বাংলা ও বাঙালি মনীষার নব উন্মেষে অধ্যাপক ডঃ আহমদ শরীফের ঐতিহাসিক অবদান

শতবর্ষে আহমদ শরীফ

Gautam-Roy

গৌতম রায়

ডঃ আহমদ শরীফ

বাঙালি মনীষার এক দীপ্ত প্রত্যয় আহমদ শরীফের (১৯২১,১৩ই ডিসেম্বর-১৯৯,২৪ শে ফেব্রুয়ারি)জন্মের শতবর্ষ পূর্ণ হলো। চিরন্তন বাঙালি সংস্কৃতির সম্যক চর্চার যে ধারাবাহিকতা উনিশ শতকে শুরু হয়েছিল, অধ্যাপক আহমদ শরীফ ছিলেন তার বিশ শতকের একজন সার্থক উত্তরসূরী ।মনীষী আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের  চিন্তাচেতনার একজন সার্থক  ধারাবাহিক উত্তরসূরি হিসেবে আহমেদ শরীফ  বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের  জীবন সংস্কৃতি  চর্চার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অবদান রেখে গেছেন। সেইসঙ্গে গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজবিজ্ঞান সম্পৃক্ত একটি মননশীলতার যে পরিচয়  তিনি তাঁর গোটা জীবন ব্যাপী রেখে গিয়েছেন , দেশকালের সীমা অতিক্রম করে তা  গোটা মানব জাতিকে আরো বহু অন্ধকারে পথ চলবার আলো দেখাবে।                    

আপাদমস্তক সংস্কারমুক্ত একজন মানুষ ছিলেন আহমদ শরীফ। তাঁর  সংস্কারমুক্ত মনকে নাস্তিকতা  হিসেবে ধরে নিয়ে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি কম আক্রমণ তাঁকে করেনি। কিন্তু কখনো কোনো চাপের কাছে আহমদ শরীফ এতোটুকু নতি স্বীকার করেননি। আবার বাজারচলতি চটুল কথাবার্তা ভেতর দিয়ে , তসলিমা নাসরিনের মত সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের পথেও তিনি  একবারের জন্য হাঁটেননি। তাই বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী শক্তি ক্ষমতাসীন থেকেছে , তখন রাষ্ট্রীয় মদদে সেখানকার ধর্মান্ধ মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তি আহমদ শরীফের উপর  ভয়ংকর মানসিক  অত্যাচার করেছে। আমরা এপার বাংলার মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা জানতে পারিনি ,কারণ ; এখানকার খবরে কাগজ গুলি আহমদ শরীফের মত আত্মনিবেদিত মৌলবাদবিরোধী মানুষদের খবর  'কমোডিটি ' হিসেবে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি ,তাই তুলে ধরে নি।                

আহমদ  শরিফ  যেভাবে তাঁর মৃত্যুর পর মরণোত্তর চক্ষুদানের উইল করে গিয়ে নিজের সংস্কার বিধি  মুক্ত, আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত মনের পরিচয় রেখে গিয়েছেন,  তা সেইসময়ের বাংলাদেশ এক দুর্লভ বস্তু ছিল। আহমদ শরীফ কিছুটা একরোখা ,বেপরোয়া ধরনের মানুষ ছিলেন। তাঁর এই  এক রোখা চরিত্রের কারণে  চিন্তা পরিমণ্ডলে তাঁর সঙ্গে বহু মানুষের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তেমন দূরত্বের একটি মজাদার ঘটনার সাক্ষী থাকার অভিজ্ঞতা বর্তমান নিবন্ধকারের আছে।                  

