সংখ্যাগুরু আধিপত্যবাদী শক্তি আজ দেশ শাসন করছে

উন্নয়নের নামে সাম্প্রদায়িকতাকে আড়াল করছে কেন্দ্র

Gautam-Roy

গৌতম রায়

সংসদের সদ্য সমাপ্ত বাদল অধিবেশনটিকে সরকার পক্ষ যে ভাবে পরিচালিত করলেন তাতে এটা পরিস্কার হয়ে গেল যে আগামী বছরের (২০২২) ফেব্রুয়ারি- মার্চ নাগাদ  উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখন্ড, পাঞ্জাব , মণিপুর এবং গোয়া বিধানসভার ভোট হতে চলেছে - সেটিই এখন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সবথেকে বড়ো মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯ শে জুলাই ('২১) সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছিল।আচমকাই অধিবেশন স্থগিত ও করে দেওয়া হয়।যে কয়দিন সংসদের উভয়কক্ষের অধিবেশন বসেছিল, সে কয়দিন সংসদের ভিতরে ও বাইরে কেন্দ্রীয় সরকার তথা শাসক দলের আচরণ দেখে এটাই মনে হয়েছিল যে, কোভিড -১৯ এবং তার আগে এন আর সি, সি এ এ এবং কোভিডের ভিতরেই কৃষি আইন সংশোধন ঘিরে গোটা দেশের রাজনৈতিক , বিশেষ করে অর্থনৈতিক যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটার থেকে বের হয়ে আসার লক্ষ্যেই শাসক শিবির সংসদ কে ব্যবহার করে চলেছে।

অতিমারি আর লক ডাউনের কারণে দেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।গতবছর ('২০) অপরিকল্পিত লক ডাউনের জেরে গোটা দেশেই যে অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে তা সামলাতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আজ পর্যন্ত একটি ও গঠনমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নি। পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যাগুলি ঘিরে কেন্দ্রের গাছাড়া মানসিকতা অর্থনৈতিক সঙ্কটকে একটা ভয়াবহ জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। খোদ সংসদের ভিতরেও পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘিরে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য কেন্দ্রীয় সরকার দিতে পারে নি।লক ডাউনের ফলে প্রাণ বাঁচাতে যে পরিযায়ী শ্রমিকেরা কোধো ক্রমে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন, সেইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা র ক্ষেত্রে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয় নি।পরবর্তীতে সেইসব পরিযায়ী শ্রমিকেরা যাতে পুরনো কাজগুলি ফিরে পায়, সেইদিকেও কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকারগুলির পক্ষ থেকে একবিন্দু উদ্যোগ নেওয়া হয় নি।বরংচ উত্তরপ্রদেশের মতো কিছু কিছু বিজেপি শাসিত রাজ্য এমন ভাবে শ্রম আইন এই করোনাকালের মধ্যেই সংশোধিত হয়েছে যার ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের যেটুকু আইনি অধিকার ছিল, সেইগুলিও অনেকাংশেই সংকুচিত হয়েছে।

সংসদের চলতি অধিবেশনে নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মনসুখ মান্দাভিয়া রাজ্যভা তে জানিয়েছেন যে; অক্সিজেন জনিত সঙ্কটের ফলে কোভিড আক্রান্ত কোনো রোগীর দেশে মৃত্যু হয় নি।

খোদ সংসদের উচ্চকক্ষে ভিতরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই অনৃতভাষণ ই প্রমাণ করে যে সরকারপক্ষ কোভিডকে ঘিরে কি ধরণের তথ্যগত কারচুপি করছে । আর সেই কারচুপি এবং প্রশাসনিক অপদার্থতা সরকারকে ভোট রাজনীতির নিরিখে এবং আন্তর্জাতিক দুনিয়াতে কতোখানি বেকায়দায় ফলেছে যে, খোদ রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এতোখানি নির্জলা অসত্য কথা বলতে হচ্ছে।

কোভিড জনিত সঙ্কট , তার দরুণ দেশের বেহাল অর্থনীতি-- এইসবের কারণে যদি কেউ মনে করেন যে, দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিপদ সাময়িক ভাবে হলেও কমে গেছে, সাম্প্রদায়িক হিংসা সাময়িক ভাবে হলেও বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সংখ্যালঘু মুসলমানেরা কিছুটা হলেও নিরাপদে আছেন, তাঁদের জানমাল কিছুটা হলেও নিরাপদ রয়েছে, রাজনৈতিক হিন্দুদের দ্বারা সেইসব লুঠপাট হচ্ছে না, কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে মুসলমানেরা কাজ পাচ্ছেন, সংবিধান তাঁদের যে সহনাগরিকের অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার রক্ষিত হচ্ছে-- এইসব কিছু যিনি ভাবছেন, তিনি হয় দিবানিদ্রারত , নয়তো তিনি মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন।

পাঠকের নিশ্চয়ই মনে পড়বে , ২০২০ সালের শুরুর দিকে , কোভিডের ভয়াবহতা যখন সবেমাত্র ভারতে আসতে শুরু করেছে, সেই সময়কালে দিল্লির নিজামউদ্দিনে প্রার্থনা ঘিরে কি ধরণের কুৎসিত প্রচার বিজেপির শীর্ষস্তরের নেতারা পর্যন্ত করেছিল। গত বছর এই প্রচার ঘিরে যে কদর্যতা হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির করেছিল তার জেরে সামাজিক বিভাজনটি প্রথাগত শিক্ষা যেসব মানুষজনের ভিতরে সেভাবে বিকাশের সুযোগ পায় নি, সেইসব মানুষদের দিয়ে মুসলমান বিদ্বেষ ছড়াবার কাজটি হিন্দুত্ববাদীরা খুব প্রবল ভাবেই করেছিল। 

এই বিভাজনের কৌশল পরবর্তীতে কৃষি আইন সংশোধনীর বিরুদ্ধে জাগ্রত জনমতের ক্ষেত্রেও জোরদার ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল আর এস এস এবং তাদের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি।দিল্লি মুখী কৃষক নেতাদের যে অবরোধ তাকেও  মুসলমানদের তৈরি করা করোনা ছড়াবার কৌশল হিশেবে প্রচার করেছিল হিন্দুত্ববাদীরা।কোভিডের প্রথম ঢেউয়ের পরে এই কৃষক অবরোধ কে ঘিরে দিল্লি - উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে নোংরা সাম্প্রদায়িক প্রচার চালায় হিন্দুত্ববাদীরা।এইকাজে সবথেকে কুৎসিত ভূমিকা পালন করে আর এস এসের ছত্রছায়াতে থাকা হরেক রকমের এন জি ও। এই তথাকথিত সমাজসেবী সংস্থাগুলি লক ডাউন এবং তার পরবর্তী সময়ে , এমন কি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কালেও মানুষের সেবা করবার নাম করে হিন্দু - মুসলমানের বিভাজনের তাস খেলে গেছে।সাধারণ ত্রাণ বিলি, এমন কি রান্না করা খাবার বিতরণের ক্ষেত্রেও কুৎসিত পক্ষপাতিত্বের পরিচয় রেখেছে।তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত কৌশলে এই প্রচার চালিয়েছে, মুসলমানেরা কোভিড বিধি মানছে না।সেই না মানার ফলেই করোনা এইভাবে ক্রমবর্ধমান।মুসলমানদের এই কোভিড বিধি না মানবার ফলেই দেশের অর্থনীতির আজ এই বেহাল দশা।মুসলমানদের পাকিস্থান, আরব থেকে সাহায্য আসছে।ফলে লক ডাউনে তাদের কোনো ই সমস্যা হচ্ছে না।অথচ মুসলমানদের জন্যেই করোনার এই বাড়বাড়ন্তের ফলে হিন্দুদের চাকরি যাচ্ছে।হিন্দুরা ছাঁটাই হচ্ছে। এর পাশাপাশি এইসব এন জি ও গুলি  অনেক দিন আগেই প্রচার শুরু হয়েছিল যে, অক্সিজেন সঙ্কটে কোভিড রোগীদের ভিতরে কোনো প্রতিক্রিয়া হচ্ছে না।কারণ, অক্সিজেনের কোনো সঙ্কট ই নেই দেশে।ডাঃ কাফিল খানের মতো মুসলমানেরা আর মুসলমান সাংবাদিকেরা কেন্দ্রের মোদি সরকারকে পর্যুদস্ত করবার জন্যে , বিশ্বের দরবারে ভারতের মাথা হেঁট করবার জন্যে এই অক্সিজেন সঙ্কট আর সেই সঙ্কটের ফলে কোভিড রোগীর মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে।বস্তুত আর এস এস শিবিরভুক্ত এন জি ও গুলির এই প্রচারকেই সরকারী স্বীকৃতি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী খোদ রাজ্যসভাতে দিয়েছেন।

