Chaplin In Great Dictator 1

"I Am For People. I Can't Help It." স্যর চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন স্মরনে

মানুষের হৃদয়ে শিল্পীর জন্য কতটা জায়গা থাকে? সেই জায়গা ঠিক কতটা সাফল্যের শিখরে পৌঁছলে তবে মেলে? এসবের মাপকাঠি ঠিক করতে বাজার-মুনাফা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা হয়ত টাকার অংকে, বিলাস-বাহুল্যের পরিমানের খতিয়ান পেশ করে যুক্তি হাজির করবে। কিন্তু সত্যি হল এই স্যর চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন সময়ের বাধা পেরিয়ে আজও মানুষের মনে নিজের জন্য ভালবাসার - শ্রদ্ধার জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন কারণ তিনি নিজের কাজে মানুষকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

"শিল্পের জন্য শিল্প" বলে লোক ঠকানো পসরা না সাজিয়ে সরাসরি সত্যি কথাটা তুলে ধরেছেন বারে বারে, শিল্পই হোক আর যা কিছুই হোক না কেন শেষ অবধি সব কিছুরই লক্ষ্য, উদ্দেশ্য মানুষ।

Image Source: https://www.charliechaplin.com

মানুষের উপরে শোষণ, বঞ্চনা, অবিচার - অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজের প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন সিনেমাকে। সেই চলচ্চিত্র পর্দায় যতবার নাড়াচাড়া করেছে মানুষ কেঁপে উঠেছেন, নড়ে উঠেছেন। শাসকের চোখে চোখ রেখে সত্যি কথাটুকু সরাসরি বলে আসলে সেই শাসকের অহংকারকেই শ্লেষ, বিদ্রুপ এবং সর্বোপরি তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে ফালাফালা করে দিয়েছেন। দুর্বোধ্যপ্রিয়জনেরা বলতে পারেন শিল্পের ভাষা, তার ব্যঞ্জনা এইসব নিয়ে - কিন্তু আসল কথাটুকু আদ্যন্ত মজার মোড়কে মানুষের স্বার্থে এক সাধারণ মানুষের মুখ দিয়েই দ্য গ্রেট ডিক্টেটর সিনেমায় চ্যাপলিন বলে গেছেন "Dictators free themselves but they enslave the people! Now let us fight to fulfil that promise! Let us fight to free the world - to do away with national barriers - to do away with greed, with hate and intolerance. Let us fight for a world of reason, a world where science and progress will lead to all men’s happiness. Soldiers! in the name of democracy, let us all unite!"

Image Source: https://www.charliechaplin.com

১৮৮৯ সালে লন্ডনে জন্ম হয় চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিনের, আজকের দিনেই - ১৬ এপ্রিল। দশ বছর বয়সে পিতার মৃত্যুর পরে পারিবারিক অনটনের মোকাবিলায় নিজের ছোট ভাই সিডনিকে সাথে নিয়ে যুক্ত হন "দ্য এইট ল্যাঙ্কাশায়ার ল্যাডস" নামের একটি দলে, পারফরমিং আর্টে সেই তার প্রথম পদচারনা। সেখানে বিশাল জনপ্রিয়তা লাভ করে বার বছর বয়সে "বিলি" চরিত্রে মঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ - শেষে ফ্রেড কার্নো রেপার্টোরি কোম্পানির হাত ধরে ১৯১০ সালে আমেরিকায় যাওয়া। ১৯১৭ সালে নিজেই স্বাধীনভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথম ছবি "আ ডগ'স লাইফ"। ১৯২১ সালে প্রকাশিত সাড়াজাগানো সিনেমা "দ্য কিড", ১৯২৫ সালে "দ্য গোল্ড রাশ", ১৯২৮ সালে "দ্য সার্কাস" এবং ১৯৩১'এ "সিটি লাইটস"।

Image Source: https://www.charliechaplin.com

১৯৩৬ সালে "মডার্ন টাইমস" মুক্তি পায়। ক্যাপিটালিজম বা পুঁজিবাদ সভ্যতার উন্নয়নের নামে যন্ত্রব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কতরকম উপায়ে আসলে অসভ্যতা করে সেই কাহিনীই এই ছবির মূল বিষয়। একই সাথে এই ছবি তার অভিনীত প্রথম সবাক ছবি।

Image Source: https://www.charliechaplin.com

১৯৪০ সালে তার সবচেয়ে সাড়াজাগানো ছবি "দ্য গ্রেট ডিক্টেটর" মুক্তি পায়, ছবিতে সরাসরি ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপে হিটলার এবং ফ্যাসিবাদের রাজনীতিকে দুমড়ে মুচড়ে দেন। ঐ দশকের শেষের দিকে আমেরিকায় কমিউনিস্ট আতংকের জন্ম হয়, চ্যাপলিনও সেই জঘন্য সরকারি ফতোয়ার কবলে পড়েন এবং ১৯৫২ সালে আমেরিকা ত্যাগ করে চলে যান।

Image Source: https://www.charliechaplin.com

এই পর্বে এবং তার পরে "মসিয়েঁ ভার্দ্যু"(১৯৪৭), "লাইমলাইট" (১৯৫২) ", "আ কিং ইন নিউইয়র্ক (১৯৫৭) এবং ১৯৬৬ সালে নিজের প্রযোজনায় শেষ ছবি তৈরি করেন " আ কাউন্টেস ফ্রম হংকং"।

Image Source: https://www.charliechaplin.com

সিনেমা ছাড়াও সাহিত্য, সঙ্গীত এবং খেলা নিয়ে চ্যাপলিনের আগ্রহ এবং দক্ষতা দুইই ছিল। শেষ জীবন সুইৎজারল্যান্ডে কাটান নিজের স্ত্রী উনা ও'নিল'র সাথে। ১৯৭৭ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

কিছু কিছু জীবন মহাজীবনে উত্তির্ন হবার জন্য কোন সুপারিশ অথবা সরকারি পারিতোষিকের মুখাপেক্ষি হয় না কখনো। স্যর চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন এমনই এক মহাজীবনের নাম।

Image Source: https://www.charliechaplin.com

শেয়ার করুন

উত্তর দিন