যুবক আহমদ শরীফ, পিছনেই ভাষাচার্য ডঃ শহীদুল্লাহ

১৯৯৬  সালের ডিসেম্বর মাস, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের রজত জয়ন্তী বর্ষ , প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আমন্ত্রণে উনিশ শতকের  নবজাগরণের শেষ প্রতিনিধি অন্নদাশঙ্কর রায় গিয়েছেন ঢাকায়। উঠেছেন সেই সময়ের শেরাটন, আজ আবার ফিরে এসেছে পুরনো  নাম নিয়ে, সেই  ইন্টারকন্টিনেন্টালে। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলের ভিতরে একটা বড় অংশের  আহমদ শরীফ ঘিরে  এই ধারণায় প্রচলিত ছিল যে, তিনি অত্যন্ত অহংকারী, খুব একটা বেশি মানুষ জনের সঙ্গে মেশেন  না। কারো সঙ্গে নিজে এসে দেখা করা, এটা তাঁর সেই সময়ের বয়স এবং চরিত্রের সঙ্গে খানিকটা বেমানান বলেই বাংলাদেশের  বুদ্ধিজীবি মহলের  একটা বড় অংশ মনে করতেন। সেই আহমদ শরীফ অসুস্থ শরীরে নিজে চলে এলেন শেরাটনে অন্নদাশঙ্কর রায়ের সঙ্গে দেখা করবার জন্য। দীর্ঘক্ষন তাঁদের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলল। সেই আলোচনার ভিতরেই   এসে পড়েছেন জাতীয়  অধ্যাপক কবীর চৌধুরী। স কন্যা নারীকে নিয়ে তিনি এসেছেন  অন্নদাশঙ্করের কাছে।                   

'৯২ এর ২৬ শে মার্চ  গণআদালত পর্বের পর  শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জাদু কাঠির পরশে  কবীর চৌধুরী আর আহমদ শরীফের ভেতর যে ব্যক্তিত্বের সংঘাত তা অবসিত হয়েছে এটাই ছিল আমাদের ধারণা। শহীদ জননীর অসামান্য নেতৃত্তের গুনে উত্তর মেরু ,দক্ষিণ মেরু -  আহমেদ শরীফ আর কবীর চৌধুরী কিংবা বদরুদ্দীন উমর এবং শেখ হাসিনা একই মঞ্চে ঘাতক দালাল গোলাম আযমসহ  অন্যান্যদের বিচারের দাবিতে  রাজপথ মুখরিত করেছিলেন। তাই বর্তমান নিবন্ধকারের ধারণা হয়েছিল যে, আহমদ শরীফ এবং কবীর  চৌধুরীর মতো এই দুই বিদগ্ধ  ক্ষণজন্মা চিন্তকযুগলের ভেতর যে ব্যক্তিত্বের সংঘাত জনিত দূরত্ব রয়েছে , তাকে পাশে সরিয়ে আবার তাঁরা গণআদালতের দিনগুলির মতো ই বন্ধুত্বের পরিবেশে ফিরে যাবেন।                        অন্নদাশঙ্করের সঙ্গে দেখা করতে এসে কবীর  চৌধুরীর যখন শুনলেন আহমেদ শরীফ অন্নদাশঙ্করের ঘরে রয়েছেন ,তখন তিনি খানিকটা ইতস্তত বোধ করতে থাকলেন। নিবন্ধকারের ঘরে বসে তিনি বললেন,  তুমি ওখানে গিয়ে আমার আসার খবর দাও, দেখো অন্নদাশঙ্কর কি বলেন।             

কবীর চৌধুরী কে আমার ঘরে বসিয়ে পাশের ঘরে  অন্নদাশংকর কে  অধ্যাপক চৌধুরীর  আসার কথা বলতেই  আহমদ শরীফ কে দেখলাম , একটু যেন বিরক্ত সহকারে উঠে দাঁড়ালেন চলে যাওয়ার জন্য। অন্নদাশংকর তখনই কবীর চৌধুরীকে তাঁর ঘরে নিয়ে আসার কথা বলাতে আহমেদ শরীফ প্রস্থান্মুখ  হলেন ।বললেন ; আমি আর মাত্র পাঁচ  মিনিট সময় নেবো , অনানদাশঙ্করকে দুটি কথা বলবার আছে।                      

