাইরে ইসলামকে একটা মানবিক দৃষ্টিতে আরো বেশি করে উপস্থাপিত করার চেষ্টা এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলির ভিতর দিয়ে মহাকবি ইকবালের ভিতরে লক্ষ্য করতে পারা যায়। সেই গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে সূফি তরিকার নিষ্ক্রিয়বাদকেও ইকবাল কঠোর ভাবে সমালোচনা করতে ছাড়েন নি।নিজের তাত্ত্বিক অবস্থান সম্পর্কে অধ্যাপক নিকলসন কে এই সময়ে দীর্ঘ চিঠি লিখেছিলেন ইকবাল।                     

ইকবালের চেতনায় বিচ্ছিন্নতার ধারা খুঁজতে যারা ব্যস্ত, মনে হয় তাঁরা কখনো অধ্যাপক নিকলসনের কাছে লেখা চিঠিতে ইকবাল কে আত্মোপলব্ধির কথা বলেছিলেন,সেদিকে আদৌ নজর ই দেন নি।সেই আত্মচেতনার স্ফুরণ ছিল ইকবাল রচিত বর্তমান কাব্য গ্রন্থের ছত্রে ছত্রে আছে।ইকবালের আত্মবোধে বিধিব্যবস্থার প্রতি এতোটুকু অনানুগত্যের ছায়া আমরা দেখতে পাই না।তাঁর স্বজাত্যবোধ কে হিন্দু সাম্প্রদায়িক শক্তি চিরদিন ই ইকবালের বিচ্ছিন্নতাবাদী চেতনার সমার্থক হিশেবে বিকৃতাবে মানুষের কাছে তুলে ধরতে চেয়েছে।একাংশের মানুষ ও , ইকবালের চেতনার সার্বিক দিকগুলি আনুপূর্বিক বিছার বিশ্লেষণ না করে, তাঁর একটি দুটি লেখার খন্ডিত অংশ কে ব্যবহার করে, তাঁর গায়ে বিচ্ছিন্নতার লেবেল সেঁটে দিয়েছে।মহাকবি ইকবাল কে এই ধরনের পক্ষভুক্ত করবার আগে অধ্যাপক নিকলসনকে আত্মসংযমের কথা যে ভাবে অকপটে কবি বলেছিলেন, তাঁর সমালোচকেরা সেদিকে বিন্দুমাত্র দৃষ্টি দেন নি। তার পাশাপাশি ঐশ্বরিক প্রতিনিধিত্বের প্রতি ও ছিল ইকবালের সীমাহীন আনুগত্য। এই কাব্যগ্রন্থে অকপটে ইকবাল বলছেন;   "  সমাজের সঙ্গে ব্যক্তির সম্পর্ক কল্যাণ,তার অন্তর্নিহিতগুণাবলীর পূর্ণতা সমাজ নিসৃত....-যখন ব্যক্তি লয় পায় সমাজের ভিতরে,তখন বিস্তৃতি প্রয়াসী বিন্দু ধারণ করে সিন্ধুরূপ।" অধ্যাপক আর এ নিকেলশন এই গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।বাহরাম রাঙ্গবুতি করেছিলেন ইন্দোনেশীয় ভাষায় অনুবাদ।' রমূষ - ই বেখুদি' নাম ইকবালের গ্রন্থটির ইংরাজি অনুবাদ করেছিলেন অধ্যাপক এ জে আরবেরি।                 

