নেলসন ম্যান্ডেলা - সংগ্রামের অপর নাম

শুধুমাত্র ১০৩ তম জন্মদিবস বলেই নয়, নেলসন ম্যান্ডেলাকে স্মরণ করতে হয় বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বা আরো স্পষ্ট করে বলতে হলে এই পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষের উপরে অন্য মানুষেরই (যারা সংখ্যায় কম) চাপিয়ে দেওয়া নিপীড়ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এক অবিচল সংগ্রামী সৈনিক হিসেবে। এই লড়াইয়ে সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই যা প্রকৃতিবিরুদ্ধ। নিপীড়নকারী এই ব্যবস্থার প্রকৃতি ইতিহাসের এক এক বাঁকে, ভৌগলিক সীমানা স্থানভেদে বিভিন্ন রূপে তীব্রতা পেয়েছে - মোটের উপর শোষণের গোড়ার করার কথাটা একই রয়ে গেছে। কালো চামড়ার মানুষদের উপরে সাদা চামড়ার মানুষদের চাপিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা সেই সেই মূল নিপীড়ক ব্যবস্থা থেকে মোটেই আলাদা নয়। বরং একে আলাদা করে বিচার করা ই হবে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ভ্রান্তি। তার নিজের মধ্যেও সংগ্রামের শুরুর দিকে এই ধরনের কিছু ভ্রান্তি ছিল। কালো চামড়ার মানুষদের মুক্তির লড়াই কে সারা পৃথিবীর মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের থেকে আলাদা করে দেখার মনোভাব তারও ছিল একসময়। পরে এই বিপ্লবী যখন শাসকের হাতে গ্রেফতার হচ্ছেন তখন তিনি দক্ষিণ আমেরিকার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য - ততদিনে তার চেতনায় মার্কসবাদ সমাজতন্ত্র এবং দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের দার্শনিক মর্মবস্তু সম্পর্কে গভীর শ্রদ্ধা এবং আস্থা দৃঢ় হয়েছে।
সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে বহু অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের দুনিয়াজোড়া সংগঠিত রাজনৈতিক অভ্যাসে এমন প্রচেষ্টাও হচ্ছে যাতে আজকের প্রজন্ম নেলসন ম্যান্ডেলাকে তার কমিউনিস্ট পরিচয়ের থেকে আলাদা করে দেখতে শেখে।
তাই সেই ঘৃণার রাজনীতিকে আরো একবার পরাস্ত করতে আমাদের নেলসন ম্যান্ডেলাকে আরো বেশি করে স্মরণে রাখতে হবে। স্মরণে রাখতে হবে তার সংগ্রামী জীবন এবং সেই জীবনের সংগ্রামী ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার কে।
মুনাফালোভী রাজনীতি চিরকালের মতো এখনো চাইবে যাতে সবাই সত্যিটুকু ভুলে যায়। মনে রাখতে হবে নেলসন ম্যান্ডেলার উত্তরাধিকার দেশ মহাদেশের সীমানা পেরিয়ে সুদূর আফ্রিকা থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত সমানভাবে প্রযোজ্য সেদিনও ছিল, এখনো আছে।

শেয়ার করুন

উত্তর দিন