বার্তাটি যখন আমার ঘরে এসে অধ্যাপক চৌধুরী কে বললাম তিনি কিন্তু অত্যন্ত শান্তভাবে জানালেন , আহমদ শরীফের যতক্ষণ কথা বলা প্রয়োজন, উনি কথা বলুন ।আমি এই ঘরে অপেক্ষা করছি। আমার অপেক্ষা করতে কোনো অসুবিধে নেই।                 

অন্নদাশংকর কখনো কোনো  দলবাজি পছন্দ করতেন না। ফলে তাঁর কাছে রাজনীতিতেই হোক সাহিত্যেই হোক পরস্পরবিরোধী মানুষেরা নির্দ্বিধায়  কথা বলতে পারতেন ।মনের ভাবনা বিনিময় করতে পারতেন। তাই তিনি  জ্ঞানতাপস আহমদ শরীফের কবীর  চৌধুরী আসার প্রেক্ষিতে  উঠে যাওয়ার ঘটনা টিকে মন থেকে কখনোই মেনে নিতে পারেননি।                      

ইতিহাসের একখণ্ড ধারাবিবরণী হিসেবেই এই ঘটনাক্রম কে উল্লেখ করলাম  আহমদ শরীফের শতবর্ষের সামনে দাঁড়িয় ।এই যে  নিজের ভাবনায় স্থিত থাকবার জন্য সংকল্প,  কোন ক্ষেত্রে কোনরকম চাপের কাছে নতি স্বীকার করে  নিজের সংকল্প থেকে সরে না আসার যে বৈশিষ্ট্য , সেটিকে যেমন আমাদের মনে রাখা দরকার, আবার বাংলাদেশের জাতীয় সংকটের  প্রেক্ষিতে  যুদ্ধাপরাধী একাত্তরের ঘাতক-দালালদের  বিচার ও শাস্তির দাবি কে কোনো  অবস্থাতেই নিজের ব্যক্তিগত ইচ্ছে-  অনিচ্ছে মেলানো ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদিকে গুরুত্ব না দিয়ে , শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আহবানে এক কথায় সাড়া দেওয়া -- এই বৈশিষ্ট্যটি কে  কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার ।  এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই তিনি আহমেদ শরীফ এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক বাংলা তথা বাঙালির মননশীলতায়।                    

কেবলমাত্র বাংলাদেশের  ভৌগলিক সীমারেখা র মধ্যে আহমদ শরীফের মত মানুষের  সংস্কারমুক্ত আধুনিক বিজ্ঞানমুখী  চিন্তা চেতনা  এবং পাণ্ডিত্য কে বেঁধে রাখা যায় না। আহমেদ শরীফ কেবলমাত্র বাঙালির একথাও জোর করে বলা যায় না ।সার্বিকভাবে বলতে হয় ; গোটা মানবজাতির মুক্তিকামী এক মহান পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি । মধ্যকালীন বাংলার আর্থ- সামাজিক-  ধর্মীয় -সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক  ধারাভাষ্য কে বিজ্ঞানসম্মত, আবেগ শূন্য, এক গভীর মননশীলতার ভেতর দিয়ে তুলে ধরে  মধ্যযুগ ঘিরে যে অনৈতিহাসিক চিন্তা ভাবনা ,তাকে  সজোরে আঘাত করেছিলেন তিনি।  মধ্যযুগ ঘিরে যে নেতিবাচক  ভাবমূর্তি  ধারাবাহিকভাবে বাংলা মনীষাকে আচ্ছন্ন করেছিল,  সেই আচ্ছন্নতার চাদর কে সরিয়ে  , প্রকৃত সত্যকে উপস্থাপিত করার ভেতর দিয়ে  সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ,মৌলবাদের বিরুদ্ধে আহমদ শরীফের যে লড়াই,   সমাজের কৌনিক  পটভূমিকা কে অতিক্রম করে ,রাজনৈতিক পরিমণ্ডল কে ব্যক্ত করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সংগ্রামকে উজ্জীবিত করেছে এটা জোরের সঙ্গে তুলে ধরেছিলেন আহমদ শরীফ।             