'পয়াম ই মশরিক' ইকবাল উৎসর্গ করেছিলেন আফগানিস্থানের ভাগ্যাহত আমির আমানুল্লাহকে।মহাকবি গ্যেটের ' West Ostlicher Divan'  ছায়া এই গ্রন্থে যথেষ্ট রয়েছে।বাংলায় এই গ্রন্থটিকে ' প্রাচ্যের বাণী' হিশেবে সম্বোধিত করা যায়। ফার্সী ভাষায় রচিত এই গ্রন্থে ইকবাল সমাজের গহিনে নিজের ভাবনাকে বিকশিত করেছেন। কবি এখানে বলছেন; ' বা-দরিয়া গলত ও বা মইজশ দর আওঈয,হয়াতে জাওয়াইদাহ্ আন্দর সতেয আস্ত।'  অর্থাৎ; " সমুদ্রে গড়াগড়ি দাও, তরঙ্গে জড়িয়ে পড়োঅনন্ত জীবনসংগ্রামের ভিতরে আছে।" এই কাব্যগ্রন্থে কি ইকবালের কন্ঠে রাজনীতির কথা শুনতে পাওয়া যায়? কবি এখানে বলছেন; " গুরেষ আয তর্ য ই যমহুরী গুলাম ই - পুখ্ তাকার শওকে আয মগ্ য - ই - দো সদ খর ফিক্ র - ই- ইনসানী নমী আয়দা।" অর্থাৎ; - গণতন্ত্র থেকে পলায়ন কর, বিজ্ঞ কর্মীর দাস হও।কারন, দুশ গাধার মগজ থেকে মানুষের মত চিন্তা আসে না।" গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দোহাই দিয়ে , শাসক যখন স্বৈরাচারের পথে পা বাড়ানোর উপক্রম করে, তখন বিজিত গণতন্ত্র যে দুশ গাধার মগজের সন্মিলিত রাসভ ভিন্ন আর কিছু হতে পারে না, বিশ শতকের গোড়ার দিকেই তা অত্যন্ত পরিস্কার করে মহাকবি ইকবাল বলে গেছেন।আজ যখন ভারতের গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার যূপকাষ্ঠে দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য , পরম্পরা, মানবতা, ধর্মনিরপেক্ষতা সহ সব শুভ বোধগুলিকেই বিসর্জন দিতে চলেছে, তখন বার বার আমাদের কাছে একটা ভিন্ন অর্থবাহী হয়ে উঠে আসে মহাকবি ইকবালের এই উক্তি।এখানেই দীপ্ত ভঙ্গিতে কবি বলছেন; ' প্রেম কখনো , কোনো কাপুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না,মরা তিতির পাখির দিকে ফিরেও তাকায় না আকাশের বাজপাখি।' প্রখ্যাত ভাষাবিদ ডঃ আবদুল ওয়াহব , ইকবালের এই গ্রন্থটি আরবী ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন।ডঃ হেল , ডুস্তেচে রাস্সু, ডঃ ফিশার, ডঃ হাসমিগ  প্রমুখ প্রাচ্যবিদেরা নানা পর্যায়ে ইকবালের এই গ্রন্থের বিভিন্ন কবিতা অনুবাদ করেছেন ।কবিতাগুলি সম্পর্কে অত্যন্ত উচ্চমানের আলোচনাও করেছেন।সাবেক সোভিয়েট ইউনিয়ন থেকে এই কাব্যগ্রন্থটি রুশ ভাষাতে অনুদিত ও হয়েছে।তুর্কি ভাষাতে এটির অনুবাদ করেন ডঃ আলি গাঞ্জেলি।এই গ্রন্থটি সম্পর্কে তুর্কি ভাষার বিশিষ্ট্য আলোচক হুসাইন দানিশ তুর্কি ভাষাতে এটির দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন।তিনি এই কাব্য গ্রন্থের বেশ কিছু কবিতার অনুবাদ ও করেছিলেন।                    বিশ্বনাগরিক , কবি অমিয় চক্রবর্তী, মহাকবি ইকবাল সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিভার অরুণপর্বে কিভাবে ইকবাল সর্বভারতীয় কবি হিশেবে নিজের শ্রদ্ধাপূর্ণ আসনটি অর্জন করে নিয়েছিলেন , তার সপ্রশংস উল্লেখের ভিতর দিয়ে নিজের ইকবাল সম্পর্কে মূল্যায়ণ শুরু করেছেন( ইকবাল কাব্যের নতুন প্রসঙ্গ- অমিয় চক্রবর্তী) ।বেদমন্ত্রের পরশ আর পবিত্র কোরানের আজান , যেন গীতধ্যয়নের পর প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করছে।সেই প্রকোষ্ঠ সুসজ্জিত মন্দির- মসজিদে।সেখানে ঠাঁই আছে এক ই সাথে শিখ সন্ত, সূফী দরবেশ আর ব্রাহ্মণ পন্ডিতের।এঁদের সকলের সন্মিলিত আবেদনে তৈরি হল মহাকবি ইকবালের গীতকবিতার সুন্দর আসনখানি-- এটিই হল কবি ইকবাল এবং তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব, তথা বাংলার বুকে ব্যক্তি ইকবালের সাথে পরিচিত হয়ে তাঁকে নিয়ে কবি অমিয় চক্রবর্তীর মূল্যায়ণ।             

