রিক্ত হল বাংলার সাংস্কৃতিক জগৎ

২১ এপ্রিল,বুধবার,২০২১

চলে গেলেন শঙ্খ ঘোষ।মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। নববর্ষের প্রাক্কালে তাঁর কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ আসে। দীর্ঘদিন ধরেই বার্দ্ধক্যজনিত অসুস্থতাতেও ভুগছিলেন এই সাহিত্যিক। তিনি হোম আইসোলেশানে ছিলেন ১৪ এপ্রিল থেকে। শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য বাড়িতেই ভেন্টিলেশানে তাঁকে রাখা হয়; কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রেখে গেলেন জীবনানন্দোত্তর যুগের শ্রেষ্ঠতম বহু সাহিত্যকর্ম।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়,আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার কাজে তিনি যুক্ত ছিলেন।

 ‘দিনগুলি রাতগুলি’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ হিসেবেও তাঁর প্রসিদ্ধি সর্বজনবিদিত। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শঙ্খ ঘোষ। ১৯৭৭ সালে ‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থটির জন্য তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান। গিড়িশ কাড়নাডের নাটক ‘রক্তকল্যাণ’ কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদ করেও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান তিনি ১৯৯৯ সালে।এ ছাড়াও রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১১ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। 'হয়বদন' সহ অন্যান্য বহু অবাংলা ভারতীয় ভাষার সাহিত্যের বঙ্গানুবাদেও তিনি ছিলেন সাবলীল।

সাহিত্যিকের কাজ কেবলই শিল্পসৃষ্টি নয়। সাহিত্যিক একজন সচেতন , রাজনৈতিক মানুষ। শঙ্খ ঘোষ ছিলেন তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব। বছর দুয়েক আগে ‘মাটি’ নামের একটি কবিতায় কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধেও গর্জে উঠেছিল তাঁর কলম।

চলে গেলেন শঙ্খ , রয়ে গেল তাঁর সৃষ্ট অমূল্য সাহিত্য যা প্রজন্মান্তরের পাঠকেরও বিস্ময় উদ্রেক করবে।


শেয়ার করুন

উত্তর দিন