কাজী নজরুলের শুশ্রষারত ডঃ আহমদ শরীফ

বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন, রামমোহন ,বঙ্কিমচন্দ্র ,রবীন্দ্রনাথ ,নজরুল, সুকান্ত থেকে শুরু করে। দৌলত উজির বাহরাম খান আলাওয়াল ,কাজী দৌলত,  সৈয়দ সুলতান মোহাম্মদ খান প্রমুখের ধারাবাহিকতা কিভাবে উনিশ শতকের নবজাগরণ বহন করেছে , তার অনুপুঙ্খ বিবরণ ও বিশ্লেষণ উপস্থাপনার ভিতর দিয়ে আহমদ শরীফ সামগ্রিকভাবে বাঙালি সমাজের এক পরম কৃতজ্ঞতা ভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন।                

প্রগতি প্রতিক্রিয়ার দ্বন্দ্বকে তিনি  অনুভব করেছেন , বিচার করেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন ,সিদ্ধান্তে এসেছেন। কিন্তু  সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কখনোই প্রগতি শিবিরের বাইরে নিজের অবস্থানকে রাখেননি। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে আহমদ শরীফের কোন আস্থা ছিল না। যুক্তির বাইরে ,ভাবাবেগকে আশ্রয় করে,  কেবলমাত্র বিশ্বাসকে অবলম্বন করে, কোনো সিদ্ধান্তে আসার মত মানুষ আহমেদ শরীফ কখনো ছিলেন না।            

তাঁর নিজের লেখায় আমরা পাই;  আমাদের পুরনো কথায় ফিরে যেতে হবে। ভাষা হচ্ছে ভাবের বাহন ,আনুষঙ্গিক ভাব থাকলে ভাষা আপনি আসে। ভাব ও ভাষা আধেয় আধার সম্পর্ক। আধারের পরিবর্তনে আদিও আকৃতি বদলায়। প্রকৃতি হারায় না । অতএব ভাষা গৌণ ভাবি মুখ্য উক্তির সার্থকতা। ইসলামের ইতিহাসে  নবলব্ধ ইসলামী ধ্যান-ধারণার প্রভাবে ,আরবি ভাষা পরিবর্তন করে এভাবেই আগুন পূজা হয় । কিন্তু  ইসলামের মৌল বিষয়গুলোর ও নিজেদের ভাষায় তরজমা হলো ।তাতে আরবের আল্লাহ সালাত সিয়াম ও জান্নাত শব্দগুলো খোদা নামাজ-রোজা ফেরেশতা ও বেহেস্ত হয়ে গেল । এমনি হয়। মাতৃভাষায় তরজমা না হলে কোন কথায় কোন ভাব  নাই । সেগুলি মনের কথা প্রাণের কথা হয়ে ওঠে না। তাই তরজমার প্রয়োজন ও আয়োজন ।সেই কারণেই  ইসলামী ভাষা বলে স্বীকৃত আরবি ইরানীয় উর্দু ভাষায় লিখিত কিতাব তথাকথিত হিন্দুর ভাষা বাংলায় অনুবাদের প্রয়াস আমরা করি ।কেননা আমরা জানতে চাই ।বুঝতে চাই ।আমরা রচনা করি ।কারণ , আমরা নিজেদের জানাতে চাই ।বোঝাতে চাই ।অতএব আমাদের শ্রদ্ধেয় ইসলামী ভাষাতে আমাদের অভিপ্রায় পূর্ণ হয়না উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় না ।তাই জাতির ভাষা বলে মেনে নিয়েও পবিত্র ইসলামের বাণী মুসলিম মনীষার ফসল নাপাক মাতৃভাষার মাধ্যমে পেতে চাই,  নইলে হৃদয় নাচে না ।আমাদের উদ্দেশ্য ইসলামের বাণী পবিত্র রাখা নয়। মাতৃভাষার মাধ্যমে পরিপাক করা। ইসলামের কথা এক্ষেত্রে নিরর্থক--  এভাবেই আহমদ শরীফ  অনেকটা সৈয়দ মুজতবা আলীর মতো  মনীষা আর ব্যাঙ্গের  মিশ্রণের ভেতর দিয়ে নিজের  যুক্তিনিষ্ঠ ভাবনাকে মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন।                  