মহাকবি ইকবাল সম্পর্কে কবি অমিয় চক্রবর্তীর কাছে একটি দুর্লভ স্মৃতিচারণ শোনার সৌভাগ্য নিবন্ধকারের হয়েছিল।ইকবাল, অমিয়বাবুকে বলেছিলেন, তাঁর প্রথম কবিতার বইতে তিনি যে ভূমিকা লিখেছিলেন,  সেখানে শ্রেষ্ঠ প্রেরণার অর্ঘ্য নিবেদন করা হয়েছিল শ্রীমদভগবদ্ গীতার উদ্দেশে।কার সম্বন্ধে কবিতা লেখেন নি মহাকবি ইকবাল? স্বামী রামতীর্থ কে নিয়ে তাঁর লেখা কবিতা ভারতীয় কাব্য সাহিত্যের ইতিহাসে একটি রত্ন।শিখগুরু নানক সম্বন্ধে ইকবালের অসামান্য কবিতা আছে।মুসলমান সন্ত সাধকদের ঘিরে তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা নির্ভর কবিতাগুলি পড়লে আমাদের আজ ও শিহরণ জাগে। অমিয় বাবু ই বলেছিলেন, ভগবদ্গীতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যে কবিতাটি তিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থে সঙ্কলিত  করেছিলেন, সেটি তিনি মৌলবীদের আক্রমণে পরবর্তী সঙ্করণে রাখতে পারেন নি বলে তাঁর কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।অমিয় চক্রবর্তী র সৌভাগ্য হয়েছিল, আজমগড়ের লাইব্রেরিতে সেই কাব্যগ্রন্থের প্রথম সংস্করণ টি দেখার এবং সেটির কপি ও তিনি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এই গটনার উল্লেখ করে অমিয় চক্রবর্তীকে পর্যন্ত মহাকবি ইকবাল অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বলেছিলেন,' ইকবাল বেঁচে নেই।ইকবাল মৃত।' অমিয় চক্রবর্তী তখন কবি ইকবালের কাছে প্রত্যাশা জাগিয়েছিলেন যে, তিনি দীর্ঘ জীবনযাপন করে আবার ' সত্য' পরিচয়ে উদ্ভাষিত হয়ে উঠবেন। জীবনসায়হ্নে ইকবালের সর্বভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনঃস্থাপিত হওয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গেই অমিয় চক্রবর্তী উল্লেখ করেছেন।ইকবালের সাথে প্রতাযক্ষ সংযোগ খুব নিবিড় না হলেও ,প্রথম জীবনের সমন্বয়ী চেতনায় জীবনসায়হ্নে তিনি যে আবার টিটম্বুর হয়ে উঠেছেন এটি কামালউদ্দিন খান থেকে ভাষাচার্য ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ মুক্তকন্ঠে স্বীকার করেছেন।সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ইকবালের ' জাওঈদ- নামা' র অনুবাদ করেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ।তবে সেই অনুবাদে কবির মানসলোকের সুলুকসন্ধানের প্রচেষ্টা অমিয় চক্রবর্তীদের মতো , চোখে পড়ে না।             