কোভিড কালের ভিতরেও এই সাম্প্রদায়িকীকরণ চালানো স্বত্ত্বেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে সঙ্ঘ বা বিজেপির শীর্ষ নেতারা নিঃসংশয় হতে পারছেন না কিছুতেই।পেটোয়া এন জিও কে দিয়ে যাই প্রচার করানো হোক না কেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজ্যসভায় যে স্তোকবাক্য ই উচ্চারণ করুন না কেন, কোন টা জল কে জল আর কোনটা পানি কে পানি- এটা তো হিন্দুত্ববাদী নেতাদের অজানা নয়।তাই সংসদের বিগত বাদল অধিবেশনটিকে বিজেপি তাদের সরকারের ' উন্নয়নে' র ফিরিস্তি তৈরির কাজেই আগাগোড়া ব্যবহার করে গেল।এমন কি ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত যা কখনো ঘটেনি , জরুরি অবস্থার সময়েও যে ছবি দেখা যায় নি, তাইই হলো খোদ রাজ্যসভাতে।মার্শাল দিয়ে কার্যত বন্দি করে রাখা হল বিরোধী সাংসদদের।বিমা বেসরকারীকরণের মতো কালা কানুন তৈরিতে যাতে বিরোধী সাংসদেরা কোনো রকম প্রতিবন্ধকতার কারণ না হয়ে উঠতে পারেন, সেইজন্যে যাবতীয় রীতিনীতি কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি, যিনি দীর্ঘকাল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি ছিলেন, তিনি একঝাঁক অস্থায়ী মার্শাল নিয়োগ করলেন।আর সেই অস্থায়ী মার্শালেরা রাজ্যসভার অধিবেশন কক্ষের ভিতরে তৈরি করলো মানবপ্রাচীর।বিরোধী সাংসদদের মোদি সরকারের তথাকথিত 'উন্নয়নে' র নামে দেশের অর্থনীতিতে বিদেশি বহুজাতিকদের শিকারপর্বকে  বাঁধা দেওয়ার প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দেওয়া হলো।

খোদ রাজ্যসভার ভিতরে এই ঘটনা কে যদি অঘোষিত জরুরি অবস্থা না বলা যায়, তাহলে কি নামে মোদি সরকারের  এই অগণতান্ত্রিক কাজ কে সম্বোধিত করা যায়? প্রতিবেশি দেশ পাকিস্থান, যেখানে নানা ধরণের সঙ্কটের ভিতরে গণতন্ত্র পড়েছে, বাংলাদেশ - সেখানেও কম সঙ্কটের ভিতর দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে সেখানকার মানুষ পুনরুদ্ধার করেন নি, এইসব দেশেও কখনো সাময়িক নিযুক্ত মার্শাল বাহিনীর দ্বারা বিরোধী সাংসদদের কন্ঠরোধ করা হয় নি, যা নরেন্দ্র মোদির প্রশাসন করলেন।

গোটা হিন্দুত্ববাদী শিবির দেশব্যাপী তো বটেই , উত্তরপ্রদেশ এবং সংলগ্ন এলাকায় এই যে ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন চালাচ্ছে , সেই বিষয়টি কিন্তু ভারতের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম ই একদম এড়িয়ে চলছে।যেমন এড়িয়ে গিয়েছে সাময়িক ভাবে নিযুক্ত বিশাল মার্শাল বাহিনী দিয়ে রাজ্যসভায় বিরোধী সাংসদদের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাটিও। এই কোভিড কালে সংবাদমাধ্যমগুলি দেখলে মনে হবে, বুঝি বা সাম্প্রদায়িকতার পথ থেকে বিজেপি সরে এসেছে।কোভিড কালের ভিতরেই ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তুপের উপর তথাকথিত রামমন্দিরের ভিত পুজো করেছিলেন খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুপ্রীম কোর্টের রায়কে অবলম্বন করে।তারপর থেকে কার্যত হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ভারতে পর্যবসিত হয়েছে সংখ্যাগুরুর আধিপত্যবাদে।তাই এখন সাম্প্রদায়িক আগ্রাসনের উপযুক্ত জমি কে আরো সার জল দিতে সব রকম ভাবে আত্মনিয়োগ করেছে গোটা হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির।এই সংখ্যাগুরুর আধিপত্যবাদকে এমন একটা ভয়ঙ্কর  শক্তিশালী জায়গাতে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে গোটা হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির নিয়ে এসেছে যে, সংখ্যালঘুদের উপর, বিশেষ করে মুসলমানদের উপর আর এস এস - বিজেপির  নীরবসন্ত্রাসের শিকার হয়ে , সব কিছু হারিয়েও মানুষ আর আইন - আদালত- পুলিশ- প্রশাসনের কাছে যাচ্ছে না। সংখ্যাগুরু আধিপত্যবাদের এই ভয়াবহ আবহকে কাজে লাগিয়েও কিন্তু আর এস এস- বিজেপি আগামী বছরের শুরুতে পাঁচটি রাজ্যের যে বিধানসভার ভোট হতে চলেছে, সেই ভোটে জেতা সম্পর্কে এতোটুকু আত্মপ্রত্যয়ী এবং আত্মবিশ্বাসী হতে পারছে না।

সেই আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকেই এখন অতিরিক্ত প্রজানুরঞ্জনে মেতেছে নরেন্দ্র মোদি সহ গোটা হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির।আর এই প্রজানুরঞ্জনের তাগিদেই তথাকথিত উন্নত প্রশাসন দেখাতেই সংসদের  গোটা বাদল অধিবেশন টা খরচ করে ফেললো বিজেপি নেতৃত্ব। উত্তরপ্রদেশে যে জনবাদী ( পাঠক পড়ুন , প্রজার [ নাগরিকদের তো সামন্ততন্ত্রের আদলে' প্রজা' বলেই মনে করে হিন্দুত্ববাদীরা!] মনজয়ের কৌশল) আচার আচরণ শুরু করেছে সেখানকার অজয় বিশওয়াত ওরফে স্বঘোষিত 'যোগী' আদিত্যনাথের সরকার( এই 'জনবাদ'কে আবার সমালোচনা করলে 'জনবাদী'দের শ্রেণীমিত্র একাংশের সংবাদমাধ্যম খুব রেগে যান। 'জনবাদ'-এর সমালোচনা করাটাকে তাঁরা 'জনগণেশে' র অপমান বলে মনে করেন) ।

উত্তরপ্রদেশে যে জনতোষণের পথে বিজেপি হাঁটতে শুরু করেছে, নজরুলের কবিতার মতো, ছেলের মুখে থুতু দিয়ে মায়ের মুখে ধুপের ধোঁয়া দেওয়ার উপক্রম করছে- বাজার অর্থনীতির সমর্থকেরা এটাকেই সুপ্রশাসনের উদাহরণ বলে মনে করেন।মানুষকে দান- খয়রাতি করে নিশ্চেষ্ট করবার যে প্রবণতা, সেই প্রবণতার গর্ভেই জন্ম নেয় ' অধিকারবোধ 'লুপ্ত হওয়ার প্রবণতা।আর যে সরকার যতো দান খয়রাতি করে মানুষকে তার ন্যায্য অধিকার গুলিয়ে রাখতে পারবে, ভিক্ষান্নেই খুশি রাখতে পারবে, সেই সরকার বা সরকার পরিচালক রাজনৈতিক দলগুলো প্রজাহিতৈষী বলে বাজার অর্থনীতির দোসরদের কাছে প্রতিপন্ন হবে।আর এই মানুষের  অধিকার বোধ কে ভুলিয়ে দেওয়া জনবাদের বিরোধিতা করা হলেই রাষ্ট্রশক্তির প্রিয়পাত্র, গণতন্ত্রের চতুর্থস্তম্ভ তাদের দেগে দেবে, মানুষের ভালো সহ্য করতে না পারার দায়ে।

এই পথেই এখন সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং তার দোসরেরা হাঁটছে। সেই ' উন্নয়নে'র জোয়ারে ভাসবার তথাকথিত আকাঙ্খাতেই সরকার পক্ষ তাই সংসদের সদ্য সমাপ্ত বাদল অধিবেশনের প্রায় গোটাটাকে পরিচালিত করলেন। একহাতে সাম্প্রদায়িকতার বিষপাত্র আর অপরহাতে ' উন্নয়নে' র তথাকথিত অমৃতপাত্র - এই দুটিকেই অবলম্বন করে সংখ্যাগুরু আধিপত্যবাদী শক্তি আজ দেশ শাসন করছে।সেই লক্ষ্যেই তারা গোটা আইনসভাকে পরিচালিত করছে।সংসদ বসছে। অধিবেশন হচ্ছে। কিন্তু  সরকার জনবিরোধী অবস্থানগুলি যখন সংসদ থেকে অনুমোদন করাচ্ছে, তখন  খোদ সংসদের অধিবেশন কক্ষের ভিতরেই বিরোধী সদস্যদের কার্যত আটক করে রেখে দেওয়া হচ্ছে।


শেয়ার করুন

উত্তর দিন