এই যুক্তিবোধের দ্বারা কোন বিষয়কে উপস্থাপনের দিকটি মৌলবাদীদের পক্ষে হৃদয়াঙ্গম করা সম্ভব নয়। মৌলবাদীদের না আছে হৃদয়, না মস্তিষ্ক। একটি বারের জন্য পবিত্র ইসলাম সম্বন্ধে এততুকু নিয়ে অসম্মান অমর্যাদাকর কথা না বলেও কিভাবে ইসলামের ঐতিহাসিক অবদান মানব সমাজের উপরে পড়ছে ,বিশেষ করে বাঙালি সমাজের উপর পড়ছে, তার অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণের ভিতর দিয়ে আহমেদ শরীফ কিন্তু দেখিয়েছেন , সভ্যতার আধুনিক আধুনিক দিকনির্দেশক ক্ষেত্রে পবিত্র ইসলাম কতখানি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে।              

এই প্রেক্ষিতটিকে মনে রেখে কিন্তু আমাদের  বাংলা ও বাঙালি মনীষার নব উন্মেষে অধ্যাপক আহমদ শরীফের ঐতিহাসিক অবদানের কথা বুঝতে হবে। আমরা রেনেশিঁস  দীপ্ত জাগ্রত জাতি। আমদের  তো দুর্বল হওয়ার কথা নয়। তাহলে আমাদের বল কৃষি আমাদের ভয় কাকে ?  আমরা তো দুর্বল নই ।আমাদের তো দেবার নেবার পালা শুরু হলো এ যুগে। মানুষ বাণিজ্যে পিছিয়ে পড়লে কিংবা তারা চলতে না পারলে ,আমাদের জান নিয়ে টানাটানি পড়বে ।তাতে যদি বাঁচিয়ে মন কে চলতে পারি জিতব।না পারি  হারাবো। আর কে না জানে মন  হারানোর চাইতেও ক্ষতিকর, নির্ভীকতা উদারতা কে হারানো।  মমতা মুখর  জিজ্ঞাসা, কর্মনিষ্ঠ চিন্তাভাবনার প্রবাহমানতা ,আমরা জাতির  আত্মপ্রতিষ্ঠা নিয়োগ করবো। ব্যাক্তি আমাদের আদর্শ ও উদ্দেশ্য এবং আত্মসংযম উজ্জ্বলতা আত্মপ্রচারে প্রকৃত কাম্য। এটাই ছিল তাঁর চিন্তার নির্যাস।             

বাঙালির আত্ম সংকোচন ঘিরে  চিরদিন অত্যন্ত যন্ত্রণা অনুভব করেছিলেন আহমেদ শরীফ। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে বরাবরই প্রত্যাশা করেছেন একটা নির্ভীক হৃদয়ের কথা। ঔদার্য ভাবনার  প্রত্যাশা করছিল নবীন প্রজন্মের প্রতি। নতুন ছেলেমেয়েদের মুখরতাকে তিনি কখনোই। বাচালতা  বলে এড়িয়ে যান নি। তাদের জিজ্ঞাসার প্রতি যথাযথ সম্মান মর্যাদা দেওয়ার প্রশ্ন আহমেদ শরীফ ছিলেন কিন্তু আমৃত্যু আত্মনিবেদিত। তাই তিনি আত্ম ব্যাপ্তির  সাধনার ভেতরে নিজেকে চিরদিন ব্যক্ত রেখেছিলেন। এই ব্যক্তির সম্যক  বিকাশেই হচ্ছে আজ জন্মশতবর্ষে আহমদ শরীফের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়। 


শেয়ার করুন

উত্তর দিন