আমাদের মনে রাখতে হবে, বহুক্ষেত্রেই প্রতিভা কেবলমাত্র নিজের পেটটুকু চালানোর জন্যে কোনো না কোনো রাষ্ট্রিক দলের কাছে অনেক সময়ে নিজের পেটটুকুকে পর্যন্ত বন্ধক রাখেন।অমিয় চক্রবর্তী বলেছিলেন, মহাকবি ইকবাল তাঁকে বলেছিলেন যে তিনি দলের কাছে( পড়ুন মুসলীম লীগ) রোজকার পেটচালানোর জন্যে আপাদমস্তক বিক্রীত, নির্ভরশীল। ইকবাল অমিয় বাবুকে পরিস্কার বলেছিলেন যে, দলকে তিনি জানিয়েছেন, দলের মতবাদে তিনি বিশ্বাসী নন।তিনি একজন কবি। দলপতি জিন্না তাঁকে বলেছিলেন; তোমার বিশ্বাস চাই না।তোমার নাম চাই। 

এরপর ই দুঃখে, হতাশায় ইকবাল বলেছিলেন; ইকবাল বেঁচে নেই।ইকবাল মৃত।আজকের নোতুন প্রজন্মের দরকার , ইতিহাসের বিস্মৃতির আড়াল খুঁড়ে , রক্ত- মাংসের ইকবালকে অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করা।আজ গোটা উপমহাদেশ জুড়ে ধর্মান্ধ মৌলবাদের বিপদে অতীতের মতোই , ইসলামীয় মৌলবাদীরা আবার নোতুন করে ইকবাল কে ব্যবহার করে প্যান ইসলামের ধারাকে পুষ্ট করতে চাইতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলামের যে বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে, তার পিছনে যে ভারতের সংখ্যাগুরু হিন্দু মৌলবাদীদের একটা বড়ো অংশের তীব্র সমর্থন আছে, তা আর এখন আলাদা করে বলবার দরকার নেই। প্রগতিশীলতার ছদ্মবেশধারী এই ভয়ঙ্কর ইসলামীয় মৌলবাদী শক্তি র প্রতি শ্রেণী সখ্যতার কারনেই ভারতে ক্ষমতাসীন হিন্দু মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তি, আর এস এস- বিজেপির যথেষ্ট সখ্যতা রয়েছে। জামাত কোনঠাসা হওয়ার পর এই যে নোতুন বিপদ বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিচ্ছে খানিকটা সেদেশের ই রাষ্ট্রীয় মদতে, এইশক্তিগুলিও আমাদের জাতীয় আন্দোলনের কালে, তিন- চারের দশকে ইকবাল কে ঘিরে যে টানাপোড়েন শুরু করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি যে করবে না , অদূরভবিষৎতে, তা কখনোই এখন আর হলফ করে বলতে পারা যায় না।ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার কিছুকাল আগে ইন্দো- বাংলা একটি সরকারি পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বিজেপি নেতা অমিত শাহ এবং বাংলাদেশের পারথম সারির আঈনজীবী তথা মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল ছিলেন। তিনি অমিত শাহ কে বলেছিলেন, তাঁদের বিশ্বাস, সাম্প্রদায়িকতার ইস্যুতে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ইন্দো বাংলির সম্পর্কের ভিতর দূরত্ব তৈরি হবে।অমিত শাহ সেদিন উত্তর দিয়েছিলেন, দূরত্ব নয় ,নৈকট্য তৈরি হবে।হেফাজত প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানের পর কিন্তু অমিত শাহের ভবিষৎবাণী ই বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।এইসব প্রেক্ষিতেই মহাকবি ইকবালের চর্চা সম্যক ভাবে আমাদের জন্যে খুব ই জরুরি।

নিবন্ধকারঃ গৌতম রায়


শেয়ার করুন

উত্তর দিন