মুক্তিযুদ্ধে আলোর দিশারী হো চি মিন

ওয়েবডেস্ক প্রতিবেদন

হো চি মিন - একটি বিপ্লবী উত্তরাধিকার

তাকে সারা পৃথিবীতে চাচা হো বলে ডাকা হয় - সেই ডাকেই তার মত এবং পথের প্রতি শ্রদ্ধা, সমর্থন জানান মানুষ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকেই ফরাসী উপনিবেশের মধ্যে নিপীড়িত দেশগুলির অন্যতম ছিল ভিয়েতনাম। বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সেনাবাহিনীতে ভিয়েতনামের মানুষদের যুক্ত হবার কথা বলে ফ্রান্স, পরে অবশ্য সেই অঙ্গীকার পালন করতে তারা সরাসরি অস্বীকার ও করেছিল। হো চি মিন তখন ফ্রান্সেই ছিলেন - ভিয়েতনামের মুক্তির লড়াইয়ের নেতৃত্ব হিসাবে তার নাম ইতিমধ্যেই প্রচার হয়ে গেছিল।

১৮৯০ সালে ভিয়েতনামের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে তার জন্ম হয়, জন্মসুত্রে নাম ছিল নগুয়েন সিনহ কাং। একসময় শিক্ষকতার কাজেও যুক্ত হয়েছিলেন, পরে জাহাজে রাঁধুনির কাজ নিয়ে ফ্রান্সে চলে যান। ততদিনে জাতয় মুক্তির সংগ্রামে জয়ের স্বপ্ন তার চোখে ভরে উঠেছে। অনেক লড়াইয়ের পরেও সাফল্য আসেনা, অক্লান্ত পরিশ্রমে খোঁজ নিতে থাকেন কোন মতে, কোন পথে দেশের মুক্তি, দেশের মানুষের মুক্তি সম্ভব। এই সময়েই তার হাতে আসে লেনিনের লেখা বিভিন্ন দেশে জাতিগুলির আত্মনির্ধারণের প্রশ্ন ( The Right of Nations To Self Determination) বইটি। হো উপলব্ধি করেন তার বহু প্রতীক্ষিত পথ লেনিন লিখে গেছেন। সংগ্রামের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

১৯২১ সালে, প্যারিসে থাকার সময় হো চি মিন

ভিয়েতনাম ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ গঠন করেন - এই সংগঠনের সদস্যদেরই ভিয়েতমিন বলা হত। নগুয়েন সিনহ কাং নতুন নাম গ্রহণ করলেন - হো চি মিন, এই নামের অর্থ 'আলোর দিশারী'। এর আগে ফ্রান্সে থাকাকালীন তার নাম ছিল নগুয়েন আই কুয়ক -অর্থ দেশপ্রেমিক নগুয়েন।

১৯২৩ সালে কমিন্টার্নে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন, সেখানে বিপ্লবী শিক্ষায় প্রশিক্ষন লাভ করেন। সেখান থেকে চলে যান চীনে, সেই দেশে আশ্রিত বিপ্লবীদের একত্রিত করে ইন্দোচীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিশ্বযুদ্ধ শেষের দিকে - এমন সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট চার্লস দ্য গল আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্র্যুম্যান'কে সাবধান করে বলেন যদি ফ্রান্স যুদ্ধশেষে নিজের উপনিবেশগুলি পুনরায় কব্জা না করে তবে সেগুলি কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাবে।

জওহরলাল নেহরু এবং হো চি মিন, হ্যানয়তে - ১৯৫৪ সাল

সেই সাবধানবানী মাথায় রেখেই ১৯৪৬ সালে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী আবার একবার ভিয়েতনামে ঢোকে, একইসময় হো চি মিন'ও দেশে ফিরে আসেন - স্বাধীনতার লড়াইকে সফল করতে, মুক্তির যুদ্ধ শেষ করতে।

মুক্তির লড়াই সফল হয়েছিল। যদিও জেনিভা শান্তি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখনকার মতো ভিয়েতনামের দক্ষিণ অংশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দখলে রয়ে যায়, স্বাধীনতা পায় উত্তর ভিয়েতনাম -আজকের দিনে সেই উত্তর ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন হো চি মিন। ১৯৫০ সালে মাও সে তুং'ই সবার প্রথমে ভিয়েতনামকে স্বাধীন দেশের স্বীকৃতি দেন।

১৯৫৭ সাল, পূর্ব জার্মানি সফরে হো চি মিন

আজও সারা পৃথিবীতে এবং আরও বিশেষ করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ভিয়েতনামের লড়াই, ভিয়েতমিনদের জনসাধারনের জন্য লড়াই এক আলোকবর্তিকা।

সেই লড়াইয়ের নেতা ছিলেন হো চি মিন - সেই নামের অর্থ আজও মনে রাখার মতোই, "আলোর দিশারী"।

অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক অজয় ঘোষ, জওহরলাল নেহরু এবং হো চি মিন

ওয়েবডেস্কের পক্ষে - সৌভিক ঘোষ


শেয়ার করুন

উত্